Friday, September 22, 2017

বৃষ্টিস্নাত কন্য"

আম্মু আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না। সবে মাত্র নিজেকে নিয়ে গোটানোর চেষ্টা করছি আর তোমরা বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগলে?
- ঐ চুপ... তোকে বিয়ে করতেই হবে। দেখ বাবা বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস এখন বিয়ে না করলে কবে করবি?
- ধ্যাত আম্মু ভালো লাগে না
বলেই বাড়ি থেকে বের হলাম রাগে। সবে একটা মামু খালুর জন্য চাকরি পেয়েছি আর আম্মু বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ধুর ভালো লাগে এমন?
আর আজ আকাশের অবস্থাও বেশ একটা ভালো না। যেনো যে কোনো সময় ঝুম ঝুম করে বৃষ্টি নামতে পারে।
আজ আসুক বৃষ্টি হেটে যাবো অজানাতে। এমন ভাবতে ভাবতেই হুট করেই বৃষ্টি শুরু হল।
বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগ মুহুর্তে প্রত্যেক মানুষদের যে ছুটাছুটি হই। আশ্রয় স্থলে যাওয়ার জন্য সেটা খোলা রাস্তায় নেমে না দেখলে মজা বোঝা মুশকিল।
তবে আমার কোনো তাড়া নেই। নেই কোনো ব্যস্ততা। বাসা থেকে ফোনও দিবে না। কারন ফোনটা যে বাসাতেই পড়ে আছে।
শুরু হল ঝুম বৃষ্টি। আকাশ আজো তার অশ্রু বিমোশিত করছে সমতলে।
এই সময় বৃষ্টিবিলাশ করতে নেহাত মন্দই লাগছে না।
হাটতে হাটতে চলে এসেছি সত্যই কোনো এক অজানায়(নামটা বলা যাবে না)।
রাস্তাটি পুরো ফাকা। এই ফাকাটা যেনো রাস্তার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। যেনো ফাকা থাকাটাই তার ধর্ম।
- আরে দুরে একটি সাইকেল দেখা যাচ্ছে আর একটু পাশেই একটি মেয়ে হাত ছড়িয়ে বৃষ্টিবিলাশ করছে।
মেয়েটা সাদা রঙের ড্রেস। বৃষ্টিরও সাদা রং।
খোলা চুলে এক অপরুপ মহিমা মন্ডিত নারী।
নির্জন স্থান। তার উপর এমন সাজ। মেয়েটাকে হুটট করে দেখলে পেত্নী ছাড়া কিছুই বলবে না কেউ। কিন্তু সে তো পেত্নী নয়।
তার কন্ঠটা আরো সুন্দর। সে প্রকৃতির সাথে কথা বলছে।
- "রুপকথা শুনবে"? মেয়েটি
-...... (প্রকৃতি)
- শোনো না রুপ কথা...ভালো লাগবে তোমার।
- ......
- "আমি হাটছি আনমনে। কখন যে অভয়মিত্রে এসেগেছি বুঝলামই নাহ। হঠাৎ একটি কন্ঠ শুনে অবাক হলাম। হুমম তারই কন্ঠ।
সেই কন্ঠ শুনে আমি যে কত রাত ঘুমাই নিই।
টিচারের লেকচার শুনতে শুনতে হারিয়ে যেতার তার সাথে কল্পনার রাজ্যে..
- ওয়াও.. হেব্বি রুপকথা বুঝেন তো। (আমি)
- (চমকে উঠেই পিছনে তাকিয়ে) কে আপনি?
- রুপকথার রাজকুমার..
- হা হা হা রুপকথা আবার হয় নাকি?
- তাহলে বলছিলেন যে রুপকথা শুনবেন?
- সেতো আমার কল্পনা। আর শোনাচ্ছি আমার প্রকৃতিকে।
- আপনার প্রকৃতি??
- হুমমম কারন, বৃষ্টি হবে। ঝুম বৃষ্টি। আমি মিশে যাবো বৃষ্টির মাঝে। খোলা চুলে প্রান ভরে নিশ্বাস নেবো খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে বৃষ্টির মাঝে। তাই এই প্রকৃতিটা আমারই।
- ওও..বুঝলাম..
- আচ্ছা কে আপনি? আপনকে কেনো এসব বলছি?
- ঐ যে বললাম না,, আমি রুপকথার রাজ কুমার। অবশ্য রাজকুমারির খোজে বেরিয়েছি। বৃষ্টিবিলাশ করতেও বলতে পারেন।
- হুহ..আমি এখন যাই। বাই
- আরে শোনেন শোনেন..নামটা তো বলে যান।
- রুপককথার রাজকুমারি..
বলেই মেয়েটি বৃষ্টির মাঝে সাইকেলিং করে চলে গেলো।
হুমম ঝুম বৃষ্টিতে দুরের সবকিছুই ধোয়াশার মত মনে হয়। আর এ দিকে মেয়েটিও পরেছে সাদা ড্রেস।
কিন্তু তার লম্বা এলো কেশে অনেকখানি দুর অবদি তার অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু সেতো হারিয়ে গেলো।
আমি তাকে পাবো না আর??
কিচুক্ষন স্তম্ভিতে হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম।
বাসায় আসলাম বৃষ্টির পর।
- ঐ হারামজাদা..কই ছিলি? বাড়িতে ফোন রেখে গেছিস। কতবার ফোন দিছি দেখেছিস?
- আম্মু দেখছো তো ভিজে। ভেজা কাক এর মত হয়ে গেছি। শুধু একটা কাকি( মানে কাকের স্ত্রী লিঙ্গ) হলে ভালোই হত।
- কিহহ তুই বিয়ে করবি?
- হায় হায়.. এ কি বলে ফেললাম আমি। না না মা। আমি বিয়ে করবো না।
- বুঝে গেছি। এই নে তোয়ালে যা ফ্রেশ হয়ে নে খাবার দিচ্ছি।
বসে বসে ভাবছি সেই মেয়েটির কথা। কি অপরুপ সৌন্দরযতা মেয়েটির মধ্যে। এলো কেশ। কোকিলের মত কন্ঠ। কল্পনা বিলাশী।
ওয়াও, কি সুন্দর।
যাকগে, কাল আবার যাবো ওখানে। নিশ্চয় মেয়েটিও আসবে। এখন ঘুমানো যাক।
পরেরদিন অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়িই বের হয়ে গেলাম সেই বৃষ্টি কন্যার খোজে।
কিন্তু হায় খোদা...মেয়েটি এলো না। এদিকে সন্ধ্যা নেমেছে।
পাখিদের কলকাকলিতে ভরে উঠেছে চারিদিক।
এ তো ঘরের ফেরার এক অদম্য চাওয়া।
যাই হয়ে যাক,বা যাই করুক না কেনো কাছের মানুষদের ছেড়ে যত দুরেই যাওয়া হয় না কেনো। বেলা শেষে ঘরে ফেরার এক অপুর্ব যে আনন্দ আছে সেটা যে দুরে থাকে সেই বুঝতে পারবে।
যাই হোক, মেয়েটি আজ এলো না। হয়ত কাল আসবে। যাই এখন আমিও ঘরে ফিরি। আমার আম্মুও আমার জন্য বসে আছে।
আর আব্বু.. ব্যাবসার কাজে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। সময় নেই তার আমাদের দেয়ার মত। কাছের মানুষগুলো কেনো এত স্বার্থপর হয়।
খালি দুলে সরে থাকতে চাই। এটা কি ভালোবাসা বলে নাকি....
- কিরে.. এত দেরি করলি যে বাবা।
- কি করবো?? বাড়িতে আসলে যে খালি বিয়ে বিয়ে করে মাথা খারাপ করে দাও।
- দেখ বাবা আবির.. তুই তো জানিস কেউ নেই। একা একা সময় যে কাটে না। একটা বউমা তো এনে দে।
- আচ্ছা মা এভাবে বলো না,,,আমি ৭ দিন পর জানাবো।
- যা এখন খেতে আই। ফ্রেশ হবি আগে।
পরেরদিন আবার গেলাম সেই স্থানে। কেনো জানি এই জায়গাটি আমাকে বারবার টানে। এই টান কি ঐ মেয়েটার জন্য।
কিন্তু কিভাবে? মেয়েটাকে কি আমি ভালোবাসি?
কিন্তু প্রথম দেখায় তো ভালোবাসা হয় না। যেটা হয় সেটা হল ভালোলাগা। আর সেই ভালোলাগা নিয়ে বা তাকে নিয়ে ভাবতে থাকলেই তার প্রতি ভালোবাসা তৈরী হয়।
তবে সেটা যেনো তেনো ভালোবাসা নয়। খুব কড়া ভালোবাসা।
তাহলে কি আমি মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেললাম?
কিন্তু ভালোবাসার মানে কি? তাকে নিয়ে ভাবা? নাকি তার প্রতি একটি টান যেই টানটা আমাকে এখানে বারবার তাকে একপলক দেখার জন্য নিয়ে আসে।
হয়ত এটাই ভালোবাসা। কারন মন এখন তাকেই চায়।
- ধুরর আজো মেয়েটা এলো না। তাহলে সেকি আর আসবে না কোনোদিন?
নাহ এটা হতে পারে না।
এদিকে বাসা থেকে বিয়ের জন্য লেগে গেছে। ভাবলাম মেয়েটিকে সরাসরি বিয়ের কথা বলবো। তা আর হলো।
ধুরর কেনো সে আসছে না। সেতো একটা চুরনি। মনটা সেই সাইকেলিং এর সময়তে নিয়ে চলে গেছে। কিন্তু দিতে চাইনি আমি। তবে মেয়েটার মায়াবী খানায় আমাকে পগতেই হল?
যাচ্ছে তাই ব্যাপার একটা...
- আবির কাল একটা মেয়েকে দেখতে যাবো।
মেজাজ পরো খারাপ। এখন চুপ থাকাটাই ভালো। কারন মেজাজ খারাপ থাকলে মুখ দিয়ে সবারই যাচ্ছে তাই বের হবে।
এর ফলে কাছের মানুষগুলাই বেশি কষ্ট পাবে।
- যা ইচ্ছে করো তবে কাল নয়। ৭ দিন পর।
আজো আসলাম ওখানে। ধুরর মেয়েটি যে কেনো আসছে না।
আজো এলো না..
এভাবেই ৭ দিন পার হয়ে গেলো আমি পুরোপুরি ভাবে মেয়েটার প্রেমে মত্ত হয়ে গেছি।
কি এক আকর্ষনতা কাজ করে ওর কথা ভাবলে। নাহ আমি কাউকে বিয়ে করবো না।
ওর স্মৃতিগুলো নিয়েই ভাববো।
- কাল কিন্তু মেয়ে দেখতে যেতেই হবে।
- ওহহ মা কি পাইছো টা কি তুমি?
- মানে?
- মানে আমি বিয়ে করতে পারবো না।
- কিহহ....কেনো?
- ভালো লাগছে না তাই।
- আবির তুই যদি বিয়ে না করিস তাহলে আমার ম..........
- মা থামো হয়ছে...যাও আমি বিয়ে করবো
কিন্তু এসব কথা আর বলবা না কোনোদিন।
- এইতো আমার সোনা ছেলে।
- যাও এখন তেল দিতে হবে না। আর মেয়ে তুমিই দেখে আসো। আমি যাবো না।
- সে হবে। তুই যে রাজি আছিস এটাই বড় ব্যাপার।
মেয়েটিকে আমি মোটেও ভুলতে পারবো না। কি জাদু করা তার চাহনি। কি অপরুপ মায়াবি। কিন্তু আফসোস মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো।
কেনো যে আম্মু ওমন....
পরেরদিন অফিস থেকে বাসায় এসে
- আবির মেয়ে দেখতে গেছিলাম। আমি আর তোর পাশের বাসার আংকেল আনটিরা।
- ভালো করেছো।
- দেখতে কিন্তু সুন্দর হেব্বি।
- খেতে দাওতো..
