"ইফতি আপনি আর কখনো বাবা হতে পারবেন না। প্রবলেম আপনার স্ত্রীর না। আপনার কারনেই আপনি বাবা হতে পারছেন না।"
ডাক্তারের কথা শুনে আমার মাথা চক্কর দিচ্ছে। আমি কিছু বলতে চাচ্ছি।
জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছু। কিন্তু আমার জিহ্বা কাঁপছে। আমি ভাবছি আমি স্বপ্ন
দেখছি। খুব ভয়াবহ কোন স্বপ্ন।
-কিন্তু এর আগেও আমার স্ত্রী কন্সিভ করেছিলো।
-কতদিন আগে?
- ৪ বছর আগে।
-দেখুন আপনার রিপোর্ট আমি এক্সামিন করেছি। আপনি একসময় খুব নেশা করতেন এবং
এর ফল স্বরূপ আপনার কিছু হরমোনাল সমস্যা হয়েছে। যার কারনে বাবা হওয়ার
ক্ষমতা টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আপনি চিকিৎসা করে দেখতে পারেন তবে খুব একটা কাজ
হবে বলে মনে হচ্ছে না। সরি।
সব ফাইলপত্র নিয়ে বের হয়ে গেলাম। বাসায়
গিয়ে আমি কিভাবে এই কথা বলব? ইসসসসস এতদিন আমি ভেবেছি আমারর স্ত্রী ইশিতার
সমস্যার কারনে বাচ্চা হচ্ছে না। সারাদিন মা তাকে এটা সেটা বলে। সারাদিন
ইশিতা আমার উপর এই নিয়ে ঝগড়া করে ..কাল পর্যন্ত ইশিতা বলছে যদি তার কোন
সমস্যা হয় তাহলে সে চলে যাবে সংসার ছেড়ে তবে যদি সমস্যা টা আমার হয়ে থাকে
তাহলে ইফতির মায়ের প্রতিদিনের তিক্ততার জন্য কেস করে দিবে। ইশিতা একপ্রকার
জোর করে আমাকে সব টেস্ট করিয়েছে। আমি কি বলবো বাসায় গিয়ে? ইশিতার অনেক জীদ।
ও এই কথা শুনলে কি যে করবে আমি আন্দাজ করতে পারছি। কি করবো কি করবো ভাবতে
ভাবতেই গাড়ি বাসার গেটে চলে আসলো। ঘরে ঢুকতেই মা গেট খুললেন -
- কিরে রিপোর্ট আনসিস? কি বলসে ডাক্তার?
-হুম? ও না আজ রিপোর্ট আনতে যেতে পারি নাই।
-ইস আনিস নাই কেন? আরো একদিন এই অলক্ষীটা কে আমার সহ্য করতে হবে .. অসহ্য যন্ত্রনা।
আমি ইশিতার রুমে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। খুব খুব ভয় লাগসে। ওকে ও মিথ্যা বলব কিন্তু কতক্ষন?
সত্য সামনে আসবে। তখন কি করবো?
কোন রকমে মায়ের কথার কোন রকম উত্তর না দিয়ে রুমে চলে গেলাম। গতকাল পর্যন্ত
আমিও মায়ের সাথে তালে তাল মিলাইছি। কিন্তু আজ সাহসে কুলাচ্ছে না। আমি খুব
নরমাল থাকার ভান ধরসি কিন্তু পারছি না।
রুমে ঢুকেই দেখলাম ইশিতা টিভি দেখসে।
-কখন আসলা?রিপোর্ট কই? ডাক্তার কি বলসে?
-ইশিতা আমার শরীর টা ভীষণ খারাপ লাগসিলো তাই আজ যাই নাই রিপোর্ট তুলতে। কাল যাবো।
- কি হইসে শরীরে? জ্বর নাকি?
-না ঠিক আছি। তুমি রাতে খাইসো? না খাইলে খেয়ে নেও।
-আচ্ছা কিন্তু ……
-লাইট অফ করে যেও। আমি ফ্রেশ হয়ে একটু শুই..
