ফেসবুকে আমি সারা জীবন নারীতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছি । নারীদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি আর কপালের কি খেল, আমার বস একজন মেয়ে । উপরওয়ালা মনে মনে হেসেছে আর বলেছে "দাড়া তোকে মজা দেখাই" ।
যদিও বস মানে এই না যে সে আমাকে হুকুম করবে আর আমাকে সেইটা করতে হবে । আমার ডিপার্টমেন্ট আমার কাছে । এভাবে প্রত্যেকের কাজ আলাদা । তবুও মেয়েটার পজিশন আমার থেকে একটু উপরে । বেতনও আমার থেকে একটু বেশি ।
প্রথম প্রথম মনে হত চাকরি ছেড়ে দেই । কিন্তু এমন চাকরী ছাড়তে বুকের পাজড়ের হাড় বেশ বড় হওয়া লাগে । আমার এখনও সেই হাড় তত বড় হয় নাই ।
যাক তবুও চেষ্টা চলছে । চাকরি ছেড়ে দিব একদিন ।
তবে মেয়েটার সম্পর্কে আর যাই বলি না কেন, মানে ঈশিতার সম্পর্কে আর যাই বলি না কেন, মেয়েটা কিন্তু আসলেই এই পদটার জন্য যোগ্য । এমআইটি থেকে পড়ে এসেছে । তার যেনতেন রেজাল্ট নিয়ে না । এমন মেয়েগুলো সত্যি আমাদের দেশে আরও কিছু থাকে তাহলে দেশে মেয়েদের চেহারা বদলে যাবে । কিন্তু সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ । অর্ধেক নারী । সেই অর্ধেক নারীর ভেতরে এই ঈশিতার মত ক'জন থাকে ?
হাতে গোনা কয়েকজন ।
আমার ফেসবুকে নারী বিরোধী পোস্ট গুলো আমার অফিসে বেশ জনপ্রিয় । আমি একেক দিন একেকটা পোস্ট দেই আর সেগুলো নিয়ে অফিসের ফাঁকে ফাঁকে গছিপ হয় । কেউ কেউ কেবল মজা করে আবার কেউ কেউ খুব সিরিয়াস হয়ে যায় । বিশেষ করে দু তিন জন মেয়ে আছে তারা । আমি অবশ্য এসব কিছু মনে করি না । আমার তর্ক করতে মজাই লাগে । আর আমার মনে হয় ঈশিতাও ঠিক ঠিক আমার ফেসবুকের কথাবার্তা লক্ষ্য করে । তার আচরনে তাই মনে হয় । একটু যেন আমার প্রতি শত্রু ভাবাপান্ন । অবশ্য আমি তাতে কিছু মনে করি না । নারী বিরোধী লেখার কারনে সেটা অনেকেই মনে করে । তবে অনেকে মেয়ে কিন্তু সেটা পছন্দও করে । যাই হোক ।
ঈশিতার সব কিছুতেই আমাকে একটা ঝাড়ি মারার চেষ্টা থাকে । কিন্তু সেই সুযোগ আমি তাকে খুব কম দেই । আমার কাজ আমি খুব ভাল করেই বুঝি । বিনা করনে অবশ্য সে আমার উপর ভাব নেয় না । তবে মাঝে মাঝে আমিও সুযোগ খুজি । একদিন সুযোগ পেলে আমিও তাকে দেখে নেব । একদিন সেই সুযোগ এসে হাজির ।
ঈশিতা আমার বস হলেও তার উপরেও বস আছে । তাকে বিভিন্ন এসাইনমেন্ট দিয়ে থাকে । একদিন ঈশিতা আমাকে তার ডেস্কে ডেকে আমাদের কোম্পানীর কিছু প্রোজেক্টাল কাজ করতে দিল । আসলে এটা আমার ডিপার্টমেন্টেরই কাজ । বিশেষ করে আমার কাজ ।
ঈশিতা আমাকে বলল
-এটা কাজ টা করে দিতে হবে ।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে লক্ষ্য করে দেখলাম যে ঈশিতার কন্ঠে সেই আগের মত মনভাব নেই । সেখানে একটা অনুরোধে সুর রয়েছে । আমি বললাম
-সমস্যা নেই । এটা তো আমারই কাজ । কবে দিতে হবে ?