- হুমম আগামি শুক্রবার বিয়ে।
দেখতে দেখতে বিয়েটা হয়েও গেলো। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমি মেয়েটাকে এখনো দেখিনি।
বিয়ের সময় দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লম্বা ঘোমটা দিয়ে রাখছিলো।
আচ্ছা মেয়েরা বিয়ের সময় ঘোমটা কেনো দেয়।
তার বিএফ যাতে না দেখে সে জন্য চুরি করে বিয়ে করে তার জন্য?
নাকি এটাই নিয়ম।
বাসর রাত। দাড়িয়ে আছি বারান্দার গ্রীল ধরে।
আজো বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু মেয়েটি যে নেই।
সেই মেয়েটি। যাকে বৃষ্টিস্নাত দিনে দেখেছি।
নাম দিয়েছি বৃষ্টি কন্যা।
আর যে বউ হয়েছে আমার সে হল সূচি।
- কি এখনো এখানে কি করিস(আব্বু)
- না মানে বৃষ্টি দেখছি।
- হুররর..ছাগল, ঘরে বউ রেখে কি কেউ বৃষ্টি দেখে?
যা যা ভিতরে যা।
- যাচ্ছি
একেবারে ঠেলেই পাঠিয়ে দিল ঘরে।
সূচি এখনো ঘোমটা দিয়েই আছে।
একদম অসহ্য কর এই ঘোমটা তুলে বউয়ের মুখ দেখা। কেনো যে ঘোমটা দেয়?
- এই যে শুনুন..(আমি)
- হুমম
- পারবো না..
- কি?
- আপনাকে ভালোবাসতে। কারন আমি ভালোবাসি আমার বৃষ্টি কন্যাকে।
চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। বি এফ থাকলে পালিয়ে যাইয়েন আমি হেল্প করবো। প্লীজ..
- এই যে মি. আবির সাহেব...
ওহহহ নো.... আরে এই তো সে। যাকে আমি খুজে বেরিয়েছি দিনের পর দিন। কল্পনাতে স্বপ্ন বুনেছি হাজারটা। বাস্তবতার মাঝে হারিয়েছিলাম তাকে। কিন্তু নাহ আমি পেয়েছি,,হুমম পেয়েছি তাহারে.
বৃষ্টি হছে খুব বৃষ্টি বাইরে নেই কোনো ফাক.
ধুরর সালা বউ দেখে আমি তো অবাক।
- আপনি?? (আমি)
- হুমমম তাছাড়া কে থাকবে?
- আমি আপনাকে কত খুজেছি।
- কেনো?
- কেনো মানে? ভালোবাসি তাই।
- কিন্তু নতুন বউয়ের কি হবে?
- ওটাই তো তুমি।
আর তাকে ভালোবাসতাম না। তোমাকেই বাসতাম।
- হবে না।
- কি হবে না??
- ভালোবাসো বলেছো?
- পেয়েছি নাকি তোমাকে?
- এখন তো পেয়েছো।
তাহলে বলো।
- ভালোবাসি।
- হুট এভাবে হবে না।
- চলো তাহলে বৃষ্টিবিলাস করি।
- হুমমম ঠিক। যেহেতু দেখা হয়েছিলো ঝুম বৃষ্টিতে।
- হুমম চলো ছাদে.
ছাদে আসলাম আমি আর সূচি। সে বৃষ্টিতে দেখায় মত্ত।
টেবিলের উপরে পানির টবে রাখা কদম ফুল নিয়ে চলে এসেছি।
সে ফিজছে হাত ছড়িয়ে... আমি বলতে শুরৃ করলাম..
"আমার অনুভবের সমস্থ রুমে তোমার নিঃশ্বাস..আছে হাজারগুন বিশ্বাস।
আমার কল্পনায় তুমি বিস্তৃত, আছো নিরবে নিবৃত।
আমার সব বাস্তবতায় তুমি..মিশে আছো আমার মনে।"
সূচি এসে দৌড়ে বুকে ঝাপিয়ে পড়লো। আমিও ভালোবাসি তোমাকে।
সবাই না হয় বাসর রাতে বিড়াল মারে আমিই না হয় বৃষ্টিতে ভিজলাম।

0 comments:

Post a Comment