Friday, September 22, 2017

মেঘলা জোনাকি

দুপুরবেলা পড়ে এসেই শুয়েপড়লাম ভেবেছিলাম গোসল করে শুবো কিন্তু ক্লান্তি বেশি ছিল তাই আর হলনা... আম্মা ডেকেছিল কয়েকবার গোসল করতে!! ঘুম ভেঙে আবিষ্কার করলাম জ্বর এসেছে... তখন বিকালবেলা তাই গোসল করে ছাদে বসলাম... সন্ধ্যা নাগাত বসে রুমে ফিরলাম... মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ করছে... আর খুব ব্যথা!! বুঝলাম গাঁত্র ব্যথাহত!!
---
রাতে অনেক জ্বর এসেছিল তারপর আম্মা আমাকে মাথায় পানি দিচ্ছিল.... আমি শীতে খুব কাপছিলাম... আম্মা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলো!! তখন হাল্কা ফ্রেশ লাগছিল... সে রাতে আম্মা আমার কাছেই ছিল.... রাতে নাকি আবল-তাবল বলেছিলাম আম্মা বলছিল... কারন আমি বেশি চিন্তা করলেই জ্বর আসে... আর একটা গুরুতর চিন্তা করেই জ্বর টা বাধিয়েছি।। তাহলে ফিরে আসি সেই ঘটনায়_______↓↓
-----
৩ মাস আগের কথা ↓↓
একটা আই, ডি থেকে রিকুয়েস্ট এলো!! আমি দেখেই ডিলিট করে দিলাম... এরপরে আবার দিলো... আমি আবার ডিলিট করলাম... এরপরে আবার দিলো... এবার ঝুলিয়ে রাখলাম... আর ভাবলাম পরে ডিলিট করব!! কারন আমি ফেবুতে কারো সাথে কথা বলতে পছন্দ করিনা... এবার মেয়েটি মেসেজ দিলো-----
মেয়ে- আপনি এত ভাব নেন কেন?
আমি- আমার ইচ্ছা সেটা..
মেয়ে- এত ভাব নেবার কিছুই নেই!! আপনি লেখক তাই রিকুয়েস্ট দিছিলাম!! তারমানে এই নয় যে আমি প্রেম করার জন্য রিকুয়েস্ট দিছি....
আমি- আমার ফ্যান পেজে থাকলেই হবে আই, ডি তে আসা লাগবেনা...
মেয়ে- আমার আপনার সাথে কিছু কথা আছে...
আমি- জ্বী বলুন...
মেয়ে- এভাবে নয়!! আপনার নাম্বার দিন...
আমি- দুঃখিত আমি নাম্বার শেয়ার করিনা...
মেয়ে- প্লিজ খুব ইম্পর্টেন্ট... কথা বলেই মুছে ফেলবো শিওর...
আমি- আচ্ছা নাও ০১৯৫৩৩-----
@৫ মিনিট পরে কল দিলো!!
মেয়ে- হ্যালো কেমন আছেন??
আমি- ভাল আছি!! কি যেন বলবেন??
মেয়ে- এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন?? আর আপনার কন্ঠতা খুব মোটা আর মিষ্টি তো...
আমি- ধন্যবাদ।
মেয়ে- আপনি কিসে পড়েন??
আমি - অনার্স ১ম...
মেয়ে- বাসা কই???
আমি- এসব না বলি!! মূল কথা বলবেন নাকি রাখবো??
মেয়ে- আরে আরে শুনেননা... আপনার সাথে আগামীকাল মিট করা যাবে??
আমি- আমাকে আপনি চিনেন?? আর মিট করব মানে??
মেয়ে - চেনা লাগবেনা আগামীকাল পার্কে চলে আসবেন!! আর না এলেও আমি অপেক্ষা করব...
আমি- কাল কখন???
মেয়ে- সকালে আসবেন অনেক ভোরে....
আমি- শীতকালে ভোরে তো কুয়াশা আর শীত লাগে আমার..
