Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts
Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts

Tuesday, April 17, 2018

----""" বান্ধবী আমি তোর ছোট সতীন """

বান্ধবী_আমি_তোর_ছোট_সতীন

-
বান্ধবীর স্বামীর সঙ্গে আজ আমার বিয়ে, পরিষ্কার আয়নাতে চেহারাবন্দি হয়ে আছে আমার,অপলক দৃষ্টিতে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছি। জীবনের সব থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে চোখ দুটো নিজের মাঝে হন্যে হয়ে দুটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছে।
আমি কি কারো হক কেড়ে নিচ্ছি?
নাকি কারো হক কে আজীবনের জন্য নিজের কাছে গচ্ছিত রাখছি?
এই দুটো প্রশ্ন আমাকে পুরো সময় জুড়ে অস্বস্তির কারাগারে তিল তিল করে পিষিয়ে মারছে ।
আর যে বেশী সময় নেই, কিছুক্ষণ পরেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি। এই মুহূর্তে এমন অস্বস্তি আমার মস্তিষ্ককে দূর্বল করে দিচ্ছে।
হঠাৎ জানালা থেকে আগত মৃদু হাওয়া কিছুক্ষণের জন্য আমার হৃদয়ে স্বস্তির ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিতে থাকলো। আমি আমার চোখ দুখানাকে ধীরে ধীরে বন্ধ করলাম।
মনে হচ্ছে আমি যেন কল্পনার রাজ্যে নিঃশব্দে প্রবেশ করছি,,,,
হ্যাঁ ঐতো আমি রুত্তির শরীরের ঘ্রান পাচ্ছি, রুত্তির পায়ে পরিধানকৃত পায়েলের ঝুনঝুন শব্দ স্পষ্ট শুনতে পারছি আমি। ফিসফিসিয়ে নিজের অজান্তেই বলে উঠলাম,,,
----- " রুত্তি তুই এসেছিস বান্ধবী? "
আমার প্রশ্নের কোন উত্তর আমি পেলাম না, আমি জানি এ প্রশ্নের উত্তর কখনোই আমি আর পাবো না।
-
-
রুত্তি!
আমার জীবনের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, আমার সবথেকে আপনজন। সে আমার প্রানের সখী, আত্নার বান্ধবী। ছোট বেলা থেকেই রুত্তির সাথে আমি বেড়ে উঠেছি , জীবনের এক মুহূর্ত আমি রুত্তিকে ছাড়া ভাবতে পারতাম না। সে আমাকে শাষন করতো, স্নেহ করতো এবং তার থেকে অধিক পরিমান ভালোবাসতো। জীবনের এতগুলো বছরে একদিনের জন্য হলে ওর থেকে আমি আলাদা থাকিনি। আমার জীবনের সমস্ত হাসি কান্নার সাক্ষী ছিলো রুত্তি। সে প্রায়শই আমাকে বলতো তুই আমার সতীন হবি, বিয়ে হলে তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না প্রিয়ন্তী। তোকে আমার সতীন বানিয়ে রাখবো, আমি হবো তোর বড় সতীন আর তুই হবি আমার ছোট সতীন।তুই সারাদিন কাজ করবি আর আমি দিব্যি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার করবো। রুত্তির কথা শুনে আমি ভীষণ ক্ষেপে যেতাম, নানা রকম কথা বার্তা তাকে আমি শুনিয়ে দিতাম।
সে যখনই সুযোগ পেতো আমাকে রাগিয়ে দিতো শুধু মাত্র একটি প্রশ্ন করে,,,
---" বলনা বান্ধবী তুই আমার কে? "
আমিও চিৎকার করে উত্তর দিতাম আমি মরে গেলেও তোর সতীন হবো না।
আমাদের নিয়ে মা খালাদের মাঝে যে কি হাসি তামাশা হতো যা দেখে মাঝেমধ্যে নিজেরাই লজ্জা পেয়ে যেতাম।
-
-
বছর চারেক আগে ইমরান নামের এক ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে বান্ধবী যখন আমার সামনেই রাজী হয়ে যায়। আমি রাস্তায় সজোরে ইমরানকে ধাক্কা দিয়ে আমার বাসার দরজায় খিল দিয়ে তিনদিন মরা কান্না কেঁদেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, ইমরান নামের ছেলেটি আমার বান্ধবীকে আমার থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে। আর আমার বান্ধবী আমাকে আগের মতো সময় দিবে না। আর এই কষ্ট আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।
রুত্তি ঐ তিনদিনে আমার বাসায় অনেকবার এসেছে, অনেক কান্নাকাটি করেছে, কিন্তু আমি তার সাথে অভিমানের আড়ি কেটে ছিলাম। সে আমাকে বলেছিল,,
----" তুই আমার সব রে প্রিয়ন্তী, আমি আর কখনোই ইমরানের সাথে কথা বলবো না "
রুত্তির ঐ কথা শোনার পর নিজেকে শান্ত করে নিয়েছিলাম আমি।
তারপর আর কি? সে তো আমাকে একা ভালোবাসে না , আমিও তাকে ভালোবাসি। মনের মাঝে পাথর বসিয়ে ইমরান আর রুত্তির সম্পর্ক আমি মেনে নিলাম। কিন্তু যেই ছয় মাস তারা প্রেম করেছিলো, এক মিনিটের জন্যেও আমি তাদের একা ছাড়িনি। তারা কথা বলতো আর আমি তাদের মাঝখানে বসে থাকতাম। ইমরান মাঝেমধ্যে আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো, আর আমি মুখভেংচি দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি কখনোই ইমরানের সাথে কথা বলতাম না, সে কথার বলার চেষ্টা করলেও আমি না শোনার ভান করতাম।
-
-
পারিবারিক ভাবে যেদিন ওদের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিলো, ঐদিন ভীষণ মন খারাপ ছিলো। লুকিয়ে লুকিয়ে ভীষণ কেঁদে ছিলাম।
বিয়ের আগের দিন রাতে ইমরান আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল।
আমার হাতে একখানা কাগজের টুকরো ধরিয়ে দিয়ে সে আবার চলে যাচ্ছিলো।
আমি তাড়াতাড়ি কাগজখানা খুলে দেখলাম, সেখানে ঠিক এভাবেই লেখা ছিল,,
----" আমি তোমার বান্ধবীকে অনেক ভালোবাসি , আমি সারাজীবন তাকে যত্নে রাখবো "
ঐ দিন প্রথম আমি ইমরানের সাথে কথা বলেছিলাম।তাকে আমি ডেকে কাঁদো কাঁদো মুখে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
---- " আপনার কি কোন বড় ভাই বা ছোট ভাই আছে?"
ইমরান আমার কথা শুনে হেসে উত্তর দিয়েছিলো,,
----"জ্বী না নেই। থাকলে আপনাকে তার জন্য নিয়ে যেতাম "
আমি ইমরানের উত্তর শুনে রাগে সেখান থেকে বিদ্যুৎ গতিতে চলে গিয়েছিলাম।
বিয়ের পর রুত্তি কুমিল্লায় চলে গিয়েছিল, যাওয়ার দিন আমাকে জড়িয়ে সে যে কত কান্না করেছিলো। এটা করবি না, সেটা করবি না কত কি উপদেশ দিতে থাকলো।
আর আমি তাকে থামিয়ে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম,,
----" বান্ধবী আমাকে ভুলিস না "
-
-
রুত্তিকে ছাড়া আমার দিনগুলো যে কীভাবে কেটেছিল তা শুধু আমি নিজেই জানি।
আমি যেদিন জানতে পারলাম রুত্তি মা হতে চলেছে, ঐদিন যে আমি কি খুশী হয়েছিলাম। ঐ দিন রুত্তিকে ফোন দিয়ে দুই বান্ধবীর সে কি কান্না!
গর্ভকালীন সময় রুত্তি সামান্য বিষয়ে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতো, তার নাকি একা খুব ভয় করতো। ইমরান তো চাকরীর জন্য অধিকাংশ সময়ে বাহিরে থাকতো। আমি আর বেশী কিছু ভাবলাম না সোজা রওনা দিলাম রুত্তির বাসায়, এই কয়েকমাস আমি তার বাসায় থাকবো।
আমাকে দেখে রুত্তি আর ইমরান ভীষণ খুশী হয়েছিলো। আর ইমরান বেচারাও একটু নিশ্চিত হতে পারলো।
-
-
ডেলিভারির দিন দূর থেকে যখন দেখলাম সেবিকা ছোট্ট একটি দেহ নিয়ে আসছে সেই মুহূর্তে আমার হৃৎস্পন্দন টা কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এটা আমার রুত্তির মেয়ে।
সেবিকা যখন পরিবার কে জিজ্ঞাসা করেছিলো ,,,
----" বাচ্চাটা কার কোলে সর্বপ্রথম দেওয়া হবে? "
ঠিক তখনই ইমরান সেবিকা কে ইশারা করে আমাকে দেখিয়ে দিয়েছিলো।
রুত্তির সন্তানকে যখন আমি প্রথম কোলে নিয়েছিলাম, ঐদিনই বুঝেছিলাম মাতৃত্বের স্বাদ কাকে বলে। অশ্রুসিক্ত নয়নে ছোট দেহ টাকে পরম যন্তে আমার আত্নার সাথে বেঁধে নিয়েছিলাম সেদিনই।
রুত্তি আর ইমারানের মেয়েকে আমি ভালোবেসে নাম দিয়েছিলাম "পরী"।
প্রায় একমাস যাবত আমি ওদের সাথে ছিলাম। যেদিন আমি আমার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিলাম, আমার মনে হচ্ছিলো যেন আমার আত্নাকে আমি এখানেই ছেড়ে যাচ্ছি। পরী বোধহয় আমারই সন্তান, আমি তাকে শেষবারের মত আমার বুকে জড়িয়ে পরম স্নেহে চুমু খেয়ে সেখান থেকে বিদায় নিলাম।
-
-
২০১৩ সালের, ১৮ই সেপ্টেম্বর।
আমার জীবনের কালোদিন, যেই দিনটা আমার জীবন থেকে 'সুখ' নামক বিশেষ অনুভূতির ইতি ঘটিয়েছে। রুত্তি কিছুদিনের জন্য তার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে এসেছিল। পরীর বয়স তখন দুইমাস, আমি সারাদিন ওদের সাথেই ছিলাম। দুপুর বেলায় আমি আমার বাসায় এসে রান্নাবান্নার কাজে মাকে সাহায্য করছিলাম। সন্ধ্যায় আবার রুত্তি আর পরীর কাছে যাবো, সেই কথা ভেবেই আমি খেয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
হঠাৎ!
প্রচণ্ড চিৎকারে আমি ধড়ফড়িয়ে বিছানায় বসে পড়লাম, হৃৎপিন্ডটা বুঝি বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
মা আমার কাছে এসে চিৎকার করে কেঁদে বলে উঠলো,,,,
----" প্রিয়ন্তী বের হ, রুত্তিদের বাসায় আগুন লেগেছে "
হায় সৃষ্টিকর্তা!
এ আমি কি শুনলাম? আমার মনে হচ্ছিলো পৃথিবীতে মাটি নামক কোন বস্তু নেই, আমি বোধহয় শূন্যে ভাসছি ।
চোখ দুখানাতে রুত্তি আর পরীর ছবি ভেসে উঠলো। আমি দিকশূন্য হয়ে পাগলের মত রুত্তিদের বাড়ীর দিকে ছুটতে থাকলাম।
বাড়ীর আশেপাশে হাজারো লোকের ভীড়, এদেরকে পাশ কাটিয়ে সামনে যাওয়ার শক্তি পর্যন্ত নেই আমার।
চারিদিকের চিৎকার আহাজারি, সে যেন এক অভিশপ্ত পরিবেশ!
আগুনের কালো ধোয়া এখুনি বুঝি দেহ থেকে প্রান কে আলাদা করে নিয়ে যাবে।
দূর থেকে দেখতে পারলাম, রুত্তির ভাই রুদ্রের কোলে পরী। কিছুক্ষণের জন্যে হলেও আমার মনে সৃষ্টিকর্তা প্রশান্তির বৃষ্টি বর্ষিত করলো,আমি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে সেদিকে ছুটে গেলাম। রুদ্রের কোল থেকে পরীকে নিয়ে আমার বুকের সাথে লাগিয়ে পাগলে মত চুমু খেতে লাগলাম।
আমি রুদ্রকে জিজ্ঞাসা করলাম, বাকীরা কই?
রুদ্র কেঁদে উত্তর দিলো,,,,
--- সবাই ভেতরে আটকে গিয়েছেরে আপু! আমি তো পরীকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছিলাম । কেউ একজন আমাকে ফোন দিয়ে বললো আমাদের বাড়ীতে আগুন লেগেছে। মা, বড় আপু, ছোট আপু এরা ভেতরেই আটকে গিয়েছে। "
রুদ্রের কথা শুনে, ইচ্ছা করছিলো নিজের জীবনটাকে এখানেই শেষ করে দেই।
-
-
বেশ অনেকক্ষণ পর বাড়ীতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলো।
একের পর এক পোড়া ক্ষত বিক্ষত লাশ গুলো বের করা শুরু হলো।
হায় সৃষ্টিকর্তা!
আমাকে তুমি ধৈর্য দাও কি দেখছি আমি এগুলো!
দূর থেকে দেখলাম কারা যেন আমার রুত্তির পোড়া শরীরটাকে টেনে হেচরে বের করছে। আমি চিৎকার করে সেখানে ছুটে গেলাম।
রুত্তিকে দেখে আমি হাউমাউ করে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, আমার কান্নার শব্দে সেদিন দুনিয়া ভারী হয়ে গিয়েছিল। আমি রুত্তিকে জড়িয়ে ধরতে পারছিনা, সারা শরীরটা পুড়ে শেষ হয়ে গিয়েছে। চামড়া ঝলসে পড়ে যাচ্ছে, যেখানেই ধরবো সেখানে সে ব্যথা পাবে। এ কেমন পরীক্ষার সম্মুখীন করলে বিধাতা আমাকে?
রুত্তি করুন বেদনাময়ী নয়নে খুব কষ্টে আমাকে একটি কথা বলে গিয়েছিল,,,
----" প্রিয়ন্তী আমার মেয়েটাকে দেখে রাখিস "
-
-
কে যেন দরজার কড়া নেড়ে উঠলো !
(খানিকটা চমকে উঠলাম, আমার ছোট বোন এসেছে)
-----" আপু নিচে চলো! সবাই অপেক্ষা করছে। "
-----" হ্যাঁ যাচ্ছি, পরীকে নিয়ে আয় তো। "
পরীকে আমার বুকে জড়িয়ে আমি আমার জীবন শুরু করতে চলেছি, পরীর মাঝে আমি রুত্তির ঘ্রান পাই।
ইমরানকে বিয়ের প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম, সে সারা দিনই পরীকে কোলে জড়িয়ে কাঁদতো।
আমিই তাকে বলেছিলাম,
---" ইমরান আমাকে বিয়ে করবেন? আপনি কোনদিনও রুত্তিকে ভুলতে পারবেন না, না পারবেন অন্য কোন মেয়ে ভালোবেসে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে। আর আমার পরী মা হারা কোন সন্তান হোক আমি তা চাই না। লাভের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে অন্ততপক্ষে এমন চুক্তি হতেই পারে, কারন আমরা যে স্বার্থপর! "
লোকজন অনেক হাসাহাসি করেছিলো আমাদের নিয়ে, বান্ধবী মারা যাওয়ার দুইমাস পরেই আমি তার স্বামীকে বিয়ে করছি।
কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না পরীকে দেখার মত কেউ নেই, আর সে আমারই সন্তান মনে প্রানে আমি এটাই মানি।
_____________________________________________
_____________________________________________
_______________
__________________________________
বেশ অনেক দিন হয়ে গেল, রুত্তির স্মৃতি নিয়ে দুই বছর পার করে দিলাম। ইমরান আর আমি খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছি, দুজনেই ভালো থাকার অভিনয় করি মাত্র! তাকে আমি আমার বান্ধবীর স্বামীই মানি, সেও আমাকে ভালোবেসে স্ত্রী মর্যাদা কখনো দিতে পারবেনা সেটাও আমি ভালো করে জানি।
যেদিন পরী আমাকে "মা" বলে ডাকে আমি সেদিনই দুনিয়ার সব থেকে স্বার্থপর নারী হয়ে গিয়েছিলাম। আমি আমার বাড়ী থেকে রুত্তির সব ছবি গুলো আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি চাইনি পরী কখনোই জানুক আমি তার আসল মা না। রুত্তির ছবি দেখে সে যদি কখনো আমাকে প্রশ্ন করে?
কী জবাব দিবো আমি?
রুত্তির স্বামীর হক তারই থাক আজীবন।
কিন্তু পরী শুধুই আমার, সে আমার সন্তান আর আমি তার মা।
পরী ঘুমিয়ে পড়েছে আমি রুত্তির ছবিখানা আলমারি থেকে বের করে অপলক দৃষ্টিতে তাকে দেখে চলেছি।
তার সেই কথা এখনো আমার কানে ভাসে, সে প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞাসা করতো,,,,
" বলনা বান্ধবী তুই আমার কে? "
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অশ্রুসিক্ত নয়নে আমি মুচকি হেসে জবাব দিলাম,,,,
----""" বান্ধবী আমি তোর ছোট সতীন """

Friday, April 13, 2018

কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?

‘অদ্ভুত মানুষগুলো ‘
লেখা : ফারজানা সাথী
আমরা কিছু কিছু মানুষগুলো
ভীষন অদ্ভুত খুবই বোকা চরিত্রের_
যাদের জন্য
সুখের আয়োজন করি
যাদের অপেক্ষায় থেকে কষ্ট পেতে থাকি
যাদের মুক্তি দিয়ে নিজে ভাল থাকার চেষ্টা করি
যাদের মায়ায় বছরের পর বছর হৃদয়ে নতুন স্বপ্ন বুনি
যাদের জন্য নিজেকে বদলে ফেলি
যাদের জন্য হাসির অভিনয় করি
তারাই একটা সময় স্ট্রেটকাট বুঝিয়ে দেয়
‘এসবের কোন দরকার ছিল না’ ।
সত্যিই তো দরকার ছিল না_
তাহলে কাদের জন্য এতকিছুর আয়োজন করি?
কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?
কেন কারো মুক্তির প্রয়োজনে মুক্তি দিয়ে বেঁচে থাকার কষ্টকে হাসিমুখে গ্রহন করি? কেন আমরা অন্যের অপেক্ষায় নিজেকে লন্ডবন্ড করে দেই? কেন কারো অগোছালো জীবনকে যত্ন করে গুছিয়ে দেই?
দরকার ছিল না এতসব ভাবার_
এত এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আর কোন প্রমানের দরকার নেই ‘আমি মানুষ অন্য সবার মত স্বার্থপর নই’
আমরা কিছু মানুষ সত্যি ভয়ানক বোকা_
দিন শেষে বুঝি
‘যাদের জন্য করি চুরি সেই বলে চোর’
যাদের জন্য কেঁদে মরি সেই বলে
‘দরকার ছিল না কাঁদার’
আসলেও সত্যি কথা_
কি দরকারই ছিল অন্যের জন্য অতশত ভাবার ?
আমরা আমাদের জন্য কিছুই তো ভাবিনি
দিন মাস বছর সময়গুলো ফুঁড়িয়ে গেল চোখেরই সামনে..
কিছুই তো নিজের সুখের জন্য গড়তে পারিনি।
সবটাই যেনো ব্যর্থতার গড়াগড়ি
সবটাই ছিল অন্যের সুখের জন্য
সবটাই ছিল ত্যাগে ত্যাগে ভরা ….
আজ যারা মানুষের সেবায় মানুষের কষ্টে কাঁদছে তারাই একটাসময় জীবনের শেষ অধ্যায়ে কিছু মানুষেরই দ্বারা
জানতে পারে
বুঝতে পারে
শুনতে পারে
‘এসবের দরকার ছিল না ‘
দরকার ছিল শুধু নিজের চিন্তা আগে করা,নিজেকে ভালো রাখা, নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আরামে আয়েশে জীবনকে উপভোগ করা।
তাই পরিশেষে আমি অধম মানুষটা সবাইকে বলবো_
দরকার নেই কারো কষ্টে নিজেকে কষ্টে রাখার। স্বার্থউদ্ধারের পর কোন মানুষের কাছে মানুষেরই মূল্য থাকে না।
আজ আপনি যাদের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন তারা মোটেও কষ্ট পাচ্ছে না। তারা হাসছে, উপহাস ছুড়ে ফেলছে আপনার সরলতার উপর, আপনার পরিষ্কার চরিত্রকে নোংরা কলংক দিতে তারা হৈচৈ করছে।
তারা সর্বোচ্চ নিঁচু করতে আপনাকে কথার আঘাত দিবে, আপনার সু্স্থ মানসিকতার উপর অসুস্থ মানসিকতার সাইনবোর্ড টানাবে।
আপনি পাগল
মানসিক রোগী বলতেই থাকবে
এমনকি তারা এইটুকু উপলুব্ধী করতে পারবে না
‘আপনি কষ্টে আছেন তাদের কারনে,তাদের আচার আচরনে।
তারা কখনো আবার আপনাকে
তাদের মতই ভাবতে শিখে যায়_
যেমন :
‘আপনি ভাল আছেন কারো না কারো সাথে’
‘কারো শয্যাসঙ্গী কারো বা বন্ধুসঙ্গী হয়ে’
সব নেগেটিভ কথাবার্তা তাদের মগজে বাসা বাঁধতে থাকে।
সেজন্যই, ,
ব্যথার আদান প্রদান, কথার লেনদেন
হৃদয় বেচা কেনা বন্ধ করে দিন …
জীবনকে নিজের মত করে সাজিয়ে নিন
যেভাবে সাজালে নিজেকে আগের চেয়ে বেশি
আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে হবে।

Wednesday, March 28, 2018

বৃদ্ধাশ্রম


.
.
.ভালোবাসার গল্প কথা ইউটিউব চ্যানেলে আপনাকে স্বাগতম। একটি বাস্তব জীবনের গল্প বৃদ্ধাশ্রম। গল্পটি শুনলে আপনি চোখের পাণি ধরে রাখতে পারবেন না। গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। আর আপনার কমেন্ট আশা করি। আপনার কমেন্ট আমাদের অনুপ্রেরিত করে। আর আপনার জীবনের কোন গল্প আমাদের মাধ্যমে শেয়ার করতে চাইলে গল্প লিখে ইমেইল করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

Monday, March 26, 2018

আমার রাজপূত্র

অভ্রের সাথে আমার যখন বিয়েটা হয়, বুঝতেই পারিনি কি হতে যাচ্ছে। খুব হঠাৎ করে আর খুবই সাধারণভাবে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। সাধারণ বলতে আসলে অনুষ্ঠানটার কথা বলতে চাচ্ছিনা, অনুষ্ঠান একটা হয়েছে মাশাল্লাহ, কিছুরই অভাব ছিল না। বলছিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার কথা । কোথায় কেউ এসে আমাকে একটু খোঁচা দেবে…” আপু, বরটা তো সে রকম পেয়েছেন”।অথবা বিয়ের পর কি কি হবে সেসব নিয়ে দু’একটা কথা বলতে ছাড়বে না, এমন কিছুই হয়নি। বিয়ের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত এমন একটা ভাব ছিল সবার, সব গর্জ রিয়ার, ওর বর কেমন হবে তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা করে ফাটিয়ে ফেলার কি দরকারটা শুনি!

