Friday, April 13, 2018

কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?

‘অদ্ভুত মানুষগুলো ‘
লেখা : ফারজানা সাথী
আমরা কিছু কিছু মানুষগুলো
ভীষন অদ্ভুত খুবই বোকা চরিত্রের_
যাদের জন্য
সুখের আয়োজন করি
যাদের অপেক্ষায় থেকে কষ্ট পেতে থাকি
যাদের মুক্তি দিয়ে নিজে ভাল থাকার চেষ্টা করি
যাদের মায়ায় বছরের পর বছর হৃদয়ে নতুন স্বপ্ন বুনি
যাদের জন্য নিজেকে বদলে ফেলি
যাদের জন্য হাসির অভিনয় করি
তারাই একটা সময় স্ট্রেটকাট বুঝিয়ে দেয়
‘এসবের কোন দরকার ছিল না’ ।
সত্যিই তো দরকার ছিল না_
তাহলে কাদের জন্য এতকিছুর আয়োজন করি?
কেনই বা কারো সুখের জন্য নিজের সুখটাকে বিসর্জন দেই?
কেন কারো মুক্তির প্রয়োজনে মুক্তি দিয়ে বেঁচে থাকার কষ্টকে হাসিমুখে গ্রহন করি? কেন আমরা অন্যের অপেক্ষায় নিজেকে লন্ডবন্ড করে দেই? কেন কারো অগোছালো জীবনকে যত্ন করে গুছিয়ে দেই?
দরকার ছিল না এতসব ভাবার_
এত এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আর কোন প্রমানের দরকার নেই ‘আমি মানুষ অন্য সবার মত স্বার্থপর নই’
আমরা কিছু মানুষ সত্যি ভয়ানক বোকা_
দিন শেষে বুঝি
‘যাদের জন্য করি চুরি সেই বলে চোর’
যাদের জন্য কেঁদে মরি সেই বলে
‘দরকার ছিল না কাঁদার’
আসলেও সত্যি কথা_
কি দরকারই ছিল অন্যের জন্য অতশত ভাবার ?
আমরা আমাদের জন্য কিছুই তো ভাবিনি
দিন মাস বছর সময়গুলো ফুঁড়িয়ে গেল চোখেরই সামনে..
কিছুই তো নিজের সুখের জন্য গড়তে পারিনি।
সবটাই যেনো ব্যর্থতার গড়াগড়ি
সবটাই ছিল অন্যের সুখের জন্য
সবটাই ছিল ত্যাগে ত্যাগে ভরা ….
আজ যারা মানুষের সেবায় মানুষের কষ্টে কাঁদছে তারাই একটাসময় জীবনের শেষ অধ্যায়ে কিছু মানুষেরই দ্বারা
জানতে পারে
বুঝতে পারে
শুনতে পারে
‘এসবের দরকার ছিল না ‘
দরকার ছিল শুধু নিজের চিন্তা আগে করা,নিজেকে ভালো রাখা, নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আরামে আয়েশে জীবনকে উপভোগ করা।
তাই পরিশেষে আমি অধম মানুষটা সবাইকে বলবো_
দরকার নেই কারো কষ্টে নিজেকে কষ্টে রাখার। স্বার্থউদ্ধারের পর কোন মানুষের কাছে মানুষেরই মূল্য থাকে না।
আজ আপনি যাদের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন তারা মোটেও কষ্ট পাচ্ছে না। তারা হাসছে, উপহাস ছুড়ে ফেলছে আপনার সরলতার উপর, আপনার পরিষ্কার চরিত্রকে নোংরা কলংক দিতে তারা হৈচৈ করছে।
তারা সর্বোচ্চ নিঁচু করতে আপনাকে কথার আঘাত দিবে, আপনার সু্স্থ মানসিকতার উপর অসুস্থ মানসিকতার সাইনবোর্ড টানাবে।
আপনি পাগল
মানসিক রোগী বলতেই থাকবে
এমনকি তারা এইটুকু উপলুব্ধী করতে পারবে না
‘আপনি কষ্টে আছেন তাদের কারনে,তাদের আচার আচরনে।
তারা কখনো আবার আপনাকে
তাদের মতই ভাবতে শিখে যায়_
যেমন :
‘আপনি ভাল আছেন কারো না কারো সাথে’
‘কারো শয্যাসঙ্গী কারো বা বন্ধুসঙ্গী হয়ে’
সব নেগেটিভ কথাবার্তা তাদের মগজে বাসা বাঁধতে থাকে।
সেজন্যই, ,
ব্যথার আদান প্রদান, কথার লেনদেন
হৃদয় বেচা কেনা বন্ধ করে দিন …
জীবনকে নিজের মত করে সাজিয়ে নিন
যেভাবে সাজালে নিজেকে আগের চেয়ে বেশি
আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে হবে।

1 comment: