Sunday, August 13, 2017

শুরু হলো নতুন এক ভালোবাসা

একদিন আমি মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট
করি।আমার মাথাতে প্রচুর আঘাত পেয়ে
ছিলাম।তখন আমার কিছু বেস্ট ফ্রেন্ড
ছাড়া কেউ জানত না,যে আমি এক্সিডেন্ট
করছি।তাই আমি আমার মোবাইলটা বন্ধ
করে রাখছি,প্রায় দুই দিন।কাউকে জানাই
নি যে আমি এক্সিডেন্ট করছি।কিন্তু
মোবাইলটা দুই দিন পরে খুলি। মোবাইল
খুলার সাথে সাথেই ফোন আসছে.....
.
-হ্যালো
-....( মোবাইলের ঐপাশে কোনো সারা শব্দ
নেই,শুধু কান্নার আওয়াজ আসতেছে।খুব
কান্না করতেছে)
-এই কথা বল
-.(নিশ্চুপ)
-এই কথা বলবি,নাকি ফোন রেখে দেব
-এই কুত্তা,হনুমান,বিলাই,ছাগল,তরে একদম
মেরে ফেলব (এক সাথে আরো বকা দিল)
-কি হয়েছে তর
-তর মোবাইল বন্ধ কেন
-আরে একটা সমস্যা ছিল
-(কোনো শব্দ নেই,শুধু কান্নার আওয়াজ
আরো বাড়তে লাগল)
-কথা বলবি
-তুই মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করছত
আমাকে অন্তত পক্ষে একটু জানাইলি না
-কে বলল
-আমি জানি আর ভাব ধরতে হবে না
-এই পাগলি আমি এক্সিডেন্ট করছি তা তে
তর কি
-(এবার কন্নার আওয়াজ আরো বেড়ে গেল)
-কিরে এবার থাম
-তুই এখন কই
-বাসাতে
-তুই আজকে বিকেল বেলা ৫ টার সময় আমার
বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকবি
-কেন
-তরে বলছি যা, তা করবি
-আচ্ছা আচ্ছা....
.
এই বলে ফোনটা রেখে দিলাম।আমি
জুবায়ের। এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে
পড়ি।আর এতক্ষণ যার সাথে কথা বললাম,সে
হলো আমার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড
সাদিয়া। সাদিয়া আর আমি এক সাথে
পড়ি।বেস্ট ফ্রেন্ড বললে ভুল হবে।সাদিয়াই
আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, আর কারো
সাথে এতো একটা মিশি না।আর সাদিয়া ও
আমার সাথে চলে বেশি।সাদিয়ার সাথে
আমার দেখা হয়েছিল,একটু রোমান্টিক
ভাবে।যাক তবে সেই ঘটনা অন্য একদিন
বলব। আজকের কথাই বলি।মাথাতেই একটু
বেশি ব্যাথা পেয়েছি।তাই ভাবলাম
সাদিয়ার সাথে দেখা করতে যায়।বিকেল
বেলা ৪ টার দিকে ফ্রেস হয়ে রেডি হচ্ছি।৫
টা বাজার আগেই চলে গেলাম সাদিয়ার
বাড়ির সামনে।সাদিয়েকে কল দিলাম...
.
-কিরে কই তুই
-বাসায়
-আমি তো তর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি
-দাঁড়া আমি আসছি
কিছুক্ষণ পর সাদিয়া আসল।একটা রিক্সা
নিয়ে চলে গেল কোনো এক পার্কে।গিয়ে
দুজনে বসলাম।আর আমার মাথা একটু ব্যাথা
করতেছে।তাই ভাবলাম,কি জন্য ডেকেছে
একটু বলি...আসার পথে সাদিয়ার সাথে
কোনো কথা হয় নি।
-কিরে
-(কোনো শব্দ নেই,অঝড়ে কিল ঘুষি বসিয়ে
দিল আমার শরীলে,আর সাদিয়া কান্না
করতরছে)
-আরে কি হয়েছে বল
-তুই এত বেইমান, তুই এক্সিডেন্ট করছত আর
আমাকে বললি না
-বললে কি হতে
-তুই জানিস, তর চিন্তায় আমি দুইদিন ধরে
ঘুমাতে পারি নাই,মুখ দিয়ে কোনো খাবার
ভিতরে ডুকে না,একটা বার কল ও দিলি না
-আচ্ছা, সরি
-(নিশ্চুপ আর কান্না করতেছে)
-কিরে এবার কান্না থামা
-নিশ্চুপ
-কিরে কান্না থামাবি নাকি চলে যাব
-যেতে হবে না,
-আমি ব্যাথা পাইছি তুই কাদিস কেন..?
-তা তুই বুঝবি না
.
আরো কিছুক্ষণ সাদিয়ার সাথে সময়
কাটিয়ে চলে আসলাম বাসায়।আমি জানি
সাদিয়া আমাকে অনেক ভালোবাসে,কিন্তু
এখনো বলতে পারতেছে না।সাদিয়া
ভাবতেছে যে আমি আগে সাদিয়াকে
প্রপোজ করব।কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা।
মেয়েটা আমার অনেক কেয়ার করে।সবসময়
আমার খুঁজ-খবর রাখে।আমার কিছু হলেই তা
যেন সাদিয়ার কলিজাতে গিয়ে লাগে।
প্রায় সাপ্তাহানিক ধরে বাহিরে জাইনা।
মাথার ব্যাথা টা বেশি হওয়ার কারনে
কলজে কিংবা অন্য কোথাই যাই নাই।এর
মাঝে সাদিয়ার ফোন তো আছেই।
সারাদিন খবর নিত, কি করি কি
খাইছি,ইত্যাদি।আমি শুধু সাদিয়ার কথা
অনুযায়ী চলি।সাদিয়া যা বলে তাই করি।
কিন্তু ভালোবাসার কথা কেউই বলি না।
সাদিয়া দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি রাগ ও
অনেক।কোনো ছেলে সাদিয়ার সামনে
যেতে পারে না।সাদিয়ার ভয়ে।শুধু আমার
সাথে নরম হয়ে থাকে।সাতদিন পরে বের
হলাম সাদিয়ার সাথে ঘুরতে....
.
-কিরে সাদিয়া কেমন আছত
-হুম ভালো তুমি কেমন আছ(তুই থেকে তুমি)
-হঠাৎ তুমি করে বলতেছত
-এমনি তা তুই বুঝবি না
-ও তাই বুঝি
-হুম,চলো কিছু খাি
-চল
কিছু খাওয়ার পর, একটা বেঞ্চি তে বসে
অাছি।কারো মুখে কোনো কথা নেই।
নিশ্চুপ।
সাদিয়া বলল...
-জুবায়ের একটা কথা বলব
-হুম,বল তার জন্য কি অনুমতি নিতে হবে
-আসলে কথাটা তুমি কিভাবে নিবা আমি
জানি না
-আরে কি কথা বল
-আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি (আমি
জানি সেই ছেলেটা আমি)
-ও ভালো
-ভালো মানে
-ভালো মানে ভালো
-তোমার কি কষ্ট হবে না আমার জন্য
-আমার কি কষ্ট হবে,তুই তর ভালোবাসার
মানুষ পাইছত তা তো খুশির সংবাদ
.
আর কিছু না বলে সাদিয়া সেখান থেকে
ওঠে চলে গেল।আমি ও কিছু বলি নাই।
সাদিয়ার সাথে বাসাই গিয়েও ফোনে
কথা হয় নি।জানি অনেক রাগ করছে।রাগটা
যে সাদিয়ার অনেক বেশি।তাই ভাবলাম
কিছু একটা করতে হবে।রাত্রে আমার সব
বন্ধুদের কাছে কল দিলাম।