খুবই হতাশার সাথে বিয়ের দিন লক্ষ করলাম, পাশে বসা ছেলেটাকে আমি বিন্দুমাত্র চিনি না। নামটাই জানি শুধু, একবার যে ডিজিটাল যুগে ফোন করে একটু কথাটথা বলে নিব সেই কাজটাও করিনি। আমার বান্ধবীরা সব প্রেম করে বিয়ে করছে, বিয়ের দিন জামাইয়ের সাথে ঢলে ঢলে ছবি তুলছে,তাদের সে কি হাসি! মাঝে মাঝে আমরা শালীরাও ঢলে ঢলে ছবি তুলেছি……

আর আমার ক্ষেত্রে! একবার অভ্র আমাকে দেখতে আসল , আর একবার অভ্রের হাতে আংটি পরিয়ে ওকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেললাম। সম্পত্তি হল ঠিক, এমনই সম্পত্তি যার সম্পর্কে কিছুই জানা হল না।

আমি খুবই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে , ভালবাসতে বাসতে লাল করে ফেলি এমন । সারাদিন কাঁদিয়ে আধমরা করে ফেলা টাইপ বইপত্র পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যাই, আমার মন ক্লান্ত হয়না। বন্ধুদের তাড়া দি, ” এই ওই রোমান্টিক ছবিটা আমাকে কখন দিবি বলতো?” আমার চারপাশের মানুষ আমার জ্বালায় এককথায় অতিষ্ঠ । আমার খুব প্রিয় বান্ধবী আমাকে বলে, এত বইপত্রের হিমালয় না জমিয়ে তোরই মত , বা আরও এক কাঠি বাড়া লুতুপুতু টাইপ একটা ছেলেকে বিয়ে করে ফেল, আমরাও বাঁচি তোর ঘ্যানঘ্যানানি থেকে , আর তোরও একটা গতি হোক। নাহলে যেই হারে বই কিনছিস আঙ্কেলকে কিছুদিন পর ব্যাংকরাপ্ট এর মামলা খেতে হবে।

আমার কি দোষ? প্রেম করতে পারব না জানি, প্রেম করার সাহস বা ধৈর্য কোনটাই আমার নেই। তাই এই প্রেমের স্বর্গরাজ্যে হানা দেয়া। আমি গর্তের মানুষ। গর্ত থেকে আমাকে নিশ্চয়ই কেউ একদিন না একদিন টেনে বের করবে। আমি তো শুধু স্বপ্ন দেখে যাব, এক রাজপুত্র আসবে, আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, সাদা শুভ্র আমি হারিয়ে যেতে চাই সেই স্বপ্নের মাঝে।

হায় পোড়া কপাল, এসব কি হচ্ছে আজকে !

চিনিনা , জানিনা, এই ছেলেকে আমি বিয়ে করে ফেললাম। একটা দিন প্রেম করার সুযোগটা পর্যন্ত দিলাম না নিজেকে।
সত্যি বলতে, বিয়ের দিন আমি যতটা না কাঁদলাম বাবা মায়ের জন্য, তার থেকে বেশি কাঁদলাম নিজেকে নিয়ে । গাধী একটা । বলল , আর বিয়ে করে ফেলতে হবে !! রাগ লাগছে এখন, সব ভেঙ্গেচুড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ছেলেটার মাথায়ই ।

আহারে, আমার এই বর , এখনো জানেই না, তার সদ্য বিবাহিত বউ তাকে নিয়ে কি সব বিধ্বংসী চিন্তাভাবনাই না করছে । আমি তাকাচ্ছি বারবার ওর দিকে , কিন্তু এই হাঁদারাম একবারও আমার চাঁদবদন মুখটার দিকে তাকানোর কসরত পর্যন্ত করছে না । ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছ ভাল কথা বাবা, যন্ত্রপাতি ছাড়া আর কি কিছু চোখে পড়ে না !!

হাঁদারাম !

যা ভাবলাম তাই, আমি পুরা একটা হাঁদারামকে বিয়ে করেছি । বিয়ের প্রথম রাতটাই তার প্রমাণ । কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু এই ছেলের সাথে …” আপনি ভাল আছেন রিয়া?…জি আমি ভাল আছি…” এই দুই বাক্য ছাড়া আর কোন কথাই হয় নি ।


রিয়া, তুমি মরেছ । তোমার আজীবনের সাধ , তুমি এখন পাটায় পিষে খেয়ে ফেলতে পার ।


জানিনা, আমার আশাভঙ্গের আর জীবন পাল্টে দেয়া সেই রাতটায় আমি কেমন করে ঘুমালাম । দু’ চোখের পাতাতো এক হওয়াই উচিৎ না, অথচ আমি ঘুমালাম । এমন ভাব, জীবনেও ঘুমাইনি, আর কখনো সুযোগও হবে না , যা ঘুমিয়ে নেয়ার আজকেই ঘুমিয়ে নাও । সকালে ঘুম ভাঙতে যে আরও বিপদে পরবো , বুঝিনি । মাথাটা এখনো অভ্যস্ত হয় নি, আমি এখন আর আমার বাসায় নেই, আমকে এখন আর মা আদর করে ডেকে দিবে না । আমাকে এখন নিজে নিজেই উঠতে হবে, পারলে বাড়িসুদ্ধ মানুষকে ঘণ্টি বাজিয়ে ডেকে তুলতে হবে, আরও কতকি!!

সকালের রোদটা আমার একেবারে চোখে এসে পড়লো । আর ঘুমাতে পারলাম না , চোখ খুলতেই হল। মিটিমিটি চোখে তাকাচ্ছি চারপাশে , অচেনা অজানা একটা রুম।

মানুষটা কোথায় গেল ? ইসস…আমি মনে হয় বেশি দেরি করে ফেলেছি ।
কাউকে খুঁজে পেলাম না ঘরটায় । আজব ছেলে, একটাবার যে আমাকে ডেকে দিয়ে যাবে, সেটাও করল না । ধ্যাত। হাঁদারাম পুরা ।

আমি টেবিল ঘড়িটার দিকে হাত বাড়ালাম । এই রুমে কোন বড় ঘড়ি নেই। ঘড়ি ধরতে গেলাম ঠিক , কিন্তু হাতে ঠেকল অন্য কিছু, গরম কিছু।

একটা কফির মগ । আর একটা ছোট্ট চিরকুট ।
“রিয়া,
ঘুমাচ্ছিলেন। তাই আর জাগালাম না । চিন্তা করবেন না , আমার বাসার মানুষজন একটু বেশি বেলা করে ঘুমায় ।
কফি তৈরি করে রেখে গেলাম । শুনেছি আপনার পছন্দের। খেয়ে নেবেন ।”

আমি আর কি বলব । পুরা চুপ হয়ে গেছি । কখনো ভাবিনি , আমার জন্য এই মানুষটা কফি বানিয়ে রেখে যাবে ! কখনো মাকেই সকালে একটা কাপ কফি দেয়াতে রাজি করাতে পারিনি।

আরে, এসব কি না কি ভাবছি ! কফিই তো বানিয়েছে, কফির ফ্যাক্টরি বানিয়ে ফেলেনি আমার জন্য । একটা কাপ কফির জন্য এই হাঁদারামের প্রতি আমার ভালবাসার ঢেউ উছলে পড়া কি ঠিক? মোটেও না ।

আমাকে আল্লাহ শুধু মনটাই দিয়েছে , মাঝে মাঝে মনে হয় । বুদ্ধিটা আল্লাহ প্যাকেট করে অন্য কোথাও রেখে দিয়েছে, আমি যেন কোনদিন ওটার নাগাল না পাই।

সেই দিনটা যে খুব খারাপ কাটল , তা না । হাঁদারামের বাড়ির লোকজন আমাকে ভীষণ পছন্দ করে, প্রমাণ পেলাম । করবেই তো, রূপসী মেয়েদের সব জায়গায়ই দাম আছে, আমি কি দেখতে খারাপ নাকি খুব !

নানা কাজে দিনটা পার হয়ে গেল । দাওয়াত খেতে গেলাম , বাসায় ব্রিগেড ভর্তি মানুষজন আসল, সবাইকে আমার পাউডারে সাদা বানানো চেহারাটা একনজর করে দেখাতে হল। আর কি প্রশংসা! প্রশংসার বানে মাঝে মাঝে মনে হল , পালিয়ে সুন্দরবন চলে গেলে এর থেকে খুশি হতাম মনে হয়।

আমার বরটা কিন্তু সারাক্ষণ আমার আশেপাশেই ছিল । কিন্তু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম তার আড়ালে আড়ালে থাকার শক্তি দেখে। অবাক হলাম, আমি আসলেও বুঝতে পারছিনা এই ছেলের অস্তিত্ব। সব আত্মীয়দের সাথে ও মিশছে , আমার প্রায় পাশেপাশেই থাকছে । একটুও শিহরণ জাগছে না মনে। আমি কি ঠাণ্ডা হয়ে গেলাম!

