Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Wednesday, October 11, 2017

স্বীকারোক্তি

রাত্রি আসে,আমার কদর বাড়ে,
আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে
আমার শরীরের গন্ধে ওদের
উল্লাস দেখে পাশের কুকুর
গুলো ঘেউঘেউ করে।
আমার শরীর অবশ হয়ে যায়!!!
আমি চিৎকার করতেও পারিনা!!!
দিনের আলোয় আমি পাগল,
থাকি ফ্লাইওভারের নিচে
ডাস্টবিনের পাশে। খাই ফেলে
দেওয়া খাবার। গায়ে দিই গামছার
মতো ছিড়ে যাওয়া শাড়ী।
আমাকে সবাই পাগলী বলে।
অতচো আমার শরীরের গন্ধে
নাক সিটকানো মানুষগুলোর
বেশি প্রিয়!!! ওরা রাতে আমাকে
আদরী নামে ডাকে আর দিনের
আলোতে পাগলী!!!
আমার বাচ্চা আছে,ওর
পিতা নেই! কে জানে ওর
পিতা কে? হয়ত সমাজের
উচু শ্রেণীর মুখোশ পরা ভদ্রলোকটিই
ওর পিতা হবে!!!
সূর্যটারে অনেকদিন দেখিনা!!!
কবে উঠবে সূর্য!! নাকি উঠবে না!!!
নাকি রাতের আঁধারে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কাঁদতে হবে আজীবন! তবু বসে আছি সূর্য
দেখার অপেক্ষায়। কবে উঠবে সূর্য....
_______________________
স্বীকারোক্তি® || খানজাহান আলী শান্ত,
ঢাকা-১২১৬

Tuesday, October 10, 2017

অহংকার


বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।
তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।
উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।


.............................. হেলাল হাফিজ

 

Wednesday, October 4, 2017

একটি বিশুদ্ধ স্বপ্ন

কালো চুল উড়ে যায় বাতাসে, কপালের নিচে চোখে
দুটি তারা ঘুরে যায় আকাশে, স্বপ্ন আঁকা কল্পলোকে।
দূরের কোন গাঁয়ের সবুজ বৃক্ষের নিচে তোমাকে,
মায়া ভরা আদলে দৃষ্টির বৃষ্টিতে পলকে পলকে।

খুব উদাস করা চোখে হারিয়ে যায় কবিতা, কথা
ওড়নার আড়ালে রাখা হাসিটা কমায়, সব ব্যথা।
আর গাছের আড়াল থেকে আসা এক টুকরো রোদে,
সৌন্দর্যে তোমার, দিনের আলো থাকে খুব আমোদে।
তোমার সবগুলো বসন্ত এঁকে রাখা থাকে মনে,
তোমার ভারী বুক যেন কাশফুল পরশ আনে।
এক হ্রদ ভালোবাসা নিয়ে, বসে তুমি আনমনে,
প্রজাপতি রঙ দিয়ে, মনের ছবি আঁক ফাগুনে।
তুমি দূরের বলাকার ডানা, দূরন্ত জল ঝরনা,
বাতাসে লিখে দিয়ে নিজ নাম, ওড়াও লাল ওড়না।
তুমি স্বপ্ন হয়ে যাও কেন, নিমিষে, দুরে থাকা কারো,
আর স্বপ্নগুলো রোদে, দীপশিখা তুমি জ্বালাতে পারো।