-কাল সকালে ।
-কি ।।।।।
আমি কিছু সময় ঈশিতার দিকে তাকিয়ে রইলাম ।
-কাল সকালে ? এক সপ্তাহের আগে এই কাজ করা সম্ভব না । কোন ভাবেই না । এটা আপনি যেমন জানেন আমি জানি ।
-দেখুন এটা জরুরী ।
-জরূরী বললেই তো আর হবে না । এক সপ্তাহ সময় দিন তাহলে আমি সানন্দে কাজটা করে দিচ্ছি । কালকে হলে আমি নাই ।
আমি ভেবেছিলাম ঈশিতার আমার উপর চিৎকার চেঁচামিচি করবে । বসের কাছে রিপোর্ট করবে । কিন্তু সে রকম কিছু হল না । একটু অবাকই হলাম । এমন তো হওয়ার কথা না । নিশ্চয়ই এর ভেতরে কোন কিন্তু আছে ।
খোজ নিতে গিয়ে আসল রহস্য বের হয়ে এল । আসলে কাজটা আমারই করার কথা ছিল । আমার সবার যে বস, সে আমাকে দেওয়ার কথাই বলেছিল কিন্তু ঈশিতা নাকি নিজে আগ্রহ নিয়ে কাজটা নিয়েছে । বলেছে সে পারবে । কারনটা বুঝতে আমার মনেই কষ্ট হল না ।
কিন্তু আসল ব্যাপার কি, একজন মানুষ যতই যোগ্য হোক না কেন, কিছু ব্যাপার এমন আছে যে সেই লাইনের লোক ছাড়া অন্য কেউ সেটা পারে না । যেমন আমি হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারি, অন্য যে কোন কিছু রান্না করতে পারি কিন্তু আমার মায়ের মত চমৎকার ভাবে ডাল রান্না করতে আমি কোন দিন পারবো না । আমার উচিৎ যে ডালটা কিনে এনে মায়ের হাতে দেওয়া যেন তিনিই রান্না করেন । নিজে যদি মাতব্বারী করে ডাল রান্না করতে যাই তাহলে ফলাফল টা কিছুতেই ভাল হবে না ।
কিন্তু কিছু কিছু মানুষ এটা বুঝে না । বুঝে ভাল, এবার ঝামেলা সামলাও ।
সন্ধ্যায় অফিস থেকে বের হতে গিয়ে একবার ঈশিতার কেবিনে উকি দিলাম । সে তখনও কেবিনে । জানি আজকে সে বাসায় যেতে পারবে না । কি যে হল ঠিক বুঝলাম না । আমি ঈশিতার কেবিনে ঢুকলাম । হাতের ব্যাগটা এক পাশে রেখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম
-রাতে আমি বিরানী খাবো । সাথে কোকাকোলা । আর যদি একটা আইসক্রিম থাকে তাহলে একটু ভাল হয় ।
আমার কথা বুঝতে ঈশিতার খুব একটা কষ্ট হল না । একটু অবাক হলেও নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো ।
-আমি ব্যবস্থা করছি ।
-থ্যাঙ্কিউ । আপনার চেয়ারে বসলে সমস্যা হবে না তো ? নাকি আমি আরেকটা চেয়ার এনে বসবো ।
ঈশিতা বসতে ইংগিত করলো ।
ঐদিন যখন সব কাজ শেষ করলাম তখন প্রায় ভোর হয়ে গেছে । ওকে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে সকাল বেলা বাসায় চলে গেলাম । পরদিন অফিসে এসে বুঝলাম অবস্থা একটু পরিবর্তন হয়েছে । অন্তত ওর মনভাব একটু পরিবর্তন হয়েছে । দুপুরে আমাকে সে লাঞ্চ করালো । এক পর্যায়ে বলল
-আপনি তো খুব নারী বিরোধী । তা আমাকে সাহায্য করলেন কেন ?
