কখন থেকে কলিংবেল বাজিয়েই চলেছি
জান্নাতদের বাসায় কিন্তু কারো কোনো
খোলার নাম নেই।
জান্নাত যে এতটা রাগ করতে পারে ভাবিনি।
আসলে কি দোষটা আমারই খুব?
- কি ব্যাপার আপনি এখানে?
- সেই কখন থেকে কলিংবেলটা বাজিয়ে
চলেছি। কেনো খুলছো না?
- কেনো খুলবো? কে হন আপনি আমার?
- মানে কি জান্নাত? আমি তোমার বর আর আপনি
করেও বলতেছো
- কি করেছো জানো না? আর আমি কারো বউ
না,,জান আপনি আপনার অনুর কাছে।
- ভিতরে আসতে তো দাও আগে..
কোনো কথা না বলে সরে গেলো দরজা থেকে।
সরে গেলো বলতে সোজা হেটে তার রুমে চলে
গেলো। যাওয়ার সাথে সাথেই দরজা বন্ধ।
আমি আর কি করবো সোফাতে বসে গেলাম।
- কেমন আছো বাবা আবির? (শ্বাশুড়ি মা)
- এই তো আম্মু ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
- তোমি বসো বাবা আমি তোমার জন্য চা
পাঠিয়ে দিচ্ছি। আর এই আছি কোনোরকম।
জান্নাত হল আমার বিয়ে করা বউ। কিন্তু ও যে
এতটা রাগি আমি এতদিনে জানতাম না। কারন
আমার সাথে কখনও সে এতটা রাগ দেখায়নি। যাই
হোক না কেনো আমার সাথে জান্নাত কখনও রাগ
দেখায়নি।
আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কি। কয়েকদিন ধরেই
জান্নাত আমার উপর কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে।
মানে একটু সন্দেহ বাতিক হচ্ছিলো। যেটা আমার
অসহ্যকর একটা ব্যাপার ছিলো।
একটা কথা আছে না, সন্দেহ তার উপরেই করা
যায় যাকে সে খুব ভালোবাসে। কিন্তু যদি
সন্দেহের কাজ না করে থাকে তবুও সন্দেহ করে
খালি খালি তাহলে তো রাগ হবেই।
২দিন আগের ঘটনা।
- আবির মেয়েটা কে?
- কোন মেয়েটা?
- এই যে তোমাকে একটু আগে যে মেয়েটা রিকশা
করে নামিয়ে দিয়ে গেলো সে?
- ওহহ ঐ টা ওত আমার কলিগ। একসাথে আসলাম
তো তাই আর কি।
- ভালো.
- রাগ করলে নাকি?
- ফ্রেশ হয়ে এসো খাবার দিচ্ছি।
জান্নাত কি আমাকে সন্দেহ করছে? কিন্তু আমি
তো কিছুই করিনি।
যাইহোক বউ তো আমারই। আমাকে নিয়েই তো
তার সবকিছু।
গতদিনের মত আজো অনু আমার সাথেই আসলো।
আসলে সে এ দিক দিয়ে এতদিনে আসেনি।
আমার বাড়ির একটু পাশেয় একটি হসপিটাল
থাকায় তার বাবা সেখানে এডমিট আছে। তাই
সে রোজ অফিস শেষে আমার সাথে আসে।
কিন্তু এই ব্যাপারটা আমি জান্নাতের কাছে
গোমন রেখেছি। কারন আমি দেখতে চাই
জান্নাত আমাকে আদৌ বিশ্বাস করে নাকি
আমার প্রতি তার বিশ্বাসটা কমে যেয়ে
সন্দেহের মাত্রা বাড়ছে।
বাসর রাতে জান্নাত বলেছিলো সে আমাকে
কোনোভাবেই সন্দেহ করবে না। আর আমিও
বলেছিলাম আমিও তার বিশ্বাস রাখবো। বলতে
পারেন, এটা একটা পরিক্ষা সে আমাকে
কতখানি বিশ্বাস করে।
- দুলাভাই আপনার চা।
আরে আমার ছোট গিন্নি যে। কেমন আছো?
- ভালো আপনি?
