Sunday, September 17, 2017

হয়তো ভালোবাসা এমন হয়

জান কি করতেছো তুমি?
__দেখ হিমু এমন জোরে থাপ্পড় দিবো যেনো
দাঁত ৩২ টা একসাথে পড়ে যায়।
_কেন জান কি করছি আমি।
__আবার জান বলে,তোরে না কতবার বলছি
আমারে জান বলে ডাকবি না,আমার নাম হচ্ছে
জান্নাত।
__ও আচ্ছা সরি জান ভুল করে ফেলছি।
__আবার জান ডাকে আমি কিন্তু সত্যি তোর
মাথায় গরম পানি ঢেলে দিবো।
__আচ্ছা ঠিক অাছে আর বলবো না।আচ্ছা
জান্নাত তোর কি মনে আছে আমি আর তুই
শৈশবকাল এ বউ জামাই খেলতাম?
→জান্নাত রেগে গিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে-
__মা ও মা তোমার বোনের ছেলেকে নিষেধ
করো যেনো আজাইরা কথা না বলে আমার
সাথে।আমি কিন্তু রেগে গেলে খবর আছে বলে
দিলাম কিন্তু।তোমার বোনের ছেলে নাই
কোনো পড়ালেখা নাই কোনো কাজ।মামার
দোকানে না বসে আমাদের বাড়িতে প্রতি
সপ্তাহে চলে আসে।
.
"এতক্ষণ যার সাথে কথা হলো সে হচ্ছে হিমুর
খালাতো'বোন জান্নাত। জান্নাত যখন এগুলো
কোকিল সুরে বলতে লাগে, হিমু তাড়াতাড়ি
পালিয়ে যায় সেখান থেকে।জান্নাত'কে যখন
হিমু জান বলে ডাকে তখন সে রেগে যায় অবশ্যই
ছোট কালে জান্নাত রাগ করতো না।জান্নাত
হিমুর থেকে প্রায় দুই'বছরের ছোট এরপরেও
ছোট কালে জান্নাত হিমুর খেলার সঙ্গী
ছিলো।হিমু দুপুরবেলা খাবার খেয়ে জান্নাতের
রুমে শুয়ে আছে, জান্নাত হিমুকে দেখে চোখ
দুইটা মারবেল এর মত বড় বড় করে রেগে গিয়ে
বলে-
.
__তোরে না নিষেধ করছি আমার রুমে না ঢুকতে
(জান্নাত)
__আমিতো শুয়ে আছি, তো সমস্যা কি তোর
(হিমু)
__এখান থেকে যাহ আমি ঘুমামু।
__ধ্যাত তোর লগে ঘুমামু না আমি।
__মানে কি, তুই কেন আমার লগে ঘুমাইবি
__ কিছুদিনে পরে'তো তুই আমার বউ হবি তখন
আমি এমন করবে বলবো।
__তোর বউ আমি কখনো হবো না, তুই এখান
থেকে যাহ হাবলু, না হয় মাকে ডাক দিবো।
__আচ্ছা পেত্নী যাইতেছি।
__তুই ভূত যাহ এখান থেকে।
__আচ্ছা যাইতেছি তবে তোকে আমি বউ
বানাবো এটা মনের রাখিস।
.
"এ কথা বলে হিমু জান্নাতের রুম থেকে চলে
অাসছে।জান্নাতের প্রিয় খেলা ছিলো বউ
জামাই খেলা।জান্নাত সে ছোট কালেও সুন্দর
করে বউ সাজতে জানতো লম্বা ঘোমটা দিয়ে
বউ সেজে বসে থাকতো।আর সে শৈশবকালেরর
কথা যদি
হিমু এখন বললে সে রেগে যায়। অব্যশই তার
লজ্জা লাগে কারণ এখন সে বড় হয়েছে।জান্নাত
এবার SSC পরীক্ষা দিবে হিমু পড়ালেখা বাদ
দিয়ে ছোট একটা ব্যবসা করে। ব্যবসা করে
বললেও ভুল হবে হিমু সপ্তাহে ২ দিন থাকে
জান্নাতের বাড়িতে, শুধু তাকে দেখার জন্য।
.
"হিমুর পরিবারের সবাই মজা করে জান্নাতকে
বউমা বলে ডাকে জান্নাত তখন রেগে গিয়ে
সবার সাথে ঝগড়া করে।সত্যি বলতে কি
জান্নাত রেগে গেলে আরো সুন্দর লাগে
মায়াবিনী টানাটানা চোখ হিমুর জান
জান্নাতের।হিমু যে জান্নাতকে মন থেকে
ভালোবাসি সে তা বুঝতে চায় না।কিন্তু হিমু
বিশ্বাস করতো জান্নাত হিমুকে নিজে একদিন
মন থেকে ভালোবাসবে।সত্যি বলতে কি
জান্নাত'ও জানে হিমু'যে থাকে ভালোবাসে
কিন্তু জান্নাত লজ্জা না বলতে ফেরে রেগে
গিয়ে এমন করে।
.
"কিছুদিন পরে শুরু হলো জান্নাতের SSC
পরীক্ষা।জান্নাতের SSC পরীক্ষা প্রথম দিন,
জান্নাত পরীক্ষা দিয়ে আসার সময় কোন