-আচ্ছা ঠিকাছে।
আমার কথা গুলা শুনে ইশিতা একটু অবাক বোধ করছে। এভাবে তাকে এত নরম ভাবে আমি
কখনো কথা বলি না। অভ্যাস নাই। বলতে গেলে আমার বংশের কারোরই নাই। বৌ এর
সাথে নরম গলায় কথা বলাকে অনেকে কাপুরুষতার লক্ষণ মনে করেন। আচ্ছা আমি
বাচ্চার বাপ হতে পারবো না। আনি কি তাহলে কাপুরুষ? আমি কি আজ এজন্য এত নরম
ব্যাবহার করসি?
শাওয়ার নিচ্ছিলাম আর ভাবসিলাম। বাথরুমের দরজা বন্ধ থাকা স্বত্তেও শুনতে পারছি মা ইশিতাকে গালি গালাজ করছেন।
"এই অলক্ষী খাইতে খাইতে তো দুনিয়া খায়া ফেলতেসোস। আর কত খাবি? লজ্জা থাকলে
রিপোর্ট এর অপেক্ষায় থাকতি না। তার আগেই বের হয়ে যাইতি। ফকিন্নির বাচ্চা।"
কথা গুলা আজ আমার কানে না। বুকে বিধছিলো। আমার কষ্ট হচ্ছিলো।
ইশিতা মায়ের কথায় প্রতিবাদ করে। সে এমনে শান্ত ভালো কিন্তু খারাপ ইলোজিকাল
কথা বার্তায় সে সবসময় প্রতিবাদ করে। আচ্ছা ও কি আসলেই আমাদের নামে মামলা
করে দিবে?
আমি শাওয়ার শেষে ঘুমাতে গেলাম। ক্ষুধা তৃষ্ণা কিছুই লাগছে না। ইশিতা পাশে এসে শুয়ে জিজ্ঞেস করলো ঘুমিয়ে গিয়েছি কি না?
কোন উত্তরই দিলাম না... ও ভেবে নিলো আমি ঘুমিয়ে পড়ছি।
জানিনা কেন যেন ঘুম আসছে না। খুব সতর্কতার সাথে চেক করলাম ইশিতা ঘুমিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার ঘুম আসছে না। কোন ভাবেই না।
একটু পর লক্ষ্য করলাম আমার চোখের পানি বালিশের কভারে লাগছে। আমি কাঁদছি।
আমার আসলে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। আমি তনুর মত বুক ফাটিয়ে কাঁদতে পারতাম আজ। আহ তনু তুমি কতই না কেঁদেছিলে ঐ দিন।
"তনু" আমার প্রথমা স্ত্রী। ইশিতার আগে আমার তার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। একটা
পরী ছিলো। কথা কাজ চেহারা সব দিক দিয়ে সে গুণী ছিলো। পালিয়ে বিয়ে করসিলাম
দুইজন। মা মেনে নেন নি তনু কে। অনেক হাউ কাউ এর পর মা তনুকে ঘরে তুললেন।
আমরা অনেক বড়লোক। গাড়ি বাড়ী কি নাই? তো আমাকে কাজ করতে কেন হবে এই একটা
শয়তানি চিন্তা আমার মা আমাকে ছোট থেকেই ঢুকিয়ে দিসিলেন। আমি কাজ করতাম না।
যা চাইতাম পাইতাম। তনু কে ঘরে তুলার পর যেই তনুর জন্য আমি এত পাগল ছিলাম
আস্তে আস্তে ঐ ইন্টারেস্ট টা কমতে লাগলো। মনে হচ্ছিলো সংসার শুধু দায়িত্বের
পাহাড়। ও আমাকে কাজ করতে যেতে বলতো। আমার ভাল্লাগতো না। আমি যেভাবে সোনার
চামচে দুধ খেয়ে বড় হয়েছি ঐ মানুষ আমি নাকি ৯-৫ টা আমার অফিসে গিয়ে বসে সবার
কাজ দেখতে হবে,বয়স টা ই বা কত ছিলো?