....................................................................-বর্ণচোরা

Sunday, October 1, 2017

মানবতার ক্রন্দন।

সেদিন চন্দ্রার গালে চুম্বন এঁকে গিয়েছিলাম ছোট্ট কুঠিরে,
সেদিন ডুবেছিলাম এক ঘনস্বপ্নের কঠিন প্রবাল জঠরে।
সেদিন হৃদমন্দিরে তুলির আচড়ে ধুইয়েছিলাম শত যন্ত্রনা,
সেদিন বিরহক্ষনে কেঁদেছিলাম আমি,শয়েছিলাম নিঠুর ভৎর্সনা।
সেদিন অশান্ত মনে অতৃপ্ত ক্ষন, যাই যাই বলে যায়নি,
সেদিন বক্ষযুগলের উন্মত্ততরা, আবেগ বন্ধন পায়নি।
সেদিন উর্বর ভূমিতে কামনারা সব ছড়িয়ে দিয়েছিল প্রাণ,
সেদিন লজ্জার মুখে চুনকালি মেখে গেয়েছিলাম সুখের গান।
সেদিন অট্টহাসিতে আকাশপানে ছেড়েছিলাম দীর্ঘনিশ্বাস,
সেদিন দলিত মথিত সুখসারি সব কেড়ে নিয়েছিল বিশ্বাস।
দেখি আরাকানের ঐ অঙ্গে জ্বলে দম্ভে ভরা দাবানল,
অর্থনীতির বুকে ফেলে, মানবতা আজ চোখের জল।
আজ বদ্ধপাগল পথে পথে ঘুরি,দেখি দুস্বপ্নের রাত্রি,
বিবেক বিকিয়ে বিশ্ব হয়েছে জালিমের সহযাত্রী।

--------------------------সাইফুল ইসলাম।

Saturday, September 30, 2017

নিনাদ প্রহর


আজকের বিকেলটা ছিল বিষাদ ভরা সুরে,
রণন তুলে মন বৃষ্টির আকাশে আসে ঘুরে।
কদম ফুল টানেনা, লাল গোলাপ কথাহীন,
এখানে রাখা শরীর বেদনায়, খুব সঙ্গীন।

মানুষ কেন ভালোবাসে, কেন বুকে এত মায়া?
একাকী রাতে পোড়ে বুক, দেখে পূর্ণিমার ছায়া।
একটা নীল কষ্টের মাঝে পদ্ম ফুলের শরীরে
ভালোবাসা, আর এই মন কাঁদে নিনাদ প্রহরে।
ঐ দিগন্তের পথে পথে মহাশুন্যের ঘন নীলে
আমাকে ছড়িয়ে দিয়ে রাতে, ভেসে রই একা নিখিলে।
শশী হয়ে তুমি জ্যোৎস্নার উৎসব নিয়ে আসবে,
তোমার আলোয় ভিজে এমন ভালোবাসায় ভাসবে।
নিরেট ভালোবাসা তোমাকেই দিলাম স্বপ্ন থেকে,
আলতো ছুঁয়ে যতনে বুকের কাছে দিও গো রেখে।
এই ভালোবাসাটা শ্বেত পাথরের প্রতিমা নয়,
সূর্যের মত সত্য, জীবন্ত মনের মত দুর্জয়।।

--------------------------------------------বর্ণচোরা

Sunday, August 27, 2017

এজিদের সেনা ঘুরিছে মক্কা- মসজিদে আশেপাশে।
কোথায় ইমাম? কোন সে খোৎবা পড়িবে আজিকে ঈদে?
চারিদিকে তব মুর্দার লাশ, তারি মাঝে চোখে বিঁধে
জরির পোশাকে শরীর ঢাকিয়া ধণীরা এসেছে সেথা,
এই ঈদগাহে তুমি ইমাম, তুমি কি এদেরই নেতা?
নিঙ্গাড়ি’ কোরান হাদিস ও ফেকাহ, এই মৃতদের মুখে
অমৃত কখনো দিয়াছ কি তুমি? হাত দিয়ে বল বুকে।
নামাজ পড়েছ, পড়েছ কোরান, রোজাও রেখেছ জানি,
হায় তোতাপাখি! শক্তি দিতে কি পেরেছ একটুখানি?
ফল বহিয়াছ, পাওনিক রস, হায় রে ফলের ঝুড়ি,
লক্ষ বছর ঝর্ণায় ডুবে রস পায় নাকো নুড়ি।
আল্লা- তত্ত্ব জেনেছ কি, যিনি সর্বশক্তিমান?
শক্তি পেলো না জীবনে যে জন, সে নহে মুসলমান।
ঈমান! ঈমান! বল রাতদিন, ঈমান কি এত সোজা?
ঈমানদার হইয়া কি কেহ বহে শয়তানি বোঝা?
শোনো মিথ্যুক! এই দুনিয়ায় পুর্ণ যার ঈমান,
শক্তিধর সে টলাইতে পারে ইঙ্গিতে আসমান।
আল্লাহর নাম লইয়াছ শুধু, বোঝনিক আল্লারে।
নিজে যে অন্ধ সে কি অন্যরে আলোকে লইতে পারে?
নিজে যে স্বাধীন হইলনা সে স্বাধীনতা দেবে কাকে?
মধু দেবে সে কি মানুষে, যাহার মধু নাই মৌচাকে?
কোথা সে শক্তি- সিদ্ধ ইমাম, প্রতি পদাঘাতে যার
আবে- জমজম শক্তি- উৎস বাহিরায় অনিবার?
আপনি শক্তি লভেনি যে জন, হায় সে শক্তি-হীন
হয়েছে ইমাম, তাহারি খোৎবা শুনিতেছি নিশিদিন।
দীন কাঙ্গালের ঘরে ঘরে আজ দেবে যে নব তাগিদ
কোথা সে মহা- সাধক আনিবে যে পুন ঈদ?
ছিনিয়া আনিবে আসমান থেকে ঈদের চাঁদের হাসি,
ফুরাবে না কভু যে হাসি জীবনে, কখনো হবে না বাসি।
সমাধির মাঝে গণিতেছি দিন, আসিবেন তিনি কবে?
রোজা এফতার করিব সকলে, সেই দিন ঈদ হবে।।
-কাজী নজরুল ইসলাম

Friday, August 25, 2017

আকাশ সিরিজ


শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
স্পর্শসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
তারপর হব ইতিহাস।

.............................নির্মলেন্দু গুণ
 

Monday, August 14, 2017

তুমি ভালবাসোনা?

মোবাইলের টুংটাং শব্দে ফিরে তাকালাম।অন্যমনস্ক ছিলাম আর কি।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি মিহির মেসেজ।এই রাত্রিবেলা মেয়েটি কি মেসেজ দিয়েছে ভাবতে লাগলাম।কি হতে পারে,কি হতে পারে।ওপেন করলাম।যদিও মেসেজটা কয়েকবার পরলাম তবুও ভাললাগার জন্যে আরো কয়েকবার দেখলাম।ছোট্ট করে মেসেজ লিখেছে মিহি।সারমর্ম এমন।
--একটু ছাদে আসবে?
.
মেসেজটিতে আমার অনেক ভাললাগা কাজ করছিল।আমি তাকে পছন্দ করি।এই মেয়েটি বাড়িওয়ালার মেয়ে হলেও আমাকে কেন জানি দেখতে পারতো নাহ।কিন্তু ওর ছোট বোনের সাথে আবার আমার বিশাল ভাব।যদিও ওর ছোট বোন নাইনে পড়ে তবুও ভাব খুব।আমার মনে খটকা লাগল।এই রাত্রে বেলায় ওর মেসেজ ক্যান?তাও তুমি করে সম্মোধন।
.
মিহিকে পছন্দ করি এই বিষয় নিয়ে আমি ওর ছোট বোনের সাথে কয়েকবার আলাপও করেছিলাম।বরাবরের মতই মিহির ছোট বোন নিহিন আমাকে আশ্বস্ত করেছিল যে কাজ একদিন হবেই হবে আর আমাকে অবাক করে দিবে।আমিও বেচারা বাধ্য গরুর মত হাম্বা হাম্বা করতে করতে প্রতিদিন মিহির পেছনে ঘুরতাম।
.
সাতপাঁচ না ভেবে ছাদে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি রাত্রের আবছা আলোতে একটা মেয়ে লাল ড্রেস আর প্লাজু পরে দাঁড়িয়ে আছে।এই মেয়ের প্লাজু পরা আমাকে এই মেয়ের প্রতি বেশ টানে।অসম্ভব সুন্দরী লাগে মিহিকে।আমি হাল্কা কেশে নিলাম।আমার কাশির শব্দে মিহি ঘুরে তাকালো।ওর ঠোট জোড়া কাপছে।আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম।আমাকে মিহি বলল,
--নিহিন বলল সে নাকি তোমাকে ভালবাসে।
.
আমি হাল্কা হাসি দিয়ে বললাম,
--তুমি ভালবাসোনা?
.
মিহি কি বুঝলো জানিনা।আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
--কিছু বললে?
.
আমি বরাবরের মত বাধ্য গরুর মত ঘাড় নাড়িয়ে বললাম,
--কি নাতো।কিছু বলিনি।
.
মিহি ছাদের এক কোনায় গেল।আমার সামনে দিয়েই হেটে গেল।মধ্যম শরিরের আর হালকা গড়নের এই মেয়েটি আমাকে কি করেছে আল্লাহই জানে।আমার দিকে তাকিয়ে মিহি বলল,
