Showing posts with label ভালোবাসার গল্প. Show all posts
Showing posts with label ভালোবাসার গল্প. Show all posts

Tuesday, April 17, 2018

----""" বান্ধবী আমি তোর ছোট সতীন """

বান্ধবী_আমি_তোর_ছোট_সতীন

-
বান্ধবীর স্বামীর সঙ্গে আজ আমার বিয়ে, পরিষ্কার আয়নাতে চেহারাবন্দি হয়ে আছে আমার,অপলক দৃষ্টিতে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছি। জীবনের সব থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে চোখ দুটো নিজের মাঝে হন্যে হয়ে দুটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছে।
আমি কি কারো হক কেড়ে নিচ্ছি?
নাকি কারো হক কে আজীবনের জন্য নিজের কাছে গচ্ছিত রাখছি?
এই দুটো প্রশ্ন আমাকে পুরো সময় জুড়ে অস্বস্তির কারাগারে তিল তিল করে পিষিয়ে মারছে ।
আর যে বেশী সময় নেই, কিছুক্ষণ পরেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি। এই মুহূর্তে এমন অস্বস্তি আমার মস্তিষ্ককে দূর্বল করে দিচ্ছে।
হঠাৎ জানালা থেকে আগত মৃদু হাওয়া কিছুক্ষণের জন্য আমার হৃদয়ে স্বস্তির ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিতে থাকলো। আমি আমার চোখ দুখানাকে ধীরে ধীরে বন্ধ করলাম।
মনে হচ্ছে আমি যেন কল্পনার রাজ্যে নিঃশব্দে প্রবেশ করছি,,,,
হ্যাঁ ঐতো আমি রুত্তির শরীরের ঘ্রান পাচ্ছি, রুত্তির পায়ে পরিধানকৃত পায়েলের ঝুনঝুন শব্দ স্পষ্ট শুনতে পারছি আমি। ফিসফিসিয়ে নিজের অজান্তেই বলে উঠলাম,,,
----- " রুত্তি তুই এসেছিস বান্ধবী? "
আমার প্রশ্নের কোন উত্তর আমি পেলাম না, আমি জানি এ প্রশ্নের উত্তর কখনোই আমি আর পাবো না।
-
-
রুত্তি!
আমার জীবনের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, আমার সবথেকে আপনজন। সে আমার প্রানের সখী, আত্নার বান্ধবী। ছোট বেলা থেকেই রুত্তির সাথে আমি বেড়ে উঠেছি , জীবনের এক মুহূর্ত আমি রুত্তিকে ছাড়া ভাবতে পারতাম না। সে আমাকে শাষন করতো, স্নেহ করতো এবং তার থেকে অধিক পরিমান ভালোবাসতো। জীবনের এতগুলো বছরে একদিনের জন্য হলে ওর থেকে আমি আলাদা থাকিনি। আমার জীবনের সমস্ত হাসি কান্নার সাক্ষী ছিলো রুত্তি। সে প্রায়শই আমাকে বলতো তুই আমার সতীন হবি, বিয়ে হলে তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না প্রিয়ন্তী। তোকে আমার সতীন বানিয়ে রাখবো, আমি হবো তোর বড় সতীন আর তুই হবি আমার ছোট সতীন।তুই সারাদিন কাজ করবি আর আমি দিব্যি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার করবো। রুত্তির কথা শুনে আমি ভীষণ ক্ষেপে যেতাম, নানা রকম কথা বার্তা তাকে আমি শুনিয়ে দিতাম।
সে যখনই সুযোগ পেতো আমাকে রাগিয়ে দিতো শুধু মাত্র একটি প্রশ্ন করে,,,
---" বলনা বান্ধবী তুই আমার কে? "
আমিও চিৎকার করে উত্তর দিতাম আমি মরে গেলেও তোর সতীন হবো না।
আমাদের নিয়ে মা খালাদের মাঝে যে কি হাসি তামাশা হতো যা দেখে মাঝেমধ্যে নিজেরাই লজ্জা পেয়ে যেতাম।
-
-
বছর চারেক আগে ইমরান নামের এক ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে বান্ধবী যখন আমার সামনেই রাজী হয়ে যায়। আমি রাস্তায় সজোরে ইমরানকে ধাক্কা দিয়ে আমার বাসার দরজায় খিল দিয়ে তিনদিন মরা কান্না কেঁদেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, ইমরান নামের ছেলেটি আমার বান্ধবীকে আমার থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে। আর আমার বান্ধবী আমাকে আগের মতো সময় দিবে না। আর এই কষ্ট আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।
রুত্তি ঐ তিনদিনে আমার বাসায় অনেকবার এসেছে, অনেক কান্নাকাটি করেছে, কিন্তু আমি তার সাথে অভিমানের আড়ি কেটে ছিলাম। সে আমাকে বলেছিল,,
----" তুই আমার সব রে প্রিয়ন্তী, আমি আর কখনোই ইমরানের সাথে কথা বলবো না "
রুত্তির ঐ কথা শোনার পর নিজেকে শান্ত করে নিয়েছিলাম আমি।
তারপর আর কি? সে তো আমাকে একা ভালোবাসে না , আমিও তাকে ভালোবাসি। মনের মাঝে পাথর বসিয়ে ইমরান আর রুত্তির সম্পর্ক আমি মেনে নিলাম। কিন্তু যেই ছয় মাস তারা প্রেম করেছিলো, এক মিনিটের জন্যেও আমি তাদের একা ছাড়িনি। তারা কথা বলতো আর আমি তাদের মাঝখানে বসে থাকতাম। ইমরান মাঝেমধ্যে আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো, আর আমি মুখভেংচি দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি কখনোই ইমরানের সাথে কথা বলতাম না, সে কথার বলার চেষ্টা করলেও আমি না শোনার ভান করতাম।
-
-
পারিবারিক ভাবে যেদিন ওদের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিলো, ঐদিন ভীষণ মন খারাপ ছিলো। লুকিয়ে লুকিয়ে ভীষণ কেঁদে ছিলাম।
বিয়ের আগের দিন রাতে ইমরান আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল।
আমার হাতে একখানা কাগজের টুকরো ধরিয়ে দিয়ে সে আবার চলে যাচ্ছিলো।
আমি তাড়াতাড়ি কাগজখানা খুলে দেখলাম, সেখানে ঠিক এভাবেই লেখা ছিল,,
----" আমি তোমার বান্ধবীকে অনেক ভালোবাসি , আমি সারাজীবন তাকে যত্নে রাখবো "
ঐ দিন প্রথম আমি ইমরানের সাথে কথা বলেছিলাম।তাকে আমি ডেকে কাঁদো কাঁদো মুখে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
---- " আপনার কি কোন বড় ভাই বা ছোট ভাই আছে?"
ইমরান আমার কথা শুনে হেসে উত্তর দিয়েছিলো,,
----"জ্বী না নেই। থাকলে আপনাকে তার জন্য নিয়ে যেতাম "
আমি ইমরানের উত্তর শুনে রাগে সেখান থেকে বিদ্যুৎ গতিতে চলে গিয়েছিলাম।
বিয়ের পর রুত্তি কুমিল্লায় চলে গিয়েছিল, যাওয়ার দিন আমাকে জড়িয়ে সে যে কত কান্না করেছিলো। এটা করবি না, সেটা করবি না কত কি উপদেশ দিতে থাকলো।
আর আমি তাকে থামিয়ে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম,,
----" বান্ধবী আমাকে ভুলিস না "
-
-
রুত্তিকে ছাড়া আমার দিনগুলো যে কীভাবে কেটেছিল তা শুধু আমি নিজেই জানি।
আমি যেদিন জানতে পারলাম রুত্তি মা হতে চলেছে, ঐদিন যে আমি কি খুশী হয়েছিলাম। ঐ দিন রুত্তিকে ফোন দিয়ে দুই বান্ধবীর সে কি কান্না!
গর্ভকালীন সময় রুত্তি সামান্য বিষয়ে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতো, তার নাকি একা খুব ভয় করতো। ইমরান তো চাকরীর জন্য অধিকাংশ সময়ে বাহিরে থাকতো। আমি আর বেশী কিছু ভাবলাম না সোজা রওনা দিলাম রুত্তির বাসায়, এই কয়েকমাস আমি তার বাসায় থাকবো।
আমাকে দেখে রুত্তি আর ইমরান ভীষণ খুশী হয়েছিলো। আর ইমরান বেচারাও একটু নিশ্চিত হতে পারলো।
-
-
ডেলিভারির দিন দূর থেকে যখন দেখলাম সেবিকা ছোট্ট একটি দেহ নিয়ে আসছে সেই মুহূর্তে আমার হৃৎস্পন্দন টা কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এটা আমার রুত্তির মেয়ে।
সেবিকা যখন পরিবার কে জিজ্ঞাসা করেছিলো ,,,
----" বাচ্চাটা কার কোলে সর্বপ্রথম দেওয়া হবে? "
ঠিক তখনই ইমরান সেবিকা কে ইশারা করে আমাকে দেখিয়ে দিয়েছিলো।
রুত্তির সন্তানকে যখন আমি প্রথম কোলে নিয়েছিলাম, ঐদিনই বুঝেছিলাম মাতৃত্বের স্বাদ কাকে বলে। অশ্রুসিক্ত নয়নে ছোট দেহ টাকে পরম যন্তে আমার আত্নার সাথে বেঁধে নিয়েছিলাম সেদিনই।
রুত্তি আর ইমারানের মেয়েকে আমি ভালোবেসে নাম দিয়েছিলাম "পরী"।
প্রায় একমাস যাবত আমি ওদের সাথে ছিলাম। যেদিন আমি আমার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিলাম, আমার মনে হচ্ছিলো যেন আমার আত্নাকে আমি এখানেই ছেড়ে যাচ্ছি। পরী বোধহয় আমারই সন্তান, আমি তাকে শেষবারের মত আমার বুকে জড়িয়ে পরম স্নেহে চুমু খেয়ে সেখান থেকে বিদায় নিলাম।
-
-
২০১৩ সালের, ১৮ই সেপ্টেম্বর।
আমার জীবনের কালোদিন, যেই দিনটা আমার জীবন থেকে 'সুখ' নামক বিশেষ অনুভূতির ইতি ঘটিয়েছে। রুত্তি কিছুদিনের জন্য তার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে এসেছিল। পরীর বয়স তখন দুইমাস, আমি সারাদিন ওদের সাথেই ছিলাম। দুপুর বেলায় আমি আমার বাসায় এসে রান্নাবান্নার কাজে মাকে সাহায্য করছিলাম। সন্ধ্যায় আবার রুত্তি আর পরীর কাছে যাবো, সেই কথা ভেবেই আমি খেয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
হঠাৎ!
প্রচণ্ড চিৎকারে আমি ধড়ফড়িয়ে বিছানায় বসে পড়লাম, হৃৎপিন্ডটা বুঝি বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
মা আমার কাছে এসে চিৎকার করে কেঁদে বলে উঠলো,,,,
----" প্রিয়ন্তী বের হ, রুত্তিদের বাসায় আগুন লেগেছে "
হায় সৃষ্টিকর্তা!
এ আমি কি শুনলাম? আমার মনে হচ্ছিলো পৃথিবীতে মাটি নামক কোন বস্তু নেই, আমি বোধহয় শূন্যে ভাসছি ।
চোখ দুখানাতে রুত্তি আর পরীর ছবি ভেসে উঠলো। আমি দিকশূন্য হয়ে পাগলের মত রুত্তিদের বাড়ীর দিকে ছুটতে থাকলাম।
বাড়ীর আশেপাশে হাজারো লোকের ভীড়, এদেরকে পাশ কাটিয়ে সামনে যাওয়ার শক্তি পর্যন্ত নেই আমার।
চারিদিকের চিৎকার আহাজারি, সে যেন এক অভিশপ্ত পরিবেশ!
আগুনের কালো ধোয়া এখুনি বুঝি দেহ থেকে প্রান কে আলাদা করে নিয়ে যাবে।
দূর থেকে দেখতে পারলাম, রুত্তির ভাই রুদ্রের কোলে পরী। কিছুক্ষণের জন্যে হলেও আমার মনে সৃষ্টিকর্তা প্রশান্তির বৃষ্টি বর্ষিত করলো,আমি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে সেদিকে ছুটে গেলাম। রুদ্রের কোল থেকে পরীকে নিয়ে আমার বুকের সাথে লাগিয়ে পাগলে মত চুমু খেতে লাগলাম।
আমি রুদ্রকে জিজ্ঞাসা করলাম, বাকীরা কই?
রুদ্র কেঁদে উত্তর দিলো,,,,
--- সবাই ভেতরে আটকে গিয়েছেরে আপু! আমি তো পরীকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছিলাম । কেউ একজন আমাকে ফোন দিয়ে বললো আমাদের বাড়ীতে আগুন লেগেছে। মা, বড় আপু, ছোট আপু এরা ভেতরেই আটকে গিয়েছে। "
রুদ্রের কথা শুনে, ইচ্ছা করছিলো নিজের জীবনটাকে এখানেই শেষ করে দেই।
-
-
বেশ অনেকক্ষণ পর বাড়ীতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলো।
একের পর এক পোড়া ক্ষত বিক্ষত লাশ গুলো বের করা শুরু হলো।
হায় সৃষ্টিকর্তা!
আমাকে তুমি ধৈর্য দাও কি দেখছি আমি এগুলো!
দূর থেকে দেখলাম কারা যেন আমার রুত্তির পোড়া শরীরটাকে টেনে হেচরে বের করছে। আমি চিৎকার করে সেখানে ছুটে গেলাম।
রুত্তিকে দেখে আমি হাউমাউ করে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, আমার কান্নার শব্দে সেদিন দুনিয়া ভারী হয়ে গিয়েছিল। আমি রুত্তিকে জড়িয়ে ধরতে পারছিনা, সারা শরীরটা পুড়ে শেষ হয়ে গিয়েছে। চামড়া ঝলসে পড়ে যাচ্ছে, যেখানেই ধরবো সেখানে সে ব্যথা পাবে। এ কেমন পরীক্ষার সম্মুখীন করলে বিধাতা আমাকে?
রুত্তি করুন বেদনাময়ী নয়নে খুব কষ্টে আমাকে একটি কথা বলে গিয়েছিল,,,
----" প্রিয়ন্তী আমার মেয়েটাকে দেখে রাখিস "
-
-
কে যেন দরজার কড়া নেড়ে উঠলো !
(খানিকটা চমকে উঠলাম, আমার ছোট বোন এসেছে)
-----" আপু নিচে চলো! সবাই অপেক্ষা করছে। "
-----" হ্যাঁ যাচ্ছি, পরীকে নিয়ে আয় তো। "
পরীকে আমার বুকে জড়িয়ে আমি আমার জীবন শুরু করতে চলেছি, পরীর মাঝে আমি রুত্তির ঘ্রান পাই।
ইমরানকে বিয়ের প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম, সে সারা দিনই পরীকে কোলে জড়িয়ে কাঁদতো।
আমিই তাকে বলেছিলাম,
---" ইমরান আমাকে বিয়ে করবেন? আপনি কোনদিনও রুত্তিকে ভুলতে পারবেন না, না পারবেন অন্য কোন মেয়ে ভালোবেসে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে। আর আমার পরী মা হারা কোন সন্তান হোক আমি তা চাই না। লাভের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে অন্ততপক্ষে এমন চুক্তি হতেই পারে, কারন আমরা যে স্বার্থপর! "
লোকজন অনেক হাসাহাসি করেছিলো আমাদের নিয়ে, বান্ধবী মারা যাওয়ার দুইমাস পরেই আমি তার স্বামীকে বিয়ে করছি।
কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না পরীকে দেখার মত কেউ নেই, আর সে আমারই সন্তান মনে প্রানে আমি এটাই মানি।
_____________________________________________
_____________________________________________
_______________
__________________________________
বেশ অনেক দিন হয়ে গেল, রুত্তির স্মৃতি নিয়ে দুই বছর পার করে দিলাম। ইমরান আর আমি খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছি, দুজনেই ভালো থাকার অভিনয় করি মাত্র! তাকে আমি আমার বান্ধবীর স্বামীই মানি, সেও আমাকে ভালোবেসে স্ত্রী মর্যাদা কখনো দিতে পারবেনা সেটাও আমি ভালো করে জানি।
যেদিন পরী আমাকে "মা" বলে ডাকে আমি সেদিনই দুনিয়ার সব থেকে স্বার্থপর নারী হয়ে গিয়েছিলাম। আমি আমার বাড়ী থেকে রুত্তির সব ছবি গুলো আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি চাইনি পরী কখনোই জানুক আমি তার আসল মা না। রুত্তির ছবি দেখে সে যদি কখনো আমাকে প্রশ্ন করে?
কী জবাব দিবো আমি?
রুত্তির স্বামীর হক তারই থাক আজীবন।
কিন্তু পরী শুধুই আমার, সে আমার সন্তান আর আমি তার মা।
পরী ঘুমিয়ে পড়েছে আমি রুত্তির ছবিখানা আলমারি থেকে বের করে অপলক দৃষ্টিতে তাকে দেখে চলেছি।
তার সেই কথা এখনো আমার কানে ভাসে, সে প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞাসা করতো,,,,
" বলনা বান্ধবী তুই আমার কে? "
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অশ্রুসিক্ত নয়নে আমি মুচকি হেসে জবাব দিলাম,,,,
----""" বান্ধবী আমি তোর ছোট সতীন """

Friday, April 13, 2018

কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?