মেয়ে- সমস্যা নাই,, আসবেন কিন্তু।
---
এরপরে আমি গেলাম.... যেয়ে দেখি এটা সেই মেয়ে যে কোচিং এ আমার দিকে তাকিয়ে থাকে!! আর সবার কাছে বলে আমি না'কি ওর বয়ফ্রেন্ড... মেয়েটি অনেক সুন্দরি!! আর খুব রাগী!! আমি বোকাসোকা এক লেখক মাত্র... ভালবাসি লিখালিখি তাই লিখি!!! পার্কের এক চিপায় দারিয়ে আছি... এবার আমার দিকে চোখ বড় করে ভ্রু কুঁচকে মায়া তাকালো!! তারপর পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভাল করে দেখল!! এরপরে আমার শার্টের সেই স্থানে তাকালো যেখানে হাল্কা রংচটে গেছে... আর এর জন্য আমি বিব্রতভাব করলাম!! মায়া আমাকে বলল....
মায়া- এখানে কেন এসেছ??
আমি- একটা মেয়ে আসতে বলেছে তাই ( গলা শুকিয়ে আছে ভয়ে)
মায়া- মেয়ে?? তো মেয়েটা কই??
আমি- জানিনা কালকে কল দিয়ে বলল দেখা করতে! তারপর আমি এলাম এখন...
মায়া- আসতে বলল আর চলে এলে??? আমি তো অনেক বলেছি তখন কেন আসোনি?? অন্য মেয়ের প্রতি বেশি গ্লামার??
আমি - আসলে সেটা না... আমাকে বলল গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে এজন্য এলাম!! মনে হয় আসবেনা তাই গেলাম....
মায়া - হ্যা তাতো যাবেই আমার সামনে এসেছ যাবেই তো...
------
বাসায় ফিরলাম তখন একটা মেসেজ.....!!
// আপনি এত ভিতু কেন?? দেখা না করেই চলে এলেন কেন?? আমি দারিয়ে ছিলাম কিন্তু আপনাকে পেলাম না যে??//
আমি -- আমি গিয়েছিলাম মাত্র ফিরলাম কাউকে না পেয়ে বাসায় এলাম!!!
মেয়ে--- আচ্ছা শুনেন???
আমি - জ্বী বলুন...
মেয়ে- আমি আপনার সব গল্প পড়েছি!! আমার কাছে আপনি সেরা লেখক, আমাকে নিয়ে আপনি লিখবেন???
আমি- লিখার মত তেমন কিছুই ঘটেনি তো কি লিখবো??
মেয়ে- যদি ঘটে তখন লিখবেন??
আমি- চেষ্টা করব প্লট পছন্দ হলে লিখবো....!! আচ্ছা রাখছি আমি অনেক ক্লান্ত..
মেয়ে- বাইইই!!!
-----
এরপরে একটা ঘুম দিলাম!! আমি মেঘ সবসময় শান্ত চুপচাপ নীরবতা এসব পছন্দ করি!! আর সবসময় এটা নিয়েই থাকি!! বেশি কথা বা উচ্ছ্রিংখলা না... নীরব থাকলে ব্রেনের কোষ গুলো ভাল মত কাজ করে!! তাছাড়া নীরব থাকায় জ্ঞানীর প্রথম লক্ষণ!! আরও অনেক লজিক আছে!! আর যদি কেউ লেখক হয় তাহলে তো কথায় নেই!! কারন চুপচাপ না থাকলে সেই ব্যক্তি লিখতে পারবেনা... অনেক ঝেমেলা হবে!! তাই নীরবতা অনেক জরুরী!! অদ্ভুত বেপার এটা কিন্তু সবায় পারেনা.... অনেকে আছে সামান্য তে রেগে যায়.. অনেকে আছে অন্যকাউকে মেরে বসে রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে!! এজন্য এই নীরবতা অনেক জরুরী...