-তাই কি উচিৎ না ? পুরুষেরা তো তাই করে ।
আমার কথায় কিছু ছিল দেখলাম ওর মুখ কালো হয়ে গেল । আর কথা বলল না ।
পরের দুই দিন ফেসবুকে আমি সামনে দিতে থাকলাম আমার পছন্দমত পোস্ট । তৃতীয় দিন ঈশিতা এসে হাজির । আমার দিকে রাগত স্বরে বলল
-আপনি মেয়েদের ভেবেছেন কি ? পেয়েছেন কি ?
-আমি কি পাবো ?
-আপনার মনভাব এমন কেন শুনি ?
-কেমন ?
-কেমন মানে আপনি জানেন না ? আপনার কি মেয়েদের পেছনে লাগা ছাড়া আর কোন কাজ নেই ?
-আরে আজিব । আমি তো আমার কাজই করই কি । আপনাদের পেছনে লাগলাম কিভাবে ? এখন আমার কথার মাঝেখানে যদি আপনারা চলে আসেন তাহলে আমার কি করার আছে বলুন ।
ঈশিতা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল
-চলুন আমার সাথে ।
-কোথায় ?
-কাজী অফিসে ?
-কেন ? সেকি ।
-আপনি যে ধারনা গুলো পেষন করে আজকে সেগুলো ভুল প্রমানিত করবো । আপনি সেদিন কি বলেছিলেন যে একজন মেয়ে সব সময় তার থেকে উচু লেভেলের কারো সাথে বিয়ে করে । সংসারে স্বামী অবদান বেশি থাকে । দেনমোহর । এন্ড অল দ্যাট বুল শিট ইউ টক এবাউট । আসুন । আজকে আপনার সব ধারনা ভুল প্রমানিত করে দিবো ।
তার মানে এই ঈশিতা ঠিকই আমার ফেসবুক ফলো করে । আমি যা যা করি কিংবা বলি সব কিছু মাথায় রাখে । ভাল তো । আমি খানিকটা হেসে বললাম
-আপনি পাগল হয়ে গেছেন । রাইট ।
-না পাগল হয় নি । সেদিন বিয়ে নিয়ে মেয়েদের সম্পর্কে আপনার মনভাব পড়ে আমার মেজা গরম হয়ে গেছে । আপনি নিজেকে ভাবে কি ?
-এটার মানে এই নয় যে আমাকে আপনার বিয়ে করতে হবে । তাই না ?
-নাকি ভয় পাচ্ছেন ? ভয় । আসলে জানি তো আপনাদেরকে । এরপর থেকে এই রকম পোস্ট দেওয়ার আগে কে ভয় পেয়েছিল মনে রাখবেন ।
এর আর চুপ করে থাকা যায় না । মেয়েদের কে ভয় ।
উঠে বললাম
-চলেন ।
যদিও জানি কাজটা মোটেই ভাল হচ্ছে না তবুও মেয়েদের কে ভয় ।। অসম্ভব ।
সত্যি সত্যি ঈশিতার সাথে বিয়ে করে ফেললাম ।
১ টাকা দেনমোহরে ।
আমাদের সংসারও শুরু হল অন্য ভাবে ।
আমাদের বাসর রাতেই ঠিক হল পরিবারের কোন কর্তা থাকবে না । সব দায়িত্ব হবে সমান ভাবে । অধিকারও ঠিক হবে একেবারে সমান সমান ।
আমাদের সব কিছু সংসার খরচ থেকে শুরু করে বাজার করা পর্যন্ত একেবারে সমান ভাবে হতে লাগলো । আমি যা করি ঈশিতাও তাই করে । মাস খানেক যাওয়ার পরে মনে হতে লাগলো আমি কি আসলেই সংসার করছি । নাকি কোন কম্পিটিশনে আছি । জেদের বসে কি করে বসলাম । আসলে মানুষ রাগ কিংবা জেদ করে যে কাজ গুলো করে তার কোন টাই ঠিক হয় না । ইশিতা নিজে জেদ করে কাজ টা করেছে আমি নিজেও সেরকম টাই করেছি ।