- ভালো নেই। তোমার আপু কি ভালো থাকতে
দিছে বলো? আমাকে রেখে আজ ৪ দিন রাগ করে
চলে এসেছে।
- অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি মারা বন্ধ করলেই
তো হয়।
- এই যাও তো একটু তোমার আপুকে মেনেজ করো।
- ঠিক আছে আপনি ছাদে যান আমি দেখছি
আপুকে পাঠানো যায় কিনা।
চলে আসলাম ছাদে। ফুরফুরে বাতাসে মুখোরিত
ছারিদিক। ছাদের টবে ফুলের সমারোহ।
জান্নাতি আর জিনিয়া ফুলগুলো লাগিয়েছে।
ফাগুন মাসের দিকে মানে শীতের শেষে সব
গাছে যেমন নতুন পাতা গজায়। তেমনি ফুলগুলোও
তার নতুন্তব আকড়ে ধরেছে।
মানুষ যতই অপবিত্র থাকুক না কেনো। ফুল তার
কাছে ভালো সবসময় লাগবেই।
ফুল সুন্দর করে পরিবেশ। তার গন্ধে মুখোরিত হয়
চারিদিক।
- কেনো ডেকেছেন?
- কবিতা শুনবা?
- নাহ,,মুড নেই.
- "আমার অনুভুতিরা সঙ্গ ছেড়েছে..
সঙ্গ ছেড়েছে আমার সব আবেগ।
তাই আমি আজ ছন্নছাড়া...
হয়েছি নির্বাক নিঃশেষ।
- আজ কবিতা শুনেও রাগ ভাংবে না।
- জান্নাত মিস করি খুব।
-....
- আজ তিন ধরে পড়ে আছে আমার ঘাটের
অর্ধেকটা। শুন্য পড়ে আছে চিরচেনা সেই
রান্নাঘর।
খাবার টেবিল, ড্রেসিং টেবিল আজ একা একাই
হাহাকার করছে তোমার জন্য। এমনি আমার বুকের
মাঝটাও শুন্য তোমাকে ছাড়া।
আর সবচাইতে কষ্টে আছে আমার ঠোট দুটি।
বেশি চিৎকার করে আহ্বান করে ডাকছে আমার
টাই।
তোমার স্পর্শে সে রোজ আমার গলাতে বিন্দাস
ড্যান্স করতো।
তুমি ছাড়া সব বেমানান জান্নাত।
- হা হা হা হা হা হা..
হেব্বি বলেছো তো...
- জান্নাত... অনু আমার শুধুই কলিগ। আমি আর এর
বেশি কিছুই চায় না বা জানিও না।
- হুমম আমি জানি..
- মানে?? কিভাবে?
- সেদিন তুমি ওয়াশরুমে গোসল করছিলে, ঐ দিন
তোমার ফোনে অনুর কল আসে।
ফোনটা কিন্তু আমিই রিসিভ করি।
- হেলো আবির ভাই..
- আমি জান্নাত বলছি আবিরের ওয়াইফ।
- ওহহ ভাবি...আবির ভাইয়া কোথায়?
- কেনো কি দরকার?
- না আসলে ভাইয়াকে বলবেন,, আব্বুর ঔষধের যে
প্রেসক্রিপশনটা আছে ওটা আমি ভুলে ভাইয়ার
কাছে রেখে দিয়েছিলাম।
- কেনো কি হয়েছে আপনার আব্বুর?
- আব্বু একটু অসুস্থ ছিলো তো তাই আপনাদের
বাড়ির পাশে যে হসপিটাল আছে ওখানে নিয়ে
গেছিলাম। তাই আবির ভাইয়ের সাথে রোজ
আসতাম আমি। মাঝে মাঝে ফোন দিয়েও খোজ
নিতাম আব্বুর।
- ওহহহ,,আবির তো গোসল করছে আসলে বলবো।
- আচ্ছ ভাবি রাখি।
- তার মানে তুমি সব জানতে?
- হুমম
- কিন্তু তুমি চলে আসলে কেনো রাগ করে?
- এমনি আসলাম। দেখছিলাম তুমি আমাকে ছাড়া
থাকতে পারো কিনা।
- কি বুঝলে?
- বুঝলাম তুমি পারলেও বাড়ির বাসন,,টাই,,টেবি
ল,খাট এগুলো পারবে না।
- হাহহাহহাহাহা..
তোমার হাতটা একটু ধরি??
- মানা করেছি?
- চলোনা হারিয়ে যায় আজ দুর অজানায়..
যেখানে থাকবো আমি আর তুমি।
থাকবে না কোনো বাধা, এক হব আমরা।
শুধু থাকবে আমার ১৩ টা বাচ্চা..
- ঐ কি বললে...
- উমমমমমমমম্মাহহহ.....(দৌড়)
দৌড়াতে দৌড়াতে ভাবছি,,ধুর ফইন্নি নিজে
পরিক্ষা করতে যেয়ে আমিই ফেসে গেলাম
শেষে...
তবে তাতে কি,, সেতো আমার কাছেই আছে শুধু
আমাকে ভালোবেসে।
লেখক : জ্যামিতিহীন রম্বস (অপদার্থ)







0 comments:
Post a Comment