মোটেও না। এ আমার রাজপুত্র হতেই পারেনা । আমি ওকে অনুভব করতে পারিনা । সিনেমাতে টম ক্রুয , শাহরুখ খান সবাইকেই মনে হয় আমার রাজপুত্র । আর আমার সত্যিকারের বর , যার সাথে আমার ১০ লক্ষ ১ টাকা দেনমোহরে কাগজে সই করে বিয়ে পর্যন্ত হয়ে গেল , আমার ভিতর তার কোন মূল্য থাকছে না।


তবুও তো, জীবন চলে , থেমে থাকে না । আমরাও চলি । কষ্ট হলেও চলি । চলতে চলতে হোঁচট খাই, ফের উঠে দাঁড়াই । বিধাতার হাতের মোমের পুতুল আমরা, সুতা যেদিকে টান পরবে , সে দিকেই চলতে হবে । আমার সুতা আমাকে এই বাসায় এনে ফেলেছে , আমাকে এখান থেকেই এগুতে হবে , পিছনে সামনে ডানে বাঁয়ে কোন দিকে ঘুরার আর সুযোগ নাই ।

####

সপ্তাহ ঘুরে । সাতদিনের কোটা পার করে আমরা এখন অষ্টম দিনের স্বামী স্ত্রী । একটা মানুষকে জানতে নাকি মাত্র কয়েকটা মুহূর্তই প্রয়োজন হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয় না। আমি বেশি স্বপ্ন দেখেছিলাম তো, তাই ২৪ পূরণ ৭ ঘণ্টা পরেও আমি আমার পাশের মানুষটাকে চিনতে পারিনি । এত সুন্দর , ভদ্র আর কিউট একটা ছেলে , আমি সবসময় চেয়েছিলাম , ঠিক তেমন একটা ছেলেই আমার চারপাশে ঘুরাফেরা করে , আশ্চর্য , আমি তাকে চিনতে পারি না । কেন আমি পড়তে পারিনা একে , কেন আমার অপেক্ষাগুলো শেষ হয় না!!

আমার খুব প্রিয় আকাশ দেখা । বেশি ভাবুক তো, উদাসীনের সব লক্ষণ একেবারে কায়দা করে রপ্ত করেছি । আমাদের বিশাল রুমটার সাথেই একটা ছোট খোলা বারান্দা আছে, দখিনে মুখ তার । আমার ভীষণ প্রিয় জায়গাটা । সারাটা দিন এখানে সেখানে মানুষের পদধূলি নিতে নিতে জান যায় , তাই দিনে এখানে আসা হয় না । কিন্তু রাতটা শুধুই আমার । অভ্র ঘুমিয়ে পড়ে । তারপর এসে বসি এখানটায় । আকাশের সাথে কথা বলি । তারাগুলো আমার বন্ধু । বিচার চাই তাদের কাছে । আমার স্বপ্নগুলোতো ওরাই তৈরি করে দিল । মুক্ত আকাশের নিচে ভালবাসাবাসি করার স্বপ্নটা কি আমার পূরণ হবে না! এলো বাতাসকে বলি , আমাকে গল্প শুনিয়ে যাও , আমার জীবনটা এমন হল কেন?

আফসোস , আজ সবাই নিশ্চুপ । কারো কাছে কোন শব্দ নেই ……

অভ্রের সাথে যখন গাড়িতে বসে থাকি , খুব ইচ্ছা করে ওর হাতটা একটু ধরি । গিয়ারে ধরা ওর হাতটা একটু কেঁপে যাক । সামনের কাঁচটা একটু ঝাপসা হয়ে যাক । একটু গাড়িটা নেচে উঠুক । আমিও নেচে উঠি সেই সাথে , আনন্দে ।

কিছুই হয়না । ও সামনেই তাকিয়ে থাকে , রাস্তায় খুব মনোযোগ । আমিও গাড়িগুণার চেষ্টা করি , এক দুই তিন …………

দখিনের বারান্দাটায় একটা ছোট্ট গোলাপ গাছ আছে । কেউ দেখে না । অযত্নে অবহেলায় সে দিন গুজরান করে । বেচারা একটু পানিটুকুও পায় না । তাতে কি , প্রকৃতি তার সন্তানদের নিজ দায়িত্বে রাখে । অযত্নে বেড়ে উঠা সেই গাছটিতে একটা লাল টকটকে ফুল ফুটেছে দুইদিন হল । আমিও হেলায় এড়িয়ে যাই ওটাকে । থাকুক না ।
মাঝে মাঝে মনে হয় , অভ্র কি কখনো বুঝবে , ওই লাল ফুলটা ওর হাতে পাওয়ার আমার কত শখ ? কখনো কি বুঝবে , ওই লাল ছোট্ট সৃষ্টিটাও খুশি হবে , তুমি আমার হাতে দিলে!

#####

আজ কি হচ্ছে না হচ্ছে , কোনদিকে খেয়াল নেই । আপন মনেই বাসার এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরে বেড়াচ্ছি । এটা সেটা নাড়াচাড়া করছি, বাবা মায়ের সাথে কথা বলছি, নানা রকম কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার একটা ক্ষুদ্র এবং ব্যর্থ চেষ্টা । ছাইপাশ যা ইচ্ছা তাই করে আমি মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরাচ্ছি ।


আমি অভ্রের প্রেমে পড়ছি…… একটু একটু করে……… শামুকের চেয়েও ধীর গতিতে ………


রুমে চলে আসলাম ।কাবার্ড গুছাবো । বিয়ের পর এইদিকে একদম মনোযোগ দেয়া হয়নি । যাচ্ছেতাই অবস্থা এখন । এলোমেলো সব জিনিসপত্র , আমারই মত । একটা একটা করে গুছাচ্ছি ।

হঠাতই ,একটা কাল ডাইরি পেলাম ।অবশ্যই অভ্রের । এটা অভ্রের রুম ।

হাত নিশপিশ করছে ওটা খুলতে । কিন্তু এটা অভ্রের । আমার বর হলেও ও এখনো অন্য মানুষ । ওর সব জায়গায় প্রবেশাধিকার আমি পাইনি ।

বলতে বলতেই খুলে ফেললাম ।

আমার নিশ্বাস আটকে আসছে , আমি জানিনা ওতে কি লেখা আছে , এমন কিছু কি , যা আমি কখনো শুনতে চাইনা ?

”রিয়া,
আজকে তোমাকে প্রথম দেখলাম । প্রথম । কিন্তু আমার মনে হল , তোমাকে আমি যে আরও কতবার দেখেছি । ছবিতে দেখে বুঝতে পারিনি , জলজ্যান্ত দেখে বুঝলাম আজ । মানুষ সুন্দরের পূজারী , আমিই বা আলাদা হব কেন? তোমাকে গুটি গুটি পায়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে যখন আসতে দেখলাম , আমার জগত থমকে গিয়েছিল । বিশ্বাস করো মিথিলা , কখনো কাউকে দেখে এমনটা মনে হয় নি আমার । তোমাকে ওই এক নজর দেখায় আমি জানতাম , তোমাকেই দরকার আমার । আজব ব্যাপার জান , আমি জানি , তুমি যখন আসবে , আমি কখনোই তোমাকে বলতে পারব না , তোমাকে ভালবাসি । আমি এমনই রিয়া । লিখে তো যাচ্ছি রিয়া , মুখের কথা আর ফুটবে না, বুকের কথা বুকেই রয়ে যাবে । মাকে জানিয়ে দিয়েছি , তোমাকে পাশে পেতে চাই , তোমরাও নাকি জানিয়েছ ।
কিন্তু , আমাকে একটু সহজ করে নিও । আমি যে পারিনা কিছু । এই লেখাটা তোমাকে পড়তে দিব । নাহ…… সেটাও পারব না ।”

পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া। অজস্র শব্দ, অসংখ্য আবেগ , অফুরন্ত কথা । পড়তে পারছিনা আমি , আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।
একটা সিদ্ধান্ত নিলাম । সব গল্পে নাহয় রাজপুত্র আসে, আজকে রাজকন্যা আসবে , রাজপুত্রকে নিয়ে যেতে ।
আমি সেই রাজকন্যা হব ।

#####

সন্ধ্যা হয় হয় এমন একটা সময় । নির্মল । একটা খুব ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে , আস্তে আস্তে । আমাদের রুমের পর্দাগুলো সেই হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে ।

১০১ টা মোম জ্বালিয়েছি । ভয়ে আছি, যেই অকর্মার ঢেঁকি আমি , কখন না আগুন ধরিয়ে দি । তখন বাড়িসুদ্ধ মানুষসহ ফায়ার সার্ভিসের মানুষের সাথে প্রেম করতে হবে ।

তবুও… জ্বালালাম । আজকে আমার রাত । আজ কিছুই হবে না । তারারা আমাকে বলে গেছে । বাতাস গান গেয়ে শোনাচ্ছে ।

এবং সবকিছু চপেট করে দিয়ে বেকুব ছেলেটা হঠাৎ করেই এসে পড়লো । ওর এখন আসার কথা ছিল না । আজকেই সব কিছু বরবাদ করার জন্য হাঁদারামকে তাড়াতাড়ি আসতে হবে!
আমি রুমের বাইরে ছিলাম ।

অভ্র রুমে দাঁড়িয়ে আছে । আমাকে দেখতে পাচ্ছে না । বেডসাইড টেবিলটায় আমি ওই গোলাপটা আর একটা কাগজের টুকরো রেখে দিয়েছি। ওকে দিতাম । ও নিজেই থেকেই দেখে ফেলেছে ।

চিরকুট পড়ছে অভ্র…
“তোমাকে সবসময় আমি কি বলে ভেবে এসেছি জানো?
হাঁদারাম । এবং আমার ধারণা ১০০ শতাংশ সত্যি ।
ভালবাস , একটাবার বলা যায় না?
ভালবাসার আমি যে কাঙাল , কেন বুঝ না ?
এমনকি হাঁদা ছেলে , এটাও বুঝতে পারনি , আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। “

আমার শব্দ পেয়ে গেল অভ্র। পিছন দিকে খুব হুড়োহুড়ি করে ঘুরতে গেল , যেন খুব লজ্জা পেয়ে গেছে । একটু কি আমি দেখলাম , চোখটা একটু মোছার চেষ্টা করল ? কি জানি , আমার দেখার ভুল হবে হয়ত…

এক সমুদ্রভরা ভালবাসা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ও । বিধাতা আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দেয় নি , হাঁদারাম তো আসলে ছিলাম আমি , এমন ভালবাসার সমুদ্র ফেলে আমি ছোট জলাধারে ছুটে গেছি , ভালবাসার হাহাকার করতে করতে । আমাকে উপযুক্ত শাস্তিই দেয়া হয়েছে । ভাল হয়েছে, খুব ভাল ।

####

আজকে ভোর দেখলাম দুজন ।পুবের আকাশটাকে রাঙ্গা করে সূয্যি মামা নতুন একটা দিনের ডাক দিচ্ছে । একটা নতুন সময়ের প্রতীক্ষায় সবাই জেগে উঠবে কিছুক্ষণ পরেই ।

আর আমার শুরু হবে একটা নতুন জীবন । ভালবাসাময় একটা জীবন।

সকালটায়ও জেগে আছি । অভ্র ঘুমাচ্ছে আমার পাশে । সকালের মিষ্টি হলুদ রোদটা ওর উপর এসে পড়েছে । ভুরু কুঁচকাচ্ছে আমার রাজপুত্রটা ।