তবে একটা কথা বলতেই হবে যে ঈশিতা রান্না খুব চমৎকার করতো । যদিও প্রতিদিন রান্না করার সময় ছিল না তার তবে রান্নার হাত ছিল চমৎকার । ছুটির দিন গুলোতে সে রান্না করতো । আমি ওর রান্না খেয়ে মুগ্ধ সত্যি বলতে কি ।
এভাবের দিন যেতে লাগলো । অফিস করি । বাসায় আসি । খাওয়া দাওয়া করে ঘুম । বিয়ের আগে আর বিয়ের পরের জীবন খুব একটা পরিবর্তন হল না । কিন্তু একদিন ছন্দ পরিবর্তন হল ।
আমার মাঝে মাঝে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসতো । একদিন থাকতো । তারপর আবার ঠিক । অন্য কোন সময় মনে না হলেই এই সময়ে আমার কেন জানি নিজেকে খুব বেশি অসহায় লাগলো । বাসায় যাওয়ার উপায় ছিল না কারন এক দিনের জন্য এতো দুরে যাওয়া যায় না । কিন্তু মায়ের কথা মনে হত খুব । একা একা ঘরে পড়ে থাকতাম ।
এবভার যখন জ্বর এল আমার বেহুসের মত পরে রইলাম । বিকেলের দিকে যখন একটু হুস আসলো দেখি ঈশিতা আমার মাথায় পানি ঢাকছে । আমার মাথা মুছে দিচ্ছে । সন্ধ্যার দিকে আমাকে জোর করে স্যুপ খাওয়ালো । আমি কিছুতেই খাবো না, সে আমাকে না খাইয়ে ছাড়বেই না । শেষে আমাকে খেতেই হল ।
বিয়ের পর এই প্রথম বারের মত ওকে সেদিন রাতে জড়িয়ে ঘুমালাম । ও আপত্তি করলো না । ওর শরীর নরম গন্ধেই যেন আমার শরীর আরও একটু দ্রুত ভাল হতে লাগলো । অন্যান্য বার জ্বরের সময় আমার নিজের কাছে যেমন অসহায় লাগতো এবার তেমন লাগলো না । মোটেই লাগলো না ।
পরদিন সকালেই আমি মোটামুটি সুস্থ্য হয়ে গেলাম । তবুও শুয়েই ছিলাম ।
ঈশিতাকে দেখলাম তৈরি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য । আমি বললাম
-কোথাও যাও ?
-অফিস ।
-যেতে হবে না ।
-কেন ?
-আমি বললাম এই জন্য ।
-শুনো আমি তোমার বস । তোমার কথা শুনবো কেন ? আর আজকে তোমার শরীর বেশ ভাল ।
-বস । তাই ?
ওর হাত ধরে ওকে খাটের উপর বসালাম । তারপর ওর কোলের উপর মাথা রেখে বলল
-আজকে যেতে হবে না অফিসে ।
-এমন কেন করছো ? এমনিই ককালকে না ছুটি নিয়েই অফসি যায় নি । আর .....
-বলেছি না, যেতে হবে না ।
ঈশিতা হেসে বলল
-কি ব্যাপার আমার নারী বিদ্বেষী স্বামীর আজকে যেন খুব নারী প্রেম জেগে উঠেছে । শুনো । দ্য কন্ডিশনস ইস্টিল রিমেইন ।
-কি ।
আমি উঠে গিয়েই ওকে বলতে গেলে চেপে ধরলাম । বালিশের সাথে ওর দুহাত দুদিকে চেপে ধরে বলল
-কি বললে ?
-বললাম দ্য কন্ডিশা.........
