Friday, August 25, 2017

সত্যি সত্যি তাহলে বিয়ে হতে যাচ্ছে আজকে

-এতো রাইতে এই খানে কি করেন ?
আমি এক মনেই একটা দিকে তাকিয়ে ছিলাম । ঘড়িতে রাত একটার কিছু বেশি বাজবে হয়তো । পকেটে মোবাইল রয়েছে, বের করতে ইচ্ছে করছে না । প্রশ্ন কর্তার দিকে ফিরে চাইলাম । ফিরে তাকিয়ে দেখি প্রশ্ন কর্তা একা নন । তার সাথে আরও একজন আছে । পরনে খাকি পোষাক তবে পুলিশের না, নাইট গার্ডের । সাথের জনের এক হাতে বড় একটা চায়ের ফ্লাক্স অন্য হাতে একটা বালতি । যে হাতে ফ্লাক্স ধরা সেই হাতেই একটা পলিথিনের প্যাকেকে সিগারেটের অনেক গুলো প্যাকেট ।
আমার পরনে অনামিকার দেওয়া কালো রংয়ের একটা পাঞ্জাবী । মোটামুটি বেশ ভাল দামী । এই পোশাকে আমাকে মোটামুটি নিরীহ আর ভদ্র মনে হয় । আমি মোটামুটি মুখটা নীরিহ করে বললাম
-কিছু না বসে আছি ।
-এইখানে কি ?
-দেখছেন না বসে আছি । হাটছিলাম । হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে গেছি তাই বসে জিরিয়ে নিচ্ছি ।
আমার কথা শুনে মনে হল না নাইটগার্ড সাহেব খুব একটা বিশ্বাস করলেন । আমার দিকে সন্দেহের দিকে তাকাতে লাগলেন । নিশ্চয়ই আমাকে নেশা খোর মনে করছে । যদিও তা মনে করার কথা না ।
-কতক্ষন বইবেন ?
-সেই তো বলা মুশকিল । যতক্ষন ভাল লাগে ।
ভ্রাম্যমান চাওয়ালার সাথে কি যেন আলোচনা করে নিল সে । মনে হয় আমার দিকে তাকিয়ে একটু দ্বিধায় পরে গেছে । তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-এইটা ভদ্দোর লোকের এলাকা ।
-আপনার কি মনে হয় ? আমি কি অভদ্রলোক ?
-ভদ্দোর লোকেরা এতো রাতে বাইরে থাকে না । যান যান ।
এই কথা বলেই নাইট গার্ড হাটা দিতে উদ্ধত হলেই আমি বললাম
-আচ্ছা । যাচ্ছি । আগে এক কাপ চা খেয়ে নেই তারপর যাই ।
তারপর চাও্য়ালার দিকে তাকিয়ে বললাম
-চা সাহেব, তিন কাপ চা বানান । ভাল করে ।
তিন কাপ শুনে দুজনেই আবারও আমার দিকে তাকিয়ে একটু অবাক হয়ে । সোডিয়াম লাইটে আমি সেই চেহারা দেখতে পাচ্ছি স্পষ্ট । চা ওয়ালার মনে স্পষ্ট দ্বিধা । আমি মানুষ একজন চা বানাতে বললাম তিন কাপ । ঘটনা কি ।
আমি বললাম
-আরে আমি এক কাপই খাবো ।
-তাহলে বাকি দুইকাপ ?
চাওয়ালার প্রশ্ন ।
-একটা এই গার্ড সাহেবের জন্য । সারা রাত এতো কষ্ট করে মানুষ কে পাহারা দেয় । আমি কি তাকে এক কাপ চা খাওয়া তে পারি না । আর অন্য কাপ আপনার জন্য চা সাহেব ।
চা চলে এল আধা মিনিটের ভেতরেই । দেখলাম দুজনেই এক সাথে বসে চা খেতে শুরু করেছে । বসেছে আমার থেকে একটু দুরে । আসলে অনেকের সাথেই নাইট গার্ডের নিশ্চয়ই দেখা হয় । কেউ মনে হয় এতো রাতে এদের কে এমন ভাবে চা খাওয়াই নি ।
আমি নাইট গার্ডের দিকে তাকিয়ে বললাম
-দেশ কোথায় গার্ড সাহেব ?
-বিক্রমপুর ।
-আরে সর্বনাশ । তাই নাকি । আপনি দেখি দেশি লোক । আসেন পাশে এসে বসে । নাম কি আপনের ?
-সোলাইমান ইসলাম ।
-আরে সোলাইমান ভাই । এই ইট কাঠের শহরে বিশেষ করে এই রাতের বেলা নিজ লোক পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার । আসেন আসেন ।
আমার দেশ বিক্রমপুর, এই জন্যই মনে হয় গার্ড সাহেব আমার পাশে এসে বসল । আমি বললাম
-আপনে দেশী লোক তাই আপনেরে বলি কথাটা । মনটা বিশেষ খারাপ ।
-ক্যান ?
-আজকে আমার বিয়ে ছিল ।
-বিয়া ।
-হুম। বিয়ে । একটা মেয়ে কে বিয়ে করার কথা ছিল ।
-হয় নাই ?
-নাহ ।
-বাইচ্চা গেছেন । বিয়া বড় ঝামেলার কাজ । যারা করছে তারা বড়ই ঝামেলায় আছে ।
বোঝা গেল গার্ড সাহেবের বিয়ে বিষয়ক খুব ভাল অভিজ্ঞতা নেই । আমি চাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বলল
-আপনারও কি তাই মনে হয় চা সাহেব ?
চাওয়ালা কিছু বলল না । তবে কেমন মিষ্টি করে হেসে দিল । যেন জবাব দিতে লজ্জা পাচ্ছে ।
গার্ড সোলাইমান বলল
-ওর কথা কইয়েন না । আস্তা বউ পাগলা । বউ যা কয় তাই শুনে । বউয়ের কথায় নাচে । নতুন বিয়া করছে না এইজন্য এতো মজে আছে । কদিন কাজ না, তারপর টের পাইবো ।
চাওয়ালা প্রতিবাদ করে বলল
-মোটেই টা না । আমি মেলা দিন বিয়া করছি । ভাইজান কন আমার বিয়ে হইছে সেই ভাদ্র মাসে । আরেক ভাদ্রমাস আইলো বইলা । এইডা কি নতুন হইলো কন ?
--না মোটেই না ।
-তাইলে ?
গার্ড সাহেব কিছু না বলে চায়ে চুমুক দিতে লাগলো । আমি গার্ডকে বলল
-সিগারেট চলে নাকি ?
মুখে কিছু না বললেও মনে হল সে সিগারেট খায় । আমি চাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বলল
-গার্ড সাহেব কে একটা সিগারেট দেন । আপনেও একটা নেন । আজকে আমার বিয়ে হয়নি তো এই খুশিটা সেলিব্রেট করা যাক কি বলেন ।
সিগারেট মুখে নিয়েই সোলাইমান মিয়া বলল
-বিয়া ক্যান হইলো না ? মইয়া বাইকা বসছে ?
-নাহ । মাইয়া সোজাই ছিল ।
-তাইলে ?
-আমি বাইকা বসলাম ।
-মানে কি ? ক্যান ?
-আরে কি বলেন ? একটু আগেই না আপনে কইলেন বাইচ্চা গেছি এখন আবার ক্যান কন ক্যান ?
-আরে আমি কইবার চাইছি আপনে মানা করলেন ক্যান ?
কিছুটা সময় চুপ করে রইলাম ।
-কোন কারন নেই । বিয়ে করতে ইচ্ছে করে নি তাই । একবার না । এই নিয়া ৬ বার মানা করছি । ভাবতে পারেন একটা মেয়ে ছয় ছয়বার আপনাকে বিয়ে করার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে এবং আবার ফিরে গেছে শূন্য হাতে !
আমি কথাটা বলে শূন্য দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকালাম । আমাশে যেন আজকে খুব বেশি ঝলমল করছ । চারিদিকে তারার মেলা । একটা ব্যাপার আমি বেশ ভাল করে দেখেছি প্রতিবার অনামিকা আমাকে যকন বিয়ে করতে আসে আর ফিরে যায় সেদিন রাতে খুব ভাল জ্যোঁছনা থাকে । যেন জ্যোঁছনার বন্যা বয়ে যায় । এমন কি ঘন বর্ষার সময়ও অনামিকা একবার আমাকে বিয়ে করার জন্য বাসা থেকে চলে এসেছিল । সেদিন রাতেও আকাশে উজ্জল জ্যোঁছনা ছিল । আর ছিল হাজারও তারার মেলা ।
কিছু সময় কেউ কোন কথা বলল না । সামনের রাস্তা দিয়ে ভুস করে একটা গাড়ি চলে গেল । সোলাইমান মিয়া বলল
-আপনেই সেই মাইয়া কি এই এলাকায় থাকে ?