--আসলে নিহিন খুব ছোট।ও আবেগের বশে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছে।আমি চাইনা তুমি আর ওর সাথে মিশো।
.
আমি কি বলব ভেবে পাচ্ছি নাহ।এই সময় আমার কি বলা উচিৎ তা আমার জানা নেই।তবে নিহিন এমন করল ক্যান?পরক্ষনেই খেয়াল এল ওতো আমাকে বলেছিল আমাকে অবাক করে দিবে।তার মানে কি দাড়াচ্ছে?ভাবছি নিহিনকে সব জিজ্ঞেস করতে হবে।
.
নিহিনকে সে রাতের কথা জিজ্ঞেস করাতে সে আমাকে বলেছিল ওর আপুকে জেলাস ফিল করতেই এমন করেছিল।আমিও সুযোগ পেয়ে গেলাম।সেদিনের পর থেকে নিহিন এর সাথে আরো বেশি করে মেশা শুরু করলাম।আমি স্পষ্ট দেখতাম মিহি জ্বলতো।কিন্তু কিচ্ছু বলতো নাহ।নিহিনও হয়েছে সেমন।মিহিকে জেলাস ফিল করাতে মাঝে মাঝে আমার হাতও ধরতো।আমি স্পষ্ট দেখতাম কেও একজন দূর থেকে আমাকে খেয়াল করত আর জ্বলতো।
.
রাত্রে বেলা রুমে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম।হঠাত মিহির আগমন।ওর এমন কাজে আমাকে একটু ভাবালো।মিহি কখনো এই ভাবে আমার রুমে আসেনা।রুমে ঢুকেই মিহি দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো।যেভাবে কেও কাওকে ঠকালে বা কস্ট দিলে কারোর সামনে এসে দাঁড়ায় ঠিক তেমন।আমাকে অবাক করে দিয়ে মিহি আমার কলার চেপে ধরে আমার ঠোটে সরাসরি কিস করে দিল।আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।কি হচ্ছেটা কি?এই মেয়ের হঠাত কি হল?রুমের ওপাশ থেকে আমি স্পষ্ট নিহিনের গলা শুনতে পেলাম।বুঝলাম নিহিন সব বলে দিয়েছে।নিহিন জোর গলায় বলল,
--বিয়ের আগে এসব ভাল নাহ দুলাভাই।অপেক্ষার ফল কিন্তু মিস্টি হয়।
.
নিহিনের কথা শুনে মিহি আমাকে ছেড়ে দিল।একটা রহস্যময়ভাবে হাসি দিয়ে আমাকে বলল,
--চুমু খেতে মন চাইছে সেটা ফেসবুকে না দিয়ে আমাকে বললেই পারতে। আর যেন ফেসবুকে ওমন স্টাটাস না দেখি।
.
আমার মনে পড়ল সকালের কথা।আমার ওয়ালে স্টাটাস দিয়েছিলাম সম্ভাব্য গফের কাছ থেকে মিস্টি কিছু চাচ্ছিলাম।কিন্তু আমি ভেবে পাচ্ছি নাহ এই মেয়ে আমার ওয়াল দেখল কেমনে?তার মানে এই মেয়ে আমাকে ফলো করে?এই মেয়েতো দেখছি আমার থেকেও এডভান্সড।যাক তবুও এই ভেবে ভাল লাগছে যে মিস্টি কিছুর স্বাদ পেলাম তাহলে।আর পুচকি নিহিনকে সকালে একটা ধন্যবাদ দিতে হবে ভাবছি।

