নদীরপাড়ে উদাস মনে আমি বসে বসে জাল
দিয়ে মাছ ধরার অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ
জালে একটা মাছও উঠে নি তাই মনের মাঝে
বিষন্নতা কাজ করছিল, বাড়িত আজ কী নিব তা
নিয়ে। প্রতিদিন প্রায় ই ডোলা বড়ে মাছ নেই
কিন্তু আজ একটা মাছও উঠে নি জালে। আল্লাহ
জানে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম যার জন্য এই
অবস্থা। এইসব ভাবতে ভাবতে জালের দড়ি ধরে
আবার টান দিলাম কিন্তু দেখি এইবারও জালে
কিছু উঠে নি তাই ভিতরে অশ্রুর প্রতিফলন শুরু
হতে লাগল।জাল পানিতে ফেলে কান্নার
প্রতিধ্বনি শুরু করে দিলাম। হ্যাঁ খোদা তুমি এই
গরীবকে কী পরীক্ষা নিচ্ছ আজ মাছ না দিয়ে
(আমি অশ্রু চোখ দিয়ে ফেলতে ফেলতে)তুমি
যদি সত্য ই থেকে থাক তাহলে আজ আমাকে
খালি হাতে ফিরিয়ে দিবে না। ঠিক তখনি হঠাৎ
নদীর পানি থেকে কী যান একটা বের হলো আর
আমি তো দেখে অস্থির ভিতরে অন্য রকম
অনুভূতি শুরু হল কারণ এইরকম প্রানী যে আমি
জীবনে দেখি নি, তার উপর সে পানির মাঝে
দাঁড়িয়ে আছে,দেহ তার মানুষের মত আর পায়ের
জায়গাতে মাছের লেজ নিজের চোখে দেখে
বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই শরীরে চিমটি কেটে
দেখলাম স্বপ্ন দেখছি না তো। ইসস খুব ব্যাথা
করলো হাতে তারমানে সব বাস্তব। আমি যেন
একধ্যান হয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাখলাম।
>> হ্যাঁ বালক তুমি কান্না করছ কেন? (মেয়ে সুরে
অচেনা প্রানী মিষ্টি কণ্ঠে)
>>মানে কে আপনে? (আমি ধ্যান ভেঙে অবাক
সুরে অপলক তাকিয়ে)
>>আমি জলপরী এই জলের মাঝে আমার বসবাস
আর তোমার কান্না শুনে জলে মাঝে থাকতে
পারলাম না তাই জলের উপরে চলে এসেছি, তো
এইবার বলো কান্না করছিলে কেন তুমি?
>>আমি গরীব মানুষ, কোনো মতে দুইবেলা
খেয়ে জীবন চলে আর মাছ সংগ্রহ করে তা
বিক্রি করে জীবন চলায় কিন্তু আজ আমার
জালে একটা মাছও উঠে নি।
>>তাই বলে এত কান্না করার কী আছে, নিশ্চয়
আল্লাহ ধৈর্যকারীকে পছন্দ করেন। তুমি দেখ
তোমার ডোলাতে অনেক মাছ দিয়ে ভরপুর এখন।
>>সত্যি তো এত মাছ আসলো কোথায় থেকে?
(আমি ডোলায় দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে)
>>হুম আমি দিয়েছি আমার যাদুর কাঠি মাধ্যমে
আর তুমি এই মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ
করতে পার।
>>কিন্তু তুমি আমাকে সাহায্য করলে কেন
জানতে পারি?
>>আসলে মানুষের কষ্ট, কান্না আমার একদম সজ্জ
হয় না তাই যেখানে ই কাউকে কাঁদতে শুনি আমি
তাকে সাহায্য করতে চলে আসি আর আমি এখম
যায়।
>>দাঁড়াও জলপরি যদি কোনদিন আবার সাহায্য
দরকার পড়ে তখন তোমাকে পাবো কীভাবে
বলে যাও।
>>হুম তোমার নাম কী আগে বলো?
>>আমার নাম রাহিম, কেন জানতে চাইলে
জলপরী?
>>যখনি আমার প্রয়োজন হবে বলবে জলপরী
রাহিম তোমাকে ডাকছে আর এই নদীরপাড়ে
এসে বলবে, কিন্তু তিনবার বলতে হবে তখনি
দেখবে আমি তোমার সামনে হাজির আর হুম যায়
এখন ভালো থাক।
>>আচ্ছা জলপরী আর আশা করি আবার দেখা
হবে।
জলপরী পানি মাঝে চলে যেতে লাগল আর আমি
অপলক তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। আহা কী সুন্দর
তার রুপ যেন স্বর্গের পরী। কখনো ভাবতে পারি
নি এইরকম কোনো মেয়ের সাথে দেখা হবে
যার রুপ পাগল করার দেওয়ার মত। আমি জালটা
খুলে কাঁধে নিয়ে আর ডোলাটা হাতে নিয়ে
বাড়ির দিকে চলতে লাগলাম। আর ভাবতে
লাগলাম জলপরীকে নিয়ে, মেয়েটা কত সুন্দর
করে কথা বলে, কী মিষ্টি তার সুর। আচ্ছা
মেয়েটার কী প্রেমে পড়ে গেছি আমি। না
প্রেমে পড়লে বা কী হবে সে তো মানুষ না, যে
আমার সাথে সারাজীবন থাকতে রাজি হবে। সে
যে একজন মৎসকন্যা যার আমি ছোট্টকালে গল্প
শুনেছি অনেক।
বাড়িত এসে জাল রেখে মাছ নিয়ে বাজারে
চলে গেলাম বিক্রি করতে। তারপর মাছ বিক্রি
করে, দরকারী অনেক জিনিস কিনে যেমন :চাল,
ডাল, আটা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। কিন্তু
বাড়িত এসে রাতে আমার আর ঘুম আসে নি, শুধু
বারবার জলপরীর মুখটা চোখে বাসছিল।
সারাটা রাত এপাশ ওপাশ করে গড়াতে গড়াতে
বিছানাতে কেটে গেল।
ভোর হতে ই সকালে উঠে নদীরপাড়ে চলে
গেলাম জলপরী সাথে দেখা করবো বলে।
জলপরী রাহিম তোমাকে ডাকছে,তিনবার
বলতে দেখি জলপরী এসে উপস্থিত আমার সামনে
আর আমি হা হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
>>বলো কী জন্য ডেকেছ তুমি রাহিম? আর মুখ
বন্ধ কর না হলে মাছি ঢুকবে(জলপরী এই বলে
হাসতে লাগলো)
>>হুম মুখ তো খুলি নি যে বন্ধ করবো আর
তোমার সাথে কথা বলতে মন চাচ্ছিল তাই
ডেকেছি। (আমি ধরা পড়ার ভয়ে মুখ বন্ধ করে
মিথ্যা প্রথমে
বললাম আর কী)
>>দেখ রাহিম আমার সাথে মিথ্যা বলে তুমি
একদম পারবে না আর আমি তোমার দুইহাত ধরে
যাদু শক্তি দিয়ে বলতে পারি তোমার ভিতর কী
চলছে, দেও তো হাত দুইটা এগিয়ে।
>>না থাক হাত ধরার দরকার নেই আর মিথ্যা
বলার জন্য লজ্জীত আমি।
>>আচ্ছা ঠিক আছে আর হুম মাছ কেমন বিক্রি
করলে?
>>অনেক টাকা ই বিক্রি করলাম, আচ্ছা জলপরী
তোমার পরিবারে কে কে আছে?
>>মা, বাবা দুইজন ই আছে আর আমি তাদের
একমাত্র মেয়ে তবে আমার মা, বাবা সুমদ্রে
থাকে আর আমি যেখানে খুশি সেখানে যেতে
পারি দ্রুত এই যাদু কাঠির মাধ্যমে যেটা আমার
হাতে দেখছ। আচ্ছা তোমার পরিবারে কে কে
আছে শুনি?