২৫/২৬.. হুজুগের মাথায় বিয়ে
করসিলাম। কিন্তু বিয়ের পর আর ভালো লাগছিলো না। তনুর সাথে আমার মা প্রতিনিয়ত
বাজে ব্যবহার করতেন। ঘরের সব কাজ করাতেন। সারাদিন বাবা মা তুলে কি সব যে
বলতেন। ও কখনো উওর দিতো না। রাতে বিছানা যখন ওর ফুঁপানো কান্নায় কেঁপে উঠতো
তখন আমি বিরক্ত হতাম। ইস কত অনুভূতি হীন হয়ে পরসিলাম। সকাল সন্ধ্যা বন্ধু
বান্ধব আড্ডা নিয়ে যখন ব্যস্ত ছিলাম তখন তনু নামক জীবিত লাশ টা সারাদিন
কান্না করত।
একদিন রাতে ঘুমানোর সময় তনু আমাকে ডেকে বলল---
-ইফতি.. দুই মাস ধরে পিরিয়ড বন্ধ। আমি মনে হয় কন্সিভ করেছি।
আমার মাথা সাথে সাথে খারাপ হয়ে গেলো। বলে কি! আমি বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে চিন্তায় পালায়া বেড়াই। বাচ্চা কেমনে নিবো..
-এটা কেমন কথা?তুমি পিল খাও না সময় মত?
-খাই কিন্তু অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। মনে হচ্ছে we are going to be parents.. (তনুর চোখে মুখে হাসি ছিলো)
তনুর চোখের আনন্দ আমার বিরক্ত লাগছিলো।
-দেখো তনু আমাদের বিয়ে হইসে মাত্র ৫ মাস। এত তারাতারি বেবি নিবো না আমি ..
- আল্লাহ বুঝে শুনেই হয়ত দিচ্ছেন বাচ্চাটা। এভাবে বইলো না ইফতি। প্লিজ কাল
ডাক্তারের কাছে যাই চলো। প্লিজ , আমি তো কখনো তোমার কাছে কিছু চাই নাই।
এটাই আমার চাওয়া। প্লিজ মানা কইরো না।
-আচ্ছা ঠিকাছে।
সকালে
মেডিকেলের টেস্ট অনুযায়ী জানা গেলো তনু মা হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাবা হওয়ার
বিন্দু পরিমান আনন্দ আমার নাই। আমার মিনে হচ্ছিলো আমি ফেঁসে যাচ্ছি। দারুন
ভাবে ফেঁসে যাচ্ছি। আমাকে ছুটতে হবে.. কোন রকমে তনু কে তার বাসায় রেখে
আসলাম। আমি ফিরে গেলাম আমার বাসায়। মা কে গিয়ে বললাম। আমার মা আমাকে বললেন -
-শুব এই ফকিন্নির জাত রে বিয়ে কইরা এমনেই অনেক বড় ভুল করসোস। আবার বাচ্চাও
নিতে চাস?মাথা ঠিক আছে? এই মাইয়া বাচ্চা হওয়াইলে তোরে কুত্তার মত নাচাবে।
-কেমনে ?আমাকে নাচাবে কেন?
-আরে ও তোরে বাচ্চার দোহাই দিয়া দিয়া বারবার ঘরে আটকায়া রাখবে। কারো সাথে
মিশতে দিবে না। তুই চিনোস এই ফকিন্নিরে? ও তোরে ঘরমুখো করার জন্য ইচ্ছা
কইরা এই টা প্ল্যান করছে।
মায়ের কথা আমার কাছে অতি মাত্রায় লজিকাল মনে হইসে। আসলেও তো আমাকে আটকায়া দিবে তনু। ওর প্লান সাকসেস করা যাবে না।
আমি সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলাম তনুর বাসার উদ্দেশ্যে। বাসায় গিয়ে ওকে বললাম -
-তনু আমি এখন বাচ্চা চাই না। এখনো বাচ্চার রেসপন্সিবিলেটি নেওয়ার সময় আমার হয়
নাই।
-মানে?