ওকে আর কথা বলতেই দিলাম না । তবে এতে খুব একটা আপত্তি করলোও না ।
তারপর থেকেই আমাদের সম্পর্ক আশ্চর্যজনক ভাবে বদলাতে শুরু করলো । আমি যদি ফেসবুকে আমার কাজ করা বন্ধ করলাম না, কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনটা অন্য রকম ছিল । আমি একেক বার পোস্ট লিখতাম ঈশিতা সেটা পড়তো আর হাসতো । তখন ও আর অবাক হত না । বিশেষ করে ও নিজেই মাঝে মাঝে অনেক আইডিয়া দিত । অবশ্য সম্পর্কটা আরও কাছের হয়েছিলো আরও একটা কারনে ।
অফিসের একটা কনফারেন্সই ঈশিতাকে চট্টগ্রামে যেতে হয়েছিল । আমি ওকে যেতে দিবো না কিছুতেই । অবশ্য সে আমার কথা শুনবে কেন ? এই নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটি হয়ে গেল নিজেদের ভেতরে । আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞস করলো আমি কেন রাজী হচ্ছি না । আমি অবশ্য বললাম না কেন । কোথায় যেন একটু বিব্রত লাগছিল কারনটা বলতে । ও আমাকে রেখেই চলে গেল ।
যাওয়ার পর থেকেই ওকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলাম । ও কোথায় ? কেমন আছে কোন হোটেলে থাকছে । আমাকে বারবার বলল যে সে ভাল আছে চিন্তার কোন কারন নেই । কন্ফারেন্সে ঢুকার আছে বলল যে ফোন বন্ধ থাকবে । বেরিয়ে ও ফোন দিবে । ওকে বললাম যে বেরুনোর সাথে সাথে যেন ফোন দেয় ।
কাজ শেষ করেই ফোন দিল ।
-সব ঠিক ছিল ?
-হুম । সবই ঠিকই ছিল । তুমি ? আচ্ছা বলতো তুমি এতো চিন্তা কেন করছো ?
-করছি কারন ......
-হুম । কি কারন ?
-কারন টা এখনই বলতে হবে ?
-হুম । নাকি ঢাকায় আসলে তারপর বলবা ?
-না মানে আমি ফোনে বলতে চাচ্ছি না ।
-তাহলে ......
তাহলে বলেই ঈশিতা আটকে গেল । আমি ঠিক তখন ওর সামনেই দাড়ানো । আসলে সত্যি বলতে কি ঐ দিন রাতে কিছুতেই আমার ঘুম আসে নি । পরদিন সকালেই প্রথম ফ্লাইট ধরে চলে এসেছি ।
ঈশিতা ফোন রেখে কিছুটা সময় আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । ওর মুখে আনন্দমাখা হাসি দেখে আমার নিজের কাছে অদ্ভুদ রকম ভাল লাগলো । এমন সময় ঈশিতা আরেকটু পাগলামো করলো । আমার দিকে একটু দৌড়ে এসেছি আমাকে জড়িয়ে ধরলো । এতো গুলো মাঝে ছিল আসে পাশে সেদিকে আমাদের কারো খেয়াল নেই । আমাকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় ঈশিতা বলল
-নারীবিরোধী স্বামীর জন্য এতো স্ত্রী প্রেম কিন্তু ভাল না । বুঝছো । দ্য কন্ডিশনস .....
-স্টিল রিমেইন ?
কন্ডিশন তো অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে । ঈশিতা বলল
-আর যদি সত্যি মুখ ফুটে বলতে এখানে আমাকে কেন আসতে দিতে চাও নাই আমি কিন্তু আসতাম না । কিন্তু তুমি তো বল নাই । আর শেষে এখানে এসে হাজির । তা জনাব হারটা কার হল শুনি ?
-হুম । পুরুষতন্ত্র আর নারীতন্ত্র আপাতত এক পাশে সরিয়ে রাখি ।
ঈশিতা কিছু না বলে হাসলো । তারপর বলল
-কেন এতো চিন্তা কর শুনি ? আমি ছোট খুকি না ।
-আই নো । কিন্তু চিন্তা করি এই জন্য না যে তুমি সব কিছু ঠিক মত সামলাতে পারবে না । চিন্তা করি বিকজ আই কেয়ার । উই কেয়ার । যদি তোমার কোন বিপদ হয় আর সেখানে আমি না থাকি তাহলে আমি সারাজীবন নিজের কাছে নিজে অপরাধি হয়ে থাকবো । আমার কেবল মনে হবে তোমার পাশে আমার থাকার দরকার ছিল কিন্তু আমি ছিলাম না । আমি.......
আমাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে হাত দিয়ে আমাকে চুপ করে দিল ।
-দ্য কন্ডিশনস স্টিল রিমেইন ?
-উহু ।
তারপর থেকে ..... যদিও এখনও আমার বউ আমার নিজের বস হয়ে আছে কিন্তু .......
থাক কিছু না কথা থাক না গুফুনে.....







0 comments:
Post a Comment