>>হুম আমার মা আছে আর আমি একমাত্র ছেলে,
শুনেছি বাবা আমি ছোট্ট থাকতে মারা
গিয়েছে।
>>অ তাই তুমি এখন সংসার চালাও তাই না।
>>হুম তাই।
>>আচ্ছা আজ যায় বাড়ির সবাই আমাকে খুঁজছে
আরেকদিন কথা হবে (জলপরী এই বলে পানির
সাথে মিশে গেল)
তারপর এইভাবে প্রায় আমাদের মাঝে কথা
হতো আর প্রতিবার বাহানা ছিল মাছ উঠে না
জালে, তখন যে যাদু কাঠি দিয়ে ডোলা মাছ
ভরে দিতো আর এই সুযোগে জলপরী সাথে কথা
বলতাম। এইভাবে দিন কাটছিল আর জলপরীকে
যেন আমি ভালোবাসতে শুরু করে দিলাম। তাই
মা এর হাতের রান্না পিঠা যখন আমাকে মা
খেতে দিতো, তখন অনেক পিঠা লুকিয়ে এনে
জলপরীকে দিতাম খেতে আর সে খেয়ে কী খুশি
বলার মত নেই আর প্রতিবার বলতো জানো
রাহিম এইসব পিঠা আমি জীবনে খায় নি আর তুমি
যদি না আনতে জানতাম ই না পিঠার স্বাদ এত
মজা। কিন্তু আমি ভুলেও দুইহাতে একসাথে দিয়ে
পিঠা দেয় নি কারণ যদি সে দুইহাত স্পর্শ করে
আমার মনে কী চলছে জেনে ফেলবে তাই।
তো একদিন জলপরীর সাথে আমি কথা
বলছিলাম
>>আচ্ছা জলপরী তুমি কী এই দেহ থেকে বদলে
পুরাভাবে কী মানুষের দেহ গ্রহণ করতে পারবে
নি আজীবনের জন্য?
>>কেন বলো তো?(জলপরী একটু অবাক হয়ে)
>>না এমনি জানতে চাচ্ছিলাম আর কী তা বলা
যাবে কী?
>>হুম সেটা কখনো সম্ভব না কারণ আমি জন্মগত
ভাবে এমন।
>>অ, আচ্ছা আরেকটা কথা জানার ছিল
তোমাদের জাতে মাঝে কী তুমি কোনো
ছেলেকে পছন্দ কর।
>>না আর তুমি এইসব জানতে চাচ্ছ কেন বলো
তো রাহিম?
>>না এমনি আর কী, তুমি অন্যকিছু মনে করো না
>>আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আজ যায় আমি
(জলপরী এই বলে পানি সাথে মিশে গেল)
আর যাবার সময় আমি লক্ষ করলাম জলপরীর মুখটা
কেমন জানে হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারে নি
তো আমার মনের অন্তগহীনের কথা এইসব ভয়
মনের ভিতর চলতে লাগলো। বাড়িত এসে রাতে
প্রায় ঘুম হয় নি চিন্তাই চিন্তাই।
প্রতিদিনের মতো সকালে উঠে চলে গেলাম
জলপরী সাথে দেখা করব বলে।
জলপরী আমাকে দেখে বলতে লাগলো
>>রাতে কী ঘুমাও নি নাকি?
>>না তবে তুমি বুঝলে কী করে?
>>হুম চোখের নিচে কালি দেখে, তোমরা
মানুষরা না ঘুমালে চোখের নিচে কালি পড়ে
আমি শুনেছি তাই।
>>অ তাই নাকি।
>>হুম আচ্ছা রাহিম তোমার কী ইচ্ছে করে না
পানির উপর দিয়ে চলতে?
>>হুম করে তো কিন্তু সব ইচ্ছে কী আর পূরণ হয়।
>>হুম আমি তোমার ইচ্ছে পূরণ করবো, তুমি
আমার দুইহাত ধরো তোমাকে নিয়ে পানিতে
চলবো।
>>সত্যি (আমি অনেক খুশি হয়ে হাত এগিয়ে
দিয়ে)
>>হুম চলো আমার সাথে (জলপরী দুইহাত স্পর্শ
করে)
>>কি হলো হাত ধরে আছ যাচ্ছ না কেন?