আমি অবশ্য একটু রাজনীতি করি।ছাত্র
রাজনীতি। তাই আমার বিপক্ষের দল
যেকোনো সময় আমাকে আক্রমণ করতে তাই
সতর্ক থাকি।
পরের দিন কলেজে যাচ্ছি সাদিয়ার সাথে।
গুন্ডারা আক্রমণ করল আমাকে মেরে
রক্তাক্ত করে তারা চলে গেল।আমি
অজ্ঞান হয়ে পরে রইলাম।কোনো সারা শব্দ
নেই,সাদিয়া আমাকে ধরে হাউমাউ করে
কাঁদতে লাগল।

চিৎকার করে আশেপাশের মানুষগুলোকে
ডাকতে লাগল।কেউ আসে না।তখন সাদিয়া
মুখ ফুটে বলল....
.
-জুবায়ের আমি তোমাকে অনেক
ভালোবাসি,প্লিজ তুমি ওঠ,তোমাকে
ছাড়া আমি বাঁচব না...ওঠ জুবায়ের ওঠ
(আমি তখন একটা চোখ বাকা করে
তাকালাম)
চেয়ে দেখি সাদিয়া অনেক কান্না
করতেছে।চোখ দিয়ে অঝড়ে পানি
পরতেছে।আমি জানি সাদিয়া আমাকে
অনেক ভালোবাসে।তাই আর দেরি করলাম
না চট করে ওঠে দাঁড়ালাম।ওঠে হাসতে
লাগলাম....
আমার হাসি দেখে সাদিয়া কান্না
থামিয়ে দিল।
-তুমি আমাকে ভালোবাস কি না তা
পরীক্ষা করতেছিলাম,এবং তোমার মুখ
থেকে ভালোবাসার কথা শুনার জন্য এমন
নাটক করলাম
-তুই কুত্তা, বিলাই,আমার সাথে চিটিং
করলি
এই বলে কিল ঘুষি মারতে লাগল।আর আমার
বুকে এসে ঝাপিয়ে পড়ল।
-এই পাগলি এবার কান্না থামা
-বল ভালোবাসি
-হুম ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি
পাগলিটা কে
-ভালোবাসি পাগলটা কে.....
.
শুরু হলো নতুন এক ভালোবাসা।চলতে থাকুক
এমন হাজারো ভালোবাসা।
"ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন"
"সবাইকে ধন্যবাদ"
.
লেখঃ- Abdullah Al Jobayer Jafor (পথচারি
শিশুদের বন্ধু)

0 comments:

Post a Comment