‘অদ্ভুত মানুষগুলো ‘
লেখা : ফারজানা সাথী
আমরা কিছু কিছু মানুষগুলো
ভীষন অদ্ভুত খুবই বোকা চরিত্রের_
যাদের জন্য
সুখের আয়োজন করি
যাদের অপেক্ষায় থেকে কষ্ট পেতে থাকি
যাদের মুক্তি দিয়ে নিজে ভাল থাকার চেষ্টা করি
যাদের মায়ায় বছরের পর বছর হৃদয়ে নতুন স্বপ্ন বুনি
যাদের জন্য নিজেকে বদলে ফেলি
যাদের জন্য হাসির অভিনয় করি
তারাই একটা সময় স্ট্রেটকাট বুঝিয়ে দেয়
‘এসবের কোন দরকার ছিল না’ ।
সত্যিই তো দরকার ছিল না_
তাহলে কাদের জন্য এতকিছুর আয়োজন করি?
কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?
কেন কারো মুক্তির প্রয়োজনে মুক্তি দিয়ে বেঁচে থাকার কষ্টকে হাসিমুখে গ্রহন করি? কেন আমরা অন্যের অপেক্ষায় নিজেকে লন্ডবন্ড করে দেই? কেন কারো অগোছালো জীবনকে যত্ন করে গুছিয়ে দেই?
দরকার ছিল না এতসব ভাবার_
এত এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আর কোন প্রমানের দরকার নেই ‘আমি মানুষ অন্য সবার মত স্বার্থপর নই’
আমরা কিছু মানুষ সত্যি ভয়ানক বোকা_
দিন শেষে বুঝি
‘যাদের জন্য করি চুরি সেই বলে চোর’
যাদের জন্য কেঁদে মরি সেই বলে
‘দরকার ছিল না কাঁদার’
আসলেও সত্যি কথা_
কি দরকারই ছিল অন্যের জন্য অতশত ভাবার ?
আমরা আমাদের জন্য কিছুই তো ভাবিনি
দিন মাস বছর সময়গুলো ফুঁড়িয়ে গেল চোখেরই সামনে..
কিছুই তো নিজের সুখের জন্য গড়তে পারিনি।
সবটাই যেনো ব্যর্থতার গড়াগড়ি
সবটাই ছিল অন্যের সুখের জন্য
সবটাই ছিল ত্যাগে ত্যাগে ভরা ….
আজ যারা মানুষের সেবায় মানুষের কষ্টে কাঁদছে তারাই একটাসময় জীবনের শেষ অধ্যায়ে কিছু মানুষেরই দ্বারা
জানতে পারে
বুঝতে পারে
শুনতে পারে
‘এসবের দরকার ছিল না ‘
দরকার ছিল শুধু নিজের চিন্তা আগে করা,নিজেকে ভালো রাখা, নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আরামে আয়েশে জীবনকে উপভোগ করা।
তাই পরিশেষে আমি অধম মানুষটা সবাইকে বলবো_
দরকার নেই কারো কষ্টে নিজেকে কষ্টে রাখার। স্বার্থউদ্ধারের পর কোন মানুষের কাছে মানুষেরই মূল্য থাকে না।
আজ আপনি যাদের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন তারা মোটেও কষ্ট পাচ্ছে না। তারা হাসছে, উপহাস ছুড়ে ফেলছে আপনার সরলতার উপর, আপনার পরিষ্কার চরিত্রকে নোংরা কলংক দিতে তারা হৈচৈ করছে।
তারা সর্বোচ্চ নিঁচু করতে আপনাকে কথার আঘাত দিবে, আপনার সু্স্থ মানসিকতার উপর অসুস্থ মানসিকতার সাইনবোর্ড টানাবে।
আপনি পাগল
মানসিক রোগী বলতেই থাকবে
এমনকি তারা এইটুকু উপলুব্ধী করতে পারবে না
‘আপনি কষ্টে আছেন তাদের কারনে,তাদের আচার আচরনে।
তারা কখনো আবার আপনাকে
তাদের মতই ভাবতে শিখে যায়_
যেমন :
‘আপনি ভাল আছেন কারো না কারো সাথে’
‘কারো শয্যাসঙ্গী কারো বা বন্ধুসঙ্গী হয়ে’
সব নেগেটিভ কথাবার্তা তাদের মগজে বাসা বাঁধতে থাকে।
সেজন্যই, ,
ব্যথার আদান প্রদান, কথার লেনদেন
হৃদয় বেচা কেনা বন্ধ করে দিন …
জীবনকে নিজের মত করে সাজিয়ে নিন
যেভাবে সাজালে নিজেকে আগের চেয়ে বেশি
আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে হবে।

Wednesday, March 28, 2018

বৃদ্ধাশ্রম


.
.
.ভালোবাসার গল্প কথা ইউটিউব চ্যানেলে আপনাকে স্বাগতম। একটি বাস্তব জীবনের গল্প বৃদ্ধাশ্রম। গল্পটি শুনলে আপনি চোখের পাণি ধরে রাখতে পারবেন না। গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। আর আপনার কমেন্ট আশা করি। আপনার কমেন্ট আমাদের অনুপ্রেরিত করে। আর আপনার জীবনের কোন গল্প আমাদের মাধ্যমে শেয়ার করতে চাইলে গল্প লিখে ইমেইল করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

Monday, March 26, 2018

আমার রাজপূত্র

অভ্রের সাথে আমার যখন বিয়েটা হয়, বুঝতেই পারিনি কি হতে যাচ্ছে। খুব হঠাৎ করে আর খুবই সাধারণভাবে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। সাধারণ বলতে আসলে অনুষ্ঠানটার কথা বলতে চাচ্ছিনা, অনুষ্ঠান একটা হয়েছে মাশাল্লাহ, কিছুরই অভাব ছিল না। বলছিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার কথা । কোথায় কেউ এসে আমাকে একটু খোঁচা দেবে…” আপু, বরটা তো সে রকম পেয়েছেন”।অথবা বিয়ের পর কি কি হবে সেসব নিয়ে দু’একটা কথা বলতে ছাড়বে না, এমন কিছুই হয়নি। বিয়ের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত এমন একটা ভাব ছিল সবার, সব গর্জ রিয়ার, ওর বর কেমন হবে তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা করে ফাটিয়ে ফেলার কি দরকারটা শুনি!

খুবই হতাশার সাথে বিয়ের দিন লক্ষ করলাম, পাশে বসা ছেলেটাকে আমি বিন্দুমাত্র চিনি না। নামটাই জানি শুধু, একবার যে ডিজিটাল যুগে ফোন করে একটু কথাটথা বলে নিব সেই কাজটাও করিনি। আমার বান্ধবীরা সব প্রেম করে বিয়ে করছে, বিয়ের দিন জামাইয়ের সাথে ঢলে ঢলে ছবি তুলছে,তাদের সে কি হাসি! মাঝে মাঝে আমরা শালীরাও ঢলে ঢলে ছবি তুলেছি……

আর আমার ক্ষেত্রে! একবার অভ্র আমাকে দেখতে আসল , আর একবার অভ্রের হাতে আংটি পরিয়ে ওকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেললাম। সম্পত্তি হল ঠিক, এমনই সম্পত্তি যার সম্পর্কে কিছুই জানা হল না।

আমি খুবই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে , ভালবাসতে বাসতে লাল করে ফেলি এমন । সারাদিন কাঁদিয়ে আধমরা করে ফেলা টাইপ বইপত্র পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যাই, আমার মন ক্লান্ত হয়না। বন্ধুদের তাড়া দি, ” এই ওই রোমান্টিক ছবিটা আমাকে কখন দিবি বলতো?” আমার চারপাশের মানুষ আমার জ্বালায় এককথায় অতিষ্ঠ । আমার খুব প্রিয় বান্ধবী আমাকে বলে, এত বইপত্রের হিমালয় না জমিয়ে তোরই মত , বা আরও এক কাঠি বাড়া লুতুপুতু টাইপ একটা ছেলেকে বিয়ে করে ফেল, আমরাও বাঁচি তোর ঘ্যানঘ্যানানি থেকে , আর তোরও একটা গতি হোক। নাহলে যেই হারে বই কিনছিস আঙ্কেলকে কিছুদিন পর ব্যাংকরাপ্ট এর মামলা খেতে হবে।

আমার কি দোষ? প্রেম করতে পারব না জানি, প্রেম করার সাহস বা ধৈর্য কোনটাই আমার নেই। তাই এই প্রেমের স্বর্গরাজ্যে হানা দেয়া। আমি গর্তের মানুষ। গর্ত থেকে আমাকে নিশ্চয়ই কেউ একদিন না একদিন টেনে বের করবে। আমি তো শুধু স্বপ্ন দেখে যাব, এক রাজপুত্র আসবে, আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, সাদা শুভ্র আমি হারিয়ে যেতে চাই সেই স্বপ্নের মাঝে।

হায় পোড়া কপাল, এসব কি হচ্ছে আজকে !

চিনিনা , জানিনা, এই ছেলেকে আমি বিয়ে করে ফেললাম। একটা দিন প্রেম করার সুযোগটা পর্যন্ত দিলাম না নিজেকে।
সত্যি বলতে, বিয়ের দিন আমি যতটা না কাঁদলাম বাবা মায়ের জন্য, তার থেকে বেশি কাঁদলাম নিজেকে নিয়ে । গাধী একটা । বলল , আর বিয়ে করে ফেলতে হবে !! রাগ লাগছে এখন, সব ভেঙ্গেচুড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ছেলেটার মাথায়ই ।

আহারে, আমার এই বর , এখনো জানেই না, তার সদ্য বিবাহিত বউ তাকে নিয়ে কি সব বিধ্বংসী চিন্তাভাবনাই না করছে । আমি তাকাচ্ছি বারবার ওর দিকে , কিন্তু এই হাঁদারাম একবারও আমার চাঁদবদন মুখটার দিকে তাকানোর কসরত পর্যন্ত করছে না । ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছ ভাল কথা বাবা, যন্ত্রপাতি ছাড়া আর কি কিছু চোখে পড়ে না !!

হাঁদারাম !

যা ভাবলাম তাই, আমি পুরা একটা হাঁদারামকে বিয়ে করেছি । বিয়ের প্রথম রাতটাই তার প্রমাণ । কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু এই ছেলের সাথে …” আপনি ভাল আছেন রিয়া?…জি আমি ভাল আছি…” এই দুই বাক্য ছাড়া আর কোন কথাই হয় নি ।


রিয়া, তুমি মরেছ । তোমার আজীবনের সাধ , তুমি এখন পাটায় পিষে খেয়ে ফেলতে পার ।


জানিনা, আমার আশাভঙ্গের আর জীবন পাল্টে দেয়া সেই রাতটায় আমি কেমন করে ঘুমালাম । দু’ চোখের পাতাতো এক হওয়াই উচিৎ না, অথচ আমি ঘুমালাম । এমন ভাব, জীবনেও ঘুমাইনি, আর কখনো সুযোগও হবে না , যা ঘুমিয়ে নেয়ার আজকেই ঘুমিয়ে নাও । সকালে ঘুম ভাঙতে যে আরও বিপদে পরবো , বুঝিনি । মাথাটা এখনো অভ্যস্ত হয় নি, আমি এখন আর আমার বাসায় নেই, আমকে এখন আর মা আদর করে ডেকে দিবে না । আমাকে এখন নিজে নিজেই উঠতে হবে, পারলে বাড়িসুদ্ধ মানুষকে ঘণ্টি বাজিয়ে ডেকে তুলতে হবে, আরও কতকি!!

সকালের রোদটা আমার একেবারে চোখে এসে পড়লো । আর ঘুমাতে পারলাম না , চোখ খুলতেই হল। মিটিমিটি চোখে তাকাচ্ছি চারপাশে , অচেনা অজানা একটা রুম।

মানুষটা কোথায় গেল ? ইসস…আমি মনে হয় বেশি দেরি করে ফেলেছি ।
কাউকে খুঁজে পেলাম না ঘরটায় । আজব ছেলে, একটাবার যে আমাকে ডেকে দিয়ে যাবে, সেটাও করল না । ধ্যাত। হাঁদারাম পুরা ।

আমি টেবিল ঘড়িটার দিকে হাত বাড়ালাম । এই রুমে কোন বড় ঘড়ি নেই। ঘড়ি ধরতে গেলাম ঠিক , কিন্তু হাতে ঠেকল অন্য কিছু, গরম কিছু।

একটা কফির মগ । আর একটা ছোট্ট চিরকুট ।
“রিয়া,
ঘুমাচ্ছিলেন। তাই আর জাগালাম না । চিন্তা করবেন না , আমার বাসার মানুষজন একটু বেশি বেলা করে ঘুমায় ।
কফি তৈরি করে রেখে গেলাম । শুনেছি আপনার পছন্দের। খেয়ে নেবেন ।”

আমি আর কি বলব । পুরা চুপ হয়ে গেছি । কখনো ভাবিনি , আমার জন্য এই মানুষটা কফি বানিয়ে রেখে যাবে ! কখনো মাকেই সকালে একটা কাপ কফি দেয়াতে রাজি করাতে পারিনি।

আরে, এসব কি না কি ভাবছি ! কফিই তো বানিয়েছে, কফির ফ্যাক্টরি বানিয়ে ফেলেনি আমার জন্য । একটা কাপ কফির জন্য এই হাঁদারামের প্রতি আমার ভালবাসার ঢেউ উছলে পড়া কি ঠিক? মোটেও না ।

আমাকে আল্লাহ শুধু মনটাই দিয়েছে , মাঝে মাঝে মনে হয় । বুদ্ধিটা আল্লাহ প্যাকেট করে অন্য কোথাও রেখে দিয়েছে, আমি যেন কোনদিন ওটার নাগাল না পাই।

সেই দিনটা যে খুব খারাপ কাটল , তা না । হাঁদারামের বাড়ির লোকজন আমাকে ভীষণ পছন্দ করে, প্রমাণ পেলাম । করবেই তো, রূপসী মেয়েদের সব জায়গায়ই দাম আছে, আমি কি দেখতে খারাপ নাকি খুব !

নানা কাজে দিনটা পার হয়ে গেল । দাওয়াত খেতে গেলাম , বাসায় ব্রিগেড ভর্তি মানুষজন আসল, সবাইকে আমার পাউডারে সাদা বানানো চেহারাটা একনজর করে দেখাতে হল। আর কি প্রশংসা! প্রশংসার বানে মাঝে মাঝে মনে হল , পালিয়ে সুন্দরবন চলে গেলে এর থেকে খুশি হতাম মনে হয়।

আমার বরটা কিন্তু সারাক্ষণ আমার আশেপাশেই ছিল । কিন্তু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম তার আড়ালে আড়ালে থাকার শক্তি দেখে। অবাক হলাম, আমি আসলেও বুঝতে পারছিনা এই ছেলের অস্তিত্ব। সব আত্মীয়দের সাথে ও মিশছে , আমার প্রায় পাশেপাশেই থাকছে । একটুও শিহরণ জাগছে না মনে। আমি কি ঠাণ্ডা হয়ে গেলাম!

মোটেও না। এ আমার রাজপুত্র হতেই পারেনা । আমি ওকে অনুভব করতে পারিনা । সিনেমাতে টম ক্রুয , শাহরুখ খান সবাইকেই মনে হয় আমার রাজপুত্র । আর আমার সত্যিকারের বর , যার সাথে আমার ১০ লক্ষ ১ টাকা দেনমোহরে কাগজে সই করে বিয়ে পর্যন্ত হয়ে গেল , আমার ভিতর তার কোন মূল্য থাকছে না।


তবুও তো, জীবন চলে , থেমে থাকে না । আমরাও চলি । কষ্ট হলেও চলি । চলতে চলতে হোঁচট খাই, ফের উঠে দাঁড়াই । বিধাতার হাতের মোমের পুতুল আমরা, সুতা যেদিকে টান পরবে , সে দিকেই চলতে হবে । আমার সুতা আমাকে এই বাসায় এনে ফেলেছে , আমাকে এখান থেকেই এগুতে হবে , পিছনে সামনে ডানে বাঁয়ে কোন দিকে ঘুরার আর সুযোগ নাই ।

####

সপ্তাহ ঘুরে । সাতদিনের কোটা পার করে আমরা এখন অষ্টম দিনের স্বামী স্ত্রী । একটা মানুষকে জানতে নাকি মাত্র কয়েকটা মুহূর্তই প্রয়োজন হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয় না। আমি বেশি স্বপ্ন দেখেছিলাম তো, তাই ২৪ পূরণ ৭ ঘণ্টা পরেও আমি আমার পাশের মানুষটাকে চিনতে পারিনি । এত সুন্দর , ভদ্র আর কিউট একটা ছেলে , আমি সবসময় চেয়েছিলাম , ঠিক তেমন একটা ছেলেই আমার চারপাশে ঘুরাফেরা করে , আশ্চর্য , আমি তাকে চিনতে পারি না । কেন আমি পড়তে পারিনা একে , কেন আমার অপেক্ষাগুলো শেষ হয় না!!

আমার খুব প্রিয় আকাশ দেখা । বেশি ভাবুক তো, উদাসীনের সব লক্ষণ একেবারে কায়দা করে রপ্ত করেছি । আমাদের বিশাল রুমটার সাথেই একটা ছোট খোলা বারান্দা আছে, দখিনে মুখ তার । আমার ভীষণ প্রিয় জায়গাটা । সারাটা দিন এখানে সেখানে মানুষের পদধূলি নিতে নিতে জান যায় , তাই দিনে এখানে আসা হয় না । কিন্তু রাতটা শুধুই আমার । অভ্র ঘুমিয়ে পড়ে । তারপর এসে বসি এখানটায় । আকাশের সাথে কথা বলি । তারাগুলো আমার বন্ধু । বিচার চাই তাদের কাছে । আমার স্বপ্নগুলোতো ওরাই তৈরি করে দিল । মুক্ত আকাশের নিচে ভালবাসাবাসি করার স্বপ্নটা কি আমার পূরণ হবে না! এলো বাতাসকে বলি , আমাকে গল্প শুনিয়ে যাও , আমার জীবনটা এমন হল কেন?

আফসোস , আজ সবাই নিশ্চুপ । কারো কাছে কোন শব্দ নেই ……

অভ্রের সাথে যখন গাড়িতে বসে থাকি , খুব ইচ্ছা করে ওর হাতটা একটু ধরি । গিয়ারে ধরা ওর হাতটা একটু কেঁপে যাক । সামনের কাঁচটা একটু ঝাপসা হয়ে যাক । একটু গাড়িটা নেচে উঠুক । আমিও নেচে উঠি সেই সাথে , আনন্দে ।

কিছুই হয়না । ও সামনেই তাকিয়ে থাকে , রাস্তায় খুব মনোযোগ । আমিও গাড়িগুণার চেষ্টা করি , এক দুই তিন …………

দখিনের বারান্দাটায় একটা ছোট্ট গোলাপ গাছ আছে । কেউ দেখে না । অযত্নে অবহেলায় সে দিন গুজরান করে । বেচারা একটু পানিটুকুও পায় না । তাতে কি , প্রকৃতি তার সন্তানদের নিজ দায়িত্বে রাখে । অযত্নে বেড়ে উঠা সেই গাছটিতে একটা লাল টকটকে ফুল ফুটেছে দুইদিন হল । আমিও হেলায় এড়িয়ে যাই ওটাকে । থাকুক না ।
মাঝে মাঝে মনে হয় , অভ্র কি কখনো বুঝবে , ওই লাল ফুলটা ওর হাতে পাওয়ার আমার কত শখ ? কখনো কি বুঝবে , ওই লাল ছোট্ট সৃষ্টিটাও খুশি হবে , তুমি আমার হাতে দিলে!