আমি দেখছি । সীমাহীন মায়ায় বুকটা ভরে যাচ্ছে আমার ।

গল্পঃ আমার রাজপূত্র
লিখাঃ Riya Akter
---------
 

Sunday, March 25, 2018

আজ আমার বিয়ে ৷

আজ আমার বিয়ে ৷
আর পাঁচটা সাধারণ বিয়ের মতো করে নয়, কেনো বলছি? কারণ আমার বিয়ে হচ্ছে একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ রোগীর সাথে ৷ যে কিনা মানসিক হাসপাতালেই থাকে বেশীরভাগ সময় ৷ যখন একটু সুস্থ হয় তখনই কেবলমাত্র তাকে কিছুদিনের জন্য বাসায় আনা হয় যখন আবারো মাত্রাতিরিক্ত সমস্যা শুরু হয় তখন হসপিটালে পাঠানো হয় ৷ এভাবেই চলছে কিছুক্ষন পর যে আমার স্বামী হবে তার জীবন ৷
বাসায় তার বাড়ীর সবাই এসে পড়েছে ৷ আমি সিম্পল একটা শাড়ী আর আম্মুর গলার হার আর দুল পড়েছি ৷ লিপস্টিকটাও লাগাইনি
যে আমি সবসময় সাজতে পছন্দ করতাম সেই আমার বিয়ের সাজটা আজ এরকম ৷ সবার সামনে গিয়ে বসলাম একটাবার ও মাথা তুলিনি যতক্ষন ওখানে বসে ছিলাম ৷ রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করলাম এরপর কালিমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হলো ৷
কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই বিদায়ও হলো ৷ শ্বশুড় বাড়ী গিয়ে দেখলাম মোটামোটি অনেক বড় পরিবারেই বিয়ে হয়েছে আমার ৷ কেউ একজন আমাকে নিয়ে একটা ঘরে বসালো ৷ সম্ভবত এটাই আমার বাসরঘর ৷ কারণ বিছানায় কিছু ফুল ছড়িয়ে সাজানো ছিলো ৷ যিনি আমাকে নিয়ে এলেন ঘরে জানতে পারলাম সে আমার ফুপিশ্বাশুড়ী ৷
তিনি আমাকে হাসানের ব্যাপারে বললেন ৷ হাসান আমার স্বামীর নাম কয়েকবার শুনেছি তার নাম ৷ ছোটবেলা থেকেই সে নাকি একটু পাগলাটে স্বভাবের ছিলো দিনে দিনে তা শুধু বেড়েছেই কমেনি ৷ একপর্যায়ে তাকে বদ্ধ উন্মাদ পদবী দিয়ে মানসিক হসপিটালে রেখে আসা হয় ৷ কখনো ভালো কখনো খারাপ এভাবেই জীবন তার ৷ আমার শ্বশুড় বড় কোন পদে ভালো চাকরী করেন ৷ আমার ভাসুর এম বি বি এস ডক্টর তার ওয়াইফ ও তাই ৷ শ্বাশুড়ী মারা গিয়েছেন অনেকবছর হলো ৷ ফুপী শ্বাশুড়ী তার হাসবেন্ড মারা যাবার পর থেকে এখানেই থাকেন ৷ মূলত আমাকে আনা হয়েছে হাসানের টেক কেয়ারের জন্য ৷ যখন ও বাসায় আসে তখন মাঝে মাঝে ওকে সামলানো যায়না আর সামলানোর মতো আছেই বা কে?? তাই আমার সব কিছু যেনে শুনেও আমাকে বউ করে আনা হয়েছে ৷
এমনই ভাষ্য ছিলো আমার ফুপীশ্বাশুড়ীর ৷ তিনি টুকটাক আরো অনেক কিছু বললেন বোঝালেন ৷ আমি শুধু মাথা নিচু করে শুনে যাচ্ছিলাম আর ঘাড় নেড়ে মাঝে মাঝে সায় দিচ্ছিলাম যে আমি শুনছি ৷ একটু পর আমার বর কে ঘরে আনা হলো ৷ সে হয়তো বুঝেছে আজ ভালো কোন প্রোগ্রাম তাই চুপচাপ সবার কথা শুনছে অথবা কেউ হয়তো অনেক গিফটস দেবে বলে তাকে ভদ্র ছেলে হয়ে থাকতে বলেছে অথবা হয়তো সে নিজে থেকেই আজ কোনো ঝামেলা করছেনা ৷
ফুপী আমাকে বলে গেলেন, আমি যেনো ওর খেয়াল রাখি ৷
সবাই চলে গেলো ঘর থেকে ৷ আমি দরজা লাগিয়ে এসে বসলাম খাটে সারাটাদিন বুকফেটে কান্না এসেছে কিন্তু কাঁদতে পারিনি কারো সামনে, এখন তো কেউ নেই যে আছে সে থাকলে বা না থাকলে কি কিছু যায় আসে? হু হু করে কান্না আসছে আমার ৷ আমার জীবনটাই কেনো এরকম হতে হলো?? আমার কষ্টগুলো কেউ বুঝবেনা কেউনা ৷ আমি যখন নিজের জীবনের হিসেব মেলাতে ব্যাস্ত তখন পাশে হাসান এসে বসলো ৷ আমি অবাক হলাম ওকে দেখে ও নিজেও কাঁদছে ৷ যখন জিগেস করলাম কি হয়েছে কাদছো কেনো?
ও বললো তুমি কাদছো কেনো? আমার কারো কান্না সহ্য হয়না ৷ এরপর আর কাঁদতে পারলাম না ৷ হাসি দিয়ে ওকে বললাম আর কাঁদবোনা ৷
হাসান নাকি বদ্ধ উন্মাদ ৷ কিন্তু কই ১৪ দিন হলো ওর সাথে আছি আমি তো উন্মাদের মতো কিচ্ছু করতে দেখলামনা ওকে ৷ আমার সব কথা ও শোনে বোঝে, হ্যাঁ ও স্বাভাবিক নয় কিন্তু বদ্ধ উন্মাদ ও নয় ৷
হাসান আমাকে সেদিন জিগেস করেছিলো, আচ্ছা তোমার নাম কি? আমি বললাম কেনো? নাম জেনে কি হবে? ও বলেছিলো যদি আমি হারায় যাই তোমাকে খুজে না পাই তাহলে মানুষকে তোমার নাম বলতে হবে না? নাহলে কিভাবে তোমাকে সবাই খুজে আনবে আমার কাছে? সেদিন বলেছিলাম আমার নাম বউ ৷ আর শুধু তুমিই এটা বলে আমাকে ডাকবে এটা স্পেশাল নাম তো তাই ৷
এরপর থেকে তার মুখে একটাই কথা ৷ বউ তুমি কই? বউ ভাত খাবো, বউ জুস খাবো, বউ গল্প বলো ৷
কিছুদিন আগে ওকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলাম ফুপী বার বার বলেছে ওকে বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবেনা কিন্তু তবুও নিয়ে গেছি আমার কথা হলো কেনো নিয়ে যাওয়া যাবেনা? ও কি এলিয়েন? ইচ্ছে করছিলো মনে মনে না বলে ফুপীকে মুখের ওপরই বলি কথা গুলো কিন্তু গুরুজন তাই বললাম না ৷ আর আমি এমনিও সবার কাছে ভ্যালুলেস ৷ তাই শুধু বললাম সমস্যা নেই ফুপী আমি ওর খেয়াল রাখবো ৷
সেদিনই বুঝেছিলাম কেনো হাসানকে বদ্ধ উন্মাদ বলা হয় ৷
আমরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরেই খাচ্ছিলাম টেবিলে ৷ ওয়াশরুমটা কোনদিকে দেখতে আমি উঠে সামনে চলে যাই হাসান ভেবেছে এখানেই আছি কিন্তু ও পেছনে সামনে সবখানে খুজে আমাকে না পেয়ে তুলকালাম করে ফেলে ৷ আমি ওয়াশরুম থেকে এসে দেখি কেউ একজন মার খাচ্ছে ভীর সরাতেই দেখলাম হাসান ৷ আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো ৷ সাবাইকে যতো বলছি ওর মানষিক প্রবলেম আছে কেউ কথাই শুনলো না আমার ৷ হাসান আমাকে দেখতে পেয়েই বউ বউ বলে জরিয়ে ধরলো ৷ আমি যখন কাউকে বোঝাতেই পারলামনা তখন ওকে যতেটা পারি আগলে ধরলাম আর কিছু আঘাত আমারো লাগলো এরপর সবাই থামলো ৷ তারপর জানতে পারলাম হাসান একটু আগে সব টেবিল চেয়ার উল্টেছে এবং দু একজনকে মেরেছেও এসবের জন্যই এতোকিছু ৷ এরপর বললাম ওর কিছু মানসিক সমস্যা আছে তখন একজন বললো এসব পাগল নিয়ে বের হন কেনো? কোনো উত্তর না দিয়ে চলে এলাম ৷ এসে তো ফুপীর কাছেও বকা খেলাম অনেক ৷
এর মাঝে হঠাৎ একটা ফোন এলো যা আরো একবার ওলটপালট করে দিলো আমাকে ৷
সৃজন ফোন করেছিলো ৷ হ্যাঁ সেই সৃজন যাকে নিজের চেয়েও বেশী ভালোবাসতাম আমি ৷ আমাদের চার বছরের সম্পর্কটা পরিণতি পায়নি ৷ সৃজনের অনেক ইচ্ছে ছিলো জীবনে ভালো পজিশান করবে ৷ বাইরে যাবার জন্য ট্রাই করতে করতে হয়েও গেলো ৷ কথা ছিলো দুবছর পর দেশে এসে ও সবার সাথে বিয়ের কথা বলবে ৷ আর আমার বাসাতেও বিয়ের চাপের মতো পরিস্থিতি ছিলোনা তাদের ইচ্ছে ছিলো আমাকে আরো পড়ানোর যার জন্য আমরা দুজনেই নিশ্চিন্ত ছিলাম ৷ কিন্তু কথায় বলেনা? যা হবার তা হবেই সেটা যেভাবেই হোক ৷ সৃজনের চলে যাবার আগের দিন আমরা ওর এক কাজিনের বাসায় দেখা করি ৷ সেখানে ওকে জড়িয়ে ছিলাম অনেক্ষন মনে হচ্ছিলো হারিয়ে ফেলবো না তো??
একটা সময় আমরা দুজনেই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করে বসি ৷ আবেগকে প্রশ্রয় দিতে নেই কিন্তু কেউ সে কথা ভাবলাম না ৷ আমাদের চার বছরের পবিত্র সম্পর্ককে মূহূর্তেই অপবিত্র করে ফেলি আমরা ৷ পরে দুজনেই বুঝতে পেরেছি কাজটা আমরা একদম ঠিক করিনি এতো প্রাইভেটভাবে দেখা কেনো করতে গেলাম এটা ভেবে আমি অনেক অপরাধবোধে ভুগছিলাম ৷