>>রাহিম এটা তুমি কী করলে, তুমি আমাকে
ভালোবাসতে গেলে কেন? তোমার আমার মিল
তো জীবনে হবে না। এখন তো তুমি কষ্টে পুরে
ছাই হবে?
>>তুমি বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অনেক
ভালোবাসি জলপরী, দয়া করে আমাকে ছেড়ে
যেও না।
>>হুম মানুষের সাথে আমাদের কখনো মিলন হতে
পারে না রাহিম কারণ আমরা জলে বাস করি
তোমরা স্থলে বসবাস করো। তোমার সাথে
বেশি কথা বললে মায়াতে পড়ে যাব। আমি যায়
রাহিম আর কোনোদিন হয় তো দেখা হবে না
আর নিজের জীবনটা নষ্ট না করে সুন্দর করে
সাজিয়ে নিও (জলপরী এই বলে পানির সাথে
মিশে গেল)
>>দয়া করে আমাকে ছেড়ে যেও না জলপরী,
তোমাকে ছাড়া যে জীবনটা ছান্নছাড়া হয়ে
যাবে। কিন্তু না আমার জলপরী আমাকে ছেড়ে
চলে গেল, শুধু অশ্রু রেখে গেল দুই নয়নে আমার যা
এখন প্রবাহিত হচ্ছে ঝরনার মতো।
(সমাপ্ত)
বি:দ্র:এই গল্পটা সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে লেখা
হয়েছে প্রায় ৫ঘন্টার উপরের আর লিখতেও খুব
কষ্ট হয়েছে। চোখের অবস্থা এমনিতে ভালো
না তার উপর এত সময় নিয়ে গল্প লিখলাম আল্লাহ
জানে কোনোদিন কানা হয়ে যায় বানানে ভুল
থাকলে দয়া করে বলবেন তবে গল্প কেমন
লেগেছে আশা করি কমেন্ট করে জানাবেন
********** (লেখক রাহিম মিয়া)
দিয়ে মাছ ধরার অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ
জালে একটা মাছও উঠে নি তাই মনের মাঝে
বিষন্নতা কাজ করছিল, বাড়িত আজ কী নিব তা
নিয়ে। প্রতিদিন প্রায় ই ডোলা বড়ে মাছ নেই
কিন্তু আজ একটা মাছও উঠে নি জালে। আল্লাহ
জানে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম যার জন্য এই
অবস্থা। এইসব ভাবতে ভাবতে জালের দড়ি ধরে
আবার টান দিলাম কিন্তু দেখি এইবারও জালে
কিছু উঠে নি তাই ভিতরে অশ্রুর প্রতিফলন শুরু
হতে লাগল।জাল পানিতে ফেলে কান্নার
প্রতিধ্বনি শুরু করে দিলাম। হ্যাঁ খোদা তুমি এই
গরীবকে কী পরীক্ষা নিচ্ছ আজ মাছ না দিয়ে
(আমি অশ্রু চোখ দিয়ে ফেলতে ফেলতে)তুমি
যদি সত্য ই থেকে থাক তাহলে আজ আমাকে
খালি হাতে ফিরিয়ে দিবে না। ঠিক তখনি হঠাৎ
নদীর পানি থেকে কী যান একটা বের হলো আর
আমি তো দেখে অস্থির ভিতরে অন্য রকম
অনুভূতি শুরু হল কারণ এইরকম প্রানী যে আমি
জীবনে দেখি নি, তার উপর সে পানির মাঝে
দাঁড়িয়ে আছে,দেহ তার মানুষের মত আর পায়ের
জায়গাতে মাছের লেজ নিজের চোখে দেখে
বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই শরীরে চিমটি কেটে
দেখলাম স্বপ্ন দেখছি না তো। ইসস খুব ব্যাথা
করলো হাতে তারমানে সব বাস্তব। আমি যেন
একধ্যান হয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাখলাম।
>> হ্যাঁ বালক তুমি কান্না করছ কেন? (মেয়ে সুরে
অচেনা প্রানী মিষ্টি কণ্ঠে)
>>মানে কে আপনে? (আমি ধ্যান ভেঙে অবাক
সুরে অপলক তাকিয়ে)
>>আমি জলপরী এই জলের মাঝে আমার বসবাস
আর তোমার কান্না শুনে জলে মাঝে থাকতে
পারলাম না তাই জলের উপরে চলে এসেছি, তো
এইবার বলো কান্না করছিলে কেন তুমি?
>>আমি গরীব মানুষ, কোনো মতে দুইবেলা
খেয়ে জীবন চলে আর মাছ সংগ্রহ করে তা
বিক্রি করে জীবন চলায় কিন্তু আজ আমার
জালে একটা মাছও উঠে নি।
>>তাই বলে এত কান্না করার কী আছে, নিশ্চয়
আল্লাহ ধৈর্যকারীকে পছন্দ করেন। তুমি দেখ
তোমার ডোলাতে অনেক মাছ দিয়ে ভরপুর এখন।
>>সত্যি তো এত মাছ আসলো কোথায় থেকে?
(আমি ডোলায় দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে)
>>হুম আমি দিয়েছি আমার যাদুর কাঠি মাধ্যমে
আর তুমি এই মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ
করতে পার।
>>কিন্তু তুমি আমাকে সাহায্য করলে কেন
জানতে পারি?
>>আসলে মানুষের কষ্ট, কান্না আমার একদম সজ্জ
হয় না তাই যেখানে ই কাউকে কাঁদতে শুনি আমি
তাকে সাহায্য করতে চলে আসি আর আমি এখম
যায়।
>>দাঁড়াও জলপরি যদি কোনদিন আবার সাহায্য
দরকার পড়ে তখন তোমাকে পাবো কীভাবে
বলে যাও।
>>হুম তোমার নাম কী আগে বলো?
>>আমার নাম রাহিম, কেন জানতে চাইলে
জলপরী?
>>যখনি আমার প্রয়োজন হবে বলবে জলপরী
রাহিম তোমাকে ডাকছে আর এই নদীরপাড়ে
এসে বলবে, কিন্তু তিনবার বলতে হবে তখনি
দেখবে আমি তোমার সামনে হাজির আর হুম যায়
এখন ভালো থাক।
>>আচ্ছা জলপরী আর আশা করি আবার দেখা
হবে।
জলপরী পানি মাঝে চলে যেতে লাগল আর আমি
অপলক তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। আহা কী সুন্দর
তার রুপ যেন স্বর্গের পরী। কখনো ভাবতে পারি
নি এইরকম কোনো মেয়ের সাথে দেখা হবে
যার রুপ পাগল করার দেওয়ার মত। আমি জালটা
খুলে কাঁধে নিয়ে আর ডোলাটা হাতে নিয়ে
বাড়ির দিকে চলতে লাগলাম। আর ভাবতে
লাগলাম জলপরীকে নিয়ে, মেয়েটা কত সুন্দর
করে কথা বলে, কী মিষ্টি তার সুর। আচ্ছা
মেয়েটার কী প্রেমে পড়ে গেছি আমি। না
প্রেমে পড়লে বা কী হবে সে তো মানুষ না, যে
আমার সাথে সারাজীবন থাকতে রাজি হবে। সে
যে একজন মৎসকন্যা যার আমি ছোট্টকালে গল্প
শুনেছি অনেক।
বাড়িত এসে জাল রেখে মাছ নিয়ে বাজারে
চলে গেলাম বিক্রি করতে। তারপর মাছ বিক্রি
করে, দরকারী অনেক জিনিস কিনে যেমন :চাল,
ডাল, আটা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। কিন্তু
বাড়িত এসে রাতে আমার আর ঘুম আসে নি, শুধু
বারবার জলপরীর মুখটা চোখে বাসছিল।
সারাটা রাত এপাশ ওপাশ করে গড়াতে গড়াতে
বিছানাতে কেটে গেল।
ভোর হতে ই সকালে উঠে নদীরপাড়ে চলে
গেলাম জলপরী সাথে দেখা করবো বলে।
জলপরী রাহিম তোমাকে ডাকছে,তিনবার
বলতে দেখি জলপরী এসে উপস্থিত আমার সামনে
আর আমি হা হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
>>বলো কী জন্য ডেকেছ তুমি রাহিম? আর মুখ
বন্ধ কর না হলে মাছি ঢুকবে(জলপরী এই বলে
হাসতে লাগলো)
>>হুম মুখ তো খুলি নি যে বন্ধ করবো আর
তোমার সাথে কথা বলতে মন চাচ্ছিল তাই
ডেকেছি। (আমি ধরা পড়ার ভয়ে মুখ বন্ধ করে
মিথ্যা প্রথমে
বললাম আর কী)
>>দেখ রাহিম আমার সাথে মিথ্যা বলে তুমি
একদম পারবে না আর আমি তোমার দুইহাত ধরে
যাদু শক্তি দিয়ে বলতে পারি তোমার ভিতর কী
চলছে, দেও তো হাত দুইটা এগিয়ে।
>>না থাক হাত ধরার দরকার নেই আর মিথ্যা
বলার জন্য লজ্জীত আমি।
>>আচ্ছা ঠিক আছে আর হুম মাছ কেমন বিক্রি
করলে?
>>অনেক টাকা ই বিক্রি করলাম, আচ্ছা জলপরী
তোমার পরিবারে কে কে আছে?
>>মা, বাবা দুইজন ই আছে আর আমি তাদের
একমাত্র মেয়ে তবে আমার মা, বাবা সুমদ্রে
থাকে আর আমি যেখানে খুশি সেখানে যেতে
পারি দ্রুত এই যাদু কাঠির মাধ্যমে যেটা আমার
হাতে দেখছ। আচ্ছা তোমার পরিবারে কে কে
আছে শুনি?
>>হুম আমার মা আছে আর আমি একমাত্র ছেলে,
শুনেছি বাবা আমি ছোট্ট থাকতে মারা
গিয়েছে।
>>অ তাই তুমি এখন সংসার চালাও তাই না।
>>হুম তাই।
>>আচ্ছা আজ যায় বাড়ির সবাই আমাকে খুঁজছে
আরেকদিন কথা হবে (জলপরী এই বলে পানির
সাথে মিশে গেল)
তারপর এইভাবে প্রায় আমাদের মাঝে কথা
হতো আর প্রতিবার বাহানা ছিল মাছ উঠে না
জালে, তখন যে যাদু কাঠি দিয়ে ডোলা মাছ
ভরে দিতো আর এই সুযোগে জলপরী সাথে কথা
বলতাম। এইভাবে দিন কাটছিল আর জলপরীকে
যেন আমি ভালোবাসতে শুরু করে দিলাম। তাই
মা এর হাতের রান্না পিঠা যখন আমাকে মা
খেতে দিতো, তখন অনেক পিঠা লুকিয়ে এনে
জলপরীকে দিতাম খেতে আর সে খেয়ে কী খুশি
বলার মত নেই আর প্রতিবার বলতো জানো
রাহিম এইসব পিঠা আমি জীবনে খায় নি আর তুমি
যদি না আনতে জানতাম ই না পিঠার স্বাদ এত
মজা। কিন্তু আমি ভুলেও দুইহাতে একসাথে দিয়ে
পিঠা দেয় নি কারণ যদি সে দুইহাত স্পর্শ করে
আমার মনে কী চলছে জেনে ফেলবে তাই।
তো একদিন জলপরীর সাথে আমি কথা
বলছিলাম
>>আচ্ছা জলপরী তুমি কী এই দেহ থেকে বদলে
পুরাভাবে কী মানুষের দেহ গ্রহণ করতে পারবে
নি আজীবনের জন্য?
>>কেন বলো তো?(জলপরী একটু অবাক হয়ে)
>>না এমনি জানতে চাচ্ছিলাম আর কী তা বলা
যাবে কী?
>>হুম সেটা কখনো সম্ভব না কারণ আমি জন্মগত
ভাবে এমন।
>>অ, আচ্ছা আরেকটা কথা জানার ছিল
তোমাদের জাতে মাঝে কী তুমি কোনো
ছেলেকে পছন্দ কর।
>>না আর তুমি এইসব জানতে চাচ্ছ কেন বলো
তো রাহিম?
>>না এমনি আর কী, তুমি অন্যকিছু মনে করো না
>>আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আজ যায় আমি
(জলপরী এই বলে পানি সাথে মিশে গেল)
আর যাবার সময় আমি লক্ষ করলাম জলপরীর মুখটা
কেমন জানে হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারে নি
তো আমার মনের অন্তগহীনের কথা এইসব ভয়
মনের ভিতর চলতে লাগলো। বাড়িত এসে রাতে
প্রায় ঘুম হয় নি চিন্তাই চিন্তাই।
প্রতিদিনের মতো সকালে উঠে চলে গেলাম
জলপরী সাথে দেখা করব বলে।
জলপরী আমাকে দেখে বলতে লাগলো
>>রাতে কী ঘুমাও নি নাকি?
>>না তবে তুমি বুঝলে কী করে?
>>হুম চোখের নিচে কালি দেখে, তোমরা
মানুষরা না ঘুমালে চোখের নিচে কালি পড়ে
আমি শুনেছি তাই।
>>অ তাই নাকি।
>>হুম আচ্ছা রাহিম তোমার কী ইচ্ছে করে না
পানির উপর দিয়ে চলতে?
>>হুম করে তো কিন্তু সব ইচ্ছে কী আর পূরণ হয়।
>>হুম আমি তোমার ইচ্ছে পূরণ করবো, তুমি
আমার দুইহাত ধরো তোমাকে নিয়ে পানিতে
চলবো।
>>সত্যি (আমি অনেক খুশি হয়ে হাত এগিয়ে
দিয়ে)
>>হুম চলো আমার সাথে (জলপরী দুইহাত স্পর্শ
করে)
>>কি হলো হাত ধরে আছ যাচ্ছ না কেন?
>>রাহিম এটা তুমি কী করলে, তুমি আমাকে
ভালোবাসতে গেলে কেন? তোমার আমার মিল
তো জীবনে হবে না। এখন তো তুমি কষ্টে পুরে
ছাই হবে?
>>তুমি বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অনেক
ভালোবাসি জলপরী, দয়া করে আমাকে ছেড়ে
যেও না।
>>হুম মানুষের সাথে আমাদের কখনো মিলন হতে
পারে না রাহিম কারণ আমরা জলে বাস করি
তোমরা স্থলে বসবাস করো। তোমার সাথে
বেশি কথা বললে মায়াতে পড়ে যাব। আমি যায়
রাহিম আর কোনোদিন হয় তো দেখা হবে না
আর নিজের জীবনটা নষ্ট না করে সুন্দর করে
সাজিয়ে নিও (জলপরী এই বলে পানির সাথে
মিশে গেল)
>>দয়া করে আমাকে ছেড়ে যেও না জলপরী,
তোমাকে ছাড়া যে জীবনটা ছান্নছাড়া হয়ে
যাবে। কিন্তু না আমার জলপরী আমাকে ছেড়ে
চলে গেল, শুধু অশ্রু রেখে গেল দুই নয়নে আমার যা
এখন প্রবাহিত হচ্ছে ঝরনার মতো।
(সমাপ্ত)
বি:দ্র:এই গল্পটা সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে লেখা
হয়েছে প্রায় ৫ঘন্টার উপরের আর লিখতেও খুব
কষ্ট হয়েছে। চোখের অবস্থা এমনিতে ভালো
না তার উপর এত সময় নিয়ে গল্প লিখলাম আল্লাহ
জানে কোনোদিন কানা হয়ে যায় বানানে ভুল
থাকলে দয়া করে বলবেন তবে গল্প কেমন
লেগেছে আশা করি কমেন্ট করে জানাবেন
********** (লেখক রাহিম মিয়া)







0 comments:
Post a Comment