#####

আজ কি হচ্ছে না হচ্ছে , কোনদিকে খেয়াল নেই । আপন মনেই বাসার এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরে বেড়াচ্ছি । এটা সেটা নাড়াচাড়া করছি, বাবা মায়ের সাথে কথা বলছি, নানা রকম কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার একটা ক্ষুদ্র এবং ব্যর্থ চেষ্টা । ছাইপাশ যা ইচ্ছা তাই করে আমি মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরাচ্ছি ।


আমি অভ্রের প্রেমে পড়ছি…… একটু একটু করে……… শামুকের চেয়েও ধীর গতিতে ………


রুমে চলে আসলাম ।কাবার্ড গুছাবো । বিয়ের পর এইদিকে একদম মনোযোগ দেয়া হয়নি । যাচ্ছেতাই অবস্থা এখন । এলোমেলো সব জিনিসপত্র , আমারই মত । একটা একটা করে গুছাচ্ছি ।

হঠাতই ,একটা কাল ডাইরি পেলাম ।অবশ্যই অভ্রের । এটা অভ্রের রুম ।

হাত নিশপিশ করছে ওটা খুলতে । কিন্তু এটা অভ্রের । আমার বর হলেও ও এখনো অন্য মানুষ । ওর সব জায়গায় প্রবেশাধিকার আমি পাইনি ।

বলতে বলতেই খুলে ফেললাম ।

আমার নিশ্বাস আটকে আসছে , আমি জানিনা ওতে কি লেখা আছে , এমন কিছু কি , যা আমি কখনো শুনতে চাইনা ?

”রিয়া,
আজকে তোমাকে প্রথম দেখলাম । প্রথম । কিন্তু আমার মনে হল , তোমাকে আমি যে আরও কতবার দেখেছি । ছবিতে দেখে বুঝতে পারিনি , জলজ্যান্ত দেখে বুঝলাম আজ । মানুষ সুন্দরের পূজারী , আমিই বা আলাদা হব কেন? তোমাকে গুটি গুটি পায়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে যখন আসতে দেখলাম , আমার জগত থমকে গিয়েছিল । বিশ্বাস করো মিথিলা , কখনো কাউকে দেখে এমনটা মনে হয় নি আমার । তোমাকে ওই এক নজর দেখায় আমি জানতাম , তোমাকেই দরকার আমার । আজব ব্যাপার জান , আমি জানি , তুমি যখন আসবে , আমি কখনোই তোমাকে বলতে পারব না , তোমাকে ভালবাসি । আমি এমনই রিয়া । লিখে তো যাচ্ছি রিয়া , মুখের কথা আর ফুটবে না, বুকের কথা বুকেই রয়ে যাবে । মাকে জানিয়ে দিয়েছি , তোমাকে পাশে পেতে চাই , তোমরাও নাকি জানিয়েছ ।
কিন্তু , আমাকে একটু সহজ করে নিও । আমি যে পারিনা কিছু । এই লেখাটা তোমাকে পড়তে দিব । নাহ…… সেটাও পারব না ।”

পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া। অজস্র শব্দ, অসংখ্য আবেগ , অফুরন্ত কথা । পড়তে পারছিনা আমি , আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।
একটা সিদ্ধান্ত নিলাম । সব গল্পে নাহয় রাজপুত্র আসে, আজকে রাজকন্যা আসবে , রাজপুত্রকে নিয়ে যেতে ।
আমি সেই রাজকন্যা হব ।

#####

সন্ধ্যা হয় হয় এমন একটা সময় । নির্মল । একটা খুব ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে , আস্তে আস্তে । আমাদের রুমের পর্দাগুলো সেই হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে ।

১০১ টা মোম জ্বালিয়েছি । ভয়ে আছি, যেই অকর্মার ঢেঁকি আমি , কখন না আগুন ধরিয়ে দি । তখন বাড়িসুদ্ধ মানুষসহ ফায়ার সার্ভিসের মানুষের সাথে প্রেম করতে হবে ।

তবুও… জ্বালালাম । আজকে আমার রাত । আজ কিছুই হবে না । তারারা আমাকে বলে গেছে । বাতাস গান গেয়ে শোনাচ্ছে ।

এবং সবকিছু চপেট করে দিয়ে বেকুব ছেলেটা হঠাৎ করেই এসে পড়লো । ওর এখন আসার কথা ছিল না । আজকেই সব কিছু বরবাদ করার জন্য হাঁদারামকে তাড়াতাড়ি আসতে হবে!
আমি রুমের বাইরে ছিলাম ।

অভ্র রুমে দাঁড়িয়ে আছে । আমাকে দেখতে পাচ্ছে না । বেডসাইড টেবিলটায় আমি ওই গোলাপটা আর একটা কাগজের টুকরো রেখে দিয়েছি। ওকে দিতাম । ও নিজেই থেকেই দেখে ফেলেছে ।

চিরকুট পড়ছে অভ্র…
“তোমাকে সবসময় আমি কি বলে ভেবে এসেছি জানো?
হাঁদারাম । এবং আমার ধারণা ১০০ শতাংশ সত্যি ।
ভালবাস , একটাবার বলা যায় না?
ভালবাসার আমি যে কাঙাল , কেন বুঝ না ?
এমনকি হাঁদা ছেলে , এটাও বুঝতে পারনি , আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। “

আমার শব্দ পেয়ে গেল অভ্র। পিছন দিকে খুব হুড়োহুড়ি করে ঘুরতে গেল , যেন খুব লজ্জা পেয়ে গেছে । একটু কি আমি দেখলাম , চোখটা একটু মোছার চেষ্টা করল ? কি জানি , আমার দেখার ভুল হবে হয়ত…

এক সমুদ্রভরা ভালবাসা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ও । বিধাতা আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দেয় নি , হাঁদারাম তো আসলে ছিলাম আমি , এমন ভালবাসার সমুদ্র ফেলে আমি ছোট জলাধারে ছুটে গেছি , ভালবাসার হাহাকার করতে করতে । আমাকে উপযুক্ত শাস্তিই দেয়া হয়েছে । ভাল হয়েছে, খুব ভাল ।

####

আজকে ভোর দেখলাম দুজন ।পুবের আকাশটাকে রাঙ্গা করে সূয্যি মামা নতুন একটা দিনের ডাক দিচ্ছে । একটা নতুন সময়ের প্রতীক্ষায় সবাই জেগে উঠবে কিছুক্ষণ পরেই ।

আর আমার শুরু হবে একটা নতুন জীবন । ভালবাসাময় একটা জীবন।

সকালটায়ও জেগে আছি । অভ্র ঘুমাচ্ছে আমার পাশে । সকালের মিষ্টি হলুদ রোদটা ওর উপর এসে পড়েছে । ভুরু কুঁচকাচ্ছে আমার রাজপুত্রটা ।

আমি দেখছি । সীমাহীন মায়ায় বুকটা ভরে যাচ্ছে আমার ।

গল্পঃ আমার রাজপূত্র
লিখাঃ Riya Akter
---------
 

Sunday, March 25, 2018

আজ আমার বিয়ে ৷

আজ আমার বিয়ে ৷
আর পাঁচটা সাধারণ বিয়ের মতো করে নয়, কেনো বলছি? কারণ আমার বিয়ে হচ্ছে একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ রোগীর সাথে ৷ যে কিনা মানসিক হাসপাতালেই থাকে বেশীরভাগ সময় ৷ যখন একটু সুস্থ হয় তখনই কেবলমাত্র তাকে কিছুদিনের জন্য বাসায় আনা হয় যখন আবারো মাত্রাতিরিক্ত সমস্যা শুরু হয় তখন হসপিটালে পাঠানো হয় ৷ এভাবেই চলছে কিছুক্ষন পর যে আমার স্বামী হবে তার জীবন ৷
বাসায় তার বাড়ীর সবাই এসে পড়েছে ৷ আমি সিম্পল একটা শাড়ী আর আম্মুর গলার হার আর দুল পড়েছি ৷ লিপস্টিকটাও লাগাইনি
যে আমি সবসময় সাজতে পছন্দ করতাম সেই আমার বিয়ের সাজটা আজ এরকম ৷ সবার সামনে গিয়ে বসলাম একটাবার ও মাথা তুলিনি যতক্ষন ওখানে বসে ছিলাম ৷ রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করলাম এরপর কালিমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হলো ৷
কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই বিদায়ও হলো ৷ শ্বশুড় বাড়ী গিয়ে দেখলাম মোটামোটি অনেক বড় পরিবারেই বিয়ে হয়েছে আমার ৷ কেউ একজন আমাকে নিয়ে একটা ঘরে বসালো ৷ সম্ভবত এটাই আমার বাসরঘর ৷ কারণ বিছানায় কিছু ফুল ছড়িয়ে সাজানো ছিলো ৷ যিনি আমাকে নিয়ে এলেন ঘরে জানতে পারলাম সে আমার ফুপিশ্বাশুড়ী ৷
তিনি আমাকে হাসানের ব্যাপারে বললেন ৷ হাসান আমার স্বামীর নাম কয়েকবার শুনেছি তার নাম ৷ ছোটবেলা থেকেই সে নাকি একটু পাগলাটে স্বভাবের ছিলো দিনে দিনে তা শুধু বেড়েছেই কমেনি ৷ একপর্যায়ে তাকে বদ্ধ উন্মাদ পদবী দিয়ে মানসিক হসপিটালে রেখে আসা হয় ৷ কখনো ভালো কখনো খারাপ এভাবেই জীবন তার ৷ আমার শ্বশুড় বড় কোন পদে ভালো চাকরী করেন ৷ আমার ভাসুর এম বি বি এস ডক্টর তার ওয়াইফ ও তাই ৷ শ্বাশুড়ী মারা গিয়েছেন অনেকবছর হলো ৷ ফুপী শ্বাশুড়ী তার হাসবেন্ড মারা যাবার পর থেকে এখানেই থাকেন ৷ মূলত আমাকে আনা হয়েছে হাসানের টেক কেয়ারের জন্য ৷ যখন ও বাসায় আসে তখন মাঝে মাঝে ওকে সামলানো যায়না আর সামলানোর মতো আছেই বা কে?? তাই আমার সব কিছু যেনে শুনেও আমাকে বউ করে আনা হয়েছে ৷
এমনই ভাষ্য ছিলো আমার ফুপীশ্বাশুড়ীর ৷ তিনি টুকটাক আরো অনেক কিছু বললেন বোঝালেন ৷ আমি শুধু মাথা নিচু করে শুনে যাচ্ছিলাম আর ঘাড় নেড়ে মাঝে মাঝে সায় দিচ্ছিলাম যে আমি শুনছি ৷ একটু পর আমার বর কে ঘরে আনা হলো ৷ সে হয়তো বুঝেছে আজ ভালো কোন প্রোগ্রাম তাই চুপচাপ সবার কথা শুনছে অথবা কেউ হয়তো অনেক গিফটস দেবে বলে তাকে ভদ্র ছেলে হয়ে থাকতে বলেছে অথবা হয়তো সে নিজে থেকেই আজ কোনো ঝামেলা করছেনা ৷
ফুপী আমাকে বলে গেলেন, আমি যেনো ওর খেয়াল রাখি ৷
সবাই চলে গেলো ঘর থেকে ৷ আমি দরজা লাগিয়ে এসে বসলাম খাটে সারাটাদিন বুকফেটে কান্না এসেছে কিন্তু কাঁদতে পারিনি কারো সামনে, এখন তো কেউ নেই যে আছে সে থাকলে বা না থাকলে কি কিছু যায় আসে? হু হু করে কান্না আসছে আমার ৷ আমার জীবনটাই কেনো এরকম হতে হলো?? আমার কষ্টগুলো কেউ বুঝবেনা কেউনা ৷ আমি যখন নিজের জীবনের হিসেব মেলাতে ব্যাস্ত তখন পাশে হাসান এসে বসলো ৷ আমি অবাক হলাম ওকে দেখে ও নিজেও কাঁদছে ৷ যখন জিগেস করলাম কি হয়েছে কাদছো কেনো?
ও বললো তুমি কাদছো কেনো? আমার কারো কান্না সহ্য হয়না ৷ এরপর আর কাঁদতে পারলাম না ৷ হাসি দিয়ে ওকে বললাম আর কাঁদবোনা ৷
হাসান নাকি বদ্ধ উন্মাদ ৷ কিন্তু কই ১৪ দিন হলো ওর সাথে আছি আমি তো উন্মাদের মতো কিচ্ছু করতে দেখলামনা ওকে ৷ আমার সব কথা ও শোনে বোঝে, হ্যাঁ ও স্বাভাবিক নয় কিন্তু বদ্ধ উন্মাদ ও নয় ৷
হাসান আমাকে সেদিন জিগেস করেছিলো, আচ্ছা তোমার নাম কি? আমি বললাম কেনো? নাম জেনে কি হবে? ও বলেছিলো যদি আমি হারায় যাই তোমাকে খুজে না পাই তাহলে মানুষকে তোমার নাম বলতে হবে না? নাহলে কিভাবে তোমাকে সবাই খুজে আনবে আমার কাছে? সেদিন বলেছিলাম আমার নাম বউ ৷ আর শুধু তুমিই এটা বলে আমাকে ডাকবে এটা স্পেশাল নাম তো তাই ৷
এরপর থেকে তার মুখে একটাই কথা ৷ বউ তুমি কই? বউ ভাত খাবো, বউ জুস খাবো, বউ গল্প বলো ৷
কিছুদিন আগে ওকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলাম ফুপী বার বার বলেছে ওকে বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবেনা কিন্তু তবুও নিয়ে গেছি আমার কথা হলো কেনো নিয়ে যাওয়া যাবেনা? ও কি এলিয়েন? ইচ্ছে করছিলো মনে মনে না বলে ফুপীকে মুখের ওপরই বলি কথা গুলো কিন্তু গুরুজন তাই বললাম না ৷ আর আমি এমনিও সবার কাছে ভ্যালুলেস ৷ তাই শুধু বললাম সমস্যা নেই ফুপী আমি ওর খেয়াল রাখবো ৷
সেদিনই বুঝেছিলাম কেনো হাসানকে বদ্ধ উন্মাদ বলা হয় ৷
আমরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরেই খাচ্ছিলাম টেবিলে ৷ ওয়াশরুমটা কোনদিকে দেখতে আমি উঠে সামনে চলে যাই হাসান ভেবেছে এখানেই আছি কিন্তু ও পেছনে সামনে সবখানে খুজে আমাকে না পেয়ে তুলকালাম করে ফেলে ৷ আমি ওয়াশরুম থেকে এসে দেখি কেউ একজন মার খাচ্ছে ভীর সরাতেই দেখলাম হাসান ৷ আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো ৷ সাবাইকে যতো বলছি ওর মানষিক প্রবলেম আছে কেউ কথাই শুনলো না আমার ৷ হাসান আমাকে দেখতে পেয়েই বউ বউ বলে জরিয়ে ধরলো ৷ আমি যখন কাউকে বোঝাতেই পারলামনা তখন ওকে যতেটা পারি আগলে ধরলাম আর কিছু আঘাত আমারো লাগলো এরপর সবাই থামলো ৷ তারপর জানতে পারলাম হাসান একটু আগে সব টেবিল চেয়ার উল্টেছে এবং দু একজনকে মেরেছেও এসবের জন্যই এতোকিছু ৷ এরপর বললাম ওর কিছু মানসিক সমস্যা আছে তখন একজন বললো এসব পাগল নিয়ে বের হন কেনো? কোনো উত্তর না দিয়ে চলে এলাম ৷ এসে তো ফুপীর কাছেও বকা খেলাম অনেক ৷
এর মাঝে হঠাৎ একটা ফোন এলো যা আরো একবার ওলটপালট করে দিলো আমাকে ৷
সৃজন ফোন করেছিলো ৷ হ্যাঁ সেই সৃজন যাকে নিজের চেয়েও বেশী ভালোবাসতাম আমি ৷ আমাদের চার বছরের সম্পর্কটা পরিণতি পায়নি ৷ সৃজনের অনেক ইচ্ছে ছিলো জীবনে ভালো পজিশান করবে ৷ বাইরে যাবার জন্য ট্রাই করতে করতে হয়েও গেলো ৷ কথা ছিলো দুবছর পর দেশে এসে ও সবার সাথে বিয়ের কথা বলবে ৷ আর আমার বাসাতেও বিয়ের চাপের মতো পরিস্থিতি ছিলোনা তাদের ইচ্ছে ছিলো আমাকে আরো পড়ানোর যার জন্য আমরা দুজনেই নিশ্চিন্ত ছিলাম ৷ কিন্তু কথায় বলেনা? যা হবার তা হবেই সেটা যেভাবেই হোক ৷ সৃজনের চলে যাবার আগের দিন আমরা ওর এক কাজিনের বাসায় দেখা করি ৷ সেখানে ওকে জড়িয়ে ছিলাম অনেক্ষন মনে হচ্ছিলো হারিয়ে ফেলবো না তো??
একটা সময় আমরা দুজনেই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করে বসি ৷ আবেগকে প্রশ্রয় দিতে নেই কিন্তু কেউ সে কথা ভাবলাম না ৷ আমাদের চার বছরের পবিত্র সম্পর্ককে মূহূর্তেই অপবিত্র করে ফেলি আমরা ৷ পরে দুজনেই বুঝতে পেরেছি কাজটা আমরা একদম ঠিক করিনি এতো প্রাইভেটভাবে দেখা কেনো করতে গেলাম এটা ভেবে আমি অনেক অপরাধবোধে ভুগছিলাম ৷
সৃজন চলে গেলো পরেরদিন ৷ সব ঠিকঠাকই ছিলো ঝামেলা শুরু হলো আমার পিরিয়ড বন্ধের পর ৷ আমি টেনশানে পড়ে গেলাম দু মাস যাবৎ এরকম হচ্ছে ৷ কাছের বান্ধবীকে জানালাম ও বললো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে আমি তো ভয়েই শেষ ৷ কীহবে এখন? সিওর হতে টেস্ট করলাম কিন্তু পজেটিভ না নেগেটিভ বুঝতে পারছিলাম না হয়তো প্যাকেটে লেখা আছে এটা ভেবে প্যাকেট আনতে ঘরে এলাম সর্বনাশ যে হয়েছে আমার বোনের চিৎকারেই বুঝলাম আমি টেস্ট করে ওই কাঠিটা ওয়াশরুমে রেখেই চলে এসেছি বড় আপু দেখেই বুঝে গেলেন আমিও অস্বীকার করার সাহস পেলাম না ৷ সব বলে ফেললাম ৷
এরপর রাতে আম্মু এসে বললো চল তোকে ডক্টর দেখিয়ে সিওর হয়ে আসি ৷ যা হবার হয়ে গেছে কী আর করা যাবে ৷ আমিও রাজী হলাম ৷ ডক্টর আমাকে বললো কিছু টেস্ট করতে হবে এটা বলে একটা ইনজেকশান দিলো আর কিছু মনে নেই আমার ৷ সেন্স আসার পরে বুঝলাম আমি বাসায় ৷ কখন এলাম কি হলো কিছুই বুঝতে পারছিলামনা ৷ শুধু শরীরটা খারাপ লাগছিলো ৷
জানলাম তিনদিন পর তাও প্রতীবেশীর কাছ থেকে ৷ আমি নাকি এবসান করিয়ে এসেছি ৷ শুনেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো ৷ আম্মুকে জিগেস করতেই উনি বললেন তো কি জারজ সন্তান জন্ম দিতি? আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার অগোচরে আমার সন্তানকে মেরে ফেলা হলো???
এসব কথা যতই গোপন রাখা হোক চাপা কখনোই থাকেনা ধীরে ধীরে সবাই জেনে গেলো আমি একটা নষ্টা মেয়ে ৷
সৃজনকে জানালেও কিছুই করার নেই এখন তো দুরে দুবছরের আগে সে ভিসাই করতে পারবেনা দেশে আসার জন্য ৷ এদিকে প্রতিবেশীরা আমাদের বেঁচে থাকা হারাম করে দিচ্ছিলো ৷
তখনই আব্বুর একজন পরিচিত লোক মানে আমার শ্বশুড় আমাকে তার ছেলের জন্য নিতে চাইলো ৷ এমন পরিস্থিতিতে একজন বাবা তার মেয়েকে যে বিয়ে দিতে পারবে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার ৷ ছেলে যাই হোক আমার তো বিয়ে হবে ৷ আমি যে সৃজনের জন্য অপেক্ষা করতে বলবো সে মুখও ছিলো না আমার তবুও বলেছিলাম ৷ কিন্তু যেখানে দু ঘন্টা পার করা মুশকিল সেখানে দুবছর কেউ অপেক্ষা করবে? শেষ পর্যন্ত হেরে গেলাম বিয়ে হলো হাসানের সাথে ৷ বিয়ের আগে সুইসাইডও করতে চেয়েছি কিন্তু কেনো যেনো পারিনি সাহস হয়নি ৷ সেখানেও হেরে গিয়েছিলাম সেদিন ৷ বিয়ের পর সৃজনের সাথে যোগাযোগ রাখিনি ৷
আজ ও ফোন করেছে কারো কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ৷ ও দেশে এসেছে দেখা করতে চায় ৷ ওর ভাষ্যমতে আমার সাথে অন্যায় হয়েছে সেটাতে ওরও দোষ আছে তবে আমি একা কেনো ভুগবো? ও আমাকে বিয়ে করতে চায় ৷ পাগল স্বামী কি দিতে পারবে আমাকে? সৃজন তো এতোদিন পরেও আমাকে ভালোবাসে এতোকিছুর পরেও তবে কি সমস্যা?
আমার কাছে সবকিছু অসহ্য লাগছে সৃজন দুদিন যাবৎ ফোন দিয়ে কান্নাকাটিও করছে সে আমাকে চায় ৷ কি করবো আমি? আবারো ওর ফোন এলো ৷
-- আলো তুমি কেনো এমন করছো? প্লীজ চলে এসো আলো ৷
-- ঠিক আছে কাল আসবো ৷
-- ওকে এক কাপড়ে চলে এসো এরপর আমি ডিভের্সের সব ব্যাবস্থা করে দিবো ৷ তারপর স্বাভাবিকভাবেই বিয়ে হবে আমাদের ৷
-- না কাল আগে বিয়ে করবো আমরা ৷ তারপর যা হবার হবে ৷
-- আলো কী বলছো এসব? আমার একটা সন্মান আছে আমার ফ্যামলি এতোসব জানেনা তারা জানবে তোমাকে পছন্দ করতাম এখন বিয়ে করবো ৷ তোমার বিয়ের ব্যাপারে বলা যাবেনা ৷
-- কিন্তু সৃজন
-- আর কথা না ৷ কাল দেখা হচ্ছে ৷
-- ওকে ৷
হুম আজকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেবো আমার ভালেবাসার মানুষটার সাথেই জীবন কাটাবো আমি কারো জন্য নিজের জীবন কেনো নষ্ট করবো? রেডী হয়ে বের হলাম ৷ পৌছে দেখলাম সৃজন এসে গেছে ৷ ওকে বললাম সৃজন তোমার ফোনটা দেবে একটা ছবি তুলবো কতোদিন তোমার সাথে ছবি তুলিনি ৷
ও বললো তুলবো তো সব হবে বিয়েটা মিটে যাক আমরা রিল্যাস্ক হই তারপর ৷ আমি ওর কথার তোয়াক্কা না করে নিজের ফোন দিয়েই একটা সেল্ফি তুললাম আমাদের ৷
এরপর ওকে বললাম, সৃজন আমাদের এতো বছরের সম্পর্ক তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো যে এতোকিছুর পরেও আমাকে বিয়ে করতে চাও কিন্তু আমার সত্যতা সামনে আনার সাহস তোমার নেই কারন একটাই সন্মান থাকবেনা ৷ সন্মান যে কি জিনিস আমি তা জানি কারন নষ্টা অপবাদ নিয়ে অনেকগুলো দিন পার করেছি আমি ৷ সৃজন তোমাকে কোনো দোষ আমি দিচ্ছিনা ৷ তুমি যা করছো তা ন্যাচারাল ৷ ইনফ্যাক্ট একটা ছবি তুলতেও তুমি ইতস্তত বোধ করছো এটাও ভুল না স্বাভাবিক ব্যাপার ৷ তুমি যে আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছো এটাও অনেক ৷ কিন্তু সৃজন একটা কথা কি জানো? ভালোবাসাটা অনেক ধরনের হয় ৷ সবার ভালোবাসার ধরণ এক না ৷ যেমন তুমি আমাকে এতো ভালোবেসেও আমার বিয়ে টা কে নিজের পার্ট ধরতে পারবেনা ওটা আলাদাই ৷ এবং ভবিষ্যতে এটা নিয়ে কথাও হয়তো উঠবে এটা নরমাল মানুষের স্বাভাবিক স্বভাব ৷ কিন্তু একজন এবনরমাল মানুষ এতো কিছু বিচার করেনা ৷ যাকে ভালোবাসে তাকে শুধু ভালোই বাসে ৷ তার ভালোবাসার মানুষটার আগের জীবন নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা থাকেনা ৷ তার প্রয়োজন একটাই সেটা হলো ভালোবাসা ৷
তাই নরমাল মানুষের থেকে আমার জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জমা রাখার এবনরমাল মানুষটাকেই আমি ভালোবাসি ৷
আমি ইচ্ছে করেই বিয়ের কথা তোমাকে বলেছি তুমি কি বলো তা জানতে ৷
তোমার কোনো দোষ নেই সৃজন ৷ দোষ আমাদের ভাগ্যের যে আমরা এক হইনি কিন্তু এতগুলো দিন যে মানুষটা আমার ভরষায় বেঁচে থাকার মানে পেয়েছে তাকে ছেড়ে তোমার সাথে চলে যাবার মানে কি?? আমার তো কোনো অভাব নেই, আমার বর আমাকে ভালোবাসে তাহলে? তারপরেও যদি যাই তবে সেটা নেহাত শারিরীক চাহিদার জন্যই যাওয়া হবে তাই নয় কি সৃজন??
তুমি আমাকে ছেড়ে বাঁচতে পারবে ৷ কিন্তু ওই ছেলেটা?? ওকে ঘুম পাড়িয়ে এসেছি, যদি উঠে আমাকে না পায় সারা বাড়ী মাথায় তুলবে ৷ জানো সৃজন আমি যখন ওয়াশরুমে যাই, গোসলে যাই ও দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকে আমি বের হলেই জড়িয়ে ধরে বলে বউ এতো দেরী হলো কেনো?? একজন নরমাল মানুষ কি এতোটা মিস কাউকে করতে পারে? যে একটা মিনিট চোখের আড়াল হতে দিতে চায়না?? তাকে ছেড়ে কি আশায় যাবো সৃজন?
ছবিটা তুললাম আমাদের শেষ দেখা এটা এ জন্য ৷ আজ সব সম্পর্ক এখানেই শেষ ৷
জানো সৃজন কিছু কিছু এক্সিডেন্ট জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ৷ আমি আমার পাগল বরকেই ভালোবাসি ৷ ভালো থেকো ৷
সৃজন একটা কথারও উত্তর দেয়নি ৷ আমি চলে এলাম একবারও পেছনে ফিরিনি ৷ কারণ বুঝেছি নরমাল মানুষের চেয়ে এবনরমাল মানুষগুলো বেশী নিষ্পাপ ৷ বেশী পবিত্র ৷ আমারো অপেক্ষা সহ্য হচ্ছেনা কখন যে বাসায় যাবো ৷ আমার বরটাকে দেখবো!!!! এইটুকু রাস্তাই যেনো শেষ হচ্ছে না ৷
লেখাঃ ইরাবতী (ভূতের পেত্নী)

