Saturday, September 23, 2017

হাদারাম

আফরিন মেয়েটা যেমন শান্তশিষ্ট তেমন খুব রাগি। রাগলে ওকে খুব সুন্দর লাগে। ও অল্প কথাতেই রেগে যায়।
আসলে মেয়েদের মন বোঝা যায় না কখনো হাসে আবার কখনো প্যাচার মত গম্ভীর করে রাখে।
.
ওর চোখগুলো লাল কেন? নিশ্চয় কাল রাত ঘুমায় নি। কিছু দিন পরেই ঈদ। ও হে বলা হয়নি আমি আর আফরিন একই ক্লাসে পড়ি। কলেজে সব বন্ধুরা মিলে একসাথে আড্ডা দেই। সবাই মজা করে কিন্তু আমি নিশ্চুপ হয়ে থাকি। তাই সবাই আমাকে হাদারাম বলে ডাকে। এই হাদারাম ডাকটা সবার মুখ থেকে শুনতে খারাপ লাগলে ও আফরিনের মুখ থেকে শুনতে ভাল লাগে।
.
কেন যেন এক অন্যরকম মায়া জম্মেছে ওর ওপর। না এটা মায়া না আমি ওকে খুব ভালবাসি।
এই কলেজ জীবনে এসে আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই। আমি ও নিশ্চিত ও আমাকে ভালবাসে। ভালবাসা দরজায় টিকটিক করে কড়া নাড়ছে । কিন্তু আমি চাই আফরিন আমাকে বলুক ও আমাকে ভালবাসে।
আসলে আমি একটা হাদারাম। মেয়েরা কি প্রথমে বলে নাকি?
ওদের মুখ ফোটে তো বুক ফাটে না। কিন্তু কি করবো ওই যে বললাম ও অল্প কথাতেই রেগে যায়।তাই সাহস পাইনা ওকে আমার মনের কথাটা বলার।
আফরিন খুব ছটাফট স্বভাবের মেয়ে। কিন্তু আমি শান্ত স্বভাবের।
.
ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমরা। কিন্তু আফরিনকে দেখলেই মনে হয় তার কৈশোরের দূরন্তপনা ছাপিয়ে উঠতে পারে নি।
যেখানে সেখানে সারাক্ষন চিল্লা ফাল্লা হৈ চৈ। ও যেন সব সময় আনন্দের সাগরে ডুবে থাকে। কিন্তু ঐসব আমাকে দিয়ে হয় না।
.
ইউনিভার্সিটিতে যখন ভর্তি হই। তখন আমিই আগ বাড়িয়ে এসে ওর সাথে পরিচয় হই। আমি একটু নার্বাস ছিলাম। আমি তখনি ঠিকি বুঝতে পারলাম গায়ে পড়ে কথা বলা আফরিনের একদুম পছন্দ না। যাহোক ওর সাথে টুকটাক কথা বলতে বলতে আমরা বন্ধূত্বে পরিনত হই। এভাবেই দেখতে না দেখতেই ১ম বর্ষ শেষ করলাম।
। ।
কলেজ ছুটি শেষে ও বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো আমি দূর থেকে তাকিয়ে থাকলাম।
হঠাত্ বাস আসলো এবং ও বাসে ওঠে চলে গেল। আমি ও বাসায় চলে ফিরে আসলাম।
রাতে চিন্তা করলাম না এভাবে আর হয় না ওকে আমার মনের কথাটা বলা দরকার।
। ।
- আফরিন শোন তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
- কি কথা বল
- না মানে তোকে বলবো বলবো করে কোনদিন বলা হয় নি। তাই ভাবলাম আজ বলবো।
-হে বল।
.
আমার এই কথাটা শোনার পর আমি ওর ঠোটে একটা লাজুক হাসি দেখতে পেলাম। ও দাত দিয়ে ঠোটটা কামড়াতে লাগলো।
-কলেজ ছুটি হোক তারপর বলবো আমি শিমুল তলায় তোর জন্য অপেক্ষা করবো।
আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর ফুরালো। আমি ওর জন্য একটা গোলাপফুল কিনলাম। ও আমার সামনে আসলো। ও ডেব ডেব চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভাবলাম নিশ্চয় বান্ধবীদের সাথে ঝগড়া করে আসছে। মন মেজায ওর ভাল দেখাচ্ছে না। তাই ফুলটা আমি পিছনে লুকিয়ে ফেললাম।
- কিরে কি কথা বলবি তাড়াতাড়ি বল আমাকে বাসায় যেতে হবে।
- না মানে তোকে আজ খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।
-এই কথা বলার জন্য তুই আমাকে এখানে ডাকছিস।
ও দাত কিড়মিড়াতে লাগলো। আমি ভয়ে আতংক তাই কিছুই না বলেই একটা রিকশা ঠিক করলাম।
রিকশায় পাশাপাশি বসে আছি দুজন। দুজনেই চুপচাপ।
আফরিন নিরবতা ভাংলো
-তোর হাতের পিছনে কি যেন একটা ছিল
- কৈ কিছু ছিল না
-মিথ্যে বলিস না
আমি আর কিছু বললাম না এমনিতেই ওর দাতের কিড়মিড়ানি দেখে ভয় পেয়েছি।
.
কাল কলেজ ঈদের বন্ধ দিয়ে দিবে । কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। ক্লাসে আফরিন বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল আমি বুঝে ও না বুঝার ভান করলাম।
কলেজ ছুটি শেষে ওর হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বললাম বাসায় গিয়ে খুলিস প্লিজ এখানে পড়িস না। এই বলে চলে আসলাম। আচ্ছা চিঠিতে কি লিখেছিলাম আপনারা পড়বেন না। হে এই সেই চিঠি>
.
*চিঠি*>
মাঝে মাঝে তোমায় ভেবে এলমেলো লাগে সবি
মাঝে মাঝে তোমার চোখে কে আকেঁ অন্য ছবি।
কিছুতে তোমার মনটা আমি বুঝতে পারি না
এত চেনা তবু লাগে অচেনা [তাহসান]
হে সত্যি তোকে মাঝে মাঝে খুব অচেনা লাগে। ভেবেছিলাম তোকে গতকাল প্রপোজ করবো। কিন্তু তোর ওই ডেবরা ডেবরা বড় চোখ দেখে আমি ভয়ে প্রপোজ করি নি। তোর জন্য আমার ভালবাসা ৩৬৫ দিন একই
থাকবে। তোকে আমি অনেক ভালবাসি। জানিস তোকে রাগান্বিত দেখলে খুব সুন্দর লাগে। আমি চাই তুই সারাটা জীবন এই ভাবে রেগে থাকিস। ওই রাগান্বিত সুন্দর চেহারাটা আমি হারতে চাই না। আচ্ছা তোর জন্য আমি একটা নীল শাড়ী কিনেছি। আমি জানি তুই এটা পড়লে তোকে নীল পরীর মত লাগবে। তোর ভয়ে আমি তোকে নীল শাড়ীটা দেই নি। কিছু দিন পর ঈদ। ওই দিন তোকে আমি প্রপোজ
করবো। আমি অপেক্ষা করবো তোর জন্য ওই শিমুল তলায়।
ভাল থাকিস।
.
ক্রিং ক্রিং ক্রিং আফরিনের ফোন
-হ্যালো।
আফরিন চুপ কোন কথা বলছে না। কান্নার শব্দ শুনলাম।
-কিরে কাদছিস কেন?
-একশ বার কাদবো হাজার বার কাদবো। হাদারাম। আমি কাদলে তোর কি হুম্ম।একথাটা বলতে তোর এতদিন লাগলো। আমার নীল শাড়ী কই?
আমি খুশিতে কাদতে থাকলাম। এটা দুঃখের কান্না না দুটো জীবনের মিলনের কান্না।
-ওই হাদারাম তুই ও তো
কাদছিস।
-আচ্ছা ওই দিন কি পড়ে আসবি ?
-কেন তুই আমাকে যে নীল শাড়ীটা দিবি ওইটা পড়ে আসবো। শোন ভাল করে প্রপোজ না করলে আমি কিন্তু ফিরিয়ে দিব।
-আমি যে ভাল করে প্রপোজ করতে পারি না। আর কেউ কি নিজের হবু স্বামীকে তুই করে বলে?
-ওরে আমার স্বামীরে হাদারাম কোথাকার।
-আচ্ছা আসলে কি আমি হাদারাম?
-হুম্ম হাদারাম, হাদারাম, হাদারাম........

লেখক: জ্যামিতিহীন রম্বস (আবির)

0 comments:

Post a Comment