ঘর

মেয়েটা পাখি হতে চাইল
আমি বুকের বাঁদিকে আকাশ পেতে দিলাম।
দু-চার দিন ইচ্ছে মতো ওড়াওড়ি করে বলল
তার একটা গাছ চাই।
মাটিতে পা পুঁতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
এ ডাল সে ডাল ঘুরে ঘুরে
সে আমাকে শোনালো অরণ্য বিষাদ।
তারপর টানতে টানতে
একটা পাহাড়ি ঝর্ণার কাছে নিয়ে এসে বলল
তারও এমন একটা পাহাড় ছিল।
সেও কখনো পাহাড়ের জন্য নদী হোতো।
আমি ঝর্ণার দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে বললাম
নদী আর নারীর বয়ে যাওয়ায় কোনও পাপ থাকে না।
সে কিছু ফুটে থাকা ফুলের দিকে দেখিয়ে
জানতে চাইল
কি নাম ?
বললাম গোলাপ।
দুটি তরুণ তরুণীকে দেখিয়ে বলল
কি নাম ?
বললাম প্রেম।
তারপর একটা ছাউনির দিকে দেখিয়ে
জিজ্ঞেস করলো,
কি নাম ?
বললাম ঘর।
এবার সে আমাকে বলল
তুমি সকাল হতে জানো ?
আমি বুকের বাঁদিকে তাকে সূর্য দেখালাম।

____________________-রুদ্র গোস্বামী।

তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা

"তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা
মম শুন্যগগণ বিহারী
আমি আপন মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা-
তুমি আমারি, তুমি আমারি,
মম অসীমগগন বিহারী।।
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা
মম হৃদয়রররক্তরাগে তব চরণ দিয়েছি রাঙিয়া-
অয়ি সন্ধ্যাসপনবিহারী।
তব অধর একেছি সুধাবিষে মিশে মম সুখদুখ ভাঙিয়া-
মম বিজনজীবন বিহারী।।
তুমি সন্ধার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা
মম মোহের সপন-অঞ্জন তব নয়নে দিয়েছি পরায়ে,
অয়ি মুগ্ধনয়ন বিহারী।
মম সংগীত তব অঙ্গে অঙ্গে দিয়েছি জড়ায়ে জড়ায়ে-
তুমি আমারি, তুমি আমারি,
মম জীবনমরন বিহারী
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা।"

---------------------------------রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনিদ্রার শোকচিহ্ন


বুকের ভেতরে এই ঝড় তুমি জানবে না,
নিরুপায় ধ্বংসের মাঝে কেন এই
স্বেচ্ছাদহনে অনায়াসে স্বপ্নের সরল
সংসারখানা ভেঙ্গে ফেলি !
তুমি জানবে না , একখণ্ড মেঘের জন্যে কি বিশাল
মরুভুমি অভ্যন্তরে
তুমুল সাইমুমে বিশটি চৈত্রের নিচে পুড়ে যায়
অক্ষম ক্ষোভে !
এই চোখ দেখে তুমি বুঝবে না , কতোটা ভাঙনের
চিহ্ন
জীবনের কতটা পরাজয় ছুঁয়ে তার বেড়েছে বয়সের
মেধা ।
অভিমানে কণ্ঠ বুজে আসে , নিরপরাধ বাসনার
চোখে স্বচ্ছ কাঁচের মতো জমে থাকে জল ,
টলমল-
তবু ঝরেনা কখনো ...
শরীরে ঘামের ঘ্রাণে শুধু কেটে যায় বেলা ,
ক্লান্তিগুলো খুলে খুলে আগামীকে বলিঃ জননীর
অপেক্ষা নিয়ে কতোটুকু রেখেছ আমার
পৌষে নবান্নের মতো কতোটুকু সুস্থির
নিশ্চয়তা?
পরাজয় ক্ষত বুকে উবু হয়ে পড়ে থাকা রাতের
শরীরে গ্লানির ক্ষরণে এসে যায় চাঁদের করুন
অবয়ব
তবু তুমি কিছুই জানো না -
এশিয়ার রাত জানে কতোটুকু অনিদ্রার শোক
জীবনের
দুই চোখে বেড়ে ওঠে ভয়ানক কঠিন আক্রোশে 
...............................— রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ 