সৃজন চলে গেলো পরেরদিন ৷ সব ঠিকঠাকই ছিলো ঝামেলা শুরু হলো আমার পিরিয়ড বন্ধের পর ৷ আমি টেনশানে পড়ে গেলাম দু মাস যাবৎ এরকম হচ্ছে ৷ কাছের বান্ধবীকে জানালাম ও বললো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে আমি তো ভয়েই শেষ ৷ কীহবে এখন? সিওর হতে টেস্ট করলাম কিন্তু পজেটিভ না নেগেটিভ বুঝতে পারছিলাম না হয়তো প্যাকেটে লেখা আছে এটা ভেবে প্যাকেট আনতে ঘরে এলাম সর্বনাশ যে হয়েছে আমার বোনের চিৎকারেই বুঝলাম আমি টেস্ট করে ওই কাঠিটা ওয়াশরুমে রেখেই চলে এসেছি বড় আপু দেখেই বুঝে গেলেন আমিও অস্বীকার করার সাহস পেলাম না ৷ সব বলে ফেললাম ৷
এরপর রাতে আম্মু এসে বললো চল তোকে ডক্টর দেখিয়ে সিওর হয়ে আসি ৷ যা হবার হয়ে গেছে কী আর করা যাবে ৷ আমিও রাজী হলাম ৷ ডক্টর আমাকে বললো কিছু টেস্ট করতে হবে এটা বলে একটা ইনজেকশান দিলো আর কিছু মনে নেই আমার ৷ সেন্স আসার পরে বুঝলাম আমি বাসায় ৷ কখন এলাম কি হলো কিছুই বুঝতে পারছিলামনা ৷ শুধু শরীরটা খারাপ লাগছিলো ৷
জানলাম তিনদিন পর তাও প্রতীবেশীর কাছ থেকে ৷ আমি নাকি এবসান করিয়ে এসেছি ৷ শুনেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো ৷ আম্মুকে জিগেস করতেই উনি বললেন তো কি জারজ সন্তান জন্ম দিতি? আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার অগোচরে আমার সন্তানকে মেরে ফেলা হলো???
এসব কথা যতই গোপন রাখা হোক চাপা কখনোই থাকেনা ধীরে ধীরে সবাই জেনে গেলো আমি একটা নষ্টা মেয়ে ৷
সৃজনকে জানালেও কিছুই করার নেই এখন তো দুরে দুবছরের আগে সে ভিসাই করতে পারবেনা দেশে আসার জন্য ৷ এদিকে প্রতিবেশীরা আমাদের বেঁচে থাকা হারাম করে দিচ্ছিলো ৷
তখনই আব্বুর একজন পরিচিত লোক মানে আমার শ্বশুড় আমাকে তার ছেলের জন্য নিতে চাইলো ৷ এমন পরিস্থিতিতে একজন বাবা তার মেয়েকে যে বিয়ে দিতে পারবে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার ৷ ছেলে যাই হোক আমার তো বিয়ে হবে ৷ আমি যে সৃজনের জন্য অপেক্ষা করতে বলবো সে মুখও ছিলো না আমার তবুও বলেছিলাম ৷ কিন্তু যেখানে দু ঘন্টা পার করা মুশকিল সেখানে দুবছর কেউ অপেক্ষা করবে? শেষ পর্যন্ত হেরে গেলাম বিয়ে হলো হাসানের সাথে ৷ বিয়ের আগে সুইসাইডও করতে চেয়েছি কিন্তু কেনো যেনো পারিনি সাহস হয়নি ৷ সেখানেও হেরে গিয়েছিলাম সেদিন ৷ বিয়ের পর সৃজনের সাথে যোগাযোগ রাখিনি ৷
আজ ও ফোন করেছে কারো কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ৷ ও দেশে এসেছে দেখা করতে চায় ৷ ওর ভাষ্যমতে আমার সাথে অন্যায় হয়েছে সেটাতে ওরও দোষ আছে তবে আমি একা কেনো ভুগবো? ও আমাকে বিয়ে করতে চায় ৷ পাগল স্বামী কি দিতে পারবে আমাকে? সৃজন তো এতোদিন পরেও আমাকে ভালোবাসে এতোকিছুর পরেও তবে কি সমস্যা?
আমার কাছে সবকিছু অসহ্য লাগছে সৃজন দুদিন যাবৎ ফোন দিয়ে কান্নাকাটিও করছে সে আমাকে চায় ৷ কি করবো আমি? আবারো ওর ফোন এলো ৷
-- আলো তুমি কেনো এমন করছো? প্লীজ চলে এসো আলো ৷
-- ঠিক আছে কাল আসবো ৷
-- ওকে এক কাপড়ে চলে এসো এরপর আমি ডিভের্সের সব ব্যাবস্থা করে দিবো ৷ তারপর স্বাভাবিকভাবেই বিয়ে হবে আমাদের ৷
-- না কাল আগে বিয়ে করবো আমরা ৷ তারপর যা হবার হবে ৷
-- আলো কী বলছো এসব? আমার একটা সন্মান আছে আমার ফ্যামলি এতোসব জানেনা তারা জানবে তোমাকে পছন্দ করতাম এখন বিয়ে করবো ৷ তোমার বিয়ের ব্যাপারে বলা যাবেনা ৷
-- কিন্তু সৃজন
-- আর কথা না ৷ কাল দেখা হচ্ছে ৷
-- ওকে ৷
হুম আজকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেবো আমার ভালেবাসার মানুষটার সাথেই জীবন কাটাবো আমি কারো জন্য নিজের জীবন কেনো নষ্ট করবো? রেডী হয়ে বের হলাম ৷ পৌছে দেখলাম সৃজন এসে গেছে ৷ ওকে বললাম সৃজন তোমার ফোনটা দেবে একটা ছবি তুলবো কতোদিন তোমার সাথে ছবি তুলিনি ৷
ও বললো তুলবো তো সব হবে বিয়েটা মিটে যাক আমরা রিল্যাস্ক হই তারপর ৷ আমি ওর কথার তোয়াক্কা না করে নিজের ফোন দিয়েই একটা সেল্ফি তুললাম আমাদের ৷
এরপর ওকে বললাম, সৃজন আমাদের এতো বছরের সম্পর্ক তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো যে এতোকিছুর পরেও আমাকে বিয়ে করতে চাও কিন্তু আমার সত্যতা সামনে আনার সাহস তোমার নেই কারন একটাই সন্মান থাকবেনা ৷ সন্মান যে কি জিনিস আমি তা জানি কারন নষ্টা অপবাদ নিয়ে অনেকগুলো দিন পার করেছি আমি ৷ সৃজন তোমাকে কোনো দোষ আমি দিচ্ছিনা ৷ তুমি যা করছো তা ন্যাচারাল ৷ ইনফ্যাক্ট একটা ছবি তুলতেও তুমি ইতস্তত বোধ করছো এটাও ভুল না স্বাভাবিক ব্যাপার ৷ তুমি যে আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছো এটাও অনেক ৷ কিন্তু সৃজন একটা কথা কি জানো? ভালোবাসাটা অনেক ধরনের হয় ৷ সবার ভালোবাসার ধরণ এক না ৷ যেমন তুমি আমাকে এতো ভালোবেসেও আমার বিয়ে টা কে নিজের পার্ট ধরতে পারবেনা ওটা আলাদাই ৷ এবং ভবিষ্যতে এটা নিয়ে কথাও হয়তো উঠবে এটা নরমাল মানুষের স্বাভাবিক স্বভাব ৷ কিন্তু একজন এবনরমাল মানুষ এতো কিছু বিচার করেনা ৷ যাকে ভালোবাসে তাকে শুধু ভালোই বাসে ৷ তার ভালোবাসার মানুষটার আগের জীবন নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা থাকেনা ৷ তার প্রয়োজন একটাই সেটা হলো ভালোবাসা ৷
তাই নরমাল মানুষের থেকে আমার জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জমা রাখার এবনরমাল মানুষটাকেই আমি ভালোবাসি ৷
আমি ইচ্ছে করেই বিয়ের কথা তোমাকে বলেছি তুমি কি বলো তা জানতে ৷
তোমার কোনো দোষ নেই সৃজন ৷ দোষ আমাদের ভাগ্যের যে আমরা এক হইনি কিন্তু এতগুলো দিন যে মানুষটা আমার ভরষায় বেঁচে থাকার মানে পেয়েছে তাকে ছেড়ে তোমার সাথে চলে যাবার মানে কি?? আমার তো কোনো অভাব নেই, আমার বর আমাকে ভালোবাসে তাহলে? তারপরেও যদি যাই তবে সেটা নেহাত শারিরীক চাহিদার জন্যই যাওয়া হবে তাই নয় কি সৃজন??
তুমি আমাকে ছেড়ে বাঁচতে পারবে ৷ কিন্তু ওই ছেলেটা?? ওকে ঘুম পাড়িয়ে এসেছি, যদি উঠে আমাকে না পায় সারা বাড়ী মাথায় তুলবে ৷ জানো সৃজন আমি যখন ওয়াশরুমে যাই, গোসলে যাই ও দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকে আমি বের হলেই জড়িয়ে ধরে বলে বউ এতো দেরী হলো কেনো?? একজন নরমাল মানুষ কি এতোটা মিস কাউকে করতে পারে? যে একটা মিনিট চোখের আড়াল হতে দিতে চায়না?? তাকে ছেড়ে কি আশায় যাবো সৃজন?
ছবিটা তুললাম আমাদের শেষ দেখা এটা এ জন্য ৷ আজ সব সম্পর্ক এখানেই শেষ ৷
জানো সৃজন কিছু কিছু এক্সিডেন্ট জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ৷ আমি আমার পাগল বরকেই ভালোবাসি ৷ ভালো থেকো ৷
সৃজন একটা কথারও উত্তর দেয়নি ৷ আমি চলে এলাম একবারও পেছনে ফিরিনি ৷ কারণ বুঝেছি নরমাল মানুষের চেয়ে এবনরমাল মানুষগুলো বেশী নিষ্পাপ ৷ বেশী পবিত্র ৷ আমারো অপেক্ষা সহ্য হচ্ছেনা কখন যে বাসায় যাবো ৷ আমার বরটাকে দেখবো!!!! এইটুকু রাস্তাই যেনো শেষ হচ্ছে না ৷
লেখাঃ ইরাবতী (ভূতের পেত্নী)

Tuesday, January 2, 2018

আমি পতিতা (পর্ব- ০১) একজন পতিতার গল্প

আহ! একটু ধিরে মশাই ব্যাথা পাচ্ছি,
কে শোনে কার কথা? টাকার জন্যে দেহ বেচা
মেয়ে গুলোর কথা কেউ কেনোই বা
ভাববে?
আমি নিহা, কিন্তু আজ আর আমার নাম ধরে কেউ
আমাকে ডাকে না, কেনোই না ডাকবে? আমার
কি সেই সম্মান আছে? কিসের সম্মান আবার?
পতিতাদের সম্মান আছে নাকি ? বেসস্যা নামেই
আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এখন আর খারাপ লাগে
না, বরং যে আমায় বেসস্যা বলে ডাকে তাকে
ধরে গড়ি মসী করি, আমার শরিরের উষ্ণতায়
তাকে গ্রাস করে ফেলি, হাহাহা কি অবাক! তখন সে
শুধু আমাকে আদর করে না, নগদ টাকা ও দিয়ে যায়
এতেই ক্ষান্ত নয় সে আবার আমার কাছে আসার
প্রতিশ্রুতি ও দিয়ে যায় , খুব মজার তাই না?
কি ভাবছেন? আমাকে কিডনেপ করে এই পথে
আনা হয়েছে? কেউ ধোকা দিয়ে বিয়ের কথা
বলে এই পথে রেখে চলে গেছে? হুম
এসব ভাববেন তা জানি কারণ বেশির ভাগ পতিতার
গল্পের শেষই হয় এই সমস্ত রহস্য ভেধের
মাধ্যমে, কিন্তু আমার গল্প টা একটু ভিন্ন, উম! না
ঠিক বলি নি, একটু নয় অনেক খানি ভিন্ন, কারণ --???
তা না হয় অন্যান্য গল্পের মতো শেষ মেষ ই
বলে দিবো কি বলেন?
আজ আমি ১৭ জনের ভোগের উপাদান, ১৭ জন
আমার শরির টাকে উলটে পালটে দেখেছে,
কামড়েছে, লেহন করেছে , আমি কিচ্ছু বলি নি,
কি বলবো ? বলার অধিকার নেই যে আমার, আমি
তো একটা পন্য মাত্র, বাজার থেকে যখন আমরা
টাকার বিনিময়ে কিছু কিনে নিয়ে যাই তখন সেটার
অধিকার তো আর দোকানদারের থাকে না, আর
পন্য সে তো এক জড় বস্তু, সে আর কি
বলবে??
প্রতিদিন ১০ /১২/১৫ জনের পন্য হিসেবে গণ্য
হই আমি, একেক জন তাদের পন্যের একেক
ভাবে ব্যবহার করে, একটা মজার বিষয় কি জানেন?
আমার খরিদ্দার রা তাদের পন্য ক্রয় করে শুধুমাত্র
কয়েক ঘণ্টার জন্য কিছু গরিব খরিদ্দার ও
আছে, তারা আমাকে শুধু আধা ঘণ্টার জন্য ই ক্রয়
করে,
ভলটালিন পেইন কিলার কিনে বাসায় যাওয়া আমার নিত্য
দিনের কাজ, হুম ঠিক তাই, আমার বাসাও আছে,
কেনো অবাক হচ্ছেন? পতিতাদের কি বাসা
থাকতে নেই? হয়তো নেই, কিন্তু আমার
আছে, বাসায় যেতে খুব কষ্ট হয় আমার, হাটতে
পারি না আমি, কিন্তু যখন টাকা গুলোর দিকে তাকাই
তখন আর কষ্ট লাগে না আমার, আবারো নিযে
কে শক্ত করি, কাল যে আমাকে আবার কাজে
যেতে হবে, ব্যাথার কাছে হেরে গেলে
চলবে না, তখন পেইন কিলারস গুলোই আমার
ভরসা....
আমি? আমি এমন ছিলাম না,
ছিল, আমার ও ছিল,
আমার ও আপনাদের মতো এক সুন্দর পড়িবার ছিল,
মা বাবা, বড় দুই ভাই নিয়ে ছিল আমার হাস্যজ্জল এক
পরিবার , কিন্তু --??
এক সুনামি ভাসিয়ে নিয়ে গেলো আমার কাছ
থেকে আমার পরিবার কে, আরে না না এই সুনামি
ওই সুনামি নয় তো! এ হচ্ছে আমার জীবনের
সুনামি....




সুনামির স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলাম আমি, জানতাম এর
শুরু আছে শেষ নেই , তবুও পারছিলাম না ফিরে আসতে, আসলে একবার পা পিছলে গেলে সেখান থেকে আর তিরে ফিরে আসা যায় না, আর ভাগ্যবশত যদি কেউ ফিরে আসে তবুও তার গায় পেক কাদা লেগে যায় যাকে বলা হয় ময়লা, তাই সেই ফিরে আসার চেয়ে না সা খুব ভালো...
যাক আসল কথায় আসি, কি বলেন বাপু?
হাহাহা,
আপনারা ও খুব পারেন বাপু, খুব পারেন, টাকা দিয়ে পণ্য কিনেছেন একটু আস্তে আস্তে ব্যবহার করলে কি হয় বলুন তো ?
আপনাদের ই বা কি ভুল? আপনারা তো ১ বার বা ২ বার কিনেন আমাকে কিন্তু আমি যে দিনে কতো বার পণ্য হই তা তো আর আপনাদের জানা দরকার নেই তাই না?
আচ্ছা বাপু, ১ টা কথা বলবেন কি?
আপনারা শুধু স্তনই দেখেন, স্তনের ২/৩ ইঞ্চি ভিতরে যে এক কম্পিত রক্তথলি রয়েছে তা কি এক বারও দেখতে পান না?
জানেন কি?
মেয়েদের শরিরের গঠনরূপের চেয়ে সেই থলি টির ভিতরকার অংশ টি বেশি সুন্দর ?
কি রুচি আপনাদের বলুনতো!
খুবি অবাক!
কতো শত লোক আসলো গেলো , কেউ একটা বার জিজ্ঞেস করলো না তো -
আমি কে?
কি আমার নাম? কোন জাত আমার? কি আমার পরিচয় ? আমার বাবার কি আছে কি নেই?
তবে কেনো ঘরে গিয়ে আপনাদের মতো খরিদ্দাররাই নিজের বউ কে কথায় কথায় খোটা দেন এই বলে --
কি আছে তর বাপের জানি তো ,
বাপের বাড়ি থেকে কি আনছস যে এতো বড় বড় কথা কস?
আপনারা শুধু তাই বলেন না বাপু, আপনারা তো অবলা মেয়ে গুলো কে মারতে মাড়তে আধমরা করে ফেলেন, তারপর সে পারে না বাচতে, না পারে মরতে? ভাবে এই - সে মারা গেলে তার সন্তানদের কি হাল হবে?
কি হলো? কি ভাবছেন?
ওহ আচ্ছা? ভাবছেন এসব আমি কি করে বলছি? আমার মতো মেয়েরা আবার এসব কিভাবে জানি?
জানি, জানি, সবি জানি, আমি না হয় এই পথের পথিক , আমার মা তো তা ছিলেন না, সে তো গ্রামের এক সহজ সরল বঁধু ছিলেন, কেনো তাকে এতো ডুকরে ডুকরে মরতে হলো? যখন সে মরতে চেয়েছিল কেনো তাকে মরতে দেয়া হলো না, আর যখন?
কেমন নিয়ম আপনাদের? আমার মাথায় তো এখনো ঢুকে না, আর মনে হয় ঢুকবেও না, কখনোই না.....
কি দেখছেন এভাবে? আমাকে ? আমার চেহারা? কিন্তু কেনো? আপনাদের মতো খরিদ্দাররা তো চেহারার দিকে তাকায় না, শরির দেখে শরির , হুম সত্যি বলছি, তবে আপনি কিজন্যে আমার চেহারায় এমনি করে তাকিয়ে আছেন?
আমরা মেয়েরা খুবই অবাক করা জীব, এই যে দেখুনই না পুরুষদের কে ঘিন্না করি, মা মারা যাবার পর বাবার আর ভাইয়ের ভয়ে পালিয়ে আসেছিলাম, কারণ তারাও পুরুষ, আর আজ নাকি সেই আমি ই অন্য এক পুরুষ এর জন্য হাজারো পুরুষের কাছে নিজের সম্মান বিক্রি করে বেড়াচ্ছি ,এই দুনিয়া যার নাম দিয়েছে পতিতা..
হুম আমিই পতিতা...

  (চলবে)
পর্ব- ০১
রাইটার : # ফাতেমা_আহমেদ

আমি পতিতা (পর্ব- ০৩) একজন পতিতার গল্প

আমার বয়স তখন ৮, মাত্র ৩ টা দাত পড়েছে , অন্যদের মতো আমার পরিবার টাও খুব সুন্দর আর হাসিখুশি ছিল, বাবাকে তেমন কাছে পেতাম না, উনি কাজে উদ্দমি মানুষ ছিলেন, তাই মার সাথে আমার খুব ভালো ভাব ছিল ছোট থেকেই, বাবাও আমাকে অনেক ভালবাসতেন, কিন্তু একদিন --?
আমাদের পরিবারে নতুন মানুষ এলো , সে আর কেউ না, আমার নতুন মা, আমার বাবার নতুন বউ....
সেদিন বাবা আমাকে বলেছিল, উনি আমার ছোট মা, উনি খুব ভালো তার সাথে মিলেমিশে থাকতে, তখনো তেমন কিছু বুঝি নি, খারাপও লাগে নি, কিন্তু রাতে যখন আমার মা আমার সাথে ঘুমাতে এলো আর বলল নতুন মা আমার মার ঘরে বাবার সাথে ঘুমাবে তাই মা আমার সাথে ঘুমাবে তখন খুব খারাপ লেগেছিল তার চেয়ে বেশি খারাপ লেগেছিল যখন মাঝ রাতে ঘুম ভাঙার পর বুঝতে পাড়লাম মা আমার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে .....
আমার নতুন মাকে বাবা খুব বেশি ভালবাসতেন , এতোটাই যে বাবা আমাদের কেও ভুলে গিয়েছিলেন , নতুন মার প্রতি ভরসা ছিল বাবার অনেক বেশি, উনি যা বলতেন তাই বাবা বিশ্বাস করতেন...
একদিন মাকে বাবা খুব বকাবকি করতে শুরু করলেন এসব আমার জন্য নতুন কিছু ছিল না, আগেও বাবা মাকে অনেক কটু কথা শুনাতেন তা আমি দেখেছি কিন্তু সেদিন --?
মার খেয়ে আধমরা হয়ে গিয়েছিল আমার মা, আমি সব দেখেছি, কিন্তু চুপ ছিলাম, সাহস ছিল না অতো যে সামনে গিয়ে বলবো ,
-- বাবা, মা নতুন মার ওই স্বর্নের চেইন টা নেয় নি, ওই টা নতুন মা তার বোন কে দিয়ে দিয়েছিল আমি দেখেছিলাম....
এরপর থেকে প্রায়শই বাবা মাকে মারতেন , আমার কিছু বলার থাকতো না , একদিন মা রাতে ঘুমানোর সময় অনেক গুলো টেবিলেট খেয়েছিল আমি জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল ওগুলো ব্যাথার টেবিলেট , কিন্তু পরদিন মার মুখ দিয়ে ফেনার মতো বের হচ্ছিল দেখে বাবা তাকে হাস্পাতাল নিয়ে যায় , ২ দিন পর মা ফিরে আসে, মাকে দেখতে যেতে খুব ইচ্ছে করছিলো আমার কিন্তু বলি নি, দূর থেকে শুনতাম শুধু মা কেমন আছেন....?
আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি, আর অনেক কিছুই বুঝতে শুরু করি, তখন বুঝতাম নতুন মা আমাকে পছন্দ করেন না, প্রায়শই বাবা আমাকে ডেকে পাঠায়, আমি নাকি কি কি ভুল করে ফেলি? কিন্তু আমার দুই ভাই --? ওদের কে কখনো কিছু বলেন না বাবা, কিন্তু কেন? পরে জানতে পেরেছিলাম, নতুন মা বার বার আমার নামে বাবার কান ভরাট করে, যা বাবা বিশ্বাস করে, আর আমার ভাইদেরকে উনি আদর করে কারণ কি জানেন? -- কারণ আমি মেয়ে আর আমার ভাইয়েরা ছেলে...
কিছুদিনের মধ্যে আমাদের খাবার টাও ভিন্ন পাতিলে রান্না করা হতো, আমাদের বলতে, আমার আর আমার মার, আমাদের ওতোটা অধিকার ছিল না একসাথে বসে খাবার...
একসময় এমন হল আমার ভাইয়েরাও আমাদের প্রতি খারাপ আচরণ শুরু করে, নানি অনেক বার চেয়েছিল আমাদের তার সাথে নিয়ে যেতে কিন্তু মা যায় নি, কারণ কি? তা আজও আমি জানি না, সেদিন চেয়েছিলাম আমি নানির সাথে চলে যেতে কিন্তু মা কিছুতেই রাজি হয় নি, খুব রাগ লেগেছিল সেদিন , এখনো ভাবি,
-- মা গো, সেদিন যদি নানির সাথে চলে যেতে রাজি হতা তবে তুমি আজ বেচে থাকতা....
এভাবেই কেটে যায় কয়েক টি বছর ,
সেদিন সকালে মাকে খুব ডেকেছিলাম, কিন্তু মা আর উঠে নি, বাবা যখন বলল তর মা আর নেই, বুক টা ধক করে উঠল , কাল রাতে মাকে যখন মারছিল কেন বাবাকে আটকালাম না, রাগে নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছিল, আমি শেষ হয়ে গেলাম সেদিন ....
মা মারা যাবার পর, আমার পড়াশোনা ও বন্ধ হয়ে গেলো , কি করার? মার কাজ গুলো যে সব আমাকেই করতে হতো, কাজ করতাম কিন্তু নির্যাতন সে আমি সহ্য করতে পারি নি, সৎ মা, বাবা, ভাইদের অত্যাচার সহ্য করতে পারি নি,
পালিয়ে গিয়েছিলাম বাড়ি থেকে, জমানো কিছু টাকা নিয়ে, অনেক দূরে, জানতাম আমি অনিশ্চিত জীবন কিন্তু তবুও আমি আমার মার মতো মরতে চাই নি আমার কাছে তার চেয়ে বরং রাস্তাঘাটে মরে যাবা ভালো মনে হয়েছিল আমার কাছে, কিন্তু দেখেন আজও আমি জিবিত, আজও আমি দিব্বি বেচে আছি...