-মানে সহজ। বাচ্চাটা এবর্ট করতে হবে..এইটাই ফাইনাল।
তনু আমার পা জড়ায়া ধরলো।
-ইফতি এমনে বইলো না প্লিজ। আমাদের বৈধ সন্তান আমরা ওকে পৃথিবী তে আনবো না?
-না পারি না। এটা সঠিক সময় না।
-আল্লাহর দোহাই প্লিজ আমি তোমার কাছে কখনোই কিছু চাই না।আমার বাচ্চাটা কে প্লিজ বাঁচতে সাহায্য করো।
তনু আমার পা ধরে হাউ মাউ করে কাঁদিছিলো। আমি কতটা অনুভূতিহীন ছিলাম যে আমি
তাকে এতটুকুও বুঝতে পারছিলাম না। বরং ওকে অপশন দিলাম। বাচ্চা রাখলে আমি
তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো। তনুর মা পর্যন্ত আমাকে খুব রিকোয়েস্ট করলো।
"বাবা এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ো না। এতে অনেক পাপ। তোমাদের প্রথম বাচ্চা।এমন কইরো না।"
আর আমি উত্তর দিয়েছিলাম -" মেয়ের সংসার চান নাকি ডিভোর্সি মেয়ে সহ বাচ্চা
চান?আমার মা বলছে যেই বাচ্চার এখন হাত পা জন্মায় নাই তাকে মারলে কোন গুনাহ
হয় না"
তনু সেদিন খুব কেঁদেছিলো। খুব বেশি। ওর সাথে সেদিন ভরা গ্রীষ্ম
এর দুপুরে আকাশ ও কেঁদেছিল ..আমাকে তনু কান্না দিয়ে রাজি করাতে পারে নি।
অনেক ধমকানো অনেক ভয় দেখানোর পর তনু কে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম এবরশন করতে।
সেখানেও তনু বারবার কান্না করসিলো। মানুষের সামনে আমার হাত পা জড়িয়ে অনুরোধ
করছিলো -"প্লিজ ইফতি বাবুটা রেখে দেই প্লিজ জান আমি তোমার কাছে আর কখনো
কিচ্ছু চাইবো না জান।"
ওর কান্না দেখে আসে পাশের মানুষ কাঁদছে। কিন্তু আমার হৃদয় স্পর্শ করে নাই..
এবরশনের আগ মুহুর্তে ডাক্তার আমাকে ডেকে বললেন--
- ইফতি আরেকবার ভেবে দেখেন। প্রথম বাচ্চা এবরশন করলে অনেক সময় টিউব অফ হয়ে
যায়। এতে মেয়েদের অনেক সমস্যা হয়। এমনও অনেক কেস দেখেছি যেটাতে মেয়ে টা আর
কখনো মা হতে পারে না। আপনি বাবা হতে পারলেও সে কিন্তু মা হওয়া থেকে বঞ্চিত
হতে পারেন।
-পরের টা পরে দেখা যাবে।
-ঠিকাছে যেহেতু u guys decided to abort ur child তাহলে আমি আর কি বলতে পারি.আমার দায়িত্ব ছিলো আপনাদের বুঝানো তাই বুঝালাম।
ওটি তে ঢুকানোর সময় তনুর সেই অসহায় চোখের দৃশ্য আমাকে আজও প্রায় রাতে
দুঃস্বপ্নের মত জ্বালায়। ওর চোখ যেনো বলসিলো " ইফতি আমাকে আটকাও,আমার ভয়
লাগসে। প্লিজ আমার বাচ্চাটাকে মেরো না।"
এবরশন শেষে তনু সম্পূর্ণ
রাস্তায় কোন আওয়াজ করলো না। তনুকে ওর বাসাতেই রেখে আসলাম। আমি ঘর থেকে বের
হওয়ার পর একটা চিৎকার শুনেছিলাম। এক মাকে জোর করে তার বাচ্চা কে মেরে ফেলার
