Monday, August 14, 2017

তুমি ভালবাসোনা?

মোবাইলের টুংটাং শব্দে ফিরে তাকালাম।অন্যমনস্ক ছিলাম আর কি।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি মিহির মেসেজ।এই রাত্রিবেলা মেয়েটি কি মেসেজ দিয়েছে ভাবতে লাগলাম।কি হতে পারে,কি হতে পারে।ওপেন করলাম।যদিও মেসেজটা কয়েকবার পরলাম তবুও ভাললাগার জন্যে আরো কয়েকবার দেখলাম।ছোট্ট করে মেসেজ লিখেছে মিহি।সারমর্ম এমন।
--একটু ছাদে আসবে?
.
মেসেজটিতে আমার অনেক ভাললাগা কাজ করছিল।আমি তাকে পছন্দ করি।এই মেয়েটি বাড়িওয়ালার মেয়ে হলেও আমাকে কেন জানি দেখতে পারতো নাহ।কিন্তু ওর ছোট বোনের সাথে আবার আমার বিশাল ভাব।যদিও ওর ছোট বোন নাইনে পড়ে তবুও ভাব খুব।আমার মনে খটকা লাগল।এই রাত্রে বেলায় ওর মেসেজ ক্যান?তাও তুমি করে সম্মোধন।
.
মিহিকে পছন্দ করি এই বিষয় নিয়ে আমি ওর ছোট বোনের সাথে কয়েকবার আলাপও করেছিলাম।বরাবরের মতই মিহির ছোট বোন নিহিন আমাকে আশ্বস্ত করেছিল যে কাজ একদিন হবেই হবে আর আমাকে অবাক করে দিবে।আমিও বেচারা বাধ্য গরুর মত হাম্বা হাম্বা করতে করতে প্রতিদিন মিহির পেছনে ঘুরতাম।
.
সাতপাঁচ না ভেবে ছাদে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি রাত্রের আবছা আলোতে একটা মেয়ে লাল ড্রেস আর প্লাজু পরে দাঁড়িয়ে আছে।এই মেয়ের প্লাজু পরা আমাকে এই মেয়ের প্রতি বেশ টানে।অসম্ভব সুন্দরী লাগে মিহিকে।আমি হাল্কা কেশে নিলাম।আমার কাশির শব্দে মিহি ঘুরে তাকালো।ওর ঠোট জোড়া কাপছে।আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম।আমাকে মিহি বলল,
--নিহিন বলল সে নাকি তোমাকে ভালবাসে।
.
আমি হাল্কা হাসি দিয়ে বললাম,
--তুমি ভালবাসোনা?
.
মিহি কি বুঝলো জানিনা।আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
--কিছু বললে?
.
আমি বরাবরের মত বাধ্য গরুর মত ঘাড় নাড়িয়ে বললাম,
--কি নাতো।কিছু বলিনি।
.
মিহি ছাদের এক কোনায় গেল।আমার সামনে দিয়েই হেটে গেল।মধ্যম শরিরের আর হালকা গড়নের এই মেয়েটি আমাকে কি করেছে আল্লাহই জানে।আমার দিকে তাকিয়ে মিহি বলল,
--আসলে নিহিন খুব ছোট।ও আবেগের বশে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছে।আমি চাইনা তুমি আর ওর সাথে মিশো।
.
আমি কি বলব ভেবে পাচ্ছি নাহ।এই সময় আমার কি বলা উচিৎ তা আমার জানা নেই।তবে নিহিন এমন করল ক্যান?পরক্ষনেই খেয়াল এল ওতো আমাকে বলেছিল আমাকে অবাক করে দিবে।তার মানে কি দাড়াচ্ছে?ভাবছি নিহিনকে সব জিজ্ঞেস করতে হবে।
.
নিহিনকে সে রাতের কথা জিজ্ঞেস করাতে সে আমাকে বলেছিল ওর আপুকে জেলাস ফিল করতেই এমন করেছিল।আমিও সুযোগ পেয়ে গেলাম।সেদিনের পর থেকে নিহিন এর সাথে আরো বেশি করে মেশা শুরু করলাম।আমি স্পষ্ট দেখতাম মিহি জ্বলতো।কিন্তু কিচ্ছু বলতো নাহ।নিহিনও হয়েছে সেমন।মিহিকে জেলাস ফিল করাতে মাঝে মাঝে আমার হাতও ধরতো।আমি স্পষ্ট দেখতাম কেও একজন দূর থেকে আমাকে খেয়াল করত আর জ্বলতো।
.
রাত্রে বেলা রুমে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম।হঠাত মিহির আগমন।ওর এমন কাজে আমাকে একটু ভাবালো।মিহি কখনো এই ভাবে আমার রুমে আসেনা।রুমে ঢুকেই মিহি দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো।যেভাবে কেও কাওকে ঠকালে বা কস্ট দিলে কারোর সামনে এসে দাঁড়ায় ঠিক তেমন।আমাকে অবাক করে দিয়ে মিহি আমার কলার চেপে ধরে আমার ঠোটে সরাসরি কিস করে দিল।আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।কি হচ্ছেটা কি?এই মেয়ের হঠাত কি হল?রুমের ওপাশ থেকে আমি স্পষ্ট নিহিনের গলা শুনতে পেলাম।বুঝলাম নিহিন সব বলে দিয়েছে।নিহিন জোর গলায় বলল,
--বিয়ের আগে এসব ভাল নাহ দুলাভাই।অপেক্ষার ফল কিন্তু মিস্টি হয়।
.
নিহিনের কথা শুনে মিহি আমাকে ছেড়ে দিল।একটা রহস্যময়ভাবে হাসি দিয়ে আমাকে বলল,
--চুমু খেতে মন চাইছে সেটা ফেসবুকে না দিয়ে আমাকে বললেই পারতে। আর যেন ফেসবুকে ওমন স্টাটাস না দেখি।
.
আমার মনে পড়ল সকালের কথা।আমার ওয়ালে স্টাটাস দিয়েছিলাম সম্ভাব্য গফের কাছ থেকে মিস্টি কিছু চাচ্ছিলাম।কিন্তু আমি ভেবে পাচ্ছি নাহ এই মেয়ে আমার ওয়াল দেখল কেমনে?তার মানে এই মেয়ে আমাকে ফলো করে?এই মেয়েতো দেখছি আমার থেকেও এডভান্সড।যাক তবুও এই ভেবে ভাল লাগছে যে মিস্টি কিছুর স্বাদ পেলাম তাহলে।আর পুচকি নিহিনকে সকালে একটা ধন্যবাদ দিতে হবে ভাবছি।

0 comments:

Post a Comment