 --তারপর?
তারপর শুরু হয় এক নতুন সময়ের, একজন এসে বদলে দেয় আমার ধারনা , কাটিয়ে দেয় আমার ভয়, শিখায় আমাকে,কিভাবে ভালবাসতে হয়?
আমি ছিলাম নদী , যে নদীর পানি ছিল স্থির , সে বাতাস হয়ে এসেছিল আমার জীবনে, করে দিয়েছিল আমাকে বহমান , অতি মাত্রায় বহমান...
-- বুঝলাম না, বুঝিয়ে বল,
সে সকালে আমি বেড়িয়েছিলাম একা, সাথে বেচে থাকার আশা টুকুও ছিল না, রাস্তাঘাট ও তেমন চিনতাম না, তবে একটু ভরসা ছিল, দুপুর হবার আগ অব্ধি কেউ আমাকে খুঁজতে বেরুবেনা , তারা ঘুম থেকেই উঠবে না, ভয় ছিল শুধু গ্রামের লোকদদের নিয়ে, তারা যদি দেখে ফেলে! আবার আমি সেই নরকে যেতে চাইছিলাম না, ভাগ্য সেদিন পাশে ছিল, পাশে নয় যেন ভাগ্য ঠিক আমার পদতলে হাটছিল...
ওড়না দিয়ে চোখ মুখ ডেকে বসে ছিলাম রেল লাইনের উপর, ট্রেনের অপেক্ষা , তখনি তার দেখা, হুম, কে যেন আমার পাশে এসে বসল, ভয় পেয়েছিলাম খুব, ভাইয়ার পাঠানো কোনো দূত নয় তো কিন্তু না, সে ছিল ঈস্বরের পাঠানো এক নতুন জীবন....
-- কোথায় যাবেন?
-- জানি না,
-- ট্রেনের অপেক্ষা করছেন?
-- এখানে কি তাহলে বাসের অপেক্ষা করব?
-- আচ্ছা মেয়ে তো আপনি!
-- ভুল বললাম?
-- না তবে কোনো কথার সজা জবাব কি দেয়া যায় না?
-- জানি না,
-- আপনি কি এমনি নাকি আমার সাথেই এমন করে ----?
-- হুম আমি এমনি, কোনো প্রব্লেম?
-- জি না, ধন্যবাদ
-- ধন্যবাদ দেবার কিছু দেখছি না আমি,
-- তবে সরি,
-- সরি বলার কিছু নেই তো ,কেন এমন জ্বালাচ্ছেন?
-- ওকে ওকে সরি,
-- উফ
তারপর চুপ করে বসে রইলাম, সে ও আর কথা বললেন না, একটু পর খেয়াল করলাম উনি পাশে বসে নাক ডেকে ঘুমচ্ছেন , খুবই বিরক্তিকর, তবু কিছু বললাম না, ইচ্ছে করছিল এখুনি তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলি গেট লস্ট ফ্রম মাই আইস, কিন্তু সেতো পুরুষ যদি কিছু করে বসে, তাই ঘাপটি মেরে বসে রইলাম , কিছুক্ষণ পর যা ঘটল তা তো আমি আমার নিজ চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, পুরুষ মানুষ কি এমনও হতে পারে? সত্যি কি তাই?
-- কি হয়েছিল? বলুন,
লোক টি যখন ঘুমচ্ছিল এক ছোট্ট মেয়ে এসে তাকে ডেকে বলল,
-- ভাইজান , ও ভাইজান , কালকাত্তে কিচ্ছু খাই নাই, কয়ডা পুয়সা দিবেন?
লোকটি উঠে ময়লাটে জামা পড়া মেয়ে টিকে কলে তুলে নিলো তারপর কিছুক্ষণ আদর করে পাশের কেন্টিন থেকে দুটো বড় রুটি কিনে দিলো , আর আমি? আমি শুধু থ মেরে এসব দেখছিলাম আর ভাবছিলাম আমার বাবাকেও যদি ঘুম থেকে তুলে কিছু বলতাম , সেও আমায় লম্বা ধরনের এক ভাষণ দিতো , কিন্তু উনি কোন ধরনের পুরুষ ??
ভাবতে ভাবতে ট্রেন এসে গেলো.....
(চলবে)


রাইটার ::ফাতেমা আহমেদ
পর্ব ::০4

আমি পতিতা পর্ব ০২, একজন পতিতার গল্প

কি হল মশাই? আপনি কেনো বসে আছেন? শুরু হয়ে যান, আপনার ১ ঘণ্টার মধ্যে আর মাত্র ১৯ মি. রয়ে গেছে, এর মধ্যে না হলে কিন্তু রেট আরও বাড়বে , হাহাহা....
কি হল? ভয় করছে? প্রথম বার নাকি? তবে আমি শুরু করবো? আরে মশাই প্রথম প্রথম ভয় হয় ই এর পর থেকে আর ভয় হয় না, আর আমার সাথে কিসের ভয় গো বাপু! আমি তো আপনার সদ্য বিবাহিতা বউ নই যে আপনি দুর্বল হলে আপনাকে ছেড়ে চলে যাব , চালিলু করে দিন....
কি হল? ১ ঘণ্টা হয়ে গেলো যে! কিছু তো বলেন, করবেন না? না করলে চলে যান, আমার সময় নষ্ট করে ইনকাম কমাচ্ছেন কেনো? আমার টাকা টা দিয়ে বিদায় হন, আমার আরও খরিদ্দাররা আমার জন্যে অপেক্ষা করছে, জানেন তো , যত খরিদ্দার আমাকে কিনে নিবে ততো টাকা ইনকাম হবে, টাকা টা দিয়ে চলে যান বাপু....
এতক্ষণ পর শুভ এবার মুখ খুলল,
-- তোমার দিনে কতো ইনকাম হয়?
-- এসব জেনে কি হবে বলুন, আপনার কাজ শেষ আপনি যাবেন, আবার কাজ হলে আসবেন,
-- বল, দিন এ কতো ইনকাম করতে পারো?
-- তিন সাড়ে তিন হাজারের মতো পাই,
-- আমি তোমাকে ৫ হাজার দিবো , আজ তোমার বাকি খরিদ্দার দের বিদায় করে দাও,
-- কিন্তু কেন? আপনি তো আমাকে ছুলেন ও না,
-- এখন ছুবো, কথা বলবো , তুমি বাহিরে ওদের না করে দাও,
-- আমি পারবো না মশাই , আজ আপনি আমাকে ৫ হাজার দিবেন কিন্তু কাল কে দিবে? তাদের কে সময় না দিলে তারা আর আমার কাছে আসবে না, তারা আমার রেগুলার কাস্টমার,
-- আমি দিবো টাকা তুমি তাদের বিদায় করে আসো,
-- আমি পুরুষ দের কথায় ভরসা করি না,
-- আমাকে কর, সব পুরুষ এক নয় এর প্রমাণ ও পাবে,
-- ঠিক আছে আপনি বসুন, আমি আসছি,
.....................................++....................................
.........
--এই এই কি করছ এসব?
-- আমি আমার কাজ করছি, আপনি আমাকে এতো গুলো টাকা দিবেন বলে ৩ ঘণ্টা হতে চলল আর আপনি কিছুই করছেন না, কিন্তু আমি তো কাজ ছাড়া টাকা নিবো না,
-- আমি আসলে এসব করতে তোমার কাছে আসি নি,
-- হাহাহা, তবে কেন এসেছেন?
-- আমি একজন সাংবাদিক,
-- আপনি রুমে কোনো গপন কেমেরা সেট করেন নি তো আবার?
-- ছিঃ ছিঃ কি বলেন এসব?
-- হাহাহা, আপনি জানেন না হয়ত, আপনি তো শুধু সাংবাদিক , কিন্তু আমার কাছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রক্সা চালক, মেথর সবাই আসে, আমার মতো পতিতাদের কাছে আপনারা শুধু মাত্র খরিদ্দার , কে কি? কোন জমিদার না ফকির তা জানা আমাদের কাজ নয়,
-- তুমি ভুল বুঝতেছ, আমি পতিতাদের নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখার জন্য এখানে এসেছি, বাহিরের সরদারনী কে এটা ই আমি বিলতে চেয়েছিলাম কিন্তু উনি আমাকে কোনো কথা বলার আগেই তোমার রুমে পাঠিয়ে দিলেন,
শুভর কথা শুনে আমি গড়া গড়ি করে হাসতে লাগলাম,
কি কান্ড দেখো! পতিতাদের নিয়ে সংবাদপত্রে আআর্টিকেল ? পতিতাদের নিয়ে! কি হবে? কি হবে লিখে আমাদের কে নিয়ে? বদলাতে পারবেন আমাদের জীবন? পারবেন? বলেন?
শুভ নিস্চুপ.....
অনেক্ষন পর শুভ বাবুর অনেক রিকুয়েস্ট এ আমার জীবনী তাকে বলতে লাগলাম , কেনো আজ আমি এই পথে? কেনো আমার নাম নিহা থেকে আজ বেসস্যা, আর শুভ?
সে শুধু শুনছিলেন আর বার বার চমকে উঠছিলেন ...
(চলবে)



রাইটার : # ফাতেমা_আহমেদ
পর্ব ::০২