-----
তখন বিকালবেলা আমি উঠে হাটতে বেড় হয়েছি... আমার একা হাটার অভ্যাস টা অনেক পুরানো,, সবসময় একা থাকি তাই অভ্যস্ত!! বিকালবেলা সূর্য্য ডুবে গেলে চারপাশ শীতল হয়ে যায়!! তখন হাল্কা মিষ্টি বাতাস বয়!! আর সেই বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে বটগাছের পাতা বা নারিকেল পাতা এত নাচানাচি করে দেখে ভালোই লাগে... বা মাঝেমাঝে এত দারুণ বাতাস হয় যে চোখ বন্ধ করে গল্প ভাবতে ভাললাগে....!! আসলে বিকালবেলা বা গোধূলি প্রায় সব মানুষের প্রিয়!! আর প্রকৃতি ভালবাসেনা এমন মানুষ নেই আমি মেঘ বিশ্বাস করি!! এসব নিয়ে ভাবছি তখুনি মোবাইলে মেসেজ এলো;
মেয়ে- লেখক কি ভাবছেন???
আমি- গল্প,,
মেয়ে- আচ্ছা আপনার পাশে যদি কেউ বসে আপনার কাধে মাথা রেখে গল্প বলে আপনি শুনবেন??
আমি- নিজেকে নিয়ে এমন কিছু এখনো ভাবিনি!! আসলে লিখতে ভালবাসি তার মানে এই নয় যে, সবকিছু আমার সাথেই ঘটতে হবে.. আর কাল্পনিকতা আমার প্রিয় সেখানে অগাধ গল্পের মেলা আছে.... আপনি কে আমি জানিনা!! আর জানার চেষ্টা করছিও না!! শুধু বলবো আমি একা থাকতে ভালবাসি!! আর আপনার সাথে কথা বললে হয়তো আমার গুনাহ হবে!! তাই আমি চাই আপনি আর কথা না বলেন!!
মেয়ে- (চুপ কোন রিপ্লে নেই)
---
এরপরে আর কোন মেসেজ আসেনি!! ফেবুতেও দেখিনি... আসলে এটা মায়া নামের ঐ মেয়ের কাজ আমি বুঝেছিলাম!! তাই মেয়েটাকে মুক্তি দিলাম!! আসলে মুক্তি কথাটা ঠিক মানালো না!! কারন মুক্তি তাকেই দেওয়া যায়, যাকে আটকে রাখা হয়...!! আর হ্যা আমি সারাজীবন একা থাকব!! ভদ্র হয়েই থাকব!! আর প্রকৃতির প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে বিষর্জন দেবো!! আমার পক্ষে আধুনিক ভাবে চলাফেরা বা আধুনিক মেয়ের সাথে ঘুরাঘুরি! আধুনিক বন্ধুদের কে নিয়ে আড্ডাবাজি এসব পছন্দ না... নিয়মিত ভার্সিটি তে যাওয়া!! তারপর ম্যাসে বসে পড়া আম্মার সাথে অন্যদের সাথে ফোনে কথা বলা!! নিজের সবকিছুর খেয়াল রাখা,, তারপর গল্প লিখা!! আর এসবের কারন হল আমাকে বাবা মা'য়ের জন্য কিছু একটা করতে হবে...!! কারণ বাবা মা আমার উপর অনেকটায় নির্ভরশীল হবে ক দিন পরেই....!!! তখন আমার আমাকে কিছুনা কিছুতো করতেই হবে!! আর এজন্য আমি বাড়তি কোন ঝামেলা পছন্দ করিনা... আর হ্যা ----
-----
ভালবাসা??? আমি জানি ব্যক্তি জীবনে এটার অনেক গুরুত্ব রয়েছে!! ভালবাসা ছাড়া জীবন চলে না!! ভালবাসা ছাড়া মানুষ অন্ধ!! ভালবাসা ছাড়া জীবনে কখনওই পূর্ণতা আসেনা!! তাই ভালবাসা জরুরি!! কিন্তু??? কিন্তু তারমানে এই নয় যে সেটা যারতার সাথে করতে হবে... ভালবাসা বিয়ের আগে করা সবার জন্য হারাম... আর সেটা কেবল বিয়ের পরেই বউকে সম্পর্নভাবে দেওয়া উচিৎ!! কারন ভালবাসা তো মহান... আর মহৎ আর উদার... তাই ভালবাসা দরকার আছে...!!
------ শেষ -------

0 comments:

Post a Comment