কুলাঙ্গার জান্নাতের মুখে এসিড মেরে চলে
যায়। এসিড মারার কারণ হলো-
__জান্নাত খুব সুন্দর ছিলো অনেক ছেলে
প্রপোজ করছে হয়তো তাদের দেওয়া প্রপোজ
কবুল করে নাই। সে রাগে কেউ একজন থাকে
এসিড মেরে চলে যায়।
"বাজারের লোকজন নিয়ে গেলো ক্লিনিক এ
সেখান থেকে জান্নাতের বাবা নিয়ে গেলো
নামীদামী ক্লিনিক এ।কিন্তু কোনো লাভ হয়
নাই।জান্নাত কখনো আগের সে চেহারা ফিরে
পাবে না।অনেকদিন যাবত অসুস্থ থাকার পরে
জান্নাত সুস্থ হয়েছে তবে তার মুখে অনেক পুঁড়া
দাগ।এখন জান্নাতের পরিবারের সবাই একটাই
চিন্তা জান্নাতের আর বিয়ে হবে না।কিন্তু
তাদের ধারণা ভুল হিমু'যে জান্নাতকে মন থেকে
ভালোবাসে আজ পর্যন্ত কেউ জানে না।
.
"হিমুর জান এখন আগের মতো হাসে না। সে
আগের মতো হিমুর সাথে রাগ করে না। আগের
মতো হিমুর সাথে ঝগড়াও করে না সারাক্ষণ
ঘরে বসে থাকে। তার একটাই কারণ তাকে এখন
দেখতে অসুন্দর লাগে।হিমু চিন্তা করলো
জান্নাতের মুখে সে হাসি ফুঁটাবে।তাই হিমু
পরিবারের সবাইকে অনেক কষ্টে রাজি
করিয়েছি জান্নাতকে তাদের পরিবারের বউ
করে নিয়ে আসতে।প্রথমে কেউ রাজি না
থাকলেও পরে সবাই রাজি হয়েছে কারণ
জান্নাত তাদের অাত্মীয়। হিমুর পরিবারের
সবাই জান্নাতের বাড়িতে যায়।জান্নাত যখন
শুনছে হিমু তাকে বিয়ে করবে তখন খুব কান্না
করছে জান্নাত ।সে তার রুমে বসে বসে
কাঁদতেছে হিমু যখন তার রুমে যায় সাথে সাথে
হিমু'কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে
লাগলো।এ প্রথম হিমুর জান এর চোখে পানি
দেখছে।হিমু দেখছে জান্নাত জড়িয়ে ধরে তার
মনের কষ্ট গুলোর কথা হিমু'কে বলতে।জান্নাত
হিমু'কে কান্না মুখে বলে-
__তুই আমাকে ভালোবাসতি সেটা আমি
জানতাম।তবে আমাকে এতো ভালোবাসতি তা
আমাকে কখনো বুঝি নাই।আজ আমার সুন্দর
চেহারা না থাকাতেও তুই আমাকে বিয়ে করতে
রাজি।ওরা আমার সুন্দর ভবিষ্যতটুকু নষ্ট করে
দিয়েছে(জান্নাত)
>হিমু জান্নাতকে শুধু একটা কথা বলে সেটা
হলো-
__জান্নাত আমি তোর সুন্দর চেহারাকে কখনো
ভালোবাসি নাই।আমি তোর পাগলামী,আমার
সাথে ঝগড়া এগুলোকে আমি তোকে
ভালোবাসতাম।কারণ তুই আমার সাথে এগুলো
না করলে আমি বাঁচবো না, হয়ছে আর কান্না
করিস না জান একটি হাসি দেয় না(হিমু)
__আজকে আমাকে কাঁদতে দেয়,আজ আমার
কান্না হচ্ছে সুখের কান্না।
__তুই কান্না করলে তোকে সুন্দর লাগে না,তুই
হাসলে আর রাগ করলে তোকে অনেক কিউট
লাগে।প্লিজ জান একটা হাসি'দেয় না।
__হিহিহিহি।
__আমি সত্যি তোর এ হাসিটুকু ভালোবাসি।
শতকষ্টের মাঝে তুই পাগলী এমন করে একটা
হাসি দিলে সব কষ্ট ভুলে যাবো সত্যি সব কষ্ট
ভুলে যাবো।তুই শুধু আমাকে কথা দেয় আমার
সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এমন হাসিমুখে আমার
সাথে থাকবি?
__ইনশাআল্লাহ্ আমি তোর হয়ে থাকবো যে
আমাকে এত্তগুলি ভালোবাসে।
.
'এ গল্পটা আমি কাল্পনিক ভাবে লেখছি "হিমুর
জান" তবে আমি এতটুকু বলতে চাই-
→ভালোবাসা কখনো সুন্দর চেহারা দেখে হয়
না।ভালোবাসতে হলে থাকতে হবে বিশ্বাস ,
মানসম্মান ও পবিত্র একটা মন।আর এ সবগুলো
সবার মাঝে থাকে, তবে কেউ কেউ ব্যবহার
করতে চায় না।

0 comments:

Post a Comment