Tuesday, January 2, 2018

আমি পতিতা (পর্ব- ০১) একজন পতিতার গল্প

আহ! একটু ধিরে মশাই ব্যাথা পাচ্ছি,
কে শোনে কার কথা? টাকার জন্যে দেহ বেচা
মেয়ে গুলোর কথা কেউ কেনোই বা
ভাববে?
আমি নিহা, কিন্তু আজ আর আমার নাম ধরে কেউ
আমাকে ডাকে না, কেনোই না ডাকবে? আমার
কি সেই সম্মান আছে? কিসের সম্মান আবার?
পতিতাদের সম্মান আছে নাকি ? বেসস্যা নামেই
আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এখন আর খারাপ লাগে
না, বরং যে আমায় বেসস্যা বলে ডাকে তাকে
ধরে গড়ি মসী করি, আমার শরিরের উষ্ণতায়
তাকে গ্রাস করে ফেলি, হাহাহা কি অবাক! তখন সে
শুধু আমাকে আদর করে না, নগদ টাকা ও দিয়ে যায়
এতেই ক্ষান্ত নয় সে আবার আমার কাছে আসার
প্রতিশ্রুতি ও দিয়ে যায় , খুব মজার তাই না?
কি ভাবছেন? আমাকে কিডনেপ করে এই পথে
আনা হয়েছে? কেউ ধোকা দিয়ে বিয়ের কথা
বলে এই পথে রেখে চলে গেছে? হুম
এসব ভাববেন তা জানি কারণ বেশির ভাগ পতিতার
গল্পের শেষই হয় এই সমস্ত রহস্য ভেধের
মাধ্যমে, কিন্তু আমার গল্প টা একটু ভিন্ন, উম! না
ঠিক বলি নি, একটু নয় অনেক খানি ভিন্ন, কারণ --???
তা না হয় অন্যান্য গল্পের মতো শেষ মেষ ই
বলে দিবো কি বলেন?
আজ আমি ১৭ জনের ভোগের উপাদান, ১৭ জন
আমার শরির টাকে উলটে পালটে দেখেছে,
কামড়েছে, লেহন করেছে , আমি কিচ্ছু বলি নি,
কি বলবো ? বলার অধিকার নেই যে আমার, আমি
তো একটা পন্য মাত্র, বাজার থেকে যখন আমরা
টাকার বিনিময়ে কিছু কিনে নিয়ে যাই তখন সেটার
অধিকার তো আর দোকানদারের থাকে না, আর
পন্য সে তো এক জড় বস্তু, সে আর কি
বলবে??
প্রতিদিন ১০ /১২/১৫ জনের পন্য হিসেবে গণ্য
হই আমি, একেক জন তাদের পন্যের একেক
ভাবে ব্যবহার করে, একটা মজার বিষয় কি জানেন?
আমার খরিদ্দার রা তাদের পন্য ক্রয় করে শুধুমাত্র
কয়েক ঘণ্টার জন্য কিছু গরিব খরিদ্দার ও
আছে, তারা আমাকে শুধু আধা ঘণ্টার জন্য ই ক্রয়
করে,
ভলটালিন পেইন কিলার কিনে বাসায় যাওয়া আমার নিত্য
দিনের কাজ, হুম ঠিক তাই, আমার বাসাও আছে,
কেনো অবাক হচ্ছেন? পতিতাদের কি বাসা
থাকতে নেই? হয়তো নেই, কিন্তু আমার
আছে, বাসায় যেতে খুব কষ্ট হয় আমার, হাটতে
পারি না আমি, কিন্তু যখন টাকা গুলোর দিকে তাকাই
তখন আর কষ্ট লাগে না আমার, আবারো নিযে
কে শক্ত করি, কাল যে আমাকে আবার কাজে
যেতে হবে, ব্যাথার কাছে হেরে গেলে
চলবে না, তখন পেইন কিলারস গুলোই আমার
ভরসা....
আমি? আমি এমন ছিলাম না,
ছিল, আমার ও ছিল,
আমার ও আপনাদের মতো এক সুন্দর পড়িবার ছিল,
মা বাবা, বড় দুই ভাই নিয়ে ছিল আমার হাস্যজ্জল এক
পরিবার , কিন্তু --??
এক সুনামি ভাসিয়ে নিয়ে গেলো আমার কাছ
থেকে আমার পরিবার কে, আরে না না এই সুনামি
ওই সুনামি নয় তো! এ হচ্ছে আমার জীবনের
সুনামি....




সুনামির স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলাম আমি, জানতাম এর
শুরু আছে শেষ নেই , তবুও পারছিলাম না ফিরে আসতে, আসলে একবার পা পিছলে গেলে সেখান থেকে আর তিরে ফিরে আসা যায় না, আর ভাগ্যবশত যদি কেউ ফিরে আসে তবুও তার গায় পেক কাদা লেগে যায় যাকে বলা হয় ময়লা, তাই সেই ফিরে আসার চেয়ে না সা খুব ভালো...
যাক আসল কথায় আসি, কি বলেন বাপু?
হাহাহা,
আপনারা ও খুব পারেন বাপু, খুব পারেন, টাকা দিয়ে পণ্য কিনেছেন একটু আস্তে আস্তে ব্যবহার করলে কি হয় বলুন তো ?
আপনাদের ই বা কি ভুল? আপনারা তো ১ বার বা ২ বার কিনেন আমাকে কিন্তু আমি যে দিনে কতো বার পণ্য হই তা তো আর আপনাদের জানা দরকার নেই তাই না?
আচ্ছা বাপু, ১ টা কথা বলবেন কি?
আপনারা শুধু স্তনই দেখেন, স্তনের ২/৩ ইঞ্চি ভিতরে যে এক কম্পিত রক্তথলি রয়েছে তা কি এক বারও দেখতে পান না?
জানেন কি?
মেয়েদের শরিরের গঠনরূপের চেয়ে সেই থলি টির ভিতরকার অংশ টি বেশি সুন্দর ?
কি রুচি আপনাদের বলুনতো!
খুবি অবাক!
কতো শত লোক আসলো গেলো , কেউ একটা বার জিজ্ঞেস করলো না তো -
আমি কে?
কি আমার নাম? কোন জাত আমার? কি আমার পরিচয় ? আমার বাবার কি আছে কি নেই?
তবে কেনো ঘরে গিয়ে আপনাদের মতো খরিদ্দাররাই নিজের বউ কে কথায় কথায় খোটা দেন এই বলে --
কি আছে তর বাপের জানি তো ,
বাপের বাড়ি থেকে কি আনছস যে এতো বড় বড় কথা কস?
আপনারা শুধু তাই বলেন না বাপু, আপনারা তো অবলা মেয়ে গুলো কে মারতে মাড়তে আধমরা করে ফেলেন, তারপর সে পারে না বাচতে, না পারে মরতে? ভাবে এই - সে মারা গেলে তার সন্তানদের কি হাল হবে?
কি হলো? কি ভাবছেন?
ওহ আচ্ছা? ভাবছেন এসব আমি কি করে বলছি? আমার মতো মেয়েরা আবার এসব কিভাবে জানি?
জানি, জানি, সবি জানি, আমি না হয় এই পথের পথিক , আমার মা তো তা ছিলেন না, সে তো গ্রামের এক সহজ সরল বঁধু ছিলেন, কেনো তাকে এতো ডুকরে ডুকরে মরতে হলো? যখন সে মরতে চেয়েছিল কেনো তাকে মরতে দেয়া হলো না, আর যখন?
কেমন নিয়ম আপনাদের? আমার মাথায় তো এখনো ঢুকে না, আর মনে হয় ঢুকবেও না, কখনোই না.....
কি দেখছেন এভাবে? আমাকে ? আমার চেহারা? কিন্তু কেনো? আপনাদের মতো খরিদ্দাররা তো চেহারার দিকে তাকায় না, শরির দেখে শরির , হুম সত্যি বলছি, তবে আপনি কিজন্যে আমার চেহারায় এমনি করে তাকিয়ে আছেন?
আমরা মেয়েরা খুবই অবাক করা জীব, এই যে দেখুনই না পুরুষদের কে ঘিন্না করি, মা মারা যাবার পর বাবার আর ভাইয়ের ভয়ে পালিয়ে আসেছিলাম, কারণ তারাও পুরুষ, আর আজ নাকি সেই আমি ই অন্য এক পুরুষ এর জন্য হাজারো পুরুষের কাছে নিজের সম্মান বিক্রি করে বেড়াচ্ছি ,এই দুনিয়া যার নাম দিয়েছে পতিতা..
হুম আমিই পতিতা...

  (চলবে)
পর্ব- ০১
রাইটার : # ফাতেমা_আহমেদ

আমি পতিতা (পর্ব- ০৩) একজন পতিতার গল্প

আমার বয়স তখন ৮, মাত্র ৩ টা দাত পড়েছে , অন্যদের মতো আমার পরিবার টাও খুব সুন্দর আর হাসিখুশি ছিল, বাবাকে তেমন কাছে পেতাম না, উনি কাজে উদ্দমি মানুষ ছিলেন, তাই মার সাথে আমার খুব ভালো ভাব ছিল ছোট থেকেই, বাবাও আমাকে অনেক ভালবাসতেন, কিন্তু একদিন --?
আমাদের পরিবারে নতুন মানুষ এলো , সে আর কেউ না, আমার নতুন মা, আমার বাবার নতুন বউ....
সেদিন বাবা আমাকে বলেছিল, উনি আমার ছোট মা, উনি খুব ভালো তার সাথে মিলেমিশে থাকতে, তখনো তেমন কিছু বুঝি নি, খারাপও লাগে নি, কিন্তু রাতে যখন আমার মা আমার সাথে ঘুমাতে এলো আর বলল নতুন মা আমার মার ঘরে বাবার সাথে ঘুমাবে তাই মা আমার সাথে ঘুমাবে তখন খুব খারাপ লেগেছিল তার চেয়ে বেশি খারাপ লেগেছিল যখন মাঝ রাতে ঘুম ভাঙার পর বুঝতে পাড়লাম মা আমার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে .....
আমার নতুন মাকে বাবা খুব বেশি ভালবাসতেন , এতোটাই যে বাবা আমাদের কেও ভুলে গিয়েছিলেন , নতুন মার প্রতি ভরসা ছিল বাবার অনেক বেশি, উনি যা বলতেন তাই বাবা বিশ্বাস করতেন...
একদিন মাকে বাবা খুব বকাবকি করতে শুরু করলেন এসব আমার জন্য নতুন কিছু ছিল না, আগেও বাবা মাকে অনেক কটু কথা শুনাতেন তা আমি দেখেছি কিন্তু সেদিন --?
মার খেয়ে আধমরা হয়ে গিয়েছিল আমার মা, আমি সব দেখেছি, কিন্তু চুপ ছিলাম, সাহস ছিল না অতো যে সামনে গিয়ে বলবো ,
-- বাবা, মা নতুন মার ওই স্বর্নের চেইন টা নেয় নি, ওই টা নতুন মা তার বোন কে দিয়ে দিয়েছিল আমি দেখেছিলাম....
এরপর থেকে প্রায়শই বাবা মাকে মারতেন , আমার কিছু বলার থাকতো না , একদিন মা রাতে ঘুমানোর সময় অনেক গুলো টেবিলেট খেয়েছিল আমি জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল ওগুলো ব্যাথার টেবিলেট , কিন্তু পরদিন মার মুখ দিয়ে ফেনার মতো বের হচ্ছিল দেখে বাবা তাকে হাস্পাতাল নিয়ে যায় , ২ দিন পর মা ফিরে আসে, মাকে দেখতে যেতে খুব ইচ্ছে করছিলো আমার কিন্তু বলি নি, দূর থেকে শুনতাম শুধু মা কেমন আছেন....?
আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি, আর অনেক কিছুই বুঝতে শুরু করি, তখন বুঝতাম নতুন মা আমাকে পছন্দ করেন না, প্রায়শই বাবা আমাকে ডেকে পাঠায়, আমি নাকি কি কি ভুল করে ফেলি? কিন্তু আমার দুই ভাই --? ওদের কে কখনো কিছু বলেন না বাবা, কিন্তু কেন? পরে জানতে পেরেছিলাম, নতুন মা বার বার আমার নামে বাবার কান ভরাট করে, যা বাবা বিশ্বাস করে, আর আমার ভাইদেরকে উনি আদর করে কারণ কি জানেন? -- কারণ আমি মেয়ে আর আমার ভাইয়েরা ছেলে...
কিছুদিনের মধ্যে আমাদের খাবার টাও ভিন্ন পাতিলে রান্না করা হতো, আমাদের বলতে, আমার আর আমার মার, আমাদের ওতোটা অধিকার ছিল না একসাথে বসে খাবার...
একসময় এমন হল আমার ভাইয়েরাও আমাদের প্রতি খারাপ আচরণ শুরু করে, নানি অনেক বার চেয়েছিল আমাদের তার সাথে নিয়ে যেতে কিন্তু মা যায় নি, কারণ কি? তা আজও আমি জানি না, সেদিন চেয়েছিলাম আমি নানির সাথে চলে যেতে কিন্তু মা কিছুতেই রাজি হয় নি, খুব রাগ লেগেছিল সেদিন , এখনো ভাবি,
-- মা গো, সেদিন যদি নানির সাথে চলে যেতে রাজি হতা তবে তুমি আজ বেচে থাকতা....
এভাবেই কেটে যায় কয়েক টি বছর ,
সেদিন সকালে মাকে খুব ডেকেছিলাম, কিন্তু মা আর উঠে নি, বাবা যখন বলল তর মা আর নেই, বুক টা ধক করে উঠল , কাল রাতে মাকে যখন মারছিল কেন বাবাকে আটকালাম না, রাগে নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছিল, আমি শেষ হয়ে গেলাম সেদিন ....
মা মারা যাবার পর, আমার পড়াশোনা ও বন্ধ হয়ে গেলো , কি করার? মার কাজ গুলো যে সব আমাকেই করতে হতো, কাজ করতাম কিন্তু নির্যাতন সে আমি সহ্য করতে পারি নি, সৎ মা, বাবা, ভাইদের অত্যাচার সহ্য করতে পারি নি,
পালিয়ে গিয়েছিলাম বাড়ি থেকে, জমানো কিছু টাকা নিয়ে, অনেক দূরে, জানতাম আমি অনিশ্চিত জীবন কিন্তু তবুও আমি আমার মার মতো মরতে চাই নি আমার কাছে তার চেয়ে বরং রাস্তাঘাটে মরে যাবা ভালো মনে হয়েছিল আমার কাছে, কিন্তু দেখেন আজও আমি জিবিত, আজও আমি দিব্বি বেচে আছি...

 --তারপর?
তারপর শুরু হয় এক নতুন সময়ের, একজন এসে বদলে দেয় আমার ধারনা , কাটিয়ে দেয় আমার ভয়, শিখায় আমাকে,কিভাবে ভালবাসতে হয়?
আমি ছিলাম নদী , যে নদীর পানি ছিল স্থির , সে বাতাস হয়ে এসেছিল আমার জীবনে, করে দিয়েছিল আমাকে বহমান , অতি মাত্রায় বহমান...
-- বুঝলাম না, বুঝিয়ে বল,
সে সকালে আমি বেড়িয়েছিলাম একা, সাথে বেচে থাকার আশা টুকুও ছিল না, রাস্তাঘাট ও তেমন চিনতাম না, তবে একটু ভরসা ছিল, দুপুর হবার আগ অব্ধি কেউ আমাকে খুঁজতে বেরুবেনা , তারা ঘুম থেকেই উঠবে না, ভয় ছিল শুধু গ্রামের লোকদদের নিয়ে, তারা যদি দেখে ফেলে! আবার আমি সেই নরকে যেতে চাইছিলাম না, ভাগ্য সেদিন পাশে ছিল, পাশে নয় যেন ভাগ্য ঠিক আমার পদতলে হাটছিল...
ওড়না দিয়ে চোখ মুখ ডেকে বসে ছিলাম রেল লাইনের উপর, ট্রেনের অপেক্ষা , তখনি তার দেখা, হুম, কে যেন আমার পাশে এসে বসল, ভয় পেয়েছিলাম খুব, ভাইয়ার পাঠানো কোনো দূত নয় তো কিন্তু না, সে ছিল ঈস্বরের পাঠানো এক নতুন জীবন....
-- কোথায় যাবেন?
-- জানি না,
-- ট্রেনের অপেক্ষা করছেন?
-- এখানে কি তাহলে বাসের অপেক্ষা করব?
-- আচ্ছা মেয়ে তো আপনি!
-- ভুল বললাম?
-- না তবে কোনো কথার সজা জবাব কি দেয়া যায় না?
-- জানি না,
-- আপনি কি এমনি নাকি আমার সাথেই এমন করে ----?
-- হুম আমি এমনি, কোনো প্রব্লেম?
-- জি না, ধন্যবাদ
-- ধন্যবাদ দেবার কিছু দেখছি না আমি,
-- তবে সরি,
-- সরি বলার কিছু নেই তো ,কেন এমন জ্বালাচ্ছেন?
-- ওকে ওকে সরি,
-- উফ
তারপর চুপ করে বসে রইলাম, সে ও আর কথা বললেন না, একটু পর খেয়াল করলাম উনি পাশে বসে নাক ডেকে ঘুমচ্ছেন , খুবই বিরক্তিকর, তবু কিছু বললাম না, ইচ্ছে করছিল এখুনি তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলি গেট লস্ট ফ্রম মাই আইস, কিন্তু সেতো পুরুষ যদি কিছু করে বসে, তাই ঘাপটি মেরে বসে রইলাম , কিছুক্ষণ পর যা ঘটল তা তো আমি আমার নিজ চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, পুরুষ মানুষ কি এমনও হতে পারে? সত্যি কি তাই?
-- কি হয়েছিল? বলুন,
লোক টি যখন ঘুমচ্ছিল এক ছোট্ট মেয়ে এসে তাকে ডেকে বলল,
-- ভাইজান , ও ভাইজান , কালকাত্তে কিচ্ছু খাই নাই, কয়ডা পুয়সা দিবেন?
লোকটি উঠে ময়লাটে জামা পড়া মেয়ে টিকে কলে তুলে নিলো তারপর কিছুক্ষণ আদর করে পাশের কেন্টিন থেকে দুটো বড় রুটি কিনে দিলো , আর আমি? আমি শুধু থ মেরে এসব দেখছিলাম আর ভাবছিলাম আমার বাবাকেও যদি ঘুম থেকে তুলে কিছু বলতাম , সেও আমায় লম্বা ধরনের এক ভাষণ দিতো , কিন্তু উনি কোন ধরনের পুরুষ ??
ভাবতে ভাবতে ট্রেন এসে গেলো.....
(চলবে)


রাইটার ::ফাতেমা আহমেদ
পর্ব ::০4

আমি পতিতা পর্ব ০২, একজন পতিতার গল্প

কি হল মশাই? আপনি কেনো বসে আছেন? শুরু হয়ে যান, আপনার ১ ঘণ্টার মধ্যে আর মাত্র ১৯ মি. রয়ে গেছে, এর মধ্যে না হলে কিন্তু রেট আরও বাড়বে , হাহাহা....
কি হল? ভয় করছে? প্রথম বার নাকি? তবে আমি শুরু করবো? আরে মশাই প্রথম প্রথম ভয় হয় ই এর পর থেকে আর ভয় হয় না, আর আমার সাথে কিসের ভয় গো বাপু! আমি তো আপনার সদ্য বিবাহিতা বউ নই যে আপনি দুর্বল হলে আপনাকে ছেড়ে চলে যাব , চালিলু করে দিন....
কি হল? ১ ঘণ্টা হয়ে গেলো যে! কিছু তো বলেন, করবেন না? না করলে চলে যান, আমার সময় নষ্ট করে ইনকাম কমাচ্ছেন কেনো? আমার টাকা টা দিয়ে বিদায় হন, আমার আরও খরিদ্দাররা আমার জন্যে অপেক্ষা করছে, জানেন তো , যত খরিদ্দার আমাকে কিনে নিবে ততো টাকা ইনকাম হবে, টাকা টা দিয়ে চলে যান বাপু....
এতক্ষণ পর শুভ এবার মুখ খুলল,
-- তোমার দিনে কতো ইনকাম হয়?
-- এসব জেনে কি হবে বলুন, আপনার কাজ শেষ আপনি যাবেন, আবার কাজ হলে আসবেন,
-- বল, দিন এ কতো ইনকাম করতে পারো?
-- তিন সাড়ে তিন হাজারের মতো পাই,
-- আমি তোমাকে ৫ হাজার দিবো , আজ তোমার বাকি খরিদ্দার দের বিদায় করে দাও,
-- কিন্তু কেন? আপনি তো আমাকে ছুলেন ও না,
-- এখন ছুবো, কথা বলবো , তুমি বাহিরে ওদের না করে দাও,
-- আমি পারবো না মশাই , আজ আপনি আমাকে ৫ হাজার দিবেন কিন্তু কাল কে দিবে? তাদের কে সময় না দিলে তারা আর আমার কাছে আসবে না, তারা আমার রেগুলার কাস্টমার,
-- আমি দিবো টাকা তুমি তাদের বিদায় করে আসো,
-- আমি পুরুষ দের কথায় ভরসা করি না,
-- আমাকে কর, সব পুরুষ এক নয় এর প্রমাণ ও পাবে,
-- ঠিক আছে আপনি বসুন, আমি আসছি,
.....................................++....................................
.........
--এই এই কি করছ এসব?
-- আমি আমার কাজ করছি, আপনি আমাকে এতো গুলো টাকা দিবেন বলে ৩ ঘণ্টা হতে চলল আর আপনি কিছুই করছেন না, কিন্তু আমি তো কাজ ছাড়া টাকা নিবো না,
-- আমি আসলে এসব করতে তোমার কাছে আসি নি,
-- হাহাহা, তবে কেন এসেছেন?
-- আমি একজন সাংবাদিক,
-- আপনি রুমে কোনো গপন কেমেরা সেট করেন নি তো আবার?
-- ছিঃ ছিঃ কি বলেন এসব?
-- হাহাহা, আপনি জানেন না হয়ত, আপনি তো শুধু সাংবাদিক , কিন্তু আমার কাছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রক্সা চালক, মেথর সবাই আসে, আমার মতো পতিতাদের কাছে আপনারা শুধু মাত্র খরিদ্দার , কে কি? কোন জমিদার না ফকির তা জানা আমাদের কাজ নয়,
-- তুমি ভুল বুঝতেছ, আমি পতিতাদের নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখার জন্য এখানে এসেছি, বাহিরের সরদারনী কে এটা ই আমি বিলতে চেয়েছিলাম কিন্তু উনি আমাকে কোনো কথা বলার আগেই তোমার রুমে পাঠিয়ে দিলেন,
শুভর কথা শুনে আমি গড়া গড়ি করে হাসতে লাগলাম,
কি কান্ড দেখো! পতিতাদের নিয়ে সংবাদপত্রে আআর্টিকেল ? পতিতাদের নিয়ে! কি হবে? কি হবে লিখে আমাদের কে নিয়ে? বদলাতে পারবেন আমাদের জীবন? পারবেন? বলেন?
শুভ নিস্চুপ.....
অনেক্ষন পর শুভ বাবুর অনেক রিকুয়েস্ট এ আমার জীবনী তাকে বলতে লাগলাম , কেনো আজ আমি এই পথে? কেনো আমার নাম নিহা থেকে আজ বেসস্যা, আর শুভ?
সে শুধু শুনছিলেন আর বার বার চমকে উঠছিলেন ...
(চলবে)



রাইটার : # ফাতেমা_আহমেদ
পর্ব ::০২


Saturday, December 16, 2017

চিঠি পড়া শেষ হতেই নিপা শিপন এর লাশ টা বুকে জরিয়ে কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল......

গল্পটি পড়লে কাঁদবেন

নিপা কলেজ এর খুব মেধাবি ছাত্রি
তার বাবার ও অনেক টাকা।
একে তো ভাল ছাত্রী আরও বড় লোক বাবার
একমাত্র মেয়ে
তাই একটু অহংকারী টাইপ এর মেয়ে
আর এদিকে কলেজ এর আর একটা ছেলে শিপন
নামের
নিপা কে ভালবাসত।
গরিব এর ছেলে বলে নিপা কে কখনো তার
ভালবাসার কথা বলে নি।
কিন্তু নিপা কলেজ এর আর একটা ছেলের সাথে
প্রেম করত
তবে ওই ছেলের চরিত্র এত ভাল না
আর এই কথা টা নিপার বান্ধবি রা অনেক
বুঝানোরর পরেও নিপা বুঝত না।
আর শিপন তো পাগলের মত করে নিপা কে
ভালবাসত
নিপা জানতো এই কথা।
কিন্তু শিপন গরিব বলে পাত্তা দিত না
শিপন একদিন সাহস করে কলেজ এর বারান্দায়
একটা ফুল নিয়ে দাড়িয়ে রইল যে আজ যেভাবে
হোক নিপা কে তার মনের কথা জানাবে।
আর নিপা কাছে আসতেই।।
শিপন: নিপা তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।
নিপা: বল
শিপন: তোমাকে অনেক দিন আগ থেকেই আমি
ভালবাসি
প্রথম দেখার পর থেকেই
কখন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি আমি জানি
না
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি অনেক।
নিপা: রাগান্বিত হয়ে দেখো আমি অন্য কাও কে
ভালবাসি
আর তুমি আমাকে ভালবেসে দিতে পারবেই বা কি?
থাকো তো বস্তির মাঝে
আর ভালবাস আমাকে?
হাহাহা সত্ত্যি খুব হাসি পাচ্ছে
তোমার কথা শুনে।।।
শিপন: মন টা খারাপ করে নিচু স্বরে বলল দেখো
নিপা
জানি আমি গরিব কিন্তু গরিব বলে কি আমার
ভালবাসার অধিকার নেই?
আর তুমি আমাকে ভাল নাই বা বাসো
তবে তুমি যাকে ভালবাস সেই ছেলে টা ভাল না
তোমাকে কষ্ট দেবে
আর আমি চাই না কখনো তুমি কষ্ট পাও।
নিপা: আরও রেগে গিয়ে বলল আমার বেপারে
তোকে না ভাবলেও চলবে।
শিপন এর হাত থেকে ফুল টা নিয়ে ছুরে ফেলে দিল
এরপর থেকে যখনি শিপন কে দেখত তখনি নিপা
অপমান করত।
সবার সামনে অপমান করলেও শিপন কিছু বলত না
উলটা বলত আমি যে তোমাকে খুব ভালবাসি
তাই তুমি আমাকে যতই অপমান কর একটুও কষ্ট
হয় না।
সব সময় নিপার পিছে ঘুরত শিপন আর বলত
পৃথিবীতে
আমার চেয়ে বেশি তোমাকে কেও ভালবাসতে
পারবে না। এটা আমি একদিন বুঝিয়ে দেব
তোমায়।।
নিপা তখন বলল যে যদি আমাকে এতই ভালবাস
তাহলে আমার সামনে কখনওই আসবি না তুই।
সেইদিন নিপার বয়ফ্রেন্ড শিপন কে কলেজ এর
মাঠে অনেক মেরেছে
শিপন তার কোন প্রতিবাদ করে নি
কারন নিপা কষ্ট পাবে বলে।
পরে নিপা তার বাবা কে বলে শিপন কে কলেজ
থেকে বার করিয়ে দেয়।
আর দেখা যায় নি শিপন কে সেইদিন এর পর।
কয়েক বছর কেটে গেল।
একদিন নিপা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
হসপিটাল এ admit হবার পর জানতে পারে যে
নিপার দুই কিডনী ই নষ্ট হয়ে
গেছে।
তার বাবার তো টাকারর অভাব নাই।
সব জায়গা তেই খুজতেছে কিন্তু কোথাও পেল
না।
নিপার তো হুশ নেই।
পরে আছে বিছানায়
আর এইদিকে ডাক্তার বলল তাড়াতাড়ি যদি কিডনী
না দেয়া যায়
তাহলে নিপাকে বাচানো যাবে না।
অবশেষে কিডনী পাওয়া গেল।
অপারেশন এর পর নিপা সুস্থ হল
যখন নিপার হুশ আসতেই চারিদিকে দেখতে লাগল।
তার মা - বাবা সবাই কে দেখতে পেল কিন্তু তার
ভালবাসার মানুষটি কে না দেখেই নিপার বুকে
যেন কেপে উঠল।
তার ভালবাসার মানুষ টা তাকে বাচানোর। জন্যে
কিডনী দিয়ে দিল বলে।
পাগলের মত হয়ে উঠে নিপা
ডাক্তার কে বলল
আমাকে কিডনী কে দিল?
তখন ডাক্তার নিপা কে নিয়ে গেল
সেই লাশ এর সামনে
নিপার শক্তি নাই লাশ এর মুখের থেকে সাদা
কাফন টা সরানোর,,,,,
সাহস করে যখন কাফন টা সরালো
নিপা কান্নায় মাটিতে লুটে পড়ল।
কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলল নিপা।
কারন এই লাশ তো শিপন এর।
যাকে সে সারা জীবন শুধু অপমান করেছে। ক
এরপর ডাক্তার নিপা কে বলল আপনার ভালবাসার
মানুষ টি আপনাকে একটি
বারের জন্যেও দেখতে আসে নি
আর শিপন এর দেয়া একটা
চিঠি দিল,,,,,,
চিঠি তে লিখা ছিল,,,,,,,,,
তুমি তো আমার মুখ কখনো দেখতে চাও নি।।।
জানো তুমি না বলেছিলা সত্যি যদি তোমা কে
ভালবেসে থাকি তোমার সামনে যেন কখনো না
আসি।
দেখলে তো কত টুকু ভালবাসি তোমায়
একটি বারের জন্যেও তোমার সামনে আসি নি।
জানো তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম
আর সেই তুমি তো কখনো আমার ভালবাসা কে
বুঝ
নি,,
বলতে পারো কি করব এই জীবন দিয়ে যেই জীবনে
তোমাকে পাব না.......
আর তাই তো চিরবিদায় নিলাম।
আর কখনো তোমার সামনে এসে বলব না
ভালবাসি তোমায়
অনেক বেশি ভালবাসি তোমায়।
আমার একটা শেষ ইচ্ছে পুরন করবে?
একটি বার এর জন্যে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধর
না,,,,
চিঠি পড়া শেষ হতেই নিপা শিপন এর লাশ টা বুকে
জরিয়ে কাঁদতে লাগল
আর বলতে লাগল......
শিপন আমাকে ছেড়ে কেন গেলি,,,,,,,,



Monday, October 30, 2017

বোবা অনুভুতি

কলেজ যাওয়ার জন্য হিজাব পরছি তখন ই মা এসে বললো এ রোদেলা আজ কলেজ যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমি বললাম সামনে আমার পরিক্ষা এসব জামেলায় জড়াতে চাই না,
তোর কি কারো সাথে সম্পর্ক আছে? (মা)
না....
তাহলে প্রতিটা সময় দেখতে আসার কথা শুনলে এই রকম ব্যবহার করিস কেনো!!
মা তুমি জানোনা আমার পড়ালেখা করার ইচ্ছা আর তুমিও তো চাইতে তোমার বড় মেয়ে ভালো পড়ালেখা করে মানুষ এর মতো মানুষ হউক।
তখননি মা মাথা নিচু করে আমার সামনে থেকে চলে গেলো,
চোখে না দেখলেও মনের আয়নায়
ঠিকই ভেসে উঠলো মায়ের কান্না ভেজা চোখ।
মায়ের ও অনেক সপ্ন ছিলো আমাকে নিয়ে কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়েদের সব আশা গলা টিপে হত্যা করতে হয় তার স্বামীর রোজগারের দিকে তাকিয়ে ।
আর যে মায়ের এক সাথে দুটি মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত থাকে তার উপর একটা ছেলে নাই ।

কথা গুলা চিন্তা করতে করতে হেঁটে হেঁটে কলেজে চলে গেলাম।
কিছুতেই ক্লাসে মন বসাতে পারছিনা আমার জীবনে কি ঘটতে চলছে,
চিন্তার ছেদ পড়লো ক্লাসের সামনে মাসুদ স্যার এর ডাকে,
তিনি আমাকে নিজের মেয়ের থেকে কম ভালোবাসে বলে মনে হয় না।
জি স্যার আসছি বলে রুম থেকে বাহির হলাম।
স্যার বললো রদু তোর মা ফোন করছে দশ মিনিট এর বিতরে বাড়ি যেতে ওহহ রিক্সা করে চলে যা ।
মাথা নিচের দিকে দিয়ে বললাম স্যার আমি যাবো না ।
ওদের সামনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে কলেজে আসতাম না।
এই রদু মাথা তোল মা,আমি সব শুনছি খোঁজ নিয়ে দেখছি ছেলে যথেষ্ট ভদ্র পরিবার ও অনেক ভালো তার চেয়ে বড় কথা তুই পড়া চালিয়ে যেতে পারবি।
আমি কিছু বললাম না দেখে স্যার আমার হাত ধরে বললো যা না মা ):
কিচু না বলে রুমে গিয়ে মুখ লাগিয়ে ব্যাগ নিয়ে বাহির হতে যাব তখনি কয়টা বন্দু বলে উঠলো দেখতে আসছে না কি রে।
ওরা আমায় নিয়ে মজা করছে আর আমার কোরবান হচ্ছে।
রিক্সায় গেলাম না প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ব্যায় করে বাড়ি ফিরলাম,
তখনো ওরা যায় নাই,আল্লাহ এ কেমন মানুষ গুলা দুই ঘন্টার মতো হলো তাও বসে আছে চেঁচড়ার মতো।
একটুও মেকাপ করি নাই তাও আমায় অবাক করে দিয়ে ওনারা আজকেই আমাকে রিং পরানোর সম্বতি জানালেন।

আর এক সাপ্তাহ পর না কি আমার বিয়ে ভাবেতই রাগ হচ্ছে।
এদিকে মা বাবা ফুফুর বাড়ি গেছে পরামর্শ করার জন্য ফিরে আসলো নয়ন ভাইকে নিয়ে।
নয়ন ভাই এর চোখে চোখ পড়তেই একটা মলিন হাসি দিয়ে রুমে চলে গেলাম।
কখনো নয়ন ভাই এর চোখের দিকে এভাবে তাকাই নি তাহলে আজ কেনো?
মা ডাক দিলো রোদেলা কই গেলি ছেলেটা এলো নাস্তা দে।
আমি সামনে গিয়ে হাসি মুখে বললাম ভাইয়া দুধ চা খাবেন?
কিচ্ছু বললো না ,মাথাটা ডান পাশে নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।
জিজ্ঞাস করা লাগবেনা যা তোর যা ইচ্ছা নিয়ে আয়,
যাওয়ার সময় নয়ন এর চোখের দিকে তাকিয়ে তো আমি অবাক তার চোখে পানি আমার মাথা আর কাজ করছেনা।
আমি এটা কি দেখলাম উনার কান্নার কারন কি আমি।
তাহলে উনিও! ( অবাক)
আখিঁর ডাইরিতে গল্প, ছন্দ ,কবিতা লিখতো পড়লেই বুজা যেতো আমায় নিয়ে লেখা আর ও দিকে আখিঁ চিৎকার করতো আমার ডাইরির সব পৃষ্ঠা শেষ ভাই আমারে মাপ করেন আপুর ডাইরিতে যাই লিখেন।
নয়ন ভাই বলতো তোর আপুর যেই মাত্রায় রাগ ছোট বেলায় তো আমারে ব্লেট দিয়ে কাটছে দেখ এখনো দাগ আছে,আর এখন তো চুরি দিয়ে ...........
আমার হাতের লেখা ছিল খারাপ সবাই বলতো রোদেলা হাতের লেখা ঠিক করো আর মাসুদ স্যার এ তো বলতো এই তো রদুর কোপানি শুরু হইছে
নয়ন ভাই বলতো আমার হাতের লেখার ইস্টাইল টা অনেক সুন্দর।

.
পরের দিন থেকে উনার দায়িত্ব দেখে আমি আর কিছু বুজতেই পারি নাই কি আর ভাববো।
যে ভাবে একটা ভাই তার বোন এর বিয়ে তে দায়িত্ব পালন করে ঠিক ও রকম।
আজ আমার হলুদ ,
নয়ন ভাই খুব ব্যস্ত কেনো জানি আজ আমার ও চোখে অঝরে পানি পড়ছে কই এত্তো দিন তো এমনটা হয় নাই।
একে একে সবাই হলুদ দিল কিন্তু নয়ন ভাই কই?
ভিডিও ম্যান কে বললাম নয়ন ভাই কই( উনি আবার নয়ন এর বন্দু)
সবার শেষে সাহেব আসলেন কোথা থেকে হাসতে হাসতে,
আমি এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম তার সেই হাসির দিকে।
উনি আমায় হলুদ দিচ্ছেন না কপাল থেকে গাল পর্যন্ত আলপনা করছেন বুজতেছিনা।
বড় হওয়ার পর এই প্রথম তার ছোয়া এই ছোঁয়া পবিত্র ভালোবাসার ছোয়া।
কিন্তু এখন তো সময় শেষ আর উনি তো আমায় বুজতেই দিচ্ছে না আর কখনো বলেও নি ।

আজ আমার বিয়ে, ,,
নয়ন ভাই কে আজ আর চোখেই দেখি নাই।
এদিকে আমাকে সাজাচ্ছে আর আমি চোখের পানি দিয়ে তা মুছে দিচ্ছি, যে সাজাচ্ছে তার বকা শুনছি।
বোকা মেয়ে এখনকার সময় এই রকম কান্না করে না কি কেউ চুপচাপ বসে থাকো।
আমায় নিয়ে যাচ্ছে অন্যের বাড়ীতে শুধু একটা বার তাকে দেখার আশায় অনেক সময় ধরে যেতে চাই নাই কান্নার অজুহাতে ।
.
পরে ফুফুর থেকে জানতে পারলাম নয়ন ভাই দুপুরের দিকে বাড়ি চলে গেছে পুরো রাত কান্না করে .........
,
থাক না কিছু অজানা
,
অনেক সময় অসমাপ্ত থেকে যায় হাজারো বাস্তব জীবনের গল্প,,
--(সমাপ্ত) --

রাগি বউ

অনেক দিন পর শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি।অনে মজা লাগছে।।শালিটাকে কত দিন দেখিনি।আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই ভালো শুধু আমার বউ নিশি বাদে।কি করতে যে তার সাথে প্রম করছিলাম আর বিয়ে করলাম।জীবনটা একেবারে তামাতামা করে দিছ।এতো জেদ মানুষের হয় নাকি।
বাসা থেকে আমি আর নিশি রওনা দিলাম।শ্বশুর বাড়ির কাছাকাছি এসেছি।এমন সময় দেখি একটা ছেলে নিশিকে লক্ষ হরে কাগজ ছুড়ে মারছে।আমি ভাবছি ছেলেটর কপালে দুঃখ আছে।।
নিশি ছেলেটার কাছে গিয়ে বলল
>এই ছেলে কাগজ ছুড়ে মারলে কেন?
>তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।।।
>তাই বলে রাস্তায় কাগজ ছুড়ে মারবে।
>তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
>এক দেখায়??????
>না।।।তোমাকে আমি ১মাস থেকে ভালোবাসি।।
>তুমি জান আমি বিবাহিত????
>হ্যা।।তাও তোমাকে ভালোবাসি।।
>আমি প্রেম ছুটাতে পারি।
>আমার বাবা দর অনেক টাকা তোমাকে অনেক সুখে রাখবো।ঐ চিকনিটাকে ছেড়ে আমার কাছে চলে এসো।
নিশি ছেলেটাকে এত জরে চড় দিছে যে সবার চোখ তাদের ওপর।
তোর প্রেম করার খুব সখ না।দারা।
এই বলে পা থেকে জুতা খুলে ছেলেটাকে তাড়ানি দিছে।
ছেলেটা ভয়ে আগেই পগার পার।
আমরা শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করলাম।
শালিটা তো আমাকে দেখে জরাই ধরছে।
শালি বলে
>দুলাভাই আমাদের ভুলে গেছেন।
>আরে না।আমার কিউট শালিকে ভুলতে পারি?
>ধং কত।তাহলে মাঝেমাঝে আসতেন।
>সময় পাই না যে।

>যানি যানি।।আপুর ভয়ে ভয়ে আসেন না।
আমাদের কথা শুনে নিশি তো রাগে ফুসতেছে।এমনিই রেগে আছে।
আমি আমার বউটার রুমে গেলাম।অনেক খন হলো নিশির খোজ নাই।পুরা বাড়ি খুজলাম কোথাও নাই।পরে ছাদে গিয়ে দেখি মহারানি োখানে দাড়াই আছে।
আমি নিশির কাধে হাত দিলাম।ওমনি ঝাকুনি দিয়ে ফেলে দিল।।
>কি হয়েছে আমার রাগি বউটার।
>কিছুনা
>কিছু তো একটা হয়েছে।
>তুই নিশাকে ওভাবে জোরাই ধরলি কেন??
>সরি।বউ ভুল হয়েগেছে।ার ধরবনা নিশাকে।
>তোর কোন মাফ নাই।
>প্লিজ
>নি।
আমি ছাদের ধারে এসে বলাম।কেউ যখন মাফ করবেনা।তখন এই ছাদ থেকে লাফ দিয়ো শহিদ হব।
নিশি বলল হনা।শহিদ।দেখি কেমন সাহস।
>এই লাফ দিলাম কিন্তু।
>যা ইচ্ছা
ছাদের কিনারায় গিয়ে নিচে তাকাতেই আমার শরীর ঘামতে শুরু করছে।
>আবার ভেবে দেখো।আমি মরলে তুমি বিধবা হবে।
>সমস্যা নাই।।
আমি তো ভাবছি আজ আমি শেষ।
>চোখ বুজে ভাবছি।যা হয় হক।আজ আমি সাহসের পরিচয় দিবই।
লাফ দিয় কিন্তু নিচে পড়িনা কেন??
আবার দিলাম।এইবার ও পড়িনি।কি ব্যপার।
পেছনে তাকিয়ে দেখি নিশি আমার শার্ট ধরে আছে।।
>আমাকে কষ্ট দিতে তোমার এতো ভালো লাগে??জাননা রাতে তোমার বুকে মাথা না দিলে আমার ঘুম আসেনা।তুমি লাফ দিলে আমি কার কাছে থাকব।
>সব ধং।
>নিশি আমাকে জোরাই ধরে কান্না করতে করতে বলছে।লাফ দিলে আমাকে সাথে করে নিয়ে লাফ দাও।
>আমি অন্য দিকে মুখ ঘুরাই আছি।
>আমার বরটা রাগ করছে???দাড়াও রাগ কমাই দিচ্ছি।
এই বলে তার গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোট দিয়ে আমার ঠোটে লম্বা একটা ইয়ে দিল।।
যাই হক আমার বউটার রাগ তো কমছে।।।
 


Sagor Islam Raj( ভালোবাসার কবি)