বৃষ্টির গান

বৃষ্টি এলো কাশবনে
জাগলো সাড়া ঘাসবনে
বকের সারি কোথায় রে
লুকিয়ে গেলো বাঁশবনে।

নদীতে নাই খেয়া যে
ডাকলো দূরে দেয়া যে
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটলো আবার কেয়া যে।
গাঁয়ের নামটি হাটখোলা
বৃষ্টি-বাদল দেয় দোলা
রাখাল ছেলে মেঘ দেখে
যায় দাঁড়িয়ে পথ ভোলা।
মেঘের আধার মন টানে
যায় সে ছুটে কোনখানে
আউস ধানের মাঠ ছেড়ে
আমন ধানের মাঠ পানে।
...............................-ফররুখ আহমদ

তোমার দূরত্ব


তোমার ভালোবাসার দূরত্বের চেয়ে এমন আর কি
দূরত্ব আছে আমার, এমন আর কি
মাইল মাইল দূরত্ব সে তো একখানি মাত্র টিকিটের ব্যবধান
তারপরই উষ্ণ অভর্থ্যনা, তোমার আঁচলে ঘাম মুছে ফেলা।
সে-কথা জানি বলেই তো তোমার ভালোবাসার দূরত্বকেই
কেবল বলি বিচ্ছেদ।
না হলে যতো দূরেই বলো যেতে পারি মাইল মাইল নীলিমা,
মাইল মাইল সমুদ্র-
তার আগে শুধু সঙ্গে নিতে চাই তোমার ভালোবাসা;
এই মূলধনটুকু পেলে আমিও বাণিজ্যে যেতে পারি
বলো তো দেশভ্রমণে বের হয়ে যেতে পারি এইমাত্র
কিন্তু তার আগে আমার ছাড়পত্রে তোমার ভালোবাসার
স্বচ্ছ সীলমোহর আঁকা থাকা চাই-
বিদেশ মানেই তো আর দূরত্ নয়, দূরত্ব তোমার ভালোবাসার
কয়েক হাত ব্যবধান,
তোমার ভালোবাসা থেকে দুই পা সরে দাঁড়ানো
তার চেয়ে কোনো দূরত্ব আমার জানা নেই,
আমার জানা নেই।
আমি যাকে দূরত্ব বলি তা একই কার্নিশের নিচে দাঁড়ানো
বিচ্ছেদ
কিংবা একই কার্পেটের উপর দাঁড়ানো তীব্র শীত
আমাদের মাঝে প্রবাহিত এই হিমবাহকেই আমি বলি
বিদেশ, আমি বলি দূরত্ব।
না হলে সব দূরত্বই তো তোমার চোখের পলকমাত্র
তুমি ফিরে তাকাতেই আমি দেখতে পাবো ঢাকা এয়ারপোর্টে
চক্কর দিচ্ছে আমার বিমান
হ্যালো বাংলাদেশ! আমার চিরসবুজ বাংলাদেশ!

 .........................................- মহাদেব সাহা 

সবিতা

সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছি
মনে হয় কোনো এক বসন্তের রাতে:
ভূমধ্যসাগর ঘিরে সেই সব জাতি,
তাহাদের সাথে
সিন্ধুর আঁধার পথে করেছি গুঞ্জন;
মনে পড়ে নিবিড় মেরুন আলো, মুক্তার শিকারী,
রেশম, মদের সার্থবাহ,
দুধের মতন শাদা নারী।
অন্তত রৌদ্রের থেকে তারা
শাশ্বত রাত্রির দিকে তবে
সহসা বিকেলবেলা শেষ হয়ে গেলে
চলে যেত কেমন নীরবে।
চারি দিকে ছায়া ঘুম সপ্তর্ষি নক্ষত্র;
মধ্যযুগের অবসান
স্থির করে দিতে গিয়ে ইউরোপ গ্রীস
হতেছে উজ্জ্বল খৃষ্টান।
তবুও অতীত থেকে উঠে এসে তুমি আমি ওরা–
সিন্ধুর রাত্রির জল জানে–
আধেক যেতাম নব পৃথিবীর দিকে;
কেমন অনন্যোপায় হাওয়ার আহ্বানে
আমরা অকূল হয়ে উঠে
মানুষকে মানুষের প্রয়াসকে শ্রদ্ধা করা হবে
জেনে তবু পৃথিবীর মৃত সভ্যতায়
যেতাম তো সাগরের স্নিগ্ধ কলরবে।
এখন অপর আলো পৃথিবীতে জ্বলে;
কী এক অপব্যয়ী অক্লান্ত আগুন!
তোমার নিবিড় কালো চুলের ভিতরে
কবেকার সমুদ্রের নুন;
তোমার মুখের রেখা আজো
মৃত কত পৌত্তলিক খৃষ্টান সিন্ধুর
অন্ধকার থেকে এসে নব সূর্যে জাগার মতন;
কত আছে — তবু কত দূরে।