ঐ কষ্টের চিৎকার্। "ও আল্লাহ এমন কেন হইলো আমার সাথে"
আমার মা বেশ হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন সেদিন।
আমার শরীরের লোম দাড়িয়ে গিয়েছে।
এরপর তনু মানসিক দিক থেকে খুব ডিপ্রেশন এ পড়ে গেলো। কেমন যেনো পাগলা পাগলা
বিহেভ করতো। আর আমি এই সুযোগে বন্ধু এলাকার ছোট ভাই দের সাথে নেশার জগতে
আস্তে আস্তে অনেক গভীরে চলে গেলাম। এরপর থেকে আমার মুখ কম হাতটাই বেশি চলত
তনুর গায়ে। যেই তনু কে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে বাচ্চাটাকে মেরেসিলাম সেই তনুকে
আমি ডিভোর্স লেটার দিয়ে দিলাম..মিথ্যা অযুহাতে।
সেদিনও সে কেঁদেছিলো। আমার মত মেরুদণ্ডহীন একটা প্রানীর সাথে সে কুকুরের মত লাত্থি উস্টা খেয়েও সংসার করতে চেয়েছিলো।
আহারে মেয়েটা। অনেক কেঁদেছিলো। এরপর আর কখনো আমার সাথে ও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে নি।
শুনেছি তনু নামের জীবিত লাশ টা আবার বাঁচার জন্য উঠে দাড়িয়েছে।
আমি আবার বিয়ে করলাম। এবার মায়ের ইচ্ছাতেই করলাম। কিন্তু ইশিতা মা হতে
পারছে না বলে মা ওর সাথে ঐ ব্যাবহার করে। খুব ইচ্ছা করছে তনুর পা দুইটা ধরে
ক্ষমা চাইতে। ওর কি দোষ ছিলো? ও কে আমি অযথাই ছেড়ে দিয়েছি। অনেক ভালোবাসতো
তাই সংসার টিকাতে সে নিজের সন্তান কে খুন করেছে। আর সেই আমি এখন আর বাবা
হতে পারবো না। ও আমাকে মাফ করবে না। করার কথাও না। খুব চিৎকার করে বলে
উঠলাম " তনু রে জান আমাকে মাফ করে দিস প্লিজ"
আমি বারান্দায় বসে কাঁদছি। হঠাৎ একটা হাত আমার কাঁধে এসে ভর করে বললো ---
-কি হইছে ইফতি? কি হইছে?
আমি তাকে ঘুরেই জড়িয়ে ধরে বললাম
-ইশিতা ছেড়ে যেও না আমাকে। আমি আমার পাপের ফল ভোগ করছি। তুমি আমাকে ছেড়ে যায়ো না ।আমি ভীষণ একা হয়ে যাবো।
ইশিতা একটু মুচকি হেসে বললো
-তুমি আর তোমার মা কি আমাকে মাফ করে দিতে যদি আমার কারনে বাচ্চা না হত?
তাহলে আমার কি তোমাদেরকে এত দিনের এত নির্যাতনের জন্য মাফ করে তোমার সাথে
সংসার করাটা ঠিক হবে ইফতি?
নাহ একেবারেই ঠিক হবে না।
এই বলে ইশিতা আমার হাত ছাড়িয়ে আলমারির সব কাপড় গুছিয়ে নিচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। আজ আমিও তনুর মত অসহায় চিত্তে শুধুই তাকিয়ে আছি।
ব্যবধান একটাই
ঐদিন অসহায় ভাবে এক নির্দোষ তাকিয়ে ছিলো আর আজ এক আসল কাপুরুষ..
.
#ইফতির_ডায়েরী
Jakia Juliet







0 comments:
Post a Comment