আমি জবাব না দিয়ে অনামিকাদের বাড়ির দিকে তাকালাম । বেশ রাত হয়েছে অথচ এখন ওদের বাসার সব গুলো লাইট জ্বলছে । এমন সাধারনত হয় না । অনামিকা রাত জাগলেও ওর বাবা জলদি জলদিই ঘুমিয়ে পড়ে । আজকে কি সবাই জেগে রয়েছে ?
কেন ?
এমন কথা ভাবতে ভাবতেই ফোন বেজে উঠলো । রিংটোন শুনে বুঝে গেলাম অনামিকা ফোন করেছে ।
অনামিকা সাধারনত এতো জলদি রাগ ফেলে আমাকে ফোন করে না । আমি তো ভেবেছিলাম ও অন্তত দুই তিন দিনের আগে ফোন করবে না ।
-হ্যালো ।
-হুম ।
-এখনও ঘুমাও নাই ?
-দেখতে পাচ্ছো না ?
-আচ্ছা । আচ্ছা । রাগ কর না প্লিজ । আমি আসলে তোমাকে এখন আশা করি নি । আমি তো ভেবেছিলাম যে তুমি হয়তো আমাকে আর ফোনই দিবে না ।
-আমিও তাই চাইছিলাম । আজকে বিকেল বেলা যখন চলে এলাম আমি ভেবেছিলাম তোমাকে আর ফোন দিবো না ।
-এতো জলদি দিলে ?
-খুব মজা লাগছে তোমার ?
-না না কি যে বল ।
তারপরই কিছু সময় কোন কথা না । কিছু সময়ে পরেই আনামিকা বলল
-তোমার মন ভাল ?
-আমার মনের কথা থাক । তোমার মন ভাল ? আসলে আমি তোমাকে কিভাবে বলব । তুমি তো আমার অবস্থা জানো তো ? আমি কিভাবে.....
-আচ্ছা বাদ দাও । কই তুমি ? বাইরে না বাসায় ?
-আরে এতো রাতে কি কেউ ভদ্রলোকের ছেলেরা বাইরে থাকে ? বল ?
-হুম । বুঝলাম । তা তোমার পাশের ঐ দুজন কে ? খুব তো দেখি গল্প জুড়ে দিয়েছো ।
আমি কি বলব ঠিক খুজে পেলাম না । আনামিকা কে বারান্দায় দেখলাম । আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লো ।
সোলাইমান মিয়া আমার পাশেই ছিল । আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-এই বাড়ির আফা ?
-হুম ।
-আপনে করছেন কি ?
-কেন ?
-হায় হায় ! আপনে জানেন এই বাড়িয়ে কেডা থাকে ? এই বাড়ির মালিকের কত টেকা ? আর আপনে কি করছেন ?
আমি হাসলাম কেবল । অনামিকা তখনও বারান্দায় দাড়িয়ে । ফোনে বলল
-কি বলে তোমার পাশে জন ?
-তোমার আব্বার অনেক টাকা তাই । আমি তোমাকে বিয়ে না করে ভুল করেছি সেটা ।
-কেন ? তোমার মনে হচ্ছে না যে তুমি ভুল করেছো ?
-হুম মনে হচ্ছে ।
-তাহলে ? করবে বিয়ে আমাকে ?
-করবো তো । তোমাকে ছাড়া আর কাকে বিয়ে করবো বল ?
-সত্যি তো । একদম সত্যি ।
-আচ্ছা আমি এখন আসবো তোমার এখানে ।
-আরে মাথা খারাপ নাকি ? তোমার বাবা জানলে উপায় আছে ।
-সেটা তোমার চিন্তা করা লাগবে না । আমি এখন তোমার ওখানে আসবো ফুটপাতে বসে চা তোমার সাথে । ঠিক আছে । আমি আসছি ।
-আরে শুনো ...... আরে..
-বল ।
-হাতে করে ১০০ টাকা নিয়ে এসে তো । পকেটে টাকা নেই চা সিগারেট খেয়ে ফেলেছি । এখন বিল দিতে পারছি না ।
অনামিকা ফোন রেখে দিল ।
আমি ফোন রেখে সেলিম মিয়ার দিকে তাকালম ।
-কি ? আফা আইতাছে ?
-হুম ।
ঠিক মিনিট সাতেকের মাথায় অনামিকা গেট দিয়ে বেরিয়ে এল । সোলাইমান মিয়া আমার পাশ থেকে দুরে সরে গিয়ে বসলো । চাওয়ালা বলল
-চা দিতাম ?
-হুম । আরও চার কাপ হয়ে যাক ।
অনামিকা আমার পাশে বসে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে আর ওদের বাসার দিকে তাকিয়ে আছে । এখনও আমার হাত ধরে নি তবে খুব শীঘ্রই আমার হাত ধরবে বলে আমি আশা করছি । আমাদের থেকে একটু দুরে সোলাইমান মিয়া আর চাওয়ালা বসে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে । মাঝে মাঝে নিজেদের মাঝে কি যেন কথা বলছে । মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছে কোন একটা বিষয় নিয়ে তারা খুব চিন্তিত । অনামিকা চা রেখে আমার হাত ধরলো ।
সোডিয়াম আলোতেও ওর হাতের মেহেদীর রংটা বোঝা যাচ্ছে বেশ ভাল করেই । প্রত্যেকবার বিয়ের করার ভুত মাথায় আসলেই ও খুব যত্ন করে হাতে মেহেদী দেয় । আমি মেহেদী রাঙ্গা হাত পছন্দ করি তাই ।
আমি উল্টে পাল্টে ওর হাত টা দেখতে লাগলাম । অনামিকা বলল
-একটা কথা বলবে ?
-হুম ।
-তুমি প্রত্যেকবারই এখানে আসতে তাই না ? আমাকে মানা করার পর এখানে এসে আমার জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতে । যতক্ষন আমার ঘরের লাইট অফ না হয় ?
আমি কথার জবাব না দিয়ে ওর হাতের দিকেই তাকিয়ে রইলাম । মেহেদীর ডিজাইন টা বেশ চমৎকার হয়েছে । নিশ্চয় ইউটিউব দেখে দেখে শিখেছে ।
অনামিকা বলল
-লাইট বন্ধ করার পরে তুমি চলে যেতে । কোথায় যেতে ? মেসে ?
-না ।
-তাহলে ?
-হাটাহাটি করতাম । বিসণ্ণ সময়ে রাতে ঘুম আসতো না । তোমার মুখটা কেন জানি বারবার মনে পড়তো বেশি । শুয়ে থাকলে সেই অস্তিরতা বাড়তো বেশি । মাঝে মাঝে আমার কি মনে হয় জানো ?
-কি ?
কিছুবলতে গিয়েও বললাম না । চুপ করে রইলাম । তাকিয়ে দেখি অনামিকার চোখে পানি টলমল করছে । চাঁদের আলোতে মনে হচ্ছে যেন কোন অপ্সরী দীঘির মত চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । সেই চোখে এক রাশ ভালবাসা আমার জন্য । এখনই টুপ করে হল গড়িয়ে পড়বে । হঠাৎই ইচ্ছে হল সব বাস্তবতার শিকল ছিড়ে ফেলে ওকে বলি চল এখনই তোমাকে বিয়ে করবো । আজকে কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না । আমি কালকের কথা চিন্তা করবো না । চিন্তা করবো কাল কোথায় নিয়ে তোমাকে উঠবো কি খায়াবো । কেবল আজকের কথা চিন্তা করবো । আজকে আমাদের সংসার হবে ।
অনামিকা বলল
-কি ভাবছো ? বিয়ে করবো আমাকে ?
-করবো ।
-সত্যি তো ।
-হুম ।
-সোলাইমান সাহেব ?
সোলাইমান মিয়া বলে উঠলো
-জে আফা ।
-শুনলেন তো, কি বলল !
-জে ।
-আপনারা সাক্ষী থাকলেন ।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-আজকে আমাদের বাসার সব গুলো লাইট এখনও জ্বলছে । তোমার কৌতুহল হচ্ছে না ?
-আরে হ্যা তো । আমি সেই কখন থেকে ভাবছি । কেন বল তো ?
অনামিকা হাসলো । চোখের পানি ততক্ষনে মুছে ফেলেছে । আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-এতোক্ষন আমি বাবার সাথে আর্গিউ করছিলাম ।
-কি বিষয়ে ?
-তোমার আমার বিয়ে বিষয়ে ।
-কি ?
-হুম ।
তারপর আমার দিকে রহস্যময় চোখে তাকিয়ে থেকে তারপর বলল
-এখনই তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে । বাবা কাজীকে খবর দিয়েছে । অল্প কিছু ক্ষনের ভেতরেই তিনি চলে আসবে।
-মানে কি ? কি বলছো এসব ? দেখো এরকম ভাবে হয় না তো ।
-আজকে হবে । আজকে তুমি আমাকে মানা করতে পারবে না । কেন বল তো ?
-কেন ?
-ঠিক যে করনে বাবা রাজি হয়েছে তুমি হবে ।
আমি অনামিকার কন্ঠের দৃঢ়তা দেখে সত্যি একটু সংকিত বোধ করলাম । এই মেয়ে তার বাবাকে এমন কি বলেছে !
অনামিকা জামার পকেট থেকে একটা সিসি বের করলো । আমাকে দেখিয়ে বলল
-এটা কি জানো ?
-কি ?
-পটাশিয়াম সায়ানাইড ।
খাইছে আমারে ! এই মেয়ে করছে কি !
-বাবা এটা দেখে আর কিছু বলে নি । সোজা কাজীকে ফোন করেছে । কাজী আসলে তুমি আমার সাথে আমাদের বাড়িতে ঢুকবে । যদি না ঢুকো তাহলে .....।
তাহলে কি হবে সেটা আমার বলে দিতে হল না । তাকিয়ে দেখি সোলাইমান সাহেব আর চাওয়ালা আমাদের দিকে গভীর মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে । কি হবে সেটার অপেক্ষায় আছে তারা ।
আমি বললাম
-বিয়ে তো সাক্ষী লাগে । আমার সাথে তো কেউ নেই ।
-সাক্ষী লাগবে না ।
-আরে তা কি করে হয় ! একবারই তো বিয়ে হয় ।
আমি আরও কিছু বলতে যাবো সোলাইমান মিয়া বলল
-আফা আমি ভাইজানের দেশের লোক । আমি সাক্ষী হমু ।
অনামিকা বলল
-সি । প্রব্লেম সলভ ।
আমি তখনও অনামিকার হাত ধরে রেখেছি । এবার সত্যি সত্যিই মনে হচ্ছে বিয়েটা হয়ে যাবে । কোন ভাবেই আটকানো যাবে না ।
মিনিট পাঁচেক পরেই দেখলাম একটা কালো রংয়ের গাড়ী ঢুকছে অনামিকাদের বাড়িতে । অনামিকা উঠে দাড়াতে দাড়াতে বলল
-আমি ভেতরে যাচ্ছি । ঠিক ৩০ মিনিট পরে তুমি আসবে । ঠিক আছে । আর যদি না আসো তাহলে ৪০ মিনিট পার হওয়ার সাথে সাথে আমি ......।
-ঠিক আছে বাবা আমি আসছি । আর বলতে হবে না ।
অনামিকা চলে গেল । চাওয়ালা আমাকে আরও এক কাপ চা দিল । আমি চায়ে চুমুক দিতে দিতে সোলাইমান মিয়া বলল
-ভাইজান আপনে এইখানে বসেন । আমি যামু আর আমু ।
-কোথায় যাচ্ছেন ?
-আরে বিয়াতে যাইতেছি । একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে না । এই গার্ডের পোষাক পরে কি বিয়াতে যাওন যায় নাকি । জামাডা বদলাইয়া আসি ।
-আচ্ছা আসেন ।
চাওয়ালাও বলল
-তাইলে আমিও যাই । বদলাইয়া আসি কি বলেন । জিনিস পাত্তি এইখানেই থাকলো । আমি যামু আর আমু ।
-যান ।
দুজনেই বলতে গেলে দৌড়ে চলে গেল । আমি চায়ে চুমুক দিতে লাগলাম । সত্যি সত্যি তাহলে বিয়ে হতে যাচ্ছে আজকে ।

0 comments:

Post a Comment