আমি রুপার হাতটা দু"হাত দিয়ে আকঁড়ে
ধরলাম। রুপা একটু অবাক চোখে আসার দিকে
তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। আমি রুপাকে
বলি,
-আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বললে রাখবে
তো।
-কী বলো।তোমার সব কথাই আমি রাখবো।
-তুমি তো জানো আমার চাচা বাদে এই
পৃথিবীতে আর কেউ নাই। আর এখন তুমি আসার
পর আমার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছো।
তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো?
আমার কথা শুনার পর রুপা তার হাত আমার
হাতে উপর রেখে হাসি মুখে বললো,
- তোমাকে ছেড়ে আমি কখনো কোথাও
যাবোনা প্রমিজ।
সেদিন হয়তো আমি রুপার হাসিমাখা
চেহারা দেখে তার কথায় আমি বিশ্বাস করে
ফেলেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি যে সবসময়
আমার পক্ষে থাকবে না সেটা আমার মাথায়
আসে নি।
.
-এই কী ভাবছো।
মিথিলার ডাকে অতীত থেকে আমি বাস্তবে
ফিরি।
-নাহ কিছুনা।
-এই নাও তোমার চা। আজ অফিস থেকে এতো
তাড়াতাড়ি চলে আসলে যে।
-মাথাব্যথা করছে তাই।
-মাথা টিপে দেই চলো।
-নাহ লাগবে না।
-আরে চলো তো।
মিথিলা আমার হাত থেকে চায়ের কাপটা
টেবিলে রেখে হাত ধরে আমাকে বিছানায়
নিয়ে শুয়ে দিলো। তারপর সে মাথায় ভিক্স
লাগিয়ে মালিশ করতে থাকে।
.
আজ প্রায় দু"বছর পর হঠাৎ করে রুপার সাথে
এভাবে দেখা হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি।
দুপুরে আমি আর মিথিলা করতে বেরিয়ে
ছিলাম। তারপর একটা শপিং মলে রুপাকে
দেখতে পাই। আমরা দুজন দুজনকে দেখে
চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা। তারপর রুপা
আমার সামনে এসে কথা বলে।
-আরে নিলয় তুমি।কেমন আছো।
রুপা তার হাতটা বাড়িয়ে দেয় হ্যান্ডসেক
করার জন্য। কিন্তু ঐ হাত ধরে আমি আর
দ্বিতীয় ভুল করতে চাই না। তখনি রুপার পাশে
একজন পুরুষ এসে দাড়ায়। রুপা তার দিকে
তাকিয়ে বলে,
-ও আমার ভার্সিটি লাইফের ফ্রেন্ড।
রুপা আমাকে বলে,
-এটা আমার হাজবেন্ড।
লোকটা হাসিমুখে আমার সাথ হ্যান্ডসেক
করে। তারপর রুপা আমাকে বলে,
- তুমি বিয়ে টিয়ে করো নি।
আমি কিছু বলতে যাবো তখনি মিথিলা
আমার পাশে এসে দাড়ায়। তারপর আমি
মিথিলাকে বলি,
- এই সেই রুপা! যার কথা তোমাকে আমি বলে
ছিলাম।
আর রুপাকে সম্মোধন করে বলি,
- রুপা এই আমার স্ত্রী মিথিলা। আচ্ছা এখন
তাহলে যাই, আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমি ওখানে আর এক মূহুর্ত থাকলাম না।
কারণ মিথিলা অনেক রাগী মেয়ে কখন কি
বলে দিবে, তাই ও কে নিয়ে ওখান থেকে
আমি চলে আসি।
.
-কী ঘুমিয়ে পড়েছো।
-না।
-এখন কেমন লাগছে?
-আগের থেকে ভালো।
- আচ্ছা তুমি শুয়ে থাকো। আমি তোমার জন্য
আরেক কাপ চা নিয়ে আসি। একদম উঠবে না
বলে দিলাম।
.
ঐখান থেকে থেকে আসার পর মিথিলা
আমার সাথে ঐ ব্যাপারে আর কোন কথা বলে
নি।এই মেয়েটা আমাকে এতো ভালোবাসে
যে মাঝে মাঝে ওর প্রতি হিংসে হয়। আমার
নিজে ভিতরেই প্রশ্ন জাগে আমি কী কখনো
মিথিলাকে ওর মতো করে ভালোবাসতে
পারবো।
.
একটু পর মিথিলা হাতে করে এক কাপ গরম চা
করে নিয়ে আসলো। মিথিলা আমার পাশে
বসে আছে। আর আমি একটু একটু করে চায়ের
কাপে চুমুক দিয়ে চলেছি। তারপর মিথিলা
বললো,
-আচ্ছা কাল অফিস থেকে আসার সময় আমার
জন্য কিছু আচার নিয়ে আসতে পারবা।
- আঁচার দিয়ে কি করবা?
-পরে বলবো। তুমি কাল নিয়ে আসবা।
- না এখনি বলো।
-তাহলে মাথাটা এদিকে নিয়ে আসো বলছি..
মিথিলা আমাকে কানে কানে যা বললো তা
শুনে আমার ভেতরে আনন্দের জলোচ্ছ্বাস
বইতে থাকে। তার আমি মিথিলার হাত ধরে
বললাম,
- এটা সত্যি?
-হ্যা।
-কতবড় হয়েছে, নড়েচড়ে।আমাকে আব্বু বলে
কবে ডাকবে।
-ধ্যাত কি বলো বুদ্ধু, হাঁদারাম একটা।আরো
অপেক্ষা করো।
-কতদিন ওয়েট করতে হবে।
-কাল ডাক্তারের কাছে যাই তারপর জানতে
পারবা। এখন চলো টেবিলে খাবার দিচ্ছি।
মিথিলা বিছানা থেকে উঠতে যাবে তখনি
আমি ওর হাতটা ধরে ফেলি।
- এই ছাড়ো টেবিলে খাবার দিতে হবে।
- না ছাড়বো না।
- না ছাড়লে আজ উপোস থাকবা, আর বাবুটাও
উপোস থাকবে।
-এই না না উপোস থাকা চলবে না।
- তাহলে হাত ছেড়ে টেবিলে আসো।
মিথিলা চলে যাচ্ছিল। আমি ওকে আবার
ডাকি।
-মিথি শুনো।
-কী বলো।
আমি বিছানা থেকে উঠে মিথিলার সামনে
দাড়ালাম। তার পর ওর কপালে আলতো করে
একটা চুমু এঁকে দিয়ে বলি "ভালোবাসি"।
মিথিলা লজ্জা পেয়ে আমার বুকে মুখ
লুকিয়ে একটু পর বললো,
-আমি ভালোবাসিনা তোমার মতো
হাঁদারামকে, হুহ।
এটা বলে মিথিলা ভেংচি কেটে চলে যায়।
.
এই মেয়েটার ভালোবাসিনা কথার মাঝেও
অনেক ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।
.
লিখাঃ তারেক আজিজ।







0 comments:
Post a Comment