.....................................- জীবনানন্দ দাশ

শ্রাবণের মেঘ

শ্রাবণের মেঘ গুলো জড়ো হলো আকাশে
অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণী ধারা এই
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে
কবিতার বই সবে খুলেছি
হিমেল হাওয়ায় মন ভিজেছে
জানালার পাশে চাঁপা মাধবী
বাগান বিলাসী হেনা দুলেছে
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে
মেঘেদের যুদ্ধ শুনেছি
সিক্ত আকাশ কেঁদে চলেছে
থেমেছে হাঁসের জলকেলি
পথিকের পায়ে হাঁটা থেমেছে
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে
..................

Sunday, August 13, 2017

জলের কন্যা


জলের উপরে চলেছে জলের মেয়ে,
ভাঙিয়া টুটিয়া আছড়িয়া পড়ে ঢেউগুলি তটে যেয়ে।
জলের রঙের শাড়ীতে তাহার জড়ায়ে জড়ায়ে ঘুরি,
মাতাল বাতাস অঙ্গের ঘ্রাণ ফিরিছে করিয়া চুরি।
কাজলে মেখেছে নতুন চরের সবুজ ধানের কায়া,
নয়নে ভরেছে ফটিকজলের গহন গভীর মায়া।
তাহার উপর ছায়া-চুরি খেলা করিতে তটের বন,
সুবাস ফুলের গন্ধ ছড়ায়ে হাসিতেছে সারাখন।
জলের কন্যা চলেছে জলের রথে,
খুশীতে ফুটিয়া শাপলা-পদ্ম হাসিতেছে পথে পথে।
আগে আগে চলে কলজলধারা ভাসায়ে পানার তরী,
চরণে তাহার আলতা পরাতে হিজল পড়িছে ঝরি।
ডাহুক ডাহুকী ডাকে বন-পথে নতুন পানির সুরে,
কোঁড়া আজ তার কুঁড়ীরে খুঁজিছে ঘন পাট-ক্ষেতে দূরে;
পুরাতন জালে তালি দিতে দিতে ঢলিয়া জেলের গায়,
জেলে বোর মন মিহিসুরী গানে উজানীর বাঁকে ধায়।
পল্লীবধূরা উদাস নয়নে চেয়ে থাকে তটপানে,
বাপের বাড়ির মমতায় আজ পরাণ কেন যে টানে।
বাঙড়ের খালে সিনান করিতে কলসী ধরিয়া টানি,
মায়েরে কহিছে মেয়ের কথাটি নয়া-জোয়ারের পানি!
হোগরার ছই নতুন বাঁধিয়া গাব-জলে মাজা নায়,
বাপ চলিয়াছে মেয়েরে আনিতে সুদূরের ভিন গাঁয়।
বৈঠার ঘায়ে গলা জলে-ডোবা নাচিছে আমন ধান,
কলমির লতা জড়াইয়া তারে ফুলহাসি করে দান!
ঢ্যাপের মোয়ার চিত্রিত হাঁড়ি আবার ভরিয়া যায়,
পিঠায় আঁকিয়া নতুন নকশা রাত ভোর করে মায়।
জলের কন্যা চলেছে জলের পরে,
মাছেরা চলছে দলে দলে আজ পথটি তাহার ধরে।
রুহিত লাফায়, চিতল ফালায়, ভাটা মাছ সারি সারি,
সাথে সাথে যায় আগে পিছে ধায় খুশী যেন ওরা তারি।
শোল মাছ তার শিশুপোনাগুলি ছড়ায়ে লেজের ঘায়,
টুবটুব করে আদরিয়া পুন জড়াইছে বুক-ছায়;
নকসী কাঁথাটি মেলিয়া ধরিয়া গুমরে চাষার নারী,
সযতনে যেন গুটায়ে ধরিছে বুকের নিকটে তারি।
জলঘাসগুলি ঈষৎ কাঁপিছে তাদের চলার দোলে,
মৃদুল বাতাসে ঝুমিতেছে বন জলের দুনিয়া কোলে।
জলের কন্যা যায়,
নতুন পানির লিখন বহিয়া বন্ধ বিলের ছায়।
তটের বক্ষে আছাড়িয়া মাথা ক্ষতবিক্ষত করি,
বন্দী-মাছেরা কাটাইত দিন জীয়নে- যেন মরি।
অঙ্গ ভরিয়া শ্যাওলা জড়ান নির্জীব ঘুম-দোলে,
রোগ-পান্ডুর অসাড় দেহ যে পড়িতে চাহিছে ঢলে।
আজিকে নতুন জল-কল্লোল শুনিতে পেয়েছে তারা,
সহসা অঙ্গে হিল্লোলি ওঠে উধাও গতির ধারা!
কে যেন ঘোষিছে তাহাদের কানে সহস্র দিক হতে,
ভাঙ্ ভাঙ্ কারা ভাঙ্ ভাঙ্ পাড় উদ্দাম জলস্রোতে।
জলের কন্যা জল-পথ দিয়ে যায়,
বকের ছানারা পাখার আড়াল রচিছে তাহার গায়।
দুইধারে ঘন কেয়ার কুঞ্জ ছড়ায় সুবাস-রেণু
মাতাল বাতাস রহিয়া রহিয়া চুমিছে বনের বেনু।
তটে তটে কাঁদে শূন্য কলসী, কুটীরের দীপ ডাকে,
আঙিনার বেলী মাটিতে লুটায়, কে কুড়ায়ে লবে তাকে?

.......................................... জসীম উদ্দীন  

এবার হয়েছে সন্ধ্যা


এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর
পাহাড়ের কোলে
আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে
তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি
অন্যায় হবে না – নাও ছুটি
বিদেশেই চলো
যে কথা বলনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।
শ্রাবনের মেঘ কি মন্থর!
তোমার সর্বাঙ্গ জুড়ে জ্বর
ছলোছলো
যে কথা বলনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।
এবার হয়েছে সন্ধ্যা, দিনের ব্যস্ততা গেছে চুকে
নির্বাক মাথাটি পাতি, এলায়ে পড়িব তব বুকে
কিশলয়, সবুজ পারুল
পৃথিবীতে ঘটনার ভুল
চিরদিন হবে
এবার সন্ধ্যায় তাকে শুদ্ধ করে নেওয়া কি সম্ভবে?
তুমি ভালোবেসেছিলে সব
বিরহে বিখ্যাত অনুভব
তিলপরিমাণ
স্মৃতির গুঞ্জন – নাকি গান
আমার সর্বাঙ্গ করে ভর?
সারাদিন ভেঙ্গেছো পাথর
পাহাড়ের কোলে
আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে
তবু নও ব্যথায় রাতুল
আমার সর্বাংশে হলো ভুল
একে একে শ্রান্তিতে পড়েছি নুয়ে। সকলে বিদ্রূপভরে দ্যাখে।


........................... শক্তি চট্টোপাধ্যায়  

আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে

.....................................রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।
ঢেকে রাখে যেমন কুসুম,
পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম
তেমনি তোমার নিবিড় চলা
মরমের মূল পথ ধরে।
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,
খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ
তেমনি তোমার গভীর ছোঁয়া
ভিতরের নীল বন্দরে।
ভালো আছি, ভালো থেকো,
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো
দিও তোমার মালাখানি,
বাউলের এই মনটা রে।
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে ।