কদিন যাবত অফিসে, বাসায় কোনখানেই মন বসছে না শুভ'র। বিয়ে হয়েছে এক বছর
হবে। বাসায় সে আর তার বাবা-মা থাকে। স্ত্রী মানে শ্রেয়া ইউনিভার্সিটিতে
মাস্টার্স করছে ঢাকায় থাকে। কিছুতেই ভাল লাগছে না শুভ'র। হঠাৎ একদিন
সকালবেলা; শুভ ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হল। শুভ গাড়িতে গিয়ে
বসল। সে নিজেই ড্রাইভিং করে। হঠাৎ শ্রেয়ার কথা বেশি মনে পড়ছে তার। খুব
দেখতে ইচ্ছে করছে। তাই অফিসে না গিয়ে সোজা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হল।
তারপর......
ক্লিং ক্লিং ক্লিং.....
দরজাটা খুলে....
-বাবাজি তুমি? একাই এসেছ?
-জ্বী।
-ভিতরে আসো!
-আপনারা সবাই ভাল আছেন?
-হুম। ভালই আছি। তোমাদের বাসার সবাই কেমন আছে?
-জ্বী ভাল।
-বাবা কোথায় আছে?... বাহিরে?
-তোমার শুশুরের কি যেন একটা কাজ আছে।
-আচ্ছা তুমি ফ্রেশ হয়ে আস আমি খাবার দিচ্ছি। বাবা তোমার কি কিছু হয়েছে? চেহারা এমন দেখাচ্ছে কেন?
-না, মা। গাড়ি চালিয়ে এসেছিতো তাই মনে হয় একটু......!
-ও আচ্ছা। শ্রেয়া ইউনিভার্সিটিতে গেছে কি যেন একটা ক্লাস আছে।
শুভ খাওয়া-দাওয়া শেষ করে। শ্রেয়ার বেডরুমে চলে গেল এবং বিশ্রাম নিল। কিছুক্ষন পর ঘুমিয়ে পড়ল।।
.
বিকাল ৩ টায় শ্রেয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরল।
-কিরে তুই চলে আসছিস।
-হ্যাঁ, মা।
-জামাই বাবাজি এসেছে!
-কি?..... শুভ এসেছে?.... কখন?
-দুপুরে।
-কাল ফোন দিয়েছিলাম কিছু বলল তো না! কোথায় এখন?
-তোর রুমে। মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে।
শ্রেয়া তাড়াতাড়ি করে তার রুমে গেল। এবং দেখে সত্যিই সে ঘুমিয়ে পড়েছে।
তার মাথায় কাছে গিয়ে বসে এবং আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কপালে
একটা চুমুও দেয়। হঠাৎ শুভ'র ঘুম ভেঙে গেল। তারপর.....
-তুমি!! ভার্সিটি থেকে কখন আসলে?
-এইতো কিছুক্ষণ আগে।
-ডাক দিলে না কেন?
-তুমি ঘুমুচ্ছিলে আর কিছুক্ষণ আগেই তো আসলাম। এসে দেখি আমার রুমে বিশ্রাম করছে এক রাজপুত্র। তাকে কি ডিস্টার্ব করা যায়!!
-হুমম। তাইতো!!
-তুমি এখানে আসবে কিছু বললে নাতো। ফোনও দিলে না। হঠাৎ?
-তোমাকে দেখতে মন চাইছিল। তাই চলে আসলাম। তুমি বললে এখনি চলে যাব।।
-না না, আমি এটা বলিনি। একটা ফোন দিতে। আমি বাসায় থাকতাম।।
-তো রাজপুত্র, খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল।
-মিথ্যে বলছি?
-আমি তোমাকে কতবার করে বললাম আসতে আসলে না। আর আজ মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কি মনে করে? উদ্দেশ্য কি আপনার?
-(হাতটা টেনে ধরে) এখনি দেখাব উদ্দেশ্য কি!
-ছাড়! মা চলে আসবে। আমার ক্ষুধা লেগেছে খাব!
.
বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট।
শুভ'র একমাত্র শালা রাজীব।
-কি শালাবাবু কেমন আছেন?
-জামাইবাবু! ভালো। আপনি?
-সারাদিন কোথায় ছিলেন?
-কলেজে। আর একটু ঘুরাঘুরি করলাম।
-হুম।
-ও এইজন্যেই তাহলে বাসায় আজ পিঠা উৎসব লেগেছে। আপনি এসেছেন!! দিদিকে
দেখলাম সুন্দর করে নিজ হাতে পিঠা বানাচ্ছে। আমি একটা চাইলাম দিল না। বলল
পরে দিবে। আপনার প্রতি খুব দরদ আছে দেখছি।।
.
তারপর....
শুভ শ্রেয়ার হাতটা ধরে টেনে নিয়ে এল রুমে। দেওয়ালের সাথে আটকিয়ে শ্রেয়ার চোখের দিয়ে তাকিয়ে আছে। তারপর....
-এখনও তোমার কাজ শেষ হয়নি?
-হুমম। কাজ তো শেষ!
-তাহলে এদিক-সেদিক যাচ্ছ কেন? ব্যস্ততা দেখাচ্ছ কেন? আমি যে আছি তোমার মনে হচ্ছে না।
-আমিতো জানি তুমি আছ!
-তোমাকে দেখার জন্য আমি চলে আসলাম।
-হুম, দেখেছ! এখন চলে যাও।
-এখনি। রাতেই?
-হ্যাঁ।
-কিছু বলবে না?
-কি বলব?
-(খোলা চুলে হাত দিয়ে) তোমার চুল ধরতে খুব ভাল লাগে।
-তোমার মুখটা একটু শুকিয়ে গেছে মনে হয়।
-নাতো ঠিকই আছে।
-শুভ, আমিতো দেখেছি।
-ও! তাহলে এটা মনে হয় তোমাকে না পেয়ে।।
-(শুভ আরেকটু কাছে আসতে চাইল আর শ্রেয়া তার চোখে ফুঁ দিল) অনেকদিন হল তোমার হাত ধরিনা।
-আজ ধর!
এরপর শুভ তাকে কোলে তোলল এবং বিছানায় নিয়ে গেল।
-তুমি আমাকে ভালবাস?
-অনেকবেশি।
-তাহলে কবে থেকে আমরা দু'জন একসাথে থাকব?
-পরীক্ষা শেষ হলেই। আর তোমাকে তো প্রতিদিনই ফোনে বলি যখনি ইচ্ছে হবে তখনি
এখানে চলে আসবে। তুমিই তো আসনা।। ঐদিন তোমাকে এতবার করে বললাম, আসতে আসতে।
আসলেই না। খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে
যাব। আর আজ তোমার মন চাইছে, আমাকে দেখতে ইচ্ছে হইছে চলে আসলে। তোমার ইচ্ছার
মূল্য আছে আমার ইচ্ছার মূল্য নাই??
-শোন, এমন করনা। ঐদিন জরুরী কাজ ছিল।
-আজ নেই?
-আচ্ছা, তুমিতো জানো এভাবে বারবার শুশুরবাড়িতে আসতে আমার ভালো লাগে না।
-(একটু মুখ বাকিয়ে আর চোখটা ঘুড়িয়ে) মানুষ মনে আর শুশুরবাড়িতে যায় না।
-হুম, যায়।
-ছাড়! ঢং করবে না।
-(গালে হাত বুলিয়ে) এখন কি রাতেই আমাকে বিদায় দিবে?
-(অন্যদিকে তাকিয়ে) চলে যাও।
-ঠিক আছে যাব। তার আগে......(একটা কিস করে) আমার মহারানীকে একটু আদর করে নিই।
-আমি কিন্তু মাকে ডাক দিব।
-হুম। ডাক দেও! দেখুক...তার জামাই মেয়ের সাথে কি করে!!
-স্টুপিড কোথাকার।।
.
রাত ১১ টা.........!!
-কি ব্যাপার তুমি ঘুমাবে না...??(শ্রেয়া)
-হুমমমমম, ঘুমাব..কিন্তু তোমাকে ছাড়া কিভাবে ঘুমাবো......!!(শুভ)
-এতদিন কিভাবে ঘুমিয়েছ....??
-একটা কথা আছে না....!! মানুষ থাকতে কষ্ট করে কেন...??
-মানে....??
-মানে...তোমার বুঝার দরকার নেই..!! এতদিন তুমি ছিলে না বলেই তো আজ চলে এসেছি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে তোমার কাছে....!!
-হু.....ঢং করে।।। এই যে মিস্টার, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসার পথে কোন সাগর নেই।।
-আরে বাবা এটাতো কথার কথা।।
-আচ্ছা ওসব বাদ দাও!! এখন তুমি এখানে বস.....!! অনেকদিন যাবত তোমাকে ভালো
করে দেখি না।। (শ্রেয়াকে বিছানায় বসিয়ে চোখের উপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে
দেয় শুভ)
-তুমি কিন্তু খুব দুষ্ট হয়েছ... আগের থেকে।। কোন কিছু মানতে চাওনা এখন...!!
-কি মানব....!! আমার বউকে আমি আদর করতে পারি না.....!! এতে দুষ্টর কি হল....??
-পার...তো। কিন্তু একটু বেশি বেশি না তো....??
-কাল তো তোমার ক্লাস নেই.....??
-হুমমম, নেই।
-তাহলে কালকে আমরা ঘুরতে যাব আর শপিং করব ঠিক আছে...!!
-হুমমমম।।
-এখন তাহলে আমান বুকে মাথা রেখে ঘুমাও.....!!
তারপর শুভ শ্রেয়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল টেরও পায়নি।।
.
পরদিন সকালবেলা.......
-এই উঠো.....উঠো না কেন.....উঠো.....!! দেখ সকাল ৯ টা বেজে গেছে.....!!(শ্রেয়া)
-হু.......?? (শুভ)
-উঠো....তাড়াতাড়ি উঠো!! তুমি না আজ ঘুরতে নিয়ে যাবে...!!
-হুমমম, নিয়ে যাব তো।। এখন একটু ঘুমাতে দেও.....!!
-কখন যাব...?? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো....!! উঠো....!!
-ওফ........!! ডিস্টার্ব করছ কেন সোনা....!! একটু ঘুমাতে দাও প্লিজ..........!!
-আমি কিন্তু পানি ঢেলে দিব।।
-ইস.......তোমার যন্ত্রণায় একটু ঘুমাতেও পারব না।। আমি একাই ভালো ছিলাম...!! অন্ততপক্ষে এই সকালবেলা কা কা শুনতে হত না।।
-উঠবে তুমি.....??
-আরে বাবা, উঠছি তো...!!
.
তারপর...........
স্বামী-স্ত্রী মিলে দু'জনের রোমাঞ্চকর ঘটনার মধ্য দিয়ে অনেক ঘুরাঘুরি এবং শপিং হল.....!!
বিকাল ৫টায় শ্রেয়াকে বিদায় দিয়ে শুভ ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
আরোও একবছর শ্রেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে শুভ'র। তারপর দুজনে একসাথে
সংসার করার সুযোগ হবে।। তার আগ পর্যন্ত তাকে এভাবেই শ্রেয়ার কাছাকাছি আসতে
হবে।।







0 comments:
Post a Comment