আহ! একটু ধিরে মশাই ব্যাথা পাচ্ছি,
কে শোনে কার কথা? টাকার জন্যে দেহ বেচা
মেয়ে গুলোর কথা কেউ কেনোই বা
ভাববে?
আমি নিহা, কিন্তু আজ আর আমার নাম ধরে কেউ
আমাকে ডাকে না, কেনোই না ডাকবে? আমার
কি সেই সম্মান আছে? কিসের সম্মান আবার?
পতিতাদের সম্মান আছে নাকি ? বেসস্যা নামেই
আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এখন আর খারাপ লাগে
না, বরং যে আমায় বেসস্যা বলে ডাকে তাকে
ধরে গড়ি মসী করি, আমার শরিরের উষ্ণতায়
তাকে গ্রাস করে ফেলি, হাহাহা কি অবাক! তখন সে
শুধু আমাকে আদর করে না, নগদ টাকা ও দিয়ে যায়
এতেই ক্ষান্ত নয় সে আবার আমার কাছে আসার
প্রতিশ্রুতি ও দিয়ে যায় , খুব মজার তাই না?
কি ভাবছেন? আমাকে কিডনেপ করে এই পথে
আনা হয়েছে? কেউ ধোকা দিয়ে বিয়ের কথা
বলে এই পথে রেখে চলে গেছে? হুম
এসব ভাববেন তা জানি কারণ বেশির ভাগ পতিতার
গল্পের শেষই হয় এই সমস্ত রহস্য ভেধের
মাধ্যমে, কিন্তু আমার গল্প টা একটু ভিন্ন, উম! না
ঠিক বলি নি, একটু নয় অনেক খানি ভিন্ন, কারণ --???
তা না হয় অন্যান্য গল্পের মতো শেষ মেষ ই
বলে দিবো কি বলেন?
আজ আমি ১৭ জনের ভোগের উপাদান, ১৭ জন
আমার শরির টাকে উলটে পালটে দেখেছে,
কামড়েছে, লেহন করেছে , আমি কিচ্ছু বলি নি,
কি বলবো ? বলার অধিকার নেই যে আমার, আমি
তো একটা পন্য মাত্র, বাজার থেকে যখন আমরা
টাকার বিনিময়ে কিছু কিনে নিয়ে যাই তখন সেটার
অধিকার তো আর দোকানদারের থাকে না, আর
পন্য সে তো এক জড় বস্তু, সে আর কি
বলবে??
প্রতিদিন ১০ /১২/১৫ জনের পন্য হিসেবে গণ্য
হই আমি, একেক জন তাদের পন্যের একেক
ভাবে ব্যবহার করে, একটা মজার বিষয় কি জানেন?
আমার খরিদ্দার রা তাদের পন্য ক্রয় করে শুধুমাত্র
কয়েক ঘণ্টার জন্য কিছু গরিব খরিদ্দার ও
আছে, তারা আমাকে শুধু আধা ঘণ্টার জন্য ই ক্রয়
করে,
ভলটালিন পেইন কিলার কিনে বাসায় যাওয়া আমার নিত্য
দিনের কাজ, হুম ঠিক তাই, আমার বাসাও আছে,
কেনো অবাক হচ্ছেন? পতিতাদের কি বাসা
থাকতে নেই? হয়তো নেই, কিন্তু আমার
আছে, বাসায় যেতে খুব কষ্ট হয় আমার, হাটতে
পারি না আমি, কিন্তু যখন টাকা গুলোর দিকে তাকাই
তখন আর কষ্ট লাগে না আমার, আবারো নিযে
কে শক্ত করি, কাল যে আমাকে আবার কাজে
যেতে হবে, ব্যাথার কাছে হেরে গেলে
চলবে না, তখন পেইন কিলারস গুলোই আমার
ভরসা....
আমি? আমি এমন ছিলাম না,
ছিল, আমার ও ছিল,
আমার ও আপনাদের মতো এক সুন্দর পড়িবার ছিল,
মা বাবা, বড় দুই ভাই নিয়ে ছিল আমার হাস্যজ্জল এক
পরিবার , কিন্তু --??
এক সুনামি ভাসিয়ে নিয়ে গেলো আমার কাছ
থেকে আমার পরিবার কে, আরে না না এই সুনামি
ওই সুনামি নয় তো! এ হচ্ছে আমার জীবনের
সুনামি....
সুনামির স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলাম আমি, জানতাম এর
শুরু আছে শেষ নেই , তবুও
পারছিলাম না ফিরে আসতে, আসলে একবার পা পিছলে গেলে সেখান থেকে আর তিরে ফিরে
আসা যায় না, আর ভাগ্যবশত যদি কেউ ফিরে আসে তবুও তার গায় পেক কাদা লেগে যায়
যাকে বলা হয় ময়লা, তাই সেই ফিরে আসার চেয়ে না সা খুব ভালো...
যাক আসল কথায় আসি, কি বলেন বাপু?
হাহাহা,
আপনারা ও খুব পারেন বাপু, খুব পারেন, টাকা দিয়ে পণ্য কিনেছেন একটু আস্তে আস্তে ব্যবহার করলে কি হয় বলুন তো ?
আপনাদের ই বা কি ভুল? আপনারা তো ১ বার বা ২ বার কিনেন আমাকে কিন্তু আমি যে
দিনে কতো বার পণ্য হই তা তো আর আপনাদের জানা দরকার নেই তাই না?
আচ্ছা বাপু, ১ টা কথা বলবেন কি?
আপনারা শুধু স্তনই দেখেন, স্তনের ২/৩ ইঞ্চি ভিতরে যে এক কম্পিত রক্তথলি রয়েছে তা কি এক বারও দেখতে পান না?
জানেন কি?
মেয়েদের শরিরের গঠনরূপের চেয়ে সেই থলি টির ভিতরকার অংশ টি বেশি সুন্দর ?
কি রুচি আপনাদের বলুনতো!
খুবি অবাক!
কতো শত লোক আসলো গেলো , কেউ একটা বার জিজ্ঞেস করলো না তো -
আমি কে?
কি আমার নাম? কোন জাত আমার? কি আমার পরিচয় ? আমার বাবার কি আছে কি নেই?
তবে কেনো ঘরে গিয়ে আপনাদের মতো খরিদ্দাররাই নিজের বউ কে কথায় কথায় খোটা দেন এই বলে --
কি আছে তর বাপের জানি তো ,
বাপের বাড়ি থেকে কি আনছস যে এতো বড় বড় কথা কস?
আপনারা শুধু তাই বলেন না বাপু, আপনারা তো অবলা মেয়ে গুলো কে মারতে মাড়তে
আধমরা করে ফেলেন, তারপর সে পারে না বাচতে, না পারে মরতে? ভাবে এই - সে মারা
গেলে তার সন্তানদের কি হাল হবে?
কি হলো? কি ভাবছেন?
ওহ আচ্ছা? ভাবছেন এসব আমি কি করে বলছি? আমার মতো মেয়েরা আবার এসব কিভাবে জানি?
জানি, জানি, সবি জানি, আমি না হয় এই পথের পথিক , আমার মা তো তা ছিলেন না,
সে তো গ্রামের এক সহজ সরল বঁধু ছিলেন, কেনো তাকে এতো ডুকরে ডুকরে মরতে হলো?
যখন সে মরতে চেয়েছিল কেনো তাকে মরতে দেয়া হলো না, আর যখন?
কেমন নিয়ম আপনাদের? আমার মাথায় তো এখনো ঢুকে না, আর মনে হয় ঢুকবেও না, কখনোই না.....
কি দেখছেন এভাবে? আমাকে ? আমার চেহারা? কিন্তু কেনো? আপনাদের মতো
খরিদ্দাররা তো চেহারার দিকে তাকায় না, শরির দেখে শরির , হুম সত্যি বলছি,
তবে আপনি কিজন্যে আমার চেহারায় এমনি করে তাকিয়ে আছেন?
আমরা মেয়েরা খুবই
অবাক করা জীব, এই যে দেখুনই না পুরুষদের কে ঘিন্না করি, মা মারা যাবার পর
বাবার আর ভাইয়ের ভয়ে পালিয়ে আসেছিলাম, কারণ তারাও পুরুষ, আর আজ নাকি সেই
আমি ই অন্য এক পুরুষ এর জন্য হাজারো পুরুষের কাছে নিজের সম্মান বিক্রি করে
বেড়াচ্ছি ,এই দুনিয়া যার নাম দিয়েছে পতিতা..
হুম আমিই পতিতা...
(চলবে)
পর্ব- ০১
রাইটার : # ফাতেমা_আহমেদ







0 comments:
Post a Comment