টেবিলে চোখ পড়তেই, সেঈ একই দৃশ্য যা আজ বেশ কিছু দিন যাবত দেখে আসছি।
প্রায় ১৫ দিন হতে চললো অফিস থেকে ফিরেই দেখি টেবিলের উপর একটি কাগজ চাপা দেয়া।
কাগজ বললে অবশ্য ভুল বলা হয়, "" চিরকুট"" বললেই সঠিক বলা হবে।
প্রথম যেদিন পেলাম সেদিন লিখা ছিল 1 4 3
মানেটা বুঝতে পারিনি সেদিন পরের দিন একই ভাবে আরেকটা ,,চিরকুট,,, আবিস্কার করলাম।
আগের দিনের চিরকুটের মানেও বুঝলাম।
১=I, ৪=LOVE,৩=YOU
এবার একটু সন্ধেহ হল, বাড়িতে কেওকি এসেছে???? আর আসলে দুই দিনেও আমি জানতে পারলাম না, এমন হবার কথা না। তাই মায়ের কাছে গেলাম....
---মা মা ও মা....
----কিরে ষাঁড়ের মতন চিল্লাছিস কেন??????
---বলছি বাড়িতে কী কেও আসছে।
---না তো কেন রে।
---না এমনিতেই।
এবার বোনের কাছে গেলাম।
বোনও কিছু জানেনা বলল।
চলে এলাম রুমে, ভাবতে লাগলাম, বাড়িতে যাদি কেও নাই আসে তবে ..চিরকুট... আসছে কিভাবে????
আরো কয়েক দিন চলে গেল।
নিয়োমিত চিরকুট আসছেই, তবে ছুটির দিন ছাড়া। এর কারন বুজতে পারছি না। বিষয়টা আমাকে কৌতুহলী করে তুলছে ক্রমেই।
আমি শিমুল, বাবা, মা বোনকে নিয়ে ছোট্ট পরিবার আমাদের।
আমি ও বাবা চাকুরি করি, বোনটা এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে।
আজ ছুটির দিন ঘুমিয়ে আছি, কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। অনেক খন ধরে বাজছে, কেও বাড়িতে নেই না কী।
উঠে গিয়ে দরজা খুললাম। দেখলাম, কল্পনা দাঁড়িয়ে আছে।
---ভাল আছেন ভাইয়া। মিষ্টি হাসি দিয়ে।
---হ্যা, ভাল আছি, তুমি ভাল আছ???
---হ্যা ভাইয়া।
---ভেতরে এসো।
ওকে বসতে বলে আমি ভেতরে চলে এলাম, মা আর বোন রান্না ঘরে কাজ করছে।
ওই পেত্নী তোর বান্ধবী আসছে, গিয়ে দেখ।
বলে চলে এলাম।
বিকেলে বোনের ডাক..
---এই ভাইয়া কল্পনাকে পৌছে দিয়ে আয়।
---ওই পেত্নী আমি কী ঠেকা পড়ছি তুই যা। তোর বান্ধবিকে আমি ক্যান দিয়ে আসব।
---সবতো তোকেই করতে হবে। (খুব আসতে)
---কি বললি????
--- না কিছু না, লক্ষি ভাইয়া যা না ওকে পৌছে দিয়ে আয়।
---আমি পারব না নিজে নিজে আসছে নিজেই জেতে বল। আর আমাকে পাম দিয়ে কাজ হবেনা।
---আমি পাম দিচ্ছি না , এবার দেখ কী পাম দেয় ও মা দেখ ভাইয়া যাচ্ছে না।
---ওই পেত্নী মাকে ডাকিস ক্যা, যাচ্ছিতো।
বলে রেডি হয়ে এলাম, আমি আবার মায়ের বাধ্য ছেলে।
---বাইক বের করে রওনা হলাম, যথা সময়ে পৌছে দিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
রাতে হঠাৎ একটা বিষয় মনে পড়ল, কল্পনা মেয়েটা আজ যতটা সময় ছিল আমার রুমের
আশ পাশেই ঘুর ঘুর করছে। সামনে গেলে বা চোখে চোখ পরতেই মুচকি হাসি দিচ্ছিল।
এবার একটু সন্ধেহ হতে লাগল।
সারা রাত ভেবে একটা বুদ্ধি বের করলাম।
সকাল হতেই প্ল্যান মত কাজ করে ফেললাম।
এবার রেডি হয়ে শুরু করলাম কি হয় দেখার জন্য।
নাশতা করে অফিসে চলে এলাম।
বিকেলে বাড়ি ফিরেই দেখি যথাস্থানে চিরকুট তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে স্ব মহিমায়।
আমি সেদিকে নজর না দিয়ে সকালে করা কাজের ফলা ফল দেখতে লাগলাম।
হ্যা কাজ হয়েছে, খুব সহজেই ধরতে পেরেছি।
এবার চিরকুট দাতা কে শুধু শিউর হতে হবে, পিয়ন যখন পাইছি তখন প্রেরক কেও পেয়ে যাব।
আমার সাথে লুকোচুরি???