ইফতির ডায়েরী

"ইফতি আপনি আর কখনো বাবা হতে পারবেন না। প্রবলেম আপনার স্ত্রীর না। আপনার কারনেই আপনি বাবা হতে পারছেন না।"
ডাক্তারের কথা শুনে আমার মাথা চক্কর দিচ্ছে। আমি কিছু বলতে চাচ্ছি। জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছু। কিন্তু আমার জিহ্বা কাঁপছে। আমি ভাবছি আমি স্বপ্ন দেখছি। খুব ভয়াবহ কোন স্বপ্ন।
-কিন্তু এর আগেও আমার স্ত্রী কন্সিভ করেছিলো।
-কতদিন আগে?
- ৪ বছর আগে।
-দেখুন আপনার রিপোর্ট আমি এক্সামিন করেছি। আপনি একসময় খুব নেশা করতেন এবং এর ফল স্বরূপ আপনার কিছু হরমোনাল সমস্যা হয়েছে। যার কারনে বাবা হওয়ার ক্ষমতা টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আপনি চিকিৎসা করে দেখতে পারেন তবে খুব একটা কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। সরি।
সব ফাইলপত্র নিয়ে বের হয়ে গেলাম। বাসায় গিয়ে আমি কিভাবে এই কথা বলব? ইসসসসস এতদিন আমি ভেবেছি আমারর স্ত্রী ইশিতার সমস্যার কারনে বাচ্চা হচ্ছে না। সারাদিন মা তাকে এটা সেটা বলে। সারাদিন ইশিতা আমার উপর এই নিয়ে ঝগড়া করে ..কাল পর্যন্ত ইশিতা বলছে যদি তার কোন সমস্যা হয় তাহলে সে চলে যাবে সংসার ছেড়ে তবে যদি সমস্যা টা আমার হয়ে থাকে তাহলে ইফতির মায়ের প্রতিদিনের তিক্ততার জন্য কেস করে দিবে। ইশিতা একপ্রকার জোর করে আমাকে সব টেস্ট করিয়েছে। আমি কি বলবো বাসায় গিয়ে? ইশিতার অনেক জীদ। ও এই কথা শুনলে কি যে করবে আমি আন্দাজ করতে পারছি। কি করবো কি করবো ভাবতে ভাবতেই গাড়ি বাসার গেটে চলে আসলো। ঘরে ঢুকতেই মা গেট খুললেন -
- কিরে রিপোর্ট আনসিস? কি বলসে ডাক্তার?
-হুম? ও না আজ রিপোর্ট আনতে যেতে পারি নাই।
-ইস আনিস নাই কেন? আরো একদিন এই অলক্ষীটা কে আমার সহ্য করতে হবে .. অসহ্য যন্ত্রনা।
আমি ইশিতার রুমে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। খুব খুব ভয় লাগসে। ওকে ও মিথ্যা বলব কিন্তু কতক্ষন?
সত্য সামনে আসবে। তখন কি করবো?
কোন রকমে মায়ের কথার কোন রকম উত্তর না দিয়ে রুমে চলে গেলাম। গতকাল পর্যন্ত আমিও মায়ের সাথে তালে তাল মিলাইছি। কিন্তু আজ সাহসে কুলাচ্ছে না। আমি খুব নরমাল থাকার ভান ধরসি কিন্তু পারছি না।
রুমে ঢুকেই দেখলাম ইশিতা টিভি দেখসে।
-কখন আসলা?রিপোর্ট কই? ডাক্তার কি বলসে?
-ইশিতা আমার শরীর টা ভীষণ খারাপ লাগসিলো তাই আজ যাই নাই রিপোর্ট তুলতে। কাল যাবো।
- কি হইসে শরীরে? জ্বর নাকি?
-না ঠিক আছি। তুমি রাতে খাইসো? না খাইলে খেয়ে নেও।
-আচ্ছা কিন্তু ……
-লাইট অফ করে যেও। আমি ফ্রেশ হয়ে একটু শুই..
-আচ্ছা ঠিকাছে।
আমার কথা গুলা শুনে ইশিতা একটু অবাক বোধ করছে। এভাবে তাকে এত নরম ভাবে আমি কখনো কথা বলি না। অভ্যাস নাই। বলতে গেলে আমার বংশের কারোরই নাই। বৌ এর সাথে নরম গলায় কথা বলাকে অনেকে কাপুরুষতার লক্ষণ মনে করেন। আচ্ছা আমি বাচ্চার বাপ হতে পারবো না। আনি কি তাহলে কাপুরুষ? আমি কি আজ এজন্য এত নরম ব্যাবহার করসি?
শাওয়ার নিচ্ছিলাম আর ভাবসিলাম। বাথরুমের দরজা বন্ধ থাকা স্বত্তেও শুনতে পারছি মা ইশিতাকে গালি গালাজ করছেন।
"এই অলক্ষী খাইতে খাইতে তো দুনিয়া খায়া ফেলতেসোস। আর কত খাবি? লজ্জা থাকলে রিপোর্ট এর অপেক্ষায় থাকতি না। তার আগেই বের হয়ে যাইতি। ফকিন্নির বাচ্চা।"
কথা গুলা আজ আমার কানে না। বুকে বিধছিলো। আমার কষ্ট হচ্ছিলো।
ইশিতা মায়ের কথায় প্রতিবাদ করে। সে এমনে শান্ত ভালো কিন্তু খারাপ ইলোজিকাল কথা বার্তায় সে সবসময় প্রতিবাদ করে। আচ্ছা ও কি আসলেই আমাদের নামে মামলা করে দিবে?
আমি শাওয়ার শেষে ঘুমাতে গেলাম। ক্ষুধা তৃষ্ণা কিছুই লাগছে না। ইশিতা পাশে এসে শুয়ে জিজ্ঞেস করলো ঘুমিয়ে গিয়েছি কি না?
কোন উত্তরই দিলাম না... ও ভেবে নিলো আমি ঘুমিয়ে পড়ছি।
জানিনা কেন যেন ঘুম আসছে না। খুব সতর্কতার সাথে চেক করলাম ইশিতা ঘুমিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার ঘুম আসছে না। কোন ভাবেই না।
একটু পর লক্ষ্য করলাম আমার চোখের পানি বালিশের কভারে লাগছে। আমি কাঁদছি।
আমার আসলে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। আমি তনুর মত বুক ফাটিয়ে কাঁদতে পারতাম আজ। আহ তনু তুমি কতই না কেঁদেছিলে ঐ দিন।
"তনু" আমার প্রথমা স্ত্রী। ইশিতার আগে আমার তার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। একটা পরী ছিলো। কথা কাজ চেহারা সব দিক দিয়ে সে গুণী ছিলো। পালিয়ে বিয়ে করসিলাম দুইজন। মা মেনে নেন নি তনু কে। অনেক হাউ কাউ এর পর মা তনুকে ঘরে তুললেন। আমরা অনেক বড়লোক। গাড়ি বাড়ী কি নাই? তো আমাকে কাজ করতে কেন হবে এই একটা শয়তানি চিন্তা আমার মা আমাকে ছোট থেকেই ঢুকিয়ে দিসিলেন। আমি কাজ করতাম না। যা চাইতাম পাইতাম। তনু কে ঘরে তুলার পর যেই তনুর জন্য আমি এত পাগল ছিলাম আস্তে আস্তে ঐ ইন্টারেস্ট টা কমতে লাগলো। মনে হচ্ছিলো সংসার শুধু দায়িত্বের পাহাড়। ও আমাকে কাজ করতে যেতে বলতো। আমার ভাল্লাগতো না। আমি যেভাবে সোনার চামচে দুধ খেয়ে বড় হয়েছি ঐ মানুষ আমি নাকি ৯-৫ টা আমার অফিসে গিয়ে বসে সবার কাজ দেখতে হবে,বয়স টা ই বা কত ছিলো?
২৫/২৬.. হুজুগের মাথায় বিয়ে করসিলাম। কিন্তু বিয়ের পর আর ভালো লাগছিলো না। তনুর সাথে আমার মা প্রতিনিয়ত বাজে ব্যবহার করতেন। ঘরের সব কাজ করাতেন। সারাদিন বাবা মা তুলে কি সব যে বলতেন। ও কখনো উওর দিতো না। রাতে বিছানা যখন ওর ফুঁপানো কান্নায় কেঁপে উঠতো তখন আমি বিরক্ত হতাম। ইস কত অনুভূতি হীন হয়ে পরসিলাম। সকাল সন্ধ্যা বন্ধু বান্ধব আড্ডা নিয়ে যখন ব্যস্ত ছিলাম তখন তনু নামক জীবিত লাশ টা সারাদিন কান্না করত।
একদিন রাতে ঘুমানোর সময় তনু আমাকে ডেকে বলল---
-ইফতি.. দুই মাস ধরে পিরিয়ড বন্ধ। আমি মনে হয় কন্সিভ করেছি।
আমার মাথা সাথে সাথে খারাপ হয়ে গেলো। বলে কি! আমি বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে চিন্তায় পালায়া বেড়াই। বাচ্চা কেমনে নিবো..
-এটা কেমন কথা?তুমি পিল খাও না সময় মত?
-খাই কিন্তু অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। মনে হচ্ছে we are going to be parents.. (তনুর চোখে মুখে হাসি ছিলো)
তনুর চোখের আনন্দ আমার বিরক্ত লাগছিলো।
-দেখো তনু আমাদের বিয়ে হইসে মাত্র ৫ মাস। এত তারাতারি বেবি নিবো না আমি ..
- আল্লাহ বুঝে শুনেই হয়ত দিচ্ছেন বাচ্চাটা। এভাবে বইলো না ইফতি। প্লিজ কাল ডাক্তারের কাছে যাই চলো। প্লিজ , আমি তো কখনো তোমার কাছে কিছু চাই নাই। এটাই আমার চাওয়া। প্লিজ মানা কইরো না।
-আচ্ছা ঠিকাছে।
সকালে মেডিকেলের টেস্ট অনুযায়ী জানা গেলো তনু মা হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাবা হওয়ার বিন্দু পরিমান আনন্দ আমার নাই। আমার মিনে হচ্ছিলো আমি ফেঁসে যাচ্ছি। দারুন ভাবে ফেঁসে যাচ্ছি। আমাকে ছুটতে হবে.. কোন রকমে তনু কে তার বাসায় রেখে আসলাম। আমি ফিরে গেলাম আমার বাসায়। মা কে গিয়ে বললাম। আমার মা আমাকে বললেন -
-শুব এই ফকিন্নির জাত রে বিয়ে কইরা এমনেই অনেক বড় ভুল করসোস। আবার বাচ্চাও নিতে চাস?মাথা ঠিক আছে? এই মাইয়া বাচ্চা হওয়াইলে তোরে কুত্তার মত নাচাবে।
-কেমনে ?আমাকে নাচাবে কেন?
-আরে ও তোরে বাচ্চার দোহাই দিয়া দিয়া বারবার ঘরে আটকায়া রাখবে। কারো সাথে মিশতে দিবে না। তুই চিনোস এই ফকিন্নিরে? ও তোরে ঘরমুখো করার জন্য ইচ্ছা কইরা এই টা প্ল্যান করছে।
মায়ের কথা আমার কাছে অতি মাত্রায় লজিকাল মনে হইসে। আসলেও তো আমাকে আটকায়া দিবে তনু। ওর প্লান সাকসেস করা যাবে না।
আমি সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলাম তনুর বাসার উদ্দেশ্যে। বাসায় গিয়ে ওকে বললাম -
-তনু আমি এখন বাচ্চা চাই না। এখনো বাচ্চার রেসপন্সিবিলেটি নেওয়ার সময় আমার হয়
নাই।
-মানে?
-মানে সহজ। বাচ্চাটা এবর্ট করতে হবে..এইটাই ফাইনাল।
তনু আমার পা জড়ায়া ধরলো।
-ইফতি এমনে বইলো না প্লিজ। আমাদের বৈধ সন্তান আমরা ওকে পৃথিবী তে আনবো না?
-না পারি না। এটা সঠিক সময় না।
-আল্লাহর দোহাই প্লিজ আমি তোমার কাছে কখনোই কিছু চাই না।আমার বাচ্চাটা কে প্লিজ বাঁচতে সাহায্য করো।
তনু আমার পা ধরে হাউ মাউ করে কাঁদিছিলো। আমি কতটা অনুভূতিহীন ছিলাম যে আমি তাকে এতটুকুও বুঝতে পারছিলাম না। বরং ওকে অপশন দিলাম। বাচ্চা রাখলে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো। তনুর মা পর্যন্ত আমাকে খুব রিকোয়েস্ট করলো।
"বাবা এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ো না। এতে অনেক পাপ। তোমাদের প্রথম বাচ্চা।এমন কইরো না।"
আর আমি উত্তর দিয়েছিলাম -" মেয়ের সংসার চান নাকি ডিভোর্সি মেয়ে সহ বাচ্চা চান?আমার মা বলছে যেই বাচ্চার এখন হাত পা জন্মায় নাই তাকে মারলে কোন গুনাহ হয় না"
তনু সেদিন খুব কেঁদেছিলো। খুব বেশি। ওর সাথে সেদিন ভরা গ্রীষ্ম এর দুপুরে আকাশ ও কেঁদেছিল ..আমাকে তনু কান্না দিয়ে রাজি করাতে পারে নি।
অনেক ধমকানো অনেক ভয় দেখানোর পর তনু কে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম এবরশন করতে। সেখানেও তনু বারবার কান্না করসিলো। মানুষের সামনে আমার হাত পা জড়িয়ে অনুরোধ করছিলো -"প্লিজ ইফতি বাবুটা রেখে দেই প্লিজ জান আমি তোমার কাছে আর কখনো কিচ্ছু চাইবো না জান।"
ওর কান্না দেখে আসে পাশের মানুষ কাঁদছে। কিন্তু আমার হৃদয় স্পর্শ করে নাই..
এবরশনের আগ মুহুর্তে ডাক্তার আমাকে ডেকে বললেন--
- ইফতি আরেকবার ভেবে দেখেন। প্রথম বাচ্চা এবরশন করলে অনেক সময় টিউব অফ হয়ে যায়। এতে মেয়েদের অনেক সমস্যা হয়। এমনও অনেক কেস দেখেছি যেটাতে মেয়ে টা আর কখনো মা হতে পারে না। আপনি বাবা হতে পারলেও সে কিন্তু মা হওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
-পরের টা পরে দেখা যাবে।
-ঠিকাছে যেহেতু u guys decided to abort ur child তাহলে আমি আর কি বলতে পারি.আমার দায়িত্ব ছিলো আপনাদের বুঝানো তাই বুঝালাম।
ওটি তে ঢুকানোর সময় তনুর সেই অসহায় চোখের দৃশ্য আমাকে আজও প্রায় রাতে দুঃস্বপ্নের মত জ্বালায়। ওর চোখ যেনো বলসিলো " ইফতি আমাকে আটকাও,আমার ভয় লাগসে। প্লিজ আমার বাচ্চাটাকে মেরো না।"
এবরশন শেষে তনু সম্পূর্ণ রাস্তায় কোন আওয়াজ করলো না। তনুকে ওর বাসাতেই রেখে আসলাম। আমি ঘর থেকে বের হওয়ার পর একটা চিৎকার শুনেছিলাম। এক মাকে জোর করে তার বাচ্চা কে মেরে ফেলার ঐ কষ্টের চিৎকার্। "ও আল্লাহ এমন কেন হইলো আমার সাথে"
আমার মা বেশ হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন সেদিন।
আমার শরীরের লোম দাড়িয়ে গিয়েছে।
এরপর তনু মানসিক দিক থেকে খুব ডিপ্রেশন এ পড়ে গেলো। কেমন যেনো পাগলা পাগলা বিহেভ করতো। আর আমি এই সুযোগে বন্ধু এলাকার ছোট ভাই দের সাথে নেশার জগতে আস্তে আস্তে অনেক গভীরে চলে গেলাম। এরপর থেকে আমার মুখ কম হাতটাই বেশি চলত তনুর গায়ে। যেই তনু কে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে বাচ্চাটাকে মেরেসিলাম সেই তনুকে আমি ডিভোর্স লেটার দিয়ে দিলাম..মিথ্যা অযুহাতে।
সেদিনও সে কেঁদেছিলো। আমার মত মেরুদণ্ডহীন একটা প্রানীর সাথে সে কুকুরের মত লাত্থি উস্টা খেয়েও সংসার করতে চেয়েছিলো।
আহারে মেয়েটা। অনেক কেঁদেছিলো। এরপর আর কখনো আমার সাথে ও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে নি।
শুনেছি তনু নামের জীবিত লাশ টা আবার বাঁচার জন্য উঠে দাড়িয়েছে।
আমি আবার বিয়ে করলাম। এবার মায়ের ইচ্ছাতেই করলাম। কিন্তু ইশিতা মা হতে পারছে না বলে মা ওর সাথে ঐ ব্যাবহার করে। খুব ইচ্ছা করছে তনুর পা দুইটা ধরে ক্ষমা চাইতে। ওর কি দোষ ছিলো? ও কে আমি অযথাই ছেড়ে দিয়েছি। অনেক ভালোবাসতো তাই সংসার টিকাতে সে নিজের সন্তান কে খুন করেছে। আর সেই আমি এখন আর বাবা হতে পারবো না। ও আমাকে মাফ করবে না। করার কথাও না। খুব চিৎকার করে বলে উঠলাম " তনু রে জান আমাকে মাফ করে দিস প্লিজ"
আমি বারান্দায় বসে কাঁদছি। হঠাৎ একটা হাত আমার কাঁধে এসে ভর করে বললো ---
-কি হইছে ইফতি? কি হইছে?
আমি তাকে ঘুরেই জড়িয়ে ধরে বললাম
-ইশিতা ছেড়ে যেও না আমাকে। আমি আমার পাপের ফল ভোগ করছি। তুমি আমাকে ছেড়ে যায়ো না ।আমি ভীষণ একা হয়ে যাবো।
ইশিতা একটু মুচকি হেসে বললো
-তুমি আর তোমার মা কি আমাকে মাফ করে দিতে যদি আমার কারনে বাচ্চা না হত? তাহলে আমার কি তোমাদেরকে এত দিনের এত নির্যাতনের জন্য মাফ করে তোমার সাথে সংসার করাটা ঠিক হবে ইফতি?
নাহ একেবারেই ঠিক হবে না।
এই বলে ইশিতা আমার হাত ছাড়িয়ে আলমারির সব কাপড় গুছিয়ে নিচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। আজ আমিও তনুর মত অসহায় চিত্তে শুধুই তাকিয়ে আছি।
ব্যবধান একটাই
ঐদিন অসহায় ভাবে এক নির্দোষ তাকিয়ে ছিলো আর আজ এক আসল কাপুরুষ..
.
#ইফতির_ডায়েরী
Jakia Juliet

অনুরাগ

আমি রাগ করে বাপের বাড়ি চলে এসেছি। আসার আগে একটা চিঠিও লিখে এসেছি যেনো ঐ হনুমানটা আমাকে নিতে না আসে এবং আমাকে যেনো ফোনও না করে। আমি আর ওর সংসারে ফিরে আসবো না।
এই সব হাবিজাবি লিখে এসেছি আর কিছু শান্তিদায়ক কাজও করে এসেছি। ফ্রীজের সব খাবার ফেলে দিয়ে এসেছি যেনো সে আজ রাতে না খেয়ে থাকে। কাল থেকে সে হোটেলে খাবে তারপর ওর পেট খারাপ করবে তাই ওষুধের বক্সটাও লুকিয়ে রেখে এসেছি। ওর সব শার্ট প্যান্ট ও লুঙ্গগিসহ ওর সব কাপড় পানিতে চুবিয়ে রেখে এসেছি যেনো ঐ সব ওর ধুয়ে শুখিয়ে আয়রন করতে কষ্ট হয় আর রাতে ঘুমানোর জন্য যেনো লুঙ্গি না পায়।
বলে কি না বউ ছাড়াই সে দিব্যি চলতে পারবে! চল এখন একা একা, আমি তো চলেই এসেছি।
এখানে আসার পর একা এসেছি বলে আম্মু এক ঝাড়খানেক প্রশ্ন করলো। যেনো আমি কি না তে কি অপরাধ করেছি। এমন মা পৃথিবীতে এক পিচই আছে যে নিজের মেয়ের থেকে জামাইকে বেশী বিশ্বাস করে, অসহ্য!
সারাটা দিন এই সব সাত পাঁচ ভেবেই শেষ করলাম। সন্ধ্যে হতেই বেশ খুশি খুশি লাগছে কারণ এই সময় রোদ্দুর বাসায় ফিরে। আজ বাসায় ফিরে দেখবে ওর বউ পালিয়ে গেছে, কি মজা!
পালানো শব্দটা খুব একটা ভালো শব্দ নয় মনে হয়, তাই পালানোটা বাদ।
আসলে তো আমি রাগ করে এসেছি এটাকে কি পালানো বলা যাবে?
বাসায় ফিরে হতভাগাটা লুঙ্গীটাও পাবে না, লুঙ্গী পানিতে চুবিয়ে এসেছি। অফিসে যে প্যান্ট পরে গেছে সারা রাত হয় সেই প্যান্ট পরে থাকতে হবে নয় বস্ত্রহীন, কি মজা! এই সব ভেবে বেশ শান্তি লাগছে। বউ ছাড়া নাকি ওর দিব্যি চলবে। চল এখন লুঙ্গি ছাড়া।
রাত আটটা বাজে
সে বাসায় কোনো খাবার পাবে না এমন কি বিস্কিটের কৌটোও লুকিয়ে রেখে এসেছি, কি মজা! বলে কি না বউ ছাড়া তার দিব্যি চলবে! এখন শুধু বউ নয় খাদ্য দ্রব্য ছাড়াও তুই চল।
নয়টা বাজে
হনুমানটা টিভি দেখতেও পারবে না, রিমোট সাথে করে নিয়ে এসেছি। বউ ছাড়া নাকি তার দিব্যি চলবে! চল এখন রিমোট টিভি লুঙ্গি খাবার ওষুধ সব কিছু ছাড়া।
রাত দশটা বাজে
এতক্ষণে খালি পেটে ওর পেটে এসিড শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ওষুধ খুঁজে পাবে না। সারা রাত পেটে এসিড নিয়ে সে নিশ্চই ঘুমাতে পারবে না, কি মজা! বলে কি না বউ ছাড়া ওর দিব্যি চলবে! এখন পেটে এসিড নিয়ে দারুণ করে চল হতভাগা।
রাত এগারোটা বাজে
কিন্তু আমার ঘুম আসছে না। হঠাৎ মনে হলো ওর ঘুম না হলে ওর ভীষণ মাথা ব্যাথা করে। ওর মাইগ্রেইন আছে।ইস্ মাথা ব্যাথায় সে খুব কষ্ট পায়। ওষুধ গুলোও লুকিয়ে রেখেছি। এটা করা বোধ হয় ঠিক হয়নী। ফোন করে না হয় বলি যে, ওষুধের বক্স ফ্রীজের পেছনে লুকিয়ে রেখেছি। নাহ থাক বলবো না, বউ ছাড়া যদি ওর চলে তাহলে ওষুধের ব্যবস্থাও করে নিক।
সে তো একটি বারও আমাকে ফোন করেনী তাহলে আমি কেনো যেচে ফোন করবো? বর ছাড়াও আমার দিব্যি চলবে।
রাত বারোটা বাজে,
মরার ঘুম কেনো আসছে না? এই এক বছরে ঐ হনুমানটার সাথে থেকে থেকে দেখছি আমার বদ অভ্যেস হয়ে গেছে। একলা ঘুমই আসছে না! ধ্যাত্তেরি! সারা রাত কি জেগেই কাটাবো নাকি? একটা রাত না হয় জেগেই পার করলাম কিন্তু রোজ যদি ঘুম না আসে তাহলে কি করবো? ওকে তো চিঠিতে লিখেছি যে আর কখনো ফিরে যাবো না। আর ওকেও নিতে আসতে বারণ করেছি। সত্যিই যদি নিতে না আসে তাহলে আমার কি হবে? মান সম্মান বিসর্জন দিয়ে হ্যাংলার মতো তো আর যেচে যেতে পারি না! কি মরতে যে রাগ করে এলাম? এলামই না হয় কিন্তু চিঠিটা না লিখলেই পারতাম! আর ঐ মহাপুরুষও কি বেয়াদব যে চিঠিতে যা লিখেছি সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে! অন্য কথা বললে তো উনি এ কান দিয়ে শোনেন আর ঐ কান দিয়ে বের করে দেন। আর এটার বেলা দেখছি হাদীসের মত পালন করছে। আসলে সে আমাকে ভালোই বাসে না। এক বছর দুই মাস হলো বিয়ে হয়েছে আমাদের আর ঐ ভালবাসাহীন মানুষটার সাথে থেকে থেকে কি করে যেনো আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি। আর সে আমাকে একটুও ভালবাসেনী। এসব ভেবে নিজের জন্য দুঃখ পেয়ে কাঁন্না আসছে। সব দোষ আম্মুর, আম্মুর পছন্দেই আমার বিয়ে হয়েছে। আমি ঐ হনুমানটাকে বিয়ে করবো না বলে বিয়ের দিন খুব কেঁদে ছিলাম। এই সব ভেবে আম্মুর উপর খুব রাগ হচ্ছে। এখনই আম্মুকে ডেকে এর হেস্ত নেস্ত করেই ছাড়বো। কিন্তু এত রাতে ঘুম থেকে ডাকা বোধ হয় ঠিক হবে না। সকাল হোক এর হেস্ত নেস্ত করেই আমি ছাড়বো।
রাত একটা বাজে, হনুমানটা ঘুমিয়েছে কিনা কে জানে। ওর মনে হয় খুব খিদে পেয়েছে। না খেয়ে এতক্ষণে ওর পেটে এসিড শুরু হয়েছে মনে হয়। এসিড নিয়ে ওর মনে হয় ঘুম আসছে না। তাহলে এতক্ষণে ওর মাইগ্রেইন শুরু হয়েছে। একবার ফোন করবো? না থাক, ওর তো বউ ছাড়া দিব্যিই চলবে।
সে তো পারতো একটি বার আমাকে ফোন করতে! কিন্তু করেনী, মানুষ কত খারাপ হলে নিজের বউয়ের খোঁজ নেয় না! এই সব স্বামীদের পুলিশে দেয়া উচিত।
রাত দুইটা- তিনটা- চারটা- পাঁচটাও শেষ এখন ছয়টা বাজে। সারাটা রাত একটা মিনিটও ঘুমাইনী। ওকে শিক্ষা দিতে গিয়ে আমি নিজেই শিক্ষিত হয়ে গেছি। এখন তো দেখছি ওর বউ ছাড়া দিব্যিই চলছে কিন্তু আমারই বর ছাড়া চলছে না! এসব ভেবেই কাঁন্না পাচ্ছে।
সাতটা বাজে, হনুমানটাকে না ডাকলে তো ওর ঘুম ভাঙে না। তাহলে অফিসে যাবে কি করে? একবার ফোন করে ডেকে দিই না হয়। না থাক, ওর তো বউ ছাড়াই দিব্যি চলবে তাই অফিসটাকেও চালিয়ে নিক।
সকাল আটটা বাজে, সে ঘুম থেকে উঠলো নাকি সারা রাত মাইগ্রেইন নিয়ে বসে ছিল কে জানে! অফিসে লেটে পৌছালে বসের ঝাড়ি শুনতে হবে। এক বার না হয় ফোন করে বলি। নাহ থাক, বউ ছাড়া তো ওর দিব্যি চলবে, এখন বউ ছাড়া ঝাড়ি খেয়ে চলুক। খালি পেটে ঝাড়ি খেয়ে পেট ভরুক মহাপুরুষের।
ধ্যাত্তেরী! কিচ্ছু ভাল্লাগছে না। একটি বার আমাকে ফোন করলে কি হয়? আজব মানুষ একটা! সব দোষ আম্মুর, এমন কেয়ারলেস ছেলেকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখনই আম্মুর সাথে এর বোঝা পড়া করবো। আম্মুর রুমে গিয়ে বললাম-"তুমি পৃথিবীতে আর কোনো ছেলে খুঁজে পাওনী আমার গলায় ঝুলানোর জন্য?"
আম্মু-"কেনো কি হয়েছে?"
আমি রাগে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বললাম-"এমন ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়েছো যে ছেলে আমাকে ভালোই বাসে না"
সে-"ওমা তাই নাকি? কিন্তু রোদ্দুর তো বললো তুই নাকি ওকে ভালবাসিস না"
আমি-"ঐ হনুমানটা তাই বলেছে? তো এতই যখন ভালবাসে তাহলে কাল থেকে একটি বারও আমাকে ফোন করে আমার খোঁজ নেয়নী কেনো?"
সে-"সে তো বললো তুই নাকি বারণ করেছিস"
আমি-"সে তোমাকে ফোন করে ছিল?"
সে-"হ্যা, রাতেই ফোন করে ছিল"
আমি-"কই আমাকে তো বলোনী?"
সে-"তুই তো বললি তোর আব্বুর জন্য তোর মন কেমন করছিল তাই এসেছিস। ঝগড়া করে এসেছিস সেটা তো বলিসনী"
আমি-"এটা বলার কি আছে? ঐ হনুমানের অত্যচারেই তো আসতে বাধ্য হয়েছি"
সে-"সে জন্যই ভাবছি তোকে আর ওখানে ফিরে যেতে হবে না"
আমি-"কেনো?"
সে-"ভাবছি তোকে ডিভোর্স করিয়ে আবার বিয়ে দেবো"
আমি-"এই... এই আম্মু তুমি আমার সংসার ভাঙার ষড়যন্ত্র করছো নাকি?"
সে-"তুই তো বললি রোদ্দুর তোকে অত্যাচার করে? তাই ডিভোর্স করিয়ে রোদ্দুরকেও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দেবো"
আমি-"কি বললে? আমি ভালো মেয়ে নই? আমার স্বামীকে আবার বিয়ে দেবে? এই তুমি আসলেই আমার নিজের মা তো? আমার ডাউট হচ্ছে"
সে-"অবনি তুই না পাশের বাসার রিজভীর সাথে চোখাচোখি প্রেম করতি? ভাবছি ওর সাথেই তোকে বিয়ে দেবো"
আমি-"বিয়ের আগে মেয়েরা ঐ রকম দু চারটা চোখাচোখি প্রেম করেই থাকে, ওটা কি আসলে ভালোবাসা নাকি?"
সে-"তাহলে আসল ভালোবাসা কোন্ টা?"
আমি-"স্বামীর প্রতি ভালোবাসাই হলো আসল ভালোবাসা"
সে-"তুই তো তোর স্বামীকে ভালোবাসিস না"
আমি-"কে বললো তোমাকে?"
সে-"তোর ভাব ভঙ্গিমা তো তাই বলছে"
আমি-"তাই বলে তুমি আমার সংসার ভাঙার ষড়যন্ত্র করবে? এই তুমি নিশ্চই আমার নিজের মা নও। বলো আমার মাকে কোথায় গুম করে রেখে আমার বাবাকে বিয়ে করেছো?"
এবার আম্মু বেশ রেগে গিয়ে বললো
সে-"ফালতু কথা বলবি না অবনি"
আমি-"আমার সংসার ভাঙার ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে বিয়ে দিতে চাইছো, এটা কোনো নিজের মা করতে পারবে?"
সে-"তোর মাথার তার ঢিলা সেটা তো তোর জন্মের পর থেকেই জানি। এখন দেখছি তোর সেই ঢিলা তার খুলে পড়ে গেছে"
আমি-"কি বললে?"
সে-"ছোট বেলা থেকেই তুই আমাকে জ্বালিয়ে ছাই কয়লা এই সব করেছিস, এখন আবার ঐ সরল ছেলেটার পেছনে লেগেছিস; এই তুই বড় হবি না কখনো?"
আমি-"কি আমি খারাপ আর ঐ হনুমানটা সরল? সে যদি সরল হয় তাহলে গোটা পৃথিবীতে জটিল কে?"
সে-"ছেলেটা তোর জন্য না খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে আর ঐ শরীরেই অফিসেও গেছে তো কি বলবো আমি?"
আমি-"এতক্ষণ পরে এসব বলছো? এই তুমি আসলেই আমার মা তো?"
সে-"আবার বাজে কথা বলছিস?"
আমিও রাগ দেখিয়ে আমার রুমে চলে এসে আমার লাগেজ গোছানো শুরু করলাম। তারপর আমাকে বেরিয়ে যেতে দেখে আম্মু বললো-"কোথায় যাচ্ছিস?"
আমি-"স্বামীর বাড়ি যাচ্ছি"
সে-"তোর গলায় না আমি হনুমান ঝুলিয়েছি? তাই যেতে হবে না"
আমি-"আমার কাজ আছে যেতেই হবে"
সে-"কি কাজ আছে?"
আমি-"ওই হচ্ছে মানে, ফুলের টবে পানি দিতে হবে"
সে-"এই কাজ করতে চলে যাচ্ছিস?"
আমি-"হ্যা আমি এখানে থাকি আর তুমি আমার স্বামীকে বিয়ে দাও। আর আমি যেয়ে দাওয়াত খাই"
আমার কথা শুনে আম্মু অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।
আমি বাসায় পৌছে দেখলাম ওর কাপড় গুলো পানিতেই ডুবে আছে, সাথে আমার গুলোও চুবে আছে। হনুমানটা এই ভাবে শোধ নিছে দেখে খুব রাগ হচ্ছে। আমি সব কাপড় গুলো শুখিয়ে আয়রন করলাম,রান্না করলাম। ঘরটাকে এক রাতেই ম্যাস বাড়ি বানিয়ে রেখে গেছে, সব কিছু গোছগাছ করলাম।
রাত আটটা বাজে তবুও রোদ্দুরের বাসায় ফেরার খবর নেই। আমি বাপের বাড়ি গেছি দেখে এই সুযোগে আবার কোনো বান্ধবীর বাসায় যায়নী তো? না না রোদ্দুর এমনটা করবে না, মুখে যা-ই বলুক না কেনো সে আমাকেই ভালোবাসে। কিন্তু পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে নেই। রুমে লাইট অফ করে বিছানায় শুয়ে থেকে এই সব হাবি জাবি ভাবছিলাম। হঠাৎ দরজায় আওয়াজ পেলাম। বুঝলাম হনুমানটা এসেছে। আমিও ঘুমের ভান করে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকলাম। রোদ্দুর রুমে এসে লাইট অন করে চিৎকার করে উঠলো। আমিও অপ্রস্তুত ভাবে লাফ দিয়ে বসে ওর সাথে চিৎকার করতে শুরু করলাম। ভাবলাম রুমে হয়ত সাপ পোকা মাকড় কিছু একটা দেখে সে চিৎকার করছে। রোদ্দুর চিৎকার থামিয়ে বললো-"এই আপনি কে?"
আমি ওর কথায় অবাক হয়ে গেলাম। রোদ্দুর আমাকে চিনতেই পারছেনা! এক দিনের মধ্যে কি এমন ঘটলো যে, সে আমাকে চিনতে পারবে না? মাইগ্রেইনে কি তবে ওর মাথা খারাপ হয়ে গেলো নাকি?
আমি-"রোদ্দুর তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমার অবনি"
সে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-"আপনি দেখতে ঠিক আমার বউয়ের মত"
আমি-"মানে কি?"
সে-"আমার বউ তো বাপের বাড়িতে তাহলে আপনি কে?"
আমি-"আমি চলে এসেছি রোদ্দুর"
সে-"আমার বউ তো চিরদিনের জন্য বাপের বাড়ি চলে গেছে। বিশ্বাস না হলে এই চিঠিটা পড়ে দেখুন"
আমি-"রোদ্দুর আমি ফিরে এসেছি, আমি অবনি"
সে-"বুঝেছি আপনি ভুত প্রেত ডাইনী টাইপের কিছু হবেন"
আমি-"আজব তো! আমাকে পেত্নীর মত দেখতে লাগছে?"
সে-"আসল রূপ তো দেখাচ্ছেন না, আমার বউয়ের রূপ ধারণ করে আছেন"
আমি ওর কথা শুনে মহা বিপদে পড়লাম। হনুমানটাকে বুঝাতেই পারলাম না যে আমি তার বউ অবনি। আমি খাট থেকে নেমে বললাম-"রোদ্দুর আমাকে ছুয়ে দেখো আমি অবনি"
আমার কথা শুনে সে চিৎকার করে বললো-"এই না খবরদার না, আমার কাছে আসবেন না। আমি ভুত দেখে খুব ভয় পাই। আর বউ ছাড়া পৃথিবীর সব নারীকেও ভয় পাই"
এবার আমার খুব রাগ হলো তাই জোর করে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ওমা হনুমানটা চুপ করে আছে। মনে মনে ভাবলাম ভয়ে জ্ঞান হারায়নী তো? ওকে ছেড়ে দিয়ে দেখি মিটমিট করে হাসছে।
আমি-"এখন বলো আমি কে?"
সে-"আমার বউ"
আমি-"কি করে বুঝলে?"
সে-"তোমার শরীরের ঘ্রাণ বললো তুমি আমার বউ"
আমি-"এত দেরী করে বাসায় ফিরলে কেনো?"
সে-"কাজ ছিল"
তারপর রোদ্দুর বাথরুমে গেলো ফ্রেশ হতে। হঠাৎ ওর ফোন বেজে উঠলো। দেখলাম আম্মু ফোন দিছে। আমি রিসিভ করে হ্যালো বলার আগেই আম্মু বললো-"শোনো বাবা তুমি তো জানোই আমার মেয়েটা একটু আহ্লাদী আর ছেলে মানুষ তাই ওকে একটু মানিয়ে নিও। তুমি তো ওকে নিতে এসে একটুও দেরী করলে না, তাই কিছু বলতে পারিনী বলে ফোন করলাম। মেয়েটা সারা রাত এক মিনিটও ঘুমায়নী। ওকে খাইয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে বইলো। কি হলো বাবা তুমি কথা বলছো না কেনো?"
আমি লাইনটা কেটে দিলাম। আম্মুকে বুঝতে দিলাম না যে আমি সব জেনে গেছি। হনুমানটা অফিস শেষ করে আমাকে নিতে গেছিল। আমি ওখান থেকে চলে এসেছি শুনে সে ওখানে দেরী করেনী। এ জন্যই হনুমানটার বাসায় ফিরতে এত দেরী হয়েছে।
তাহলে মনে হয় সে আমাকে ভালবাসে। কিন্তু ভাব দেখায় যেনো আমাকে পাত্তাই দেয় না। এ জন্যই তো আমিও ওকে বুঝতে দিই না যে আমিও হাবু ডুবু হয়ে আছি।
তাহলে এতক্ষণ সে আমার সাথে ভুতের নাটক করছিল? ভালোই তো অভিনয়ে এক্সপার্ট দেখছি! আমাকে এ ভাবে ভয় দেখালো! রাগে আমার হাত পা কাঁপা শুরু হলো। যতোই ভাবি একটু ভালো হয়ে যাবো, এই হনুমানটা আমাকে কিছুতেই ভালো হতে দেয় না!
সে বাথরুম থেকে বের হতেই বললাম-"তুমি গেস্ট রুমে ঘুমাবা"
সে-"এমা কেনো?"
আমি-"বউ ছাড়াই তো তোমার দিব্যি চলে তাই আমার কাছে শুবা না"
সে-"আমি গেস্ট নই এটা আমার বাড়ি তাই ইচ্ছে হলে তুমি ঐ রুমে যাও"
ওর কথা শুনে খুব কাঁন্না আসলো। একটি বারও বললো না যে,"অবনি তোমাকে ছাড়া আমার একটা মিনিটও চলবে না"
আমি রাগ করে পাশের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু ঐ হনুমানটাকে ছাড়া আমার ঘুম আসছে না। আমার ভেতরের আমিটাই আমার সাথে শত্রুতা করছে। আমি যেনো আর আমিতেই নেই, আমিটাও ঐ হনুমানের হয়ে গেছি। আর ঐ হনুমানটা আমাকে একটুও ভালোবাসে না। এই সব ভাবতে ভাবতে কেঁদেই ফেললাম। তারপর কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনী। সকালে ঘুম ভেঙে দেখি রোদ্দুর আমার পাশে শুয়ে আছে। আমি অবাক হলাম কিন্তু কিচ্ছু বললাম না। বিছানা থেকে নেমে আসতেই সে আমার হাত টেনে ধরে আমাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে আমার কানে কানে বললো-"বউ ছাড়া আমার দিব্যি চলবে কিন্তু এই তার ছেড়া পাগলী অবনিকে ছাড়া আমার এক সেকেন্ডও চলবে না। আর এই কথাটা আমার পাগলীটা একদমই বুঝে না।"
ওর কথা শুনে আমি স্ট্যাচু হয়ে গেলাম আর মনে মনে বললাম-"তাহলে হনুমানটা বোধ হয় আমাকে ভালোই বাসে! কিন্তু ওকে ছাড়াও যে আমার প্রতিটি সেকেন্ডই নষ্ট, সেটা আমি কিছুতেই ওকে বলবো না"
.
"অনুরাগ"
Writer-Sazia Afrin Sapna