পরের দিন একটু আগেই অফিস থেকে বের হলাম। উদ্দেশ্য বোনের কলেজ।
গেটের পাশেই একটু আড়ালে দাঁড়ালাম, যতে বোন বা কল্পনা কেও দেখতে না পাই।
বোন ও কল্পনা নিজেদের মাঝে কথা বলতে বলতে বের হচ্ছে। লক্ষ করলাম কল্পনা বোনের হাতে সাদা একটা কাগজ দিল।
ঠিক বুঝতে পারলাম না কিসের কাগজ। গেটের বাইরে এসে যখন কল্পনা রিকসা করে চলে যাচ্ছিল তখন
বোন যে কাজটা করলো সেটা আমার মনের সব সন্ধেহ দুর করে দিল এক নিমিষেই।
---বাই ভাবি...
---বাই ননদীনী....
বাহ তলে তলে এতদুর, দেখাচ্ছি দাঁড়াও। বিয়ের খোজ নেয়, ননদ ভাই বউ???
আমি যে এখানে আছি কেও খেয়াল করে নি।
দুজন দুদিকে চলে গেলো। বোন যখন রিকসা নিতে যাবে ঠিক তখনই পেছন থেকে ডাক দিলাম।
---ভাইয়া তুই এখানে???
---আজ একটু তারাতারি বের হলাম তাই ভাবলাম তোকে নিয়ে যায়।
---ভাল করছিস চল...
ভাই বোন বাড়ি ফিরলাম,
ঘরে এসে দেখি যথা স্থানে যথা বস্তু স্ব গৌরবে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
বাইক গ্যারাজে রাখতে যে সময় লেগেছে তাতেই বোন নিজের কার সম্পুর্ন করেছে।
পরের দিন আবার গেলাম, কল্পনাদের বাড়ির রাস্তাই কিছুদুর এগিয়ে দাঁড়ালাম আজ, যাতে বোনের সামনে না পরি।
কল্পনা আসছে দেখে এর রিকসা দাঁড়করালাম, ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম।
মাথা নিচু করে বসে আছে।
---কবে থেকে চলছে ননদ ভাবির এসব????
---চুপ
---কি হল???
---যেদিন আপনাদের বাড়িতে প্রথম যায় তার পর থেকে।
---তোমার বাড়িতে জানে????
---হ্যা, আব্বু আম্মু সবাই জানে।
লে হালুয়া মাইয়া কত ফাষ্ট আর আমি সেই মানধাত্বার আমলে পড়ে আছি।
---আর কে কে জানে????
---আমার বাড়ির সবাই জানে, আর সুমি (আমার বোনের নাম) জানে।
কি মেয়েরে বাবা, বিয়ের আগেই ননদীনী বানাই ফেলছে, আব্বু আম্মুকেও বলে দিসে।
---তোমার আব্বু আম্মু মেনে নিয়েছে????
---হু
---তোমার সাথে যে দেখা করছি আমার বাড়ির কেও যেন না জানে, আর তোমার আব্বু
আম্মু কে বলবে আগামি শুক্রবার বাবা মাকে নিয়ে বিয়ের কথা বলতে আসছি। সুমি
যেন কিছু না জানে, তাহলে তোমার ভলবাসা এখানেই শেষ।
---হু, বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
রেস্টুরেন্টের মৃদু আলোয় ওর মুখের লাল আভাটা বেশ মায়াবি লাগছে।
খাবার খাওয়ার সময় তো মাথাই তুলতে পারছিল না।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে ওকে পৌছে দিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
রাতে খাবার সময়, বাবা মা কে বিয়ের কথা বলেই দিলাম, সুধু মেয়ের নাম পরিচয় ছাড়া।
বাবা মায়ের সাথে সব বিষয়ে ফ্রি আমি।
তাঁরা বেশ খুশিই হল, কিন্তু বোনটার মুখটা তে আষাঢ়ের কালো মেঘ নেমে এলো।
---ভাইয়া তুই সত্যি সত্যি কাওকে পছন্দ করিস???
---ক্যান তোর কোন সন্দেহ আছে????
---না আসলে....
---আসলে কী.....
---আমি...
---যা বলার ঠিক রে বল।
---আমি কল্পনাকে তোর জন্য পছন্দ করে ছিলাম, আর কল্পনা তোকে খুব ভালবাসে।
---এখন কোন লাভ হবে না। আমি যাকে পছন্দ করি তাকেই বিয়ে করব।
মন খারাপ করে চলে গেল।
পরের শুক্রবার বাবা মাকে নিয়ে উপস্থিত হলাম কল্পনাদের বাড়ি।
বোনকে আনিনি।
মেয়ে দেখে বাবা মা অবাক, তবুও
সব কিছু ঠিক করে ফিরে এলাম, আসার সময় বাবা মা কে বলে দিয়েছি বোনকে যেন কিছু না বলে।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো, এর মাঝে বোন আমার সাথে তেমন কথাই বলেনি।
অনেক কষ্টে বিয়েতে যেতে রাজি করিয়েছি।
সময় মত বিয়ে বাড়ি পৌছ গেলাম, বিয়ের সব কাজ সম্পুর্ন হল। বোনটা আমার পাশেই গোমরা মুখ করে বসে আছে ভাবিকে একবার দেখতেও গেলো না,
সব কাজ শেষে বউ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
বাড়ি ফিরেই বোন গাড়ি থেকে নেমে চলে গেলো।
মা আমাদের নামিয়ে নিয়ে এলো।
এর পর বোনের সাথে আর দেখা হয়নি।
বাসর ঘরে ঢুকলাম কল্পনা এসে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেল, ওকে ধরে বললাম
---তোমার স্থান পায়ে নয় আমার বুকে। শাড়ি পাল্টে ফ্রেশ হয়ে নাও।
---কল্পনা শারি পাল্টে এসেই বায়না ধরলো ছাদে যাবে।
---চল যাই, নাহলে তো আবার অভিমান করবে ননদীনীর মতন।
বলেই কল্পনাকে কোলে তুলে নিলাম,
---বাহ আমার বরটা তো দারুন রোমান্টিক।
---দেখতে হবে না ররটা কার।
---হু...
ছাদে দোলনাই এসে বসলাম দুজন,
--আপনি খুব পঁচা।
---কেন???
---আমার ননদীকে এভাবে কিছু না বলে সব করলেন। কত কষ্ট পেল।
---ওর জন্য সারপ্রাইজ ছিল, সে তো রাগ নিয়েই ব্যাস্ত। আর ননদ ভাই বউ মিলে আমাকে না জানিয়ে চিরকুট দিলেন তাঁর বেলাই??
---এটাও ওর প্লান।
---হু এখন ওসব বাদ দাও।
রাতে আরো অনেক গল্প করে রুমে এসে ঘুমালাম।
সকালে বউয়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম।
ফ্রেশ হয়ে বাইরে এলাম, বোন মুখ গোমরা করে বসে আছে।
---কিরে পেত্নী এখন মুখ গোমরা করে বসে আছিস???
---তাতে তোর কি। আমার পছন্দের কোন মূল্য আছে তোর কাছে????
---তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে বলেই কল্পনাকে ডাকলাম।
কল্পনা ঘর থেকে বের হতেই বোন ভুত দেখার মত তাকিয়ে আছে।
---কিরে কেমন দিলাম?????
---কল্পনা তুই...
---ওই পেত্নী, ভাবিকে নাম ধরে ডাকে????
---এসব কিভাবে হল???
তারপর সব খুলে বললাম,সেদিন রুমে ক্যামেরা ফিট করা, কলেজের সামনে ভাবি বলে ডাকা ও কল্পনার সাথে মিট করার কথা।
---আমাকে বললি না কেন???
---তুই আমাকে না বলে ভাবি ঠিক করলি কেন???? আমিনা তোর একমাত্র ভাই????
---তবুও আমাকে বলতে পারতি, কত আনন্দ করতে পারতাম।
---বার বার বলছিলাম সবার সাথে আনন্দ করতে, বিয়ের দিন অনেক বার মেয়েকে
দেখতে বলেছিলাম, গোমরা মুখোর কারনে তোর চেনা বাড়িটাও লক্ষ করলি না।
---ভাইয়া বলেই শুরু হলো সেইরকম মার, অন্য দিকে বাবা মা বউ আমাদের ভাই বোনের খুনশুটি দেখছে আর হাসছে।
পরে জরিমানা দিয়ে সে যাত্রা বাঁচি, আরো শর্ত ছিল প্রতিদিন সকালে ভাবি ননদীকে কলেজ পৌছে দিতে হবে।
প্রতিদিনের ডিউটি, ভাই বোনের খুনশুটি, সাথে যোগ হওয়া পাগলিটার নানান বাইনা মিটিয়েই আমার দিন চলে যাচ্ছে.......
সমাপ্ত
আমার অন্য গল্প পড়তে টাইমলাইন, পেজ ও গ্রুপে চোখ রাখুন।
লেখকঃ- মোঃ রাশেদুর ইসলাম শিমুল (আবেগি ছেলে)
লেখক আইডিঃ- MD Shemul Islam







